সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২

সম্পাদকীয়

বিশৃঙ্খল পরিবহন খাত

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৫, ৩:০৪ পিএম | 151 বার পড়া হয়েছে
বিশৃঙ্খল পরিবহন খাত

সরকার আসে সরকার যায়, বিশৃঙ্খল পরিবহন খাত, শুধু হাত বদলায়
প্রতিদিন সকালে অফিসগামী মানুষের একটাই প্রার্থনা, ‘আজ যেন কোনোভাবে সময়মতো পৌঁছাতে পারি।’ ঢাকার রাস্তায় বের হলে মনে হয়, প্রতিটি মানুষ একেকজন যোদ্ধা—যাকে যুদ্ধ করতে হচ্ছে যানজট, ধোঁয়া, হর্ন, আর বেপরোয়া চালকদের প্রতিযোগিতার মধ্যে।
বাস থামবে কি না, থামলেও উঠতে পারব কি না, উঠতে পারলেও সিট পাব কি না—সবই নির্ভর করে ভাগ্যের ওপর। আর ভাগ্যের নিয়ন্ত্রণটা পুরোপুরি এমন এক সিস্টেমের হাতে, যার নাম ‘বাংলাদেশের পরিবহন খাত’।
গোলাপি স্বপ্ন, ধুলোর বাস্তবতা
গণঅভ্যুত্থানের মাত্র ছয় মাস পর, গত ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম ঘোষণা দিয়েছিলেন, আব্দুল্লাহপুর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচল করা ২১টি কোম্পানির বাস একক কোম্পানির অধীনে আনা হবে। সব বাস হবে গোলাপি রঙের, টিকিট কাউন্টারভিত্তিক ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত।
এই ঘোষণার পর অনেকেই ভেবেছিলেন, অবশেষে বিশৃঙ্খল এই খাতে কিছুটা হলেও শৃঙ্খলা ফিরবে। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই গোলাপি রঙ হারিয়ে যায় ধুলোয়।
আমরা যেকোনো নতুন উদ্যোগেই আশার আলো দেখি। কিন্তু সেই আলো বারবার নিভে যায় দুর্নীতি, অসহযোগিতা আর স্বার্থের আঁধারে। প্রকল্পের শুরুতে আলো থাকলেও শেষ হয় অজুহাত।
স্টিয়ারিং কার হাতে?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, দেশের পরিবহন খাতের স্টিয়ারিং আসলে কার হাতে? দেখতে মনে হয় সরকারের হাতে, কিন্তু বাস্তবে সেটা নীতিহীন ক্ষমতার জোটের হাতে।
মালিক-শ্রমিক সমিতি, রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠী, আর চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট মিলে তৈরি করেছে এক অদৃশ্য রাজত্ব। সেখানে নিয়ম মানে ক্ষতি, বিশৃঙ্খলা মানে লাভ।
আর এই রাজত্বের ভার বহন করে চলেছে প্রতিদিনের যাত্রীরা।
চুক্তির জালে জিম্মি রাস্তাঘাট
বাসচালক আর বাসমালিকের সম্পর্ক ব্যবসায়িক নয়, বরং এক প্রকার বাজি। দিন শেষে মালিককে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা দিতে হয় চালককে—যেভাবেই হোক। ফলে চালকের আয় নির্ভর করে বেশি ট্রিপ আর বেশি যাত্রী তুলতে পারার ওপর।
এই ‘চুক্তি সংস্কৃতি’ পুরো গণপরিবহন খাতকে প্রতিযোগিতার নামে অবৈধতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। চালকরা হর্ন বাজিয়ে, স্টপেজ এড়িয়ে, রাস্তায় প্রতিযোগিতা করে নিজেদের আয় নিশ্চিত করছে। অথচ, যাত্রীদের চোখে এটা শুধু প্রতিযোগিতা না, তাদের বাঁচা-মরার খেলা।
কাগজে ফিট, রাস্তায় বিপর্যয়
প্রতিটি গাড়িরই নাকি ফিটনেস সার্টিফিকেট আছে। কিন্তু রাস্তায় নামলেই বোঝা যায়—কাগজের সার্টিফিকেট আর বাস্তবের গাড়ি দুই জগতের জিনিস। অধিকাংশ বাস দেখতেই ভয় লাগে—সেগুলো এত ভাঙাচোরা। আবার দেখতে ঝকঝকে রঙ করা বাসের ভেতরে সিট ভাঙা, ব্রেক দুর্বল, আর ইঞ্জিন ক্লান্ত। কখনও ধোঁয়া ছুটে চোখে পানি আনে, কখনও ব্রেক ফেল হয়, কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক গোলোযোগে রাস্তায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে।
প্রশাসনের চোখের সামনে প্রতিদিন এসব অনিয়ম চললেও দায় নিতে কেউ রাজি নয়।
রাস্তায় বিশৃঙ্খলার পেছনে রাজনীতি
বাংলাদেশের পরিবহন খাত কেবল অবকাঠামো নয়, এটি রাজনীতিরও অংশ। কোন মালিক কাকে সমর্থন করে, কোন রুট কার দখলে—এই হিসাবেই চলে সিদ্ধান্ত।
একটি নতুন নীতি বা প্রকল্প মানে একদল ক্ষুব্ধ গোষ্ঠী, যারা ভেতরে ভেতরে প্রতিরোধ শুরু করে দেয়। ফলে পরিকল্পনা হারিয়ে যায় মাঠের রাজনীতিতে, শৃঙ্খলা হারে স্বার্থের কাছে।
জবাবদিহির বাইরে তিন স্তর
পরিবহন খাতের দুরবস্থার জন্য দায়ী তিন স্তরের ব্যর্থতা—নীতি, তদারকি ও বাস্তবায়ন। নীতিনির্ধারকেরা প্রায়ই বাস্তবতার বাইরে থেকে সিদ্ধান্ত নেন, তদারকি সংস্থাগুলো—যেমন: বিআরটিসি—কাগজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে, আর বাস্তবায়নে থাকে রাজনৈতিক ছত্রছায়া।
ফলাফল, রাস্তায় ফিটনেসবিহীন বাস, লাইসেন্সবিহীন চালক, অনিয়ন্ত্রিত রুট
গণঅভ্যুত্থানের পর নতুন স্বাধীনতা নাকি পুরনো চক্র?
গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষ ভেবেছিল, এবার পরিবর্তন আসবে। কিন্তু সড়কে তাকালে বোঝা যায়, শুধু শাসক বদলেছে, সিস্টেম নয়। একই বিশৃঙ্খলা, সিন্ডিকেট আর কণ্ঠস্বর—শুধু স্লোগান পাল্টেছে। আমরা যে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’র কথা বলছি, সেই স্বাধীনতা এখনো পৌঁছায়নি রাস্তায়, চালকের সিটে বা যাত্রীর হাতে।
নতুন রং নয়, নতুন চিন্তা দরকার
বাংলাদেশের পরিবহন খাতের সমস্যার সমাধানে নতুন রং বা নতুন নাম নয়—নতুন চিন্তা প্রয়োজন। পেশাদার ব্যবস্থাপনা, ন্যায্য আয়ের কাঠামো ও কঠোর জবাবদিহি প্রয়োজন। যে দেশ মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠায়, সে দেশের রাজধানীর রাস্তায় সুশৃঙ্খল গণপরিবহন কি এত কঠিন? না, মোটেই কঠিন না—যদি রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকে।
শেষ কথা
ঢাকার রাস্তায় আজ প্রতিটি বাস একেকটি গল্প—ক্লান্ত চালক, রুষ্ট যাত্রী, অচল সিগন্যাল, নিস্তেজ সিস্টেম। এই গল্প বদলাতে হলে শুধু বাহন বা রং নয়, মানসিকতাও বদলাতে হবে।
গোলাপি বাসের মতো প্রতিটি উদ্যোগই আমাদের শেখায়—রং বদলালেই উন্নয়ন হয় না, বদলাতে হয় সিস্টেম।
যদি এখনই পরিবর্তনের পথে না হাঁটা যায়, তাহলে এই খাত কেবল হাত বদলাবে। পরিবহন শুধু চাকার গল্প নয়, দেশের চলার গল্প। আর এই গল্পে জনগণই হওয়া উচিত চালক—যাত্রী নয়।

সৈয়দ আব্দুল মান্নান

বাহুবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জালনোট প্রতিরোধে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

সৈয়দ আব্দুল মান্নান প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৫:০০ পিএম
বাহুবলে বাংলাদেশ ব্যাংকের জালনোট প্রতিরোধে ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত

হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার আয়োজনে ও সোনালী ব্যাংক পিএলসি বাহুবল শাখার সহযোগিতায় জালনোট প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধিমুলক এক ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩০ মার্চ সকাল ১১ টায় উপজেলা সভাকক্ষে এ ওয়ার্কসপ অনুষ্ঠিত হয়।

সোনালী ব্যাংক পিএলসি বাহুবল শাখার ম্যানেজার মোঃ ইব্রাহিম খলিল এর সভাপতিত্বে ওয়ার্কসপে প্রধান অতিথি ছিলেন সোনালী ব্যাংক হবিগঞ্জের ডিজিএম মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাহুবল উজ্জ্বল রায়, বাংলাদেশ ব্যাংক সিলেট শাখার যুগ্ম পরিচালক (ক্যাশ) রান্টু চন্দ্র দাস, উপপরিচালক তানভীর আহমেদ, উপপরিচালক শুভাশীষ পাল, ম্যানেজার জনতা ব্যাংক বাহুবল শাখার ম্যানেজার হোসাইন আহমেদ, মুক্তিযুদ্ধা সংসদ বাহুবল এর আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফিরোজ মিয়া।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বাহুবল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ আহমেদ আবিদ, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিক হাবিবুর রহমান নোমান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে জালনোটের উপর ডকুমেন্টারী প্রদর্শন করা হয়।

উখিয়ার দলিলুর রহমান শাহীন তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপি নেতা

সিরাজুল কবির বুলবুল, উখিয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৮ পিএম
উখিয়ার দলিলুর রহমান শাহীন তৃণমূল থেকে উঠে আসা বিএনপি নেতা

দলিলুর রহমান শাহীন একজন আপাদমস্তক বিএনপি নেতা।জন্ম ১৯৬৯ সালে সাবেক রুমখা গ্রামের ছায়া সুশীতল এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে।বাবা মৃত: রশিদ আহাম্মদ, মাতা:মৃত : মাজেদা বেগম। তিন বোন তিন ভাইয়ের একটি সুন্দর পরিবারে বেড়ে উঠা স্বপ্নবাজ সাবেক ছাত্রনেতার। সাবেক রুমখা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনার হাতেখড়ি, পালং আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ না করে চলেযান মরিচ্যা উচ্চবিদ্যালয়ে। সেখানথেকে তিনি মাধ্যমিক সার্টিফিকেট অর্জন করে প্রথমে ভর্তি হন কক্সবাজার সরকারি কলেজে। কলেজে পড়াশোনা পাশাপাশি তিনি রাজনীতি অঙ্গনে যুক্ত হন।পরে কক্সবাজার কলেজ থেকে তিনি চলে যান চট্টগ্রাম এ,জে চৌধুরী কলেজে সেই কলেজ থেকে তিনি এইচ,এস,সি পাশ করেন। পরে তিনি ১৯৯৩ সালে বি,এ, ছালে নুর কলেজ থেকে বি,এ পাশ করেন। পরে তিনি চট্টগ্রাম কলেজে মাস্টার্সে অধ্যায়ন করেন।
নব্বইয়ের স্বৈরাচারী এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে তিনি উখিয়ার রাজনীতি আলোচনায় আসেন,১৯৯৮ সালে তিনি উখিয়া উপজেলা (জাসাস)এর আহবায়ক নির্বাচিত হন। এর পর থেকে তিনি আর থেমে থাকেননি রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা দলিলুর রহমানকে ধীরে, ধীরে নিয়ে যান মূলদলে, প্রথমে তিনি হলদিয়াপালং ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন, পরে হলদিয়া পালং ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন, একসময় তিনি হলদিয়া পালং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কর্মদক্ষতার ফসল স্বরুপ তিনি প্রথম বারের মতো প্রচার সম্পাদক, অর্থ ও ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন উখিয়া উপজেলা বিএনপির পরে তিনি উখিয়া উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করেন,সবশেষে ৫ আগস্টের পর উখিয়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন।বর্তমানে তিনি উখিয়া উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্বপালন করে যাচ্ছেন।
তৃণমূল থেকে বেড়ে উঠা এই দুর্দান্ত সাহসী নেতা রাজনৈতিক জীবনে অনেক অবদান রেখেছেন, দলের প্রতিটি মিছিল, মিটিংয়ে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন দলকে কি এগিয়ে নিয়ে শক্তিশালী করে কি ভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় এই ব্যপারে তিনি দলীয় বিচক্ষণতার পরিচয় দেন এবং সবার নজরে আসেন।২০১৮ সালে স্বৈরাচারীনি হাসিনা সরকারের লেলিয়ে দেওয়া কিছু সন্ত্রাসী তাকে চিরতরে মেরেফেলার জন্য নির্মমভাবে আহত করেন, সেদিন যথা সময়ে তার ছেলে তারেক রহমান যদি ঘটনাস্থলে ছুটে না আসতো হয়তো দলিলুর রহমান আজ বেঁচে থাকতোনা। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ায় তিনি একাধিক মিথ্যা মামলার স্বীকার হন।
তবুও তিনি দলের আদর্শ থেকে এক সেকেন্ডের জন্য বিচ্যুত হননি বরং নিজের দলীয় নেতাকর্মীদে সাথে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনকে আরো বেগবান করতে দুর্দান্ত গতিতে সামনের সারিতে এগিয়ে যান।২৪ জুলাই ছাত্রজনতা আন্দোলনে কোর্টবাজার স্টেশনে দলিলুর রহমানের ভূমিকা ছিলো অনন্য। উখিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরওয়ার জাহান চৌধুরীর পজিটিভ ভুমিকায় দলিলুর রহমান শাহীন রাজনীতিক ভাবে আরো বেশি তেজস্ক্রিয় হয়ে উঠেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি নিজ এলাকার উন্নয়নে অগ্রণী ভুমিকা পালন করেন
মসজিদ, মাদ্রাসা,কবরস্থান ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও তিনি আর্থিক ভাবে বিভিন্ন সময় সহযোগিতা করেন।
৩ ছেলে ১ মেয়ে সংসার জীবনে তিনি খুবই সন্তুষ্ট। তার তিন ছেলে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত,এক মেয়ে এখনো অধ্যায়নরত আছেন।
দলিলুর রহমান শাহীনের স্বপ্ন শহীদ জিয়ার আর্দশে নতুন বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরে অনেক দুর এগিয়ে যাবে। তৃণমূলে ত্যাগীদের মুল্যায়ন হবে, নতুন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, দেশে শিক্ষিত,অশিক্ষিত কোন বেকার থাকবেনা বলে তিনি মনে করেন।

আওরঙ্গজেব কামাল, সভাপতি: ঢাকা প্রেসক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব

সত্যের পথে অবিচল সাংবাদিকতা: নিরপেক্ষতার আলোয় ঐক্যের শক্তি

আওরঙ্গজেব কামাল প্রকাশিত: সোমবার, ৩০ মার্চ, ২০২৬, ৪:৫৬ পিএম
সত্যের পথে অবিচল সাংবাদিকতা: নিরপেক্ষতার আলোয় ঐক্যের শক্তি

“সত্য প্রকাশে নিরপেক্ষতা, আর শক্তিতে ঐক্য—এই দুটিই সাংবাদিকতার প্রাণ।”-এই সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর বার্তাটি আজকের গণমাধ্যম বাস্তবতায় এক অনন্য দিকনির্দেশনা হয়ে উঠেছে। যেখানে তথ্যের ভিড়ে সত্য অনেক সময় আড়ালে পড়ে যায়, সেখানে এই দর্শন সাংবাদিকতার মূল চেতনাকে আবারও সামনে নিয়ে আসে।
সাংবাদিকতার প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হলো নিরপেক্ষভাবে সত্য তুলে ধরা। কোনো প্রভাব, পক্ষপাত বা ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে তথ্য পরিবেশনই একজন প্রকৃত সাংবাদিকের পরিচয়। নিরপেক্ষতা হারালে সংবাদ আর সংবাদ থাকে না—তা হয়ে ওঠে বিভ্রান্তির হাতিয়ার। তাই সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং নিরপেক্ষ অবস্থানই একটি বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম গড়ে তোলার ভিত্তি।
অন্যদিকে, সাংবাদিকদের শক্তির জায়গা হলো তাদের ঐক্য। একা একজন সাংবাদিক যতই সাহসী হোন না কেন, সম্মিলিত অবস্থান ছাড়া বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা কঠিন। ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দৃঢ় কণ্ঠে কথা বলতে পারে, চাপ ও হুমকির মধ্যেও সত্য প্রকাশে অবিচল থাকতে পারে। বর্তমান সময়ে তথ্যপ্রবাহের গতি যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রবণতাও। এই পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান শুধু একটি নীতি নয়, বরং সময়ের দাবি। সাংবাদিকদের পারস্পরিক সহযোগিতা, শ্রদ্ধাবোধ এবং একই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে চলাই পারে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করে তুলতে। সময়ের প্রবাহে অনেক কিছুই বদলায়, কিন্তু সত্যের প্রয়োজন কখনো ফুরায় না। আর সেই সত্যকে মানুষের সামনে তুলে ধরার দায়িত্ব যাদের কাঁধে, তারা হলেন সাংবাদিক। তবে একখান প্রশ্ন হল এই দায়িত্ব পালন করছে বর্তমানে কয়জন সাংবাদিক। কেন মানুষ আর সাংবাদিকদের দিকে আঙ্গুল তুলছে? এ প্রশ্নের জবাব দেবে কে। সাংবাদিকতা কেবল তথ্য পরিবেশনের কাজ নয়—এটি সমাজের বিবেক, ন্যায়বিচারের সহযাত্রী এবং গণমানুষের কণ্ঠস্বর।
এই পেশার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো নিরপেক্ষতা। নিরপেক্ষতা মানে শুধু দুই পক্ষের কথা বলা নয়, বরং সত্যের প্রতি দায়বদ্ধ থাকা। যখন সংবাদ পক্ষপাতমুক্ত থাকে, তখনই তা মানুষের মনে আস্থা সৃষ্টি করে। একটি নিরপেক্ষ প্রতিবেদন অন্ধকারে আলো জ্বালানোর মতো—যেখানে গুজব থেমে যায়, আর সত্য নিজের জায়গা করে নেয়। কিন্তু বাস্তবতা সবসময় সহজ নয়। নানা প্রভাব, চাপ, স্বার্থ এবং ভয়—এসবের মাঝেই সাংবাদিকদের কাজ করতে হয়। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একক প্রচেষ্টা অনেক সময় দুর্বল হয়ে পড়ে। ঠিক এখানেই প্রয়োজন ঐক্যের। ঐক্যবদ্ধ সাংবাদিক সমাজ মানেই শক্তিশালী একটি প্ল্যাটফর্ম, যেখানে সত্য চাপা পড়ে না, বরং আরও জোরালোভাবে উচ্চারিত হয়। সহকর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা এবং একসাথে দাঁড়ানোর মানসিকতা সাংবাদিকতাকে দেয় নতুন শক্তি। বিভক্ত অবস্থান শুধু দুর্বলতা তৈরি করে, আর ঐক্য তৈরি করে সাহস। বর্তমান যুগে তথ্যপ্রযুক্তির বিস্তারে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ছে মুহূর্তেই। কিন্তু এর সঙ্গে বেড়েছে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তির ঝুঁকিও। এই প্রেক্ষাপটে নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একটি ভুল তথ্য যেমন সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে, তেমনি একটি সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পারে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিতে। সাংবাদিকদের দায়িত্ব শুধু সংবাদ প্রকাশে সীমাবদ্ধ নয়; তারা সমাজকে সচেতন করেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ান এবং ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেন। আর এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হলে প্রয়োজন দৃঢ় নৈতিকতা ও একতাবদ্ধ অবস্থান। শেষ পর্যন্ত বলা যায়, নিরপেক্ষতা হলো সাংবাদিকতার প্রাণ, আর ঐক্য হলো তার শক্তির ভিত্তি। এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে একটি সাহসী, দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্য গণমাধ্যম—যা শুধু সংবাদ নয়, সমাজের ভবিষ্যৎও নির্মাণ করে।বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরপেক্ষতা সাংবাদিকতার আত্মা, আর ঐক্য তার সাহস। এই দুইয়ের সমন্বয়েই গড়ে ওঠে এমন একটি গণমাধ্যম, যা শুধু তথ্য দেয় না—সমাজকে পথ দেখায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয় এবং মানুষের আস্থা অর্জন করে।সবশেষে বলা যায়, “নিরপেক্ষতায় সত্য, ঐক্যে শক্তি”—এই মূলমন্ত্র ধারণ করেই সাংবাদিকতা তার প্রকৃত মর্যাদা ও দায়িত্ব পালনে সক্ষম হতে পারে।

 

error: Content is protected !!