শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২

নিজেকে ভালো রাখার জন্য কিছু দরজা বন্ধ রাখাই শ্রেয়

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২১ জুন, ২০২৫, ৫:২৪ পিএম | 301 বার পড়া হয়েছে
নিজেকে ভালো রাখার জন্য কিছু দরজা বন্ধ রাখাই শ্রেয়

নিজেকে ভালো রাখার জন্য কিছু দরজা বন্ধ রাখাই শ্রেয় I
সবাইকে ধরে রাখতে হয় না।
সব সময় সদয় থাকলে, মানুষ সেটা অধিকার ভাবতে শুরু করে।
একটা সময় বুঝেছি—নিজের মনের জানালা সব সময় খোলা রাখলে, ধুলা-বালি ঢুকবেই।
তাই এখন দরজা জানালা বুঝে খুলি। সম্পর্ক বুঝে রাখি।
আগে ভাবতাম, সম্পর্ক মানেই নিরন্তর খোঁজ নেওয়া, সময় দেওয়া, আপস করা।
এখন বুঝি—মানুষের কিছু আচরণ নিজের সম্মানের সাথে যায় না।
কিছু অভিজ্ঞতা শেয়ার করি:
এক দিদি ছিল, প্রায়ই টাকা ধার নিত।
ফেরত দিতে ভুলে যেত, মনে করিয়ে দিলে বলত—“আরে না, দিয়ে দিয়েছি তো!”
কিন্তু মাসের পর মাস কেটে যেত, টাকাও আসত না, দৃষ্টিও বদলাত।
অদ্ভুত ব্যাপার, সে প্রায়ই আমার বাসায় আসত, খেত-দিতাম, গল্প করতাম।
কিন্তু আমি একবার ওর বাসায় গেলাম , প্লাস্টিকের গ্লাসে পানি দিয়ে বলেছিল, ‘কাজ আছে, পরে দেখা হবে।’
সেদিনই বুঝেছিলাম—মানবিকতা একতরফা হলে, সেটা বোকামি হয়ে দাঁড়ায়।”
এক বন্ধু ছিল, শুধু নিজের সুবিধামতো যোগাযোগ রাখত।
ওর প্রেমে ঝামেলা, তখন আমি therapist!
ওর বাড়ির সমস্যা, আমি lawyer!
কিন্তু আমি যখন একটু মন খারাপ করে বলি, “আজকে খারাপ লাগছে”—সে reply করে, “আমি একটু busy”।
আজও ইনস্টায় দেখে, ক্যাফেতে বসে latte খাচ্ছে।
আমি আর বিরক্ত হই না, কারণ বুঝে গেছি—কারো কাছে তুমি প্রয়োজন, কারো কাছে তুমি মানুষ। আমি দ্বিতীয় দলে থাকতে চাই।
এক আত্মীয়, সবসময় ছুটি পেলেই আমার বাসায় আসত,
বাচ্চারা খেলত, আমি রান্না করতাম, গল্প করতাম, ওরা খুশি হতো।
একবার হঠাৎ আমার বাসায় গ্যাস নেই, ভেবেছিলাম, ওদের বাসায় খেয়ে আসব।
গিয়ে দেখি, ও বলছে “আমরা একটু বাইরে যাচ্ছি, আরেকদিন এসো।”
তখনই বুঝলাম—সব ‘আপনজন’ আসলে আপন না, অনেকে শুধু সুবিধাজনক জায়গা খোঁজে।
সেই দিন থেকে আমি শুধু দূর থেকেই সালাম দেই, ঘর পর্যন্ত আর ঢুকি না।
এক কলিগ, আমার থেকে বারবার ফাইল তৈরিতে সাহায্য নিয়েছে।
নিজের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফোন করে ধরিয়ে রাখত,
আর আমার কাজের সময়? বলত, “তুই তো পারিস! তোর জন্য এটা কি এমন কঠিন?”
কিন্তু অফিসে প্রমোশনের প্রশ্নে একবার আমাকে বাদ দিয়ে নিজের নাম প্রস্তাব করেছিল।
সেই দিনই বুঝেছিলাম—যাদের কাছে তুমি ‘পারফেক্ট মেশিন’, তারা কখনও তোমাকে মানুষ ভাবে না।
সেই সম্পর্কের তার কেটে দিয়েছি, শান্তিতে আছি।
এক বান্ধবী, সব সময় আমার কাছ থেকে সাজগোজ, শপিং, ছবি তোলা—সব কিছুতেই সাহায্য নিত।
সে একবারও আমার কাজের বিষয়ে জিজ্ঞেস করেনি।
আমার একটি প্রজেক্টে সাহায্য চাইলে বলেছিল, “এই সময় আমার শরীর ভালো না।”
অথচ আমি তাকে ইনস্টায় দেখলাম ব্রাইডাল ট্রায়ালে ব্যস্ত।
সেদিন বুঝলাম—কিছু মানুষ তোমার উদারতাকে ব্যবহার করে, যতক্ষণ না তুমি সীমারেখা টানো।
আমি সেটা করেছি, সময় মতো।
কিছু সম্পর্ক, যেগুলোর ভার কেবল একপাশে পড়ে থাকে:
এক পরিচিত আপু ছিলেন, সব সময় ফোন দিতেন শুধুই নিজের দুঃখ শোনাতে।
একদিন যখন আমিই ভেঙে পড়েছিলাম, আর তাকে বলতে চেয়েছিলাম, তখন তিনি বলেছিলেন, “আরে এসব বিষয় আমি বুঝি না, পরে কথা বলি।”
আমি বুঝে গেছি, উনি আমার দুঃখের জন্য না, নিজের আরাম খোঁজার জন্য যোগাযোগ রাখেন।
এক বন্ধুর জন্মদিনে আমি কেক নিয়ে গেলাম, অথচ আমার জন্মদিনে সে একবারও ফোন দেয়নি। বলেছিল, ওই দিন নেটওয়ার্ক ছিল না। আমি মনে মনে বলেছি—বন্ধুত্ব যদি নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভর করে, তাহলে সেটা রাখারও দরকার নেই।
একবার এক আত্মীয়ের বাসায় দাওয়াতে গিয়েছিলাম।
চোখে মুখে হাসি, কিন্তু কথার ভেতরে ছিল কাঁটা।
একটা মন্তব্য—“তুমি তো কিছু করো না, বাসাতেই থাকো বেশি”—সেই একটা বাক্য আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছিল, সব দাওয়াত সম্মান নয়, কিছু দাওয়াত শুধুই ফর্মালিটি।সেই থেকে আমি ‘না’ বলতে শিখেছি।
✅ কী করা উচিত:
• নিজের ইচ্ছার বাইরে কাউকে খুশি করতে যেও না।
সম্মান তখনই থাকে, যখন তা আত্মসম্মান নষ্ট না করে।
• সময়মতো দূরত্ব তৈরি করো।
একবারের অপমান সহ্য করলে, মানুষ দ্বিতীয়বার সেটা অভ্যাস করে ফেলে।
• যারা কেবল নিজের প্রয়োজনে খোঁজ নেয়, তাদের জন্য আলাদা বাউন্ডারি রাখো।
ওদের কথা শুনো, হাসো, কিন্তু মন খুলে দিও না।
• ‘না’ বলাটা শিখে ফেলো—এটা আত্মরক্ষা।
‘না’ বললে অনেকে দূরে সরে যাবে, কিন্তু ওদের না যাওয়াটাই বিপদ।
❌ কী করা উচিত নয়:
• বেশি ভদ্র হতে গিয়ে নিজেকে ছোট করো না।
“ভদ্র” হবার চেষ্টায় অনেকেই নিজের অনুভূতির কবর দিয়ে ফেলে।
• যারা একবার আঘাত করেছে, তাদের বারবার সুযোগ দিও না।
‘দ্বিতীয় সুযোগ’ মানে অনেক সময় ‘দ্বিতীয়বার কষ্ট’।
• ভুল মানুষদেরকে ঠিক করার দায়িত্ব নিও না।
তুমি কাউন্সেলর নও, থেরাপিস্ট নও—তুমি একজন মানুষ, যার নিজের অনুভূতির যত্ন নেওয়াও জরুরি।
• নিজের অবস্থান বোঝাতে গিয়ে চোখে জল এনো না।
যে বোঝে না, সে কান্না দেখেও ব্যস্ত থাকবে অন্য কাজে।
আজ আমি কেমন?
• নিজের জায়গা বোঝাতে শিখেছি।
• ভালোবাসা দিতে আগে ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্যতা দেখি।
• অপরাধবোধ ছাড়াই ব্লক করি, মিউট করি, দূরে যাই—কারণ সেটা আমার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য দরকারি।
🔚 সব সম্পর্ক পবিত্র নয়,
সব সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ নয়,
সব সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হওয়াও জরুরি নয়।
তোমার জীবনের প্রতিটা মানুষ যদি তোমার স্পেস, সম্মান আর সংবেদনশীলতা বুঝতে না পারে—তবে সেই সম্পর্ক শুধু নামমাত্র একটা বোঝা।
জীবন ছোট, সময় অল্প। সব জায়গায় খুশি ছড়াতে গিয়ে নিজেকে ধ্বংস কোরো না।
নিজেকে ভালোবাসো, নিজের মনকে গুরুত্ব দাও।
কিছু দরজা বন্ধ রাখো—সেটা তোমার শান্তির জন্য।

ইউএনও ছাতক ডিপ্লোম্যাসি চাকমা

কোন অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না

সেলিম মাহবুবঃ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
কোন অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না

ছাতক উপজেলার দোলার বাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুরশি গ্রামে সাম্প্রতিক গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চুরির সাথে জড়িতদের ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোম্যাসি চাকমা। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন। এ সময় ভাঙচুরের শিকার পরিবারগুলোর সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। একজন জেল হাজতে। তবে তাদের স্বজনদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারকে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশনা দেন তিনি। পরিদর্শনকালে ইউএনও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি মনোযোগ সহকারে গ্রামবাসীর বক্তব্য শোনেন এবং গত ২৫ মার্চ ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন,অপরাধী যে-ই হোক, আইনের মাধ্যমেই তার বিচার নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।তিনি আরও জানান, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি চুরি প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। তবে কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন ইউএনও।এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পরিবারের কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছিল। বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ি সেবুল রেজা বলেন, এ পরিস্থিতি উত্তরণে গ্রামের ছাত্র-যুবক ও প্রবাসীদের উদ্যোগে একটি “চোর নির্মূল কমিটি” গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, চুরির উপদ্রপে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এলাকার চোরদের সম্প্রতি ডেকে এনে শাসানো হয়। কিন্তু এরপরও চুরি বন্ধ হয়নি। তার দাবি, ২৫ মার্চের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না; বরং তা আকস্মিকভাবে সংঘটিত হয়েছে। গ্রামবাসীরা জানান, প্রশাসনের সহযোগিতা কামনায় ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে মোহাম্মদ বাজারে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে একটি বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শনে আসায় তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।স্থানীয়রা বলেন, তারা এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং মাদক, চুরি ও সকল ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন। সার্বিকভাবে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, গ্রামবাসী ও অভিযুক্ত পরিবার-সবার অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সময় এলাকার সর্বস্হরের শতশত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তেল সংগ্রহের নতুন সময় নির্ধারণ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
তেল সংগ্রহের নতুন সময় নির্ধারণ

জ্বালানি তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা ও সংকট মোকাবিলায় ফিলিং স্টেশনগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপো থেকে তেল সংগ্রহের সময় দুই ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার জারি করা এ নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। নির্দেশনাটি বিপিসির অধীন বিপণন কোম্পানিগুলোকে ২৮ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

এর আগে, ডিলাররা বেলা ১১টা থেকে ডিপো থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারতেন। একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলোকে দৃশ্যমান স্থানে ব্ল্যাক বা হোয়াইট বোর্ডে দৈনিক তেল গ্রহণের তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দেওয়া এই নির্দেশনাটি দাপ্তরিক ওয়েবসাইট কিংবা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেনি সংস্থাটি। তবে আজ শনিবার আজকের পত্রিকা থেকে যোগাযোগ করা হলে বিপিসির একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওই নির্দেশনা গণমাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য নয়। এটি সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা।

দ্য টেলিগ্রাফ থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ

জয়ের পথে ইরান

দ্য টেলিগ্রাফ থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
জয়ের পথে ইরান

গত তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমানবাহিনী ইরানের আকাশে অনবরত বোমাবর্ষণ করে চলেছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বছরের পর বছর ইসলামিক রিপাবলিককে ভেতর থেকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। এত কিছুর পরও আশ্চর্যজনক শোনালেও সত্য যে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সামনে এই যুদ্ধে ‘বিজয়ী’ হওয়ার একটি স্পষ্ট পথরেখা তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হঠকারিতা এবং রণকৌশলের ভুলগুলোই মূলত ইরানের এই জয়ের পথকে প্রশস্ত করেছে, যার ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর।

প্রথমত, যেকোনো মূল্যে টিকে থাকাই ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের আসল বিজয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প ইরানিদের ‘মুক্তির সময় এসেছে’ বলে অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছিলেন। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বহু শীর্ষ কমান্ডার ও মন্ত্রী নিহত হয়েছেন। কিন্তু শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি, বরং রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এখন কার্যত দেশটির ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতক্ষণ না লাখো মার্কিন সেনা ইরানে সরাসরি স্থল অভিযান চালাচ্ছে, ততক্ষণ কোনো গণবিপ্লব ছাড়া এই শাসনের পতন সম্ভব নয়। এমনকি নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প এখন ইসলামিক রিপাবলিকের পতনের চেয়ে পর্দার আড়ালে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে চুক্তির পথ খুঁজছেন। কেননা ইরান টিকে গেলে সেটি হবে তাদের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক বিজয়।

দ্বিতীয়ত, ইরানের দ্বিতীয় বড় শক্তি হলো বিশ্বের অর্থনীতির অন্যতম ধমনি ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে এক চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনকে একপ্রকার বাধ্য হয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে হচ্ছে, যেই দেশটিকে তিনি কিছুদিন আগেও ‘নিঃশর্তে আত্মসমর্পণ’ করার হুমকি দিয়েছিলেন। এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানকে যুদ্ধের ময়দানে এক বড় দর-কষাকষির হাতিয়ার তুলে দিয়েছে।

তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ইরানকে এক নতুন আয়ের উৎস করে দিয়েছে। দেশটি বর্তমানে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কোন জাহাজ এই পথ দিয়ে যাবে আর কোনটি যাবে না। অভিযোগ রয়েছে, চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো নিরাপদে প্রতিটি তেলবাহী জাহাজ পার করার জন্য ইরানকে ২০ লাখ ডলার করে ফি দিচ্ছে। এমনকি তেলের বাজারে বড় বিপর্যয় এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে সমুদ্রে থাকা ইরানের ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিক্রির সুযোগ দিয়েছে। ট্রাম্প এখন হরমুজ প্রণালি ‘যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করার প্রস্তাব দিচ্ছেন। এটি ইরানের জন্য এক অভাবনীয় সুযোগ তৈরি করেছে; যে প্রণালি দিয়ে আগে জাহাজ চলাচলে ইরান এক পয়সাও পেত না, এখন সেখান থেকে তারা নিষেধাজ্ঞামুক্ত এক বিশাল রাজস্ব আয়ের স্বপ্ন দেখছে।

চতুর্থত, যদি ইরান এই যুদ্ধে টিকে যায় এবং হরমুজ প্রণালি থেকে নতুন করে অর্থ উপার্জন করতে পারে, তবে তারা সেই অর্থ দিয়ে তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক সক্ষমতা পুনরায় তৈরি করতে পারবে। যদিও নেতানিয়াহু দাবি করছেন, তাঁরা ইরানের অস্ত্রশিল্পের ভিত্তি এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ ও সময় পেলে ইরান আবারও সেগুলো পুনর্নির্মাণ করতে সক্ষম। হয়তো এই সক্ষমতা ফিরে পেতে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং ততদিনে ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকবেন না, কিন্তু তাঁরা তাদের উত্তরসূরিদের জন্য এক চরম শক্তিশালী ইরানকে রেখে যাবেন।

পরিশেষে বলা যায়, এই যুদ্ধ ইরানকে হয়তো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে। জনগণের তীব্র ক্ষোভ হয়তো ভবিষ্যতে এই শাসনের পতন ঘটাতে পারে, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টিকে থাকাটাই ইরানের কাছে এক বড় বিজয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

error: Content is protected !!