বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

ঈশ্বরদীতে নেসকোর প্রি-পেইড মিটার বাতিলের দাবিতে গণঅনশন

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:২৮ পিএম | 96 বার পড়া হয়েছে
ঈশ্বরদীতে নেসকোর প্রি-পেইড মিটার বাতিলের দাবিতে গণঅনশন

নেসকোর প্রি-পেইড মিটার বাতিল, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার এবং নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী ও মিটার রিডার নজরুলকে অপসারণের দাবিতে ঈশ্বরদীতে গণঅনশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ১১টা থেকে বিকেল পর্যন্ত বাস টার্মিনালের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার পাদদেশে ঈশ্বরদী সর্বস্তরের জনগণ ব্যানারে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
‘সম্মিলিত নাগরিক ঐক্য জোট’-এর ব্যানারে আয়োজিত গণঅনশন কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, পাবনা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এবং ঈশ্বরদী–আটঘরিয়া (পাবনা–৪) আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিব।
অনশন কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত নাগরিক ঐক্য জোটের প্রধান সমন্বয়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রেজাউল করিম (ভিপি) শাহিন, শিল্প ও বণিক সমিতির সহ-সভাপতি আনোয়ার হাসান জানি, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকির হোসেন জুয়েল, পাবনা জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম নয়ন, ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবের সভাপতি আজিজুর রহমান শাহীন, সাহিত্য ও সংস্কৃতি পরিষদের সদস্য আশিকুর রহমান লুলু, অধ্যাপক হাসানুজ্জামান, নাগরিক অধিকার রক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক সুলতান মাহমুদ খান, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক তাসনিম মাহবুব প্রাপ্তি প্রমুখ।
বিকেলে প্রধান সমন্বয়ক মাহবুবুর রহমান পলাশ পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এরপর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ আসাদুজ্জামান সরকার অনশনকারীদের জুস ও পানি পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান। তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন।

মামুনুর রশীদ মামুন, ময়মনসিংহ

‘দালাল ছাড়া সেবা নেই’—ময়মনসিংহের ভাবখালী-ঘাগড়া ভূমি অফিসে জনভোগান্তি

মামুনুর রশীদ মামুন, ময়মনসিংহ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
‘দালাল ছাড়া সেবা নেই’—ময়মনসিংহের ভাবখালী-ঘাগড়া ভূমি অফিসে জনভোগান্তি

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী ও ঘাগড়া ইউনিয়নের একমাত্র ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে ঘুষ বাণিজ্য,দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি—ন্যায্য জমি সংক্রান্ত সেবা নিতে গেলেই সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে দালাল চক্রের খপ্পরে,দিতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের ঘুষ। আর ঘুষ না দিলে ফাইল আটকে রাখা, অযথা জটিলতা তৈরি করা কিংবা দিনের পর দিন ঘোরানোর মতো নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতাদের একাংশের অভিযোগ,এই অনিয়ম ও দালাল সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নায়েব লুৎফর রহমানের যোগসাজশ রয়েছে। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো নেপথ্যের চিত্র: স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলা এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাবখালী-ঘাগড়া ভূমি অফিসে নামজারি, খতিয়ান,পর্চা,জমি খারিজসহ প্রায় সব ধরনের সেবা নিয়ন্ত্রণ করছে একটি সংঘবদ্ধ দালাল সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে—এসব সেবা পেতে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। স্থানীয়রা
জানান,দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন অফিসে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ না করলে আবেদন প্রক্রিয়া এগোয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। কম্পিউটার দোকানের আড়ালে ঘুষের কারবার: গোপন অনুসন্ধানে আরও জানা যায়,ভূমি অফিস সংলগ্ন কয়েকটি কম্পিউটার দোকানকে ঘিরেই এই দালাল চক্রের তৎপরতা বেশি। দালালরা নিজেদের পরিচয় দেয় ‘কম্পিউটার দোকানের কর্মচারী’ হিসেবে। এই দোকানগুলোর আড়ালে ফাইল আটকে রেখে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী,সেবার নামে সরাসরি অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি চোখে পড়ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের।
সিন্ডিকেটে বহিরাগত নারীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ: অনুসন্ধানে আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে—ত্রিশাল দরগা বাজার এলাকার বহিরাগত এক নারী তাসলিমা নামের ব্যক্তি এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায়ে ভূমিকা রাখছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী,তিনি আরওআর খসড়া বাবদ ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং মাঠ পর্চার ফটোকপি বাবদ ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ আদায় করছেন। অনেক ক্ষেত্রে মূল নথি দেখার সুযোগ না দিয়ে ফটোকপি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চিহ্নিত দালালদের নাম প্রকাশ: অনুসন্ধানকারী সূত্রে জানা গেছে,এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম-পরিচয়ও সামনে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—রফিকুল (পিতা: রমজান আলী, গ্রাম: চুরখায়), সজিব (পিতা: খুশি, গ্রাম: চরখায়), জুম্মন (পিতা: মোতালেব, মৌজা: মদল), রিদয় (পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: চুরখায়), আব্দুল্লাহ (পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: নেহালিয়াকান্দা) এবং খালেক (পিতা: মৃত আতা, গ্রাম: পন-ঘাগড়া)। স্থানীয়দের দাবি—এরা নিয়মিতভাবে ভূমি অফিসের আশপাশে অবস্থান করে সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে থাকে। প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রতিদিন সকালেই দালাল চক্র অফিসের সামনে অবস্থান নেয় এবং সারাদিন সেবাগ্রহীতাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। ফলে প্রকৃত সেবাগ্রহীতারা বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ নিয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন—“প্রশাসনের চোখের সামনে এমন দালাল সিন্ডিকেট কীভাবে সক্রিয় থাকে?” তাদের মতে, “স্মার্ট বাংলাদেশের কথা বলা হলেও বাস্তবে মাঠপর্যায়ে এমন দুর্নীতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”
অভিযোগ অস্বীকার নায়েবের: তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নায়েব লুৎফর রহমান। তিনি বলেন,
“আমি বরং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। এ কারণে আমাকে জড়িয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত করতে অফিসের পেছনের রাস্তা টিন দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে,যাতে বাইরের দালালদের আনাগোনা বন্ধ করা যায়।”
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে,ওই টিনের গেট থাকলেও দালালদের উপস্থিতি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং অফিস এলাকায় দালালদের প্রভাব এখনো দৃশ্যমান বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের: অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি বলেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কঠোর ব্যবস্থা দাবিতে স্থানীয়রা
স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও সচেতন মহলের নেতৃবৃন্দের দাবি—দালাল সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এলাকাবাসীর মতে,ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়—এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ ও সচেতন মহল।

মামুনুর রশীদ মামুন, ময়মনসিংহ

ভূমি সেবায় অনিয়মের অভিযোগ: ভালুকা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

মামুনুর রশীদ মামুন, ময়মনসিংহ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৬ এএম
ভূমি সেবায় অনিয়মের অভিযোগ: ভালুকা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ারসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলা ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে নানা অনিয়ম ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অফিসের সার্ভেয়ার,উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা,সার্টিফিকেট পেশকার ও মিউটেশন সহকারীর বিরুদ্ধে ঘুষ দাবি,মনগড়া প্রতিবেদন তৈরি এবং সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তিতে ফেলার অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। অভিযোগে বলা হয়েছে,ভালুকা উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম,উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুবেল হোসাইন,সার্টিফিকেট পেশকার খাইরুল ইসলাম ও মিউটেশন সহকারী সাজ্জাদ হোসেন—এই চার কর্মকর্তা বিভিন্ন সেবা প্রদানকে কেন্দ্র করে অনিয়মে জড়িত। সেবাগ্রহীতাদের দাবি,খতিয়ান সৃজন,নামজারি,তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা জমি সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে মোটা অঙ্কের উৎকোচ দাবি করা হয়। অর্থ না দিলে ফাইল আটকে রাখা,মনগড়া প্রতিবেদন দেওয়া কিংবা আবেদন বাতিলের মতো নানা হয়রানির মুখে পড়তে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ভুক্তভোগী জানান,সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম ভালুকা ভূমি অফিসে যোগদানের পর থেকেই সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে নানা কৌশলে অনিয়ম করে আসছেন। অভিযোগ রয়েছে—কাগজপত্র সঠিক থাকলেও ঘুষ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবেদন দেওয়া হয় না। কখনও আবার অর্থের বিনিময়ে প্রতিবেদনে সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এসব কাজে উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুবেল হোসাইন সহযোগিতা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার হবিরবাড়ী ইউনিয়নের এক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন,তার পৈত্রিক ও ক্রয়কৃত জমি ভুলবশত রেকর্ড হওয়ায় সংশোধনের জন্য ভূমি অফিসে গেলে সার্ভেয়ার মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেন। আরেকজন ভুক্তভোগী জানান,
পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে প্রতিবেশীর সঙ্গে বিরোধের ঘটনায় তদন্তের দায়িত্ব পড়লে তিনি ঘুষ দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করেই প্রতিপক্ষের পক্ষে একতরফা প্রতিবেদন দাখিল করেন। একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলার ভরাডোবা ইউনিয়নের একটি জমি বিরোধ নিয়েও। ভুক্তভোগীদের দাবি,সার্ভেয়ারের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যথাযথ যাচাই ছাড়া সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে,যা নিয়ে প্রকৃত মালিক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। কাচিনা ইউনিয়নের এক সেবাগ্রহীতা অভিযোগ করেন,তার জমির নামজারি খতিয়ান করতে গেলে সার্ভেয়ার প্রথমে জমির মালিকানা নিয়ে আপত্তি তোলেন। পরে সার্ভেয়ারের সহযোগী হিসেবে পরিচিত উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা রুবেল হোসাইন তাকে প্রায় এক লাখ চল্লিশ হাজার টাকা দিলে সমস্যার সমাধান হবে বলে জানান। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে,সার্ভেয়ার জহিরুল ইসলাম অনৈতিক সুবিধার বিনিময়ে এক ব্যক্তির দখলীয় জমি অন্যজনকে পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেন। তার দাবি পূরণে ব্যর্থ হলে তদন্ত প্রতিবেদনে প্রতিকূল মতামত দেওয়া হয়,যার ফলে এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধ বাড়ছে। কাদিনগর,পালাগাঁও ও তামাট এলাকার কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন,সার্ভেয়ার যোগদানের পর থেকে কিছু এলাকায় সরকারি ভিপি সম্পত্তি নিয়ে নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়ভাবে কিছু সহযোগীর মাধ্যমে প্রতিপক্ষ তৈরি করে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও ওঠে। স্থানীয় সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ,ভালুকা উপজেলা ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া প্রায় কোনো কাজই হয় না। জমির নামজারি,খতিয়ান যাচাই, তদন্ত প্রতিবেদন কিংবা খাজনা সংক্রান্ত কাজে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি মিউটেশনের ফি প্রায় ১১৭০ টাকা হলেও বাস্তবে ৫ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী। এ ক্ষেত্রে মিউটেশন সহকারী সাজ্জাদ হোসেনের বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে তথ্য নিতে গিয়ে পরিচয় গোপন রেখে কয়েকজন সেবাগ্রহীতার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান,সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা করলেও কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে সেই উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের অভিযোগ,অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তা ও তাদের নিয়ন্ত্রিত দালালদের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে ফাইল এসিল্যান্ডের দপ্তরে পাঠানোই হয় না। একজন সেবাগ্রহীতা জানান, বাবার নামে রেকর্ডকৃত সম্পত্তি নিজের নামে নামজারি করতে কয়েক দিন অফিসে ঘোরাঘুরি করার পর উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা তাকে ‘অফিস খরচ’ দেওয়ার কথা বলেন। পরে বাধ্য হয়ে টাকা দেওয়ার পরই তার কাজ সম্পন্ন হয়। অভিযোগ রয়েছে,রুবেল হোসাইন সাধারণ স্টাফ হওয়া সত্ত্বেও বিভিন্ন তদবিরের মাধ্যমে বারবার এসিল্যান্ড অফিসে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া অভিযোগকারীদের দাবি,কেউ অনিয়মের প্রতিবাদ করলে কিংবা জেলা প্রশাসককে জানাবেন বলে হুঁশিয়ারি দিলে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা তা আমলে নেন না এবং নিজেদের প্রভাবের কথা বলে বিষয়টি উড়িয়ে দেন। এ প্রসঙ্গে এক সামাজিক বিশ্লেষক বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন চালু হলেও তৃণমূল পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে তার সুফল পৌঁছায়নি। ফলে এখনো সেবাগ্রহীতারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি মনে করেন,ভূমি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এবং কার্যকর তদারকি প্রয়োজন। তবে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তারা।

রিমন হোসেন

টাঙ্গাইলে বরাদ্দের খেজুরের কার্টন সংখ্যায় গড়মিল

রিমন হোসেন প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
টাঙ্গাইলে বরাদ্দের খেজুরের কার্টন সংখ্যায় গড়মিল

সৌদি আরবের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া টাঙ্গাইলে খেজুরের কার্টনের হিসাবে গরমিল দেখা দিয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর এবং টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখার প্রকাশিত খেজুরের বরাদ্দে গরমিল দেখা যায়। এ নিয়ে জেলাজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ১২ হাজার ৫০০ কার্টন খেজুর দেশের বিভিন্ন জেলায় বরাদ্দ দেয় সরকার। ‘কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার’ এর দেওয়া এই খেজুর জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়। সে হিসেবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের প্রকাশিত বরাদ্দে টাঙ্গাইলে ৩১৮ কার্টন খেজুর দেওয়া হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখার প্রকাশিত হিসেবে ৩০০ কার্টন বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। ১৮ কাটন খেজুর কম দেখানোয় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

সূত্র জানায়, গত ১ মার্চ সারাদেশে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে খেজুরের কার্টন বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু জেলা পর্যায়ে খেজুরের বরাদ্দের এসব তথ্য বুধবার ছড়িয়ে পড়ে৷

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখার সূত্রে জানা যায়, বাসাইলে ১৭ কার্টন, ভূঞাপুর ২৩, দেলদুয়ারে ১৬, ধনবাড়ীতে ১৬, ঘাটাইলে ৩৩, গোপালপুরে ২০, কালিহাতীতে ৩৩, নাগরপুরে ২৩, সখীপুরে ২৩ এবং টাঙ্গাইল সদরে ৩৮ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, প্রথমে আমাদের ৩১৮ কার্টন বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তা সংশোধন করে ৩০০ কার্টন বরাদ্দ দেওয়া হয়। এতে কোনো গড়মিল নেই।

বিষয়টি নিয়ে তিনি জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখায় খোঁজ নিতে বলেন। তিনি আরও বলেন, বরাদ্দের এসব খেজুর ইউএনওদের কাছে দেওয়া হয়েছে।

error: Content is protected !!