বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

মামুনুর রশীদ মামুন, ময়মনসিংহ

‘দালাল ছাড়া সেবা নেই’—ময়মনসিংহের ভাবখালী-ঘাগড়া ভূমি অফিসে জনভোগান্তি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১১:৪৮ এএম | 32 বার পড়া হয়েছে
‘দালাল ছাড়া সেবা নেই’—ময়মনসিংহের ভাবখালী-ঘাগড়া ভূমি অফিসে জনভোগান্তি

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ভাবখালী ও ঘাগড়া ইউনিয়নের একমাত্র ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে ঘুষ বাণিজ্য,দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি—ন্যায্য জমি সংক্রান্ত সেবা নিতে গেলেই সাধারণ মানুষকে পড়তে হচ্ছে দালাল চক্রের খপ্পরে,দিতে হচ্ছে মোটা অঙ্কের ঘুষ। আর ঘুষ না দিলে ফাইল আটকে রাখা, অযথা জটিলতা তৈরি করা কিংবা দিনের পর দিন ঘোরানোর মতো নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী সেবাগ্রহীতাদের একাংশের অভিযোগ,এই অনিয়ম ও দালাল সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নায়েব লুৎফর রহমানের যোগসাজশ রয়েছে। যদিও তিনি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এলো নেপথ্যের চিত্র: স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলা এবং দীর্ঘ অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভাবখালী-ঘাগড়া ভূমি অফিসে নামজারি, খতিয়ান,পর্চা,জমি খারিজসহ প্রায় সব ধরনের সেবা নিয়ন্ত্রণ করছে একটি সংঘবদ্ধ দালাল সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে—এসব সেবা পেতে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হচ্ছে। স্থানীয়রা
জানান,দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন অফিসে ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে দালালের মাধ্যমে যোগাযোগ না করলে আবেদন প্রক্রিয়া এগোয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। কম্পিউটার দোকানের আড়ালে ঘুষের কারবার: গোপন অনুসন্ধানে আরও জানা যায়,ভূমি অফিস সংলগ্ন কয়েকটি কম্পিউটার দোকানকে ঘিরেই এই দালাল চক্রের তৎপরতা বেশি। দালালরা নিজেদের পরিচয় দেয় ‘কম্পিউটার দোকানের কর্মচারী’ হিসেবে। এই দোকানগুলোর আড়ালে ফাইল আটকে রেখে অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী,সেবার নামে সরাসরি অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি চোখে পড়ছে না বলে দাবি স্থানীয়দের।
সিন্ডিকেটে বহিরাগত নারীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ: অনুসন্ধানে আরও একটি উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে—ত্রিশাল দরগা বাজার এলাকার বহিরাগত এক নারী তাসলিমা নামের ব্যক্তি এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায়ে ভূমিকা রাখছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী,তিনি আরওআর খসড়া বাবদ ২০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং মাঠ পর্চার ফটোকপি বাবদ ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত অর্থ আদায় করছেন। অনেক ক্ষেত্রে মূল নথি দেখার সুযোগ না দিয়ে ফটোকপি করে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। চিহ্নিত দালালদের নাম প্রকাশ: অনুসন্ধানকারী সূত্রে জানা গেছে,এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম-পরিচয়ও সামনে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—রফিকুল (পিতা: রমজান আলী, গ্রাম: চুরখায়), সজিব (পিতা: খুশি, গ্রাম: চরখায়), জুম্মন (পিতা: মোতালেব, মৌজা: মদল), রিদয় (পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: চুরখায়), আব্দুল্লাহ (পিতা: অজ্ঞাত, গ্রাম: নেহালিয়াকান্দা) এবং খালেক (পিতা: মৃত আতা, গ্রাম: পন-ঘাগড়া)। স্থানীয়দের দাবি—এরা নিয়মিতভাবে ভূমি অফিসের আশপাশে অবস্থান করে সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে থাকে। প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়দের অভিযোগ,প্রতিদিন সকালেই দালাল চক্র অফিসের সামনে অবস্থান নেয় এবং সারাদিন সেবাগ্রহীতাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করে। ফলে প্রকৃত সেবাগ্রহীতারা বারবার হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এ নিয়ে স্থানীয় সুশীল সমাজের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন—“প্রশাসনের চোখের সামনে এমন দালাল সিন্ডিকেট কীভাবে সক্রিয় থাকে?” তাদের মতে, “স্মার্ট বাংলাদেশের কথা বলা হলেও বাস্তবে মাঠপর্যায়ে এমন দুর্নীতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।”
অভিযোগ অস্বীকার নায়েবের: তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিসের নায়েব লুৎফর রহমান। তিনি বলেন,
“আমি বরং দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। এ কারণে আমাকে জড়িয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তোলা হচ্ছে। ভূমি অফিসকে দালালমুক্ত করতে অফিসের পেছনের রাস্তা টিন দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে,যাতে বাইরের দালালদের আনাগোনা বন্ধ করা যায়।”
তবে সরেজমিনে দেখা গেছে,ওই টিনের গেট থাকলেও দালালদের উপস্থিতি পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বরং অফিস এলাকায় দালালদের প্রভাব এখনো দৃশ্যমান বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের: অভিযোগের বিষয়ে ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস হ্যাপি বলেন, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কঠোর ব্যবস্থা দাবিতে স্থানীয়রা
স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও সচেতন মহলের নেতৃবৃন্দের দাবি—দালাল সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এলাকাবাসীর মতে,ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে না। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়—এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ ও সচেতন মহল।

ক্রিকেটারের প্রেমে মজলেন মালাইকা

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৬ এএম
ক্রিকেটারের প্রেমে মজলেন মালাইকা

বলিউডের ‘আইটেম গার্ল’ মালাইকা অরোরা মানেই চর্চার কেন্দ্রবিন্দু। কখনো আরবাজ খানের সঙ্গে বিচ্ছেদ, কখনো অর্জুন কাপুরের সঙ্গে অসম প্রেম, আবার কখনো কোনো হিরের ব্যবসায়ীর সঙ্গে নাম জড়ানো মালাইকার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই ভক্তদের।
তবে এবার কোনো গুঞ্জন বা লুকোছাপা নয়, বরং নিজেই নিজের মনের মানুষের কথা জনসমক্ষে আনলেন এই অভিনেত্রী। মালাইকার জীবনের নতুন এই বিশেষ মানুষটি আর কেউ নন, তিনি সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার ও জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব নভজ্যোত সিং সিধু।
সম্প্রতি ‘দ্য গ্রেট ইন্ডিয়ান কপিল শো’-তে অতিথি হিসেবে হাজির হয়ে মালাইকা তাদের এই বিশেষ সম্পর্কের কথা জানান। গ্ল্যামার দুনিয়ার কৃত্রিমতার বাইরে তাদের এই বন্ধুত্ব এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনার তুঙ্গে।
অনুষ্ঠানে আবেগপ্রবণ হয়ে মালাইকা বলেন, ‘অনেকে বলেন একটা বয়সের পর নতুন বন্ধু পাওয়া কঠিন, কারণ মানুষের হাতে সময় নেই। কিন্তু সিধুর মধ্যে আমি একজন সত্যিকারের বন্ধু খুঁজে পেয়েছি। তার প্রতি আমার ভালোবাসা এতটাই অকৃত্রিম যে আমি জানি, তিনি কখনোই আমার মনে কষ্ট দেবেন না।’
কথার মাঝেই মালাইকা এক মজার তথ্য ফাঁস করেন। তিনি জানান, সিধু নিয়ম করে প্রতি ১৫-২০ দিন অন্তর অমৃতসর থেকে মালাইকার জন্য খাঁটি সাদা মাখন, মুখরোচক স্ন্যাকস এবং গুড় পাঠিয়ে দেন। এই শুনেই শো-র সঞ্চালক কপিল শর্মা রসিকতা করে বলেন, ‘ম্যাম, অমৃতসরের কুলচার ওপর সাদা মাখন দেখলেই এখন আপনার কথা মনে পড়ে যায়।’

‘প্রিন্স’ -এর টিজার মুক্তি

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
‘প্রিন্স’ -এর টিজার মুক্তি

আসন্ন ঈদুল ফিতরে বড় পর্দা কাঁপাতে আসছেন ঢালিউড কিং শাকিব খান। উৎসবের আমেজকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে তার তুরুপের তাস এবার ‘প্রিন্স’। সিনেমাটির ঘোষণা আসার পর থেকেই ভক্তদের মনে ছিল টানটান উত্তেজনা।
সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঠিক দুপুর ১২টায় প্রকাশ পাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত এই ছবির প্রথম ঝলক বা টিজার।
সিনেমাটির ‘ফার্স্টলুক’ পোস্টার প্রকাশ পাওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। শাকিব খানের নতুন রূপ আর রহস্যময় আবহ দর্শকদের কৌতূহল উসকে দিয়েছে কয়েক গুণ।
পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদ জানিয়েছেন, আগামীকাল দুপুর ১২টায় ‘ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড’-এর অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে টিজারটি উন্মুক্ত করা হবে। সিনেমাটির পটভূমি সাজানো হয়েছে নব্বই দশকের ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড ও আভিজাত্যের এক অনন্য সংমিশ্রণে।
কারিগরি দিক থেকেও চমক দিচ্ছে ‘প্রিন্স’। ভারতের ব্লকবাস্টার হিট ছবি ‘অ্যানিম্যাল’ খ্যাত প্রখ্যাত সিনেমাটোগ্রাফার অমিত রায় সামলাচ্ছেন এর ক্যামেরার দায়িত্ব। ছবিটি প্রযোজনা করছে ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মস।
‘প্রিন্স’ সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে থাকছেন দুই লাস্যময়ী অভিনেত্রী। দেশের জনপ্রিয় মুখ তাসনিয়া ফারিণের পাশাপাশি দেখা যাবে কলকাতার জ্যোতির্ময়ীকে। সব মিলিয়ে আসন্ন ঈদে ‘প্রিন্স’ যে প্রেক্ষাগৃহে ঝড় তুলতে প্রস্তুত, টিজার প্রকাশের তারিখ ঘোষণাতেই তার স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

আমি কাজ করতে চাই না : ঋতুপর্ণা

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ১১:৫৪ এএম
আমি কাজ করতে চাই না : ঋতুপর্ণা

বর্তমান সময়ে শোবিজ জগতের তারকাদের রাজনৈতিক ময়দানে নাম লেখানো কোনো নতুন ঘটনা নয়। ওপার বাংলার দেব থেকে শুরু করে কোয়েল একাধিক জনপ্রিয় মুখ এখন সক্রিয় রাজনীতির মাঠে। তবে ইন্ডাস্ট্রির হাই প্রোফাইল তারকা হওয়া সত্ত্বেও নিজেকে সবসময় এই আঙিনা থেকে দূরে রেখেছেন ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত।
টলিউডের প্রথম সারির অনেক শিল্পী যখন সিনেমা এবং রাজনীতির মাঠ একসঙ্গে সামলাচ্ছেন, তখন ঋতুপর্ণা কেন ব্যতিক্রম? সম্প্রতি ভারতীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ খোলসা করেছেন অভিনেত্রী নিজেই।
রাজনীতিতে যোগ না দেওয়ার কারণ হিসেবে ঋতুপর্ণা স্পষ্ট জানান, তিনি রাজনীতির মারপ্যাঁচ একেবারেই বোঝেন না।
তার ভাষ্যমতে, ‘আমি রাজনৈতিক ব্যাপারটা কিছুই বুঝি না। এমনকি নিজের ব্যক্তিগত জীবনের বা ইন্ডাস্ট্রির পলিটিক্সও আমি বুঝি না। যার ফলে আমাকে বারবার হোঁচট খেতে হয়। যে বিষয়টি নিয়ে আমার সঠিক ধারণা নেই, সেখানে আমি কাজ করতে চাই না।’
রাজনীতির চেয়ে নিজের অভিনয় জীবনকে সমৃদ্ধ করতেই বেশি আগ্রহী এই তারকা। ঋতুপর্ণা আরও বলেন, ‘আমি একজন শিল্পী। আমি সবসময় আমার শৈল্পিক সত্তাকে প্রাধান্য দিতে চাই এবং আমার শিল্পী জীবনকে আরও উন্নত করতে চাই। শিল্পী হিসেবে যদি মানুষের জন্য কিছু করতে পারি, সেটাই হবে আমার আসল সার্থকতা।’

error: Content is protected !!