সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

দেববংশ, দামোদরদেব ও দনুজমাধবের বিস্মৃত ইতিহাস

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৬:০২ এএম | 75 বার পড়া হয়েছে
দেববংশ, দামোদরদেব ও দনুজমাধবের বিস্মৃত ইতিহাস

সেনবংশের শেষ স্বাধীন রাজা লক্ষ্মণসেনের রাজত্বের অন্তিম পর্বে যখন গৌড় রাজ্য মুসলমান আক্রমণের চাপে ভেঙে পড়ছে, তখন বাংলার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু বিস্মৃত অধ্যায়ের সূচনা হয়। এই সময়েই মেঘনার পূর্বতীরে এক স্বাধীন হিন্দু রাজশক্তির উত্থান ঘটে, যাকে আমরা ইতিহাসে দেববংশ নামে চিনি। সাধারণভাবে মনে করা হয় সেনদের পতনের পর বাংলা সম্পূর্ণভাবে মুসলমান শাসনের অধীনে চলে গিয়েছিল, কিন্তু দেববংশীয় রাজাদের উত্থান সেই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।
এই দেববংশের প্রথম পরিচিত পুরুষ হলেন পুরুষোত্তম। তাঁকে তাম্রশাসনে ‘দেবান্বয়-গ্রামণী’, অর্থাৎ দেববংশের প্রধান বলা হয়েছে, কিন্তু কোথাও তাঁকে রাজা হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। এর থেকেই অনুমান করা যায়, তিনি হয়তো ছিলেন বংশনেতা বা সামন্তশক্তির প্রধান, পূর্ণ সার্বভৌম শাসক নন। তাঁর পুত্র মধুমথনদেবের নামেই প্রথম এক স্বাধীন রাজ্যের প্রতিষ্ঠার কথা জানা যায়। তবে আশ্চর্যের বিষয়, মধুমথনদেব ও তাঁর পুত্র বাসুদেব—এই দুই প্রজন্ম সম্পর্কে ইতিহাস প্রায় সম্পূর্ণ নীরব। তাঁদের শাসনকাল, যুদ্ধ কিংবা প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না।
দেববংশের ইতিহাসে প্রথম স্পষ্ট আলো পড়ে বাসুদেবের পুত্র দামোদরদেবের সময়ে। তাঁর নামে প্রাপ্ত দুইখানি তাম্রশাসন থেকে জানা যায় যে তিনি ১২৩১ খ্রিস্টাব্দে সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং অন্তত ১২৪৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজত্ব করেন। এই তাম্রশাসনগুলির ভিত্তিতে অনুমান করা যায় যে তাঁর রাজ্য বর্তমান ত্রিপুরা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। তিনি নিজেকে ‘সকল ভূপাল-চক্রবর্ত্তী’ ও ‘অরিরাজ-চাণুর-মাধব’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন, যা তাঁর সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষার পরিচয় বহন করে। সম্ভবত সেনবংশীয় রাজা বিশ্বরূপসেনের মৃত্যুর পর উদ্ভূত রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ নিয়ে দামোদরদেব তাঁর পৈতৃক রাজ্যের সীমা আরও বিস্তার করতে সক্ষম হন।
দামোদরদেবের মৃত্যুর পর এই দেববংশীয় রাজ্যের ভবিষ্যৎ কী হয়েছিল, সে বিষয়ে সরাসরি কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে ঢাকা জেলার আদাবাড়ী থেকে প্রাপ্ত একখানি জীর্ণ তাম্রশাসন আমাদের সামনে আর এক শক্তিশালী দেববংশীয় শাসকের নাম উপস্থিত করে—দশরথদেব। এই তাম্রশাসনে তাঁর পূর্ণ উপাধি দেওয়া হয়েছে ‘পরমেশ্বর পরমভট্টারক মহারাজাধিরাজ অরিরাজ-দনুজমাধব দশরথদেব’। তিনি বিক্রমপুরকে রাজধানী করে শাসন করতেন এবং কেশবসেন ও বিশ্বরূপসেনের অনুকরণে অশ্বপতি, গজপতি, নরপতি ও রাজত্রয়াধিপতি উপাধি গ্রহণ করেছিলেন। সেনরাজাদের পরিচিত ‘সেনকুল-কমল-বিকাস-ভাস্কর’ উপাধির পরিবর্তে তাঁর শাসনে ব্যবহৃত হয় ‘দেবাম্বয়-কমল-বিকাস-ভাস্কর’, যা তাঁকে দেববংশীয় শাসক হিসেবে নির্দেশ করে।
তাঁর তাম্রশাসনে উল্লেখ রয়েছে যে নারায়ণের কৃপায় তিনি গৌড় রাজ্য লাভ করেছিলেন। মুসলমান ঐতিহাসিকদের বিবরণ অনুযায়ী এই সময়ে গৌড় তুর্কি শাসনের অধীন ছিল। কিন্তু বাস্তবে বাংলায় তুর্কি প্রভুত্ব সুদৃঢ় হতে বহু বছর সময় লেগেছিল। এই দীর্ঘ অস্থিরতার সময়ে হিন্দু রাজারা বারবার হারানো রাজ্য পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করেছিলেন এবং অনেক ক্ষেত্রে আংশিকভাবে সফলও হয়েছিলেন। সেই প্রেক্ষিতে দশরথদেবের গৌড়ের কিছু অংশ অধিকার করা একেবারে অসম্ভব বা কল্পনাপ্রসূত বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এই দশরথদেবকে অনেক ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বার্ণীর বিবৃত ‘সোনারগাঁয়ের রাজা দনুজরায়’-এর সঙ্গে এক করে দেখেন। বার্ণীর মতে, দিল্লির সুলতান গিয়াসুদ্দিন বলবন যখন ১২৮৩ খ্রিস্টাব্দে তুঘরিল খানের বিদ্রোহ দমনে বঙ্গদেশে অভিযান করেন, তখন সোনারগাঁয়ের রাজা দনুজরায় তাঁর সঙ্গে একটি রাজনৈতিক চুক্তিতে আবদ্ধ হন।
সোনারগাঁ ও বিক্রমপুর—উভয় অঞ্চলই ধলেশ্বরী নদীতীরবর্তী হওয়ায় বিক্রমপুরের ‘অরিরাজ-দনুজমাধব’ বিদেশি ঐতিহাসিকদের চোখে ‘দনুজরায়’ নামে পরিচিত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বাংলার কুলজী গ্রন্থেও কেশবসেনের কিছুদিন পর দনুজমাধব নামে এক রাজার উল্লেখ পাওয়া যায়। এই সব সূত্র মিলিয়ে বিচার করলে অনুমান করা যায় যে দশরথদেব বলবনের অভিযানের সময়, অর্থাৎ ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষভাগে রাজত্ব করছিলেন।
দেববংশের আর একটি শাখার পরিচয় পাওয়া যায় শ্রীহট্ট অঞ্চলে। শ্রীহট্টের নিকটবর্তী ভাটেরা গ্রামে প্রাপ্ত দুইখানি তাম্রশাসন থেকে খরবাণ, গোকুলদেব, নারায়ণদেব, কেশবসেন, ঈশানদেব ও কেশবদেব—এই ধারাবাহিক রাজাদের নাম জানা যায়। এই বংশের কেশবদেব একজন বিখ্যাত যোদ্ধা ছিলেন এবং তিনি তুলাপুরুষ যজ্ঞ সম্পাদন করেছিলেন। ঈশানদেব অন্তত সতেরো বছর রাজত্ব করেছিলেন। লিপির অক্ষরবিন্যাস বিচার করে অনুমান করা হয় যে এই রাজারা ত্রয়োদশ অথবা চতুর্দশ শতাব্দীতে শাসন করতেন। দেব উপাধির ভিত্তিতে তাঁদের দেববংশীয় বলে মনে করা হলেও, পূর্বোক্ত দেববংশের সঙ্গে তাঁদের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা যায় না।
শ্রীহট্ট অঞ্চলের লোককথা ও “হট্টনাথের পাঁচালী” নামক পুঁথিতে উল্লেখ রয়েছে যে এই অঞ্চলের এক রাজা গৌরগোবিন্দ সুফি সাধক শাহজালালের হাতে পরাজিত হন, যার তারিখ ধরা হয় ১২৫৭ খ্রিস্টাব্দ। কেশবদেবের একটি উপাধি ছিল ‘রিপুরাজ গোপী-গোবিন্দ’। এই কারণেই অনেক ঐতিহাসিক মনে করেন, কিংবদন্তির গৌরগোবিন্দ ও এই কেশবদেব সম্ভবত একই ব্যক্তি।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সেনরাজ্যের পতনের পর বাংলায় হিন্দু রাজশক্তি সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হয়ে যায়নি। দেববংশীয় রাজারা নানা অঞ্চলে স্বাধীনতা রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন, কখনো আঞ্চলিক সাফল্যও অর্জন করেছিলেন। খণ্ডিত তাম্রশাসন, বিদেশি ঐতিহাসিকদের বিবরণ ও লোককথার মধ্যে ছড়িয়ে থাকা এই ইতিহাস বাংলার মধ্যযুগীয় রাজনৈতিক বাস্তবতাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। দেববংশের এই বিস্মৃত অধ্যায় তাই শুধু একটি রাজবংশের ইতিহাস নয়, বরং বাংলার শেষ স্বাধীনতার দীর্ঘ ও জটিল সংগ্রামের এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

সৈয়দ আব্দুল মান্নান

বাহুবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জালনোট প্রতিরোধে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

সৈয়দ আব্দুল মান্নান প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:০০ পিএম
বাহুবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জালনোট প্রতিরোধে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার আয়োজনে ও সোনালী ব্যাংক পিএলসি বাহুবল শাখার সহযোগিতায় জালনোট প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমুলক এক ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩০ মার্চ সকাল ১১ টায় উপজেলা সভাকক্ষে এ ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয়।

সোনালী ব্যাংক পিএলসি বাহুবল শাখার ম্যানেজার মোঃ ইব্রাহিম খলিল এর সভাপতিত্বে ওয়ার্কসপে প্রধান অতিথি ছিলেন সোনালী ব্যাংক হবিগঞ্জের ডিজিএম মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাহুবল উজ্জ্বল রায়, বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার যুগ্ম পরিচালক (ক্যাশ) রান্টু চন্দ্র দাস, উপপরিচালক তানভীর আহমেদ, উপপরিচালক শুভাশীষ পাল, ম্যানেজার জনতা ব্যাংক বাহুবল শাখার ম্যানেজার হোসাইন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধা সংসদ বাহুবল এর আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফিরোজ মিয়া।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাহুবল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ আবিদ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নোমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জালনোটের উপর ডকুমেন্টারী প্রদর্শন করা হয়।

উখিয়ার দলিলুর রহমান শাহীন তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপি নেতা

সিরাজুল কবির বুলবুল, উখিয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম
উখিয়ার দলিলুর রহমান শাহীন তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপি নেতা

দলিলুর রহমান শাহীন একজন আপাদমস্তক বিএনপি নেতা।জন্ম ১৯৬৯ সালে সাবেক রুমখা গ্রামের ছায়া সুশীতল এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।বাবা মৃত: রশিদ আহাম্মদ, মাতা:মৃত : মাজেদা বেগম। তিন বোন তিন ভাইয়ের একটি সুন্দর পরিবারে বেড়ে উঠা স্বপ্নবাজ সাবেক ছাত্রনেতার। সাবেক রুমখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার হাতেখড়ি, পালং আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ না করে চলেযান মরিচ্যা উচ্চবিদ্যালয়ে। সেখানথেকে তিনি মাধ্যমিক সার্টিফিকেট অর্জন করে প্রথমে ভর্তি হন কক্সবাজার সরকারি কলেজে। কলেজে পড়াশোনা পাশাপাশি তিনি রাজনীতি অঙ্গনে যুক্ত হন।পরে কক্সবাজার কলেজ থেকে তিনি চলে যান চট্টগ্রাম এ,জে চৌধুরী কলেজে সেই কলেজ থেকে তিনি এইচ,এস,সি পাশ করেন। পরে তিনি ১৯৯৩ সালে বি,এ, ছালে নুর কলেজ থেকে বি,এ পাশ করেন। পরে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে মাস্টার্সে অধ্যায়ন করেন।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তিনি উখিয়ার রাজনীতি আলোচনায় আসেন,১৯৯৮ সালে তিনি উখিয়া উপজেলা (জাসাস)এর আহবায়ক নির্বাচিত হন। এর পর থেকে তিনি আর থেমে থাকেননি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা দলিলুর রহমানকে ধীরে, ধীরে নিয়ে যান মূলদলে, প্রথমে তিনি হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন, পরে হলদিয়া পালং ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন, একসময় তিনি হলদিয়া পালং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কর্মদক্ষতার ফসল স্বরুপ তিনি প্রথম বারের মতো প্রচার সম্পাদক, অর্থ ও ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন উখিয়া উপজেলা বিএনপির পরে তিনি উখিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন,সবশেষে ৫ আগস্টের পর উখিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।বর্তমানে তিনি উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন।
তৃণমূল থেকে বেড়ে উঠা এই দুর্দান্ত সাহসী নেতা রাজনৈতিক জীবনে অনেক অবদান রেখেছেন, দলের প্রতিটি মিছিল, মিটিংয়ে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন দলকে কি এগিয়ে নিয়ে শক্তিশালী করে কি ভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় এই ব্যপারে তিনি দলীয় বিচক্ষণতার পরিচয় দেন এবং সবার নজরে আসেন।২০১৮ সালে স্বৈরাচারীনি হাসিনা সরকারের লেলিয়ে দেওয়া কিছু সন্ত্রাসী তাকে চিরতরে মেরেফেলার জন্য নির্মমভাবে আহত করেন, সেদিন যথা সময়ে তার ছেলে তারেক রহমান যদি ঘটনাস্থলে ছুটে না আসতো হয়তো দলিলুর রহমান আজ বেঁচে থাকতোনা। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় তিনি একাধিক মিথ্যা মামলার স্বীকার হন।
তবুও তিনি দলের আদর্শ থেকে এক সেকেন্ডের জন্য বিচ্যুত হননি বরং নিজের দলীয় নেতাকর্মীদে সাথে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে দুর্দান্ত গতিতে সামনের সারিতে এগিয়ে যান।২৪ জুলাই ছাত্রজনতা আন্দোলনে কোর্টবাজার স্টেশনে দলিলুর রহমানের ভূমিকা ছিলো অনন্য। উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরীর পজিটিভ ভুমিকায় দলিলুর রহমান শাহীন রাজনীতিক ভাবে আরো বেশি তেজস্ক্রিয় হয়ে উঠেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি নিজ এলাকার উন্নয়নে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন
মসজিদ, মাদ্রাসা,কবরস্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও তিনি আর্থিক ভাবে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করেন।
৩ ছেলে ১ মেয়ে সংসার জীবনে তিনি খুবই সন্তুষ্ট। তার তিন ছেলে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত,এক মেয়ে এখনো অধ্যায়নরত আছেন।
দলিলুর রহমান শাহীনের স্বপ্ন শহীদ জিয়ার আর্দশে নতুন বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে অনেক দুর এগিয়ে যাবে। তৃণমূলে ত্যাগীদের মুল্যায়ন হবে, নতুন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দেশে শিক্ষিত,অশিক্ষিত কোন বেকার থাকবেনা বলে তিনি মনে করেন।

আওরঙ্গজেব কামাল, সভাপতি: ঢাকা প্রেসক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব

সত্যের পথে অবিচল সাংবাদিকতা: নিরপেক্ষতার আলোয় ঐক্যের শক্তি

আওরঙ্গজেব কামাল প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৬ পিএম
সত্যের পথে অবিচল সাংবাদিকতা: নিরপেক্ষতার আলোয় ঐক্যের শক্তি

“সত্য প্রকাশে নিরপেক্ষতা, আর শক্তিতে ঐক্য—এই দুটিই সাংবাদিকতার প্রাণ।”-এই সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর বার্তাটি আজকের গণমাধ্যম বাস্তবতায় এক অনন্য দিকনির্দেশনা হয়ে উঠেছে। যেখানে তথ্যের ভিড়ে সত্য অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়, সেখানে এই দর্শন সাংবাদিকতার মূল চেতনাকে আবারও সামনে নিয়ে আসে।
সাংবাদিকতার প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে সত্য তুলে ধরা। কোনো প্রভাব, পক্ষপাত বা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে তথ্য পরিবেশনই একজন প্রকৃত সাংবাদিকের পরিচয়। নিরপেক্ষতা হারালে সংবাদ আর সংবাদ থাকে না—তা হয়ে ওঠে বিভ্রান্তির হাতিয়ার। তাই সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নিরপেক্ষ অবস্থানই একটি বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম গড়ে তোলার ভিত্তি।
অন্যদিকে, সাংবাদিকদের শক্তির জায়গা হলো তাদের ঐক্য। একা একজন সাংবাদিক যতই সাহসী হোন না কেন, সম্মিলিত অবস্থান ছাড়া বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন। ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় কণ্ঠে কথা বলতে পারে, চাপ ও হুমকির মধ্যেও সত্য প্রকাশে অবিচল থাকতে পারে। বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রবাহের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রবণতাও। এই পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান শুধু একটি নীতি নয়, বরং সময়ের দাবি। সাংবাদিকদের পারস্পরিক সহযোগিতা, শ্রদ্ধাবোধ এবং একই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলাই পারে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতে। সময়ের প্রবাহে অনেক কিছুই বদলায়, কিন্তু সত্যের প্রয়োজন কখনো ফুরায় না। আর সেই সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তারা হলেন সাংবাদিক। তবে একখান প্রশ্ন হল এই দায়িত্ব পালন করছে বর্তমানে কয়জন সাংবাদিক। কেন মানুষ আর সাংবাদিকদের দিকে আঙ্গুল তুলছে? এ প্রশ্নের জবাব দেবে কে। সাংবাদিকতা কেবল তথ্য পরিবেশনের কাজ নয়—এটি সমাজের বিবেক, ন্যায়বিচারের সহযাত্রী এবং গণমানুষের কণ্ঠস্বর।
এই পেশার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিরপেক্ষতা। নিরপেক্ষতা মানে শুধু দুই পক্ষের কথা বলা নয়, বরং সত্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা। যখন সংবাদ পক্ষপাতমুক্ত থাকে, তখনই তা মানুষের মনে আস্থা সৃষ্টি করে। একটি নিরপেক্ষ প্রতিবেদন অন্ধকারে আলো জ্বালানোর মতো—যেখানে গুজব থেমে যায়, আর সত্য নিজের জায়গা করে নেয়। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় সহজ নয়। নানা প্রভাব, চাপ, স্বার্থ এবং ভয়—এসবের মাঝেই সাংবাদিকদের কাজ করতে হয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একক প্রচেষ্টা অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে। ঠিক এখানেই প্রয়োজন ঐক্যের। ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ মানেই শক্তিশালী একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সত্য চাপা পড়ে না, বরং আরও জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়। সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং একসাথে দাঁড়ানোর মানসিকতা সাংবাদিকতাকে দেয় নতুন শক্তি। বিভক্ত অবস্থান শুধু দুর্বলতা তৈরি করে, আর ঐক্য তৈরি করে সাহস। বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ছে মুহূর্তেই। কিন্তু এর সঙ্গে বেড়েছে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তির ঝুঁকিও। এই প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি ভুল তথ্য যেমন সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, তেমনি একটি সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পারে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব শুধু সংবাদ প্রকাশে সীমাবদ্ধ নয়; তারা সমাজকে সচেতন করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান এবং ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেন। আর এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হলে প্রয়োজন দৃঢ় নৈতিকতা ও একতাবদ্ধ অবস্থান। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, নিরপেক্ষতা হলো সাংবাদিকতার প্রাণ, আর ঐক্য হলো তার শক্তির ভিত্তি। এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে একটি সাহসী, দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম—যা শুধু সংবাদ নয়, সমাজের ভবিষ্যৎও নির্মাণ করে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরপেক্ষতা সাংবাদিকতার আত্মা, আর ঐক্য তার সাহস। এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে এমন একটি গণমাধ্যম, যা শুধু তথ্য দেয় না—সমাজকে পথ দেখায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং মানুষের আস্থা অর্জন করে।সবশেষে বলা যায়, “নিরপেক্ষতায় সত্য, ঐক্যে শক্তি”—এই মূলমন্ত্র ধারণ করেই সাংবাদিকতা তার প্রকৃত মর্যাদা ও দায়িত্ব পালনে সক্ষম হতে পারে।

 

error: Content is protected !!