মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ চৈত্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ৩১ চৈত্র ১৪৩৩

শওকত হোসেন মুন্না

হাটহাজারীতে রামদার কোপে আঙুল বিচ্ছিন্ন

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০১ পিএম | 18 বার পড়া হয়েছে
হাটহাজারীতে রামদার কোপে আঙুল বিচ্ছিন্ন

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে রাহাজানি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। বিশেষ করে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু ব্যবসায়ীদের টার্গেট করে সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধচক্রের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষ যেমন আতঙ্কিত, তেমনি ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। সর্বশেষ এক নৃশংস ঘটনায় দেড় লাখ টাকা ছিনতাই করতে গিয়ে এক গরু ব্যবসায়ীর হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল রামদার কোপে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা, যা পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী মোঃ বেলাল (৩৫), পিতা মৃত এনু মিয়া, সাং খন্দকিয়া, ৯নং ওয়ার্ড, ১২নং চিকনদন্ডী ইউনিয়ন, হাটহাজারী। তার স্ত্রী খুরশিদা আক্তার থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, প্রতি বছরের মতো এবছরও কোরবানির ঈদ উপলক্ষে গরু ক্রয় করে মোটা তাজাকরণ শেষে বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে ব্যবসা পরিচালনার জন্য তার স্বামীকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ০৩ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখ বিকাল আনুমানিক ৩টার দিকে মোঃ বেলাল উক্ত টাকা সঙ্গে নিয়ে হাটহাজারী বাজারে গরু কিনতে রওনা হন। পথে বালুচড়া তুফানী রোডের আগুন ফকিরের মাজার এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় পৌঁছালে আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা তাকে অনুসরণ করতে থাকে।

পরবর্তীতে সন্ত্রাসীরা তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক হাটহাজারীর বুলিয়া পাড়া এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে প্রকাশ্য রাস্তায় নির্মমভাবে হামলা করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দ্বিতীয় আসামি হাতে থাকা রামদা দিয়ে বেলালের উপর প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে কোপ মারলে আত্মরক্ষার চেষ্টা করতে গিয়ে তার বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

এতেই ক্ষান্ত হয়নি সন্ত্রাসীরা। প্রথম আসামি তার মুখমণ্ডলে স্প্রে ছিটিয়ে তাকে অচেতন করে ফেলে এবং অন্যান্য আসামিরা তাকে মাটিতে ফেলে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর করে। এ সময় দ্বিতীয় আসামি তার প্যান্টের পকেটে থাকা গরু কেনার জন্য রাখা নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। তৃতীয় আসামি তার ব্যবহৃত আনুমানিক ১৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট জোরপূর্বক নিয়ে যায়।

হামলার এক পর্যায়ে ভুক্তভোগী অজ্ঞান হয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তাকে রাস্তার পাশে একটি বিলের মধ্যে ফেলে রেখে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে স্থানীয় মদুনাঘাট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই মোঃ হুমায়ুন ঘটনাস্থল থেকে অচেতন অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। আহতের স্বজনরা জানান, তার হাতে গুরুতর আঘাত এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।

ঘটনার সংবাদ পেয়ে তার স্ত্রী খুরশিদা আক্তারসহ আত্মীয়-স্বজন হাসপাতালে ছুটে যান এবং পরবর্তীতে বিস্তারিত জেনে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার, ছিনতাইকৃত টাকা ও মোবাইল উদ্ধার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখিত আসামিরা হলেন মোঃ কফিল উদ্দিন (৪০), মোঃ জাহেদ (৩৬), ল্যাংড়া মোরশেদ (৩৭) ও মোঃ নূর উদ্দিনসহ আরও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন। এলাকাবাসীর দাবি, এরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, হাটহাজারী এলাকায় দিন দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। প্রকাশ্যে ছিনতাই, রাহাজানি, মারামারি ,মাদক ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় অপরাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীরা এখন নিরাপদে চলাচল করতে পারছেন না।

সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা না করা হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তারা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

মোঃ মাহফুজুর রহমান বিপ্লব

ফরিদপুরে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ

মোঃ মাহফুজুর রহমান বিপ্লব প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১২ পিএম
ফরিদপুরে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ।

দিবসটি উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে বাহারী রকমের আয়োজন করা হয়।

বাংলা নববর্ষকে স্বাগত জানাতে বের করা হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে অম্বিকা ময়দানে এসে শেষ হয়।
বৈশাখী শোভাযাত্রায় রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন, মুখোশ, ঢাক-ঢোল, গ্রামীণ ঐতিহ্যের প্রতীক গরুর গাড়ি ও নানা সাজে সজ্জিত হয়ে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে সব বয়সের নারী-পুরুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

পরে অম্বিকা হলে জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত, নৃত্য ও কবিতা আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিল্পীরা।
এ সময় জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ফরহাদুল ইসলাম: স্টাফ রিপোর্টার

কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

মোঃ ফরহাদুল ইসলাম: স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৮ পিএম
কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন

নববর্ষের আনন্দঘন পরিবেশে গাজীপুরের ঐতিহ্যবাহী কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখ উদযাপন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে প্রেসক্লাবের হলরুমে এ উপলক্ষে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের সভাপতি সরকার আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. সেলিম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের নির্বাহী সদস্য মাহবুব হাসান মেহেদী, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাইনুল শিকদার, সহ-সভাপতি ডি এম সামান উদ্দিন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন সিকদার।

অনুষ্ঠানে বক্তারা সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন এবং সত্য প্রকাশের গুরুত্ব তুলে ধরেন। সভাপতির বক্তব্যে সরকার আব্দুল আলীম বলেন, “কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের ঐতিহ্য বজায় রেখে আমরা সবসময় নিরপেক্ষ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবো। সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সত্য তুলে ধরতে সকল সাংবাদিককে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।”

এসময় প্রেসক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ ভোজনের মাধ্যমে নববর্ষ উদযাপন সম্পন্ন করা হয়।

‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু: কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন করবেন?

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৬ পিএম
‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু: কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন করবেন?

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আজ মঙ্গলবার পয়লা বৈশাখ টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ল্যাপটপের সুইচ চেপে দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

টাঙ্গাইলের মূল অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী ‘বিসমিল্লাহ’ বলে ডিজিটাল পোর্টালে যুক্ত হন। একই সময়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৮টি বিভাগের আরও ১০টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এই কার্যক্রমের প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ের সূচনা করা হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০ হাজারেরও বেশি কৃষকের ডিজিটাল প্রোফাইল সংবলিত এই বহুমুখী কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের সূচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রম বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন গতকাল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো জিডিপিতে কৃষির বিশাল অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং কৃষকদের জন্য একটি স্থায়ী সুরক্ষা বলয় তৈরি করা। এই ডিজিটাল কার্ডটি কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়, এটি কৃষকদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতীক।’

তিনি আরও জানান, এই কর্মসূচির আওতায় শুধু শস্য উৎপাদনকারী কৃষকই নন, বরং মৎস্যজীবী, গবাদিপশু খামারি, দুগ্ধ খামারি এবং উপকূলীয় অঞ্চলের লবণচাষীরাও অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নির্মূল করে সরাসরি সরকারি সুবিধা কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল দর্শন।

বাস্তবায়নের তিন ধাপ ও বাজেট বরাদ্দ

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রকল্পটি তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে:

১. প্রাক পাইলটিং (পরীক্ষামূলক): যা আজ থেকে শুরু হলো। এর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

২. পাইলটিং: আগস্ট পর্যন্ত দেশের ১৫টি উপজেলায় এই কার্যক্রম চালানো হবে।

৩. দেশব্যাপী কার্যক্রম: পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরের মধ্যে সারা দেশের সব কৃষকের তথ্যভান্ডার তৈরি ও কার্ড বিতরণ সম্পন্ন করা হবে।

প্রাক পাইলটিং পর্যায়ে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্যচাষি বা আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি ও দগ্ধ খামারিসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লবণচাষীও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

প্রাক পাইলটিংয় শেষ হওয়ার পর আগামী আগস্ট পর্যন্ত ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরে সারা দেশে এই কার্ড বিতরণ ও তথ্য ভান্ডার তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কৃষক কার্ডের শ্রেণিবিভাগ ও আর্থিক সহায়তা

প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষকদের পাঁচটি বিশেষ শ্রেণিতে ভাগ করে এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে: ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক। এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বিশেষ সংস্থান রাখা হয়েছে। নিবন্ধিত ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক বছরে সরাসরি আড়াই হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা বা উপকরণ ভর্তুকি পাবেন, যা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

প্রাক পাইলটিং পর্যায়ে ওই ১১টি ব্লকের কৃষক, মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণ চাষিকে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হচ্ছে। এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় পর্যায়ের শাখায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে এই কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন কৃষক ২ হাজার ২৪৬ জন, প্রান্তিক কৃষক ৯ হাজার ৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র কৃষক ৮ হাজার ৯৬৭ জন, মাঝারি কৃষক ১ হাজার ৩০৩ এবং বড় কৃষক ৯১ জন।

এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকাও নগদ দেওয়া হবে। ২২ হাজার ৬৫ জনের মধ্যে এই সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১ জন।

কৃষকদের জন্য ১০ ধরনের বিশেষ ডিজিটাল সুবিধা

এই স্মার্ট কার্ডটি একটি ‘ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড’ হিসেবেও কাজ করবে। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় কৃষকদের নামে এই কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। কার্ডধারীরা ১০টি প্রধান সুবিধা পাবেন:

১. ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ,

২. ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা,

৩. সহজ শর্তে কৃষিঋণ,

৪. স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি,

৫. সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা,

৬. মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য,

৭. কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ,

৮. ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ,

৯. কৃষি বিমা সুবিধা এবং

১০. ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা পাবেন কৃষকেরা।

প্রধান সুবিধাগুলোর মধ্যে:

সরাসরি সরকারি ভর্তুকি: কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরকারি টাকা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছাবে।

সরঞ্জামে ছাড়: সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে ‘পয়েন্ট অব সেল’ (POS) মেশিন ব্যবহার করে ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও মৎস্য প্রাণিখাদ্য কিনতে পারবেন।

সহজ শর্তে ঋণ: অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরাসরি ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ গ্রহণের সুবিধা পাওয়া যাবে।

কৃষি বিমা: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হলে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমা সুবিধা পাওয়া যাবে।

আধুনিক প্রযুক্তি: সুলভ মূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও সেচ সুবিধা মিলবে।

ডিজিটাল পরামর্শ: মোবাইলের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ফসলের রোগবালাই দমনের উপায় এবং বাজারের সর্বশেষ দর জানা যাবে।

কৃষক কার্ড নিবন্ধন ও সংগ্রহের প্রক্রিয়া

সরকার জানিয়েছে, স্মার্ট কৃষি কার্ড পেতে কৃষকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নম্বর এবং জমির মালিকানা বা বর্গা চাষের প্রমাণপত্র প্রয়োজন হবে। স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (SAAO) প্রাথমিক তালিকা তৈরি করবেন। এরপর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি ও কার্ড বিতরণ করা হবে।

নিচে পুরো প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো:

স্মার্ট কৃষি কার্ড পেতে কৃষকদের বেশ কয়েকটি তথ্য প্রয়োজন হবে। সেগুলো হলো—

১. এনআইডির একটি কপি।

২. পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

৩. রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল নাম্বার।

৪. জমির দলিল কিংবা ভাগে চাষিদের জন্য প্রমাণপত্র।

৫. ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট নম্বর।

কৃষক কার্ড পাওয়ার ধাপসমূহ

সরকার প্রধানত স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে এই কার্ডটি পৌঁছে দেবে। আপনার যা করতে হবে :

১. উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ : আপনার ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (SAAO)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তিনিই প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেন।

২. নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন : সরকার যখন আপনার এলাকায় ‘পাইলট প্রজেক্ট’ বা মূল প্রকল্প শুরু করবে, তখন আপনাকে একটি ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে এটি অনলাইনেও করা যাবে।

৩. তথ্য যাচাই : আপনার দেওয়া তথ্য (জমির পরিমাণ, ফসলের ধরন ইত্যাদি) কৃষি অফিস থেকে সরেজমিনে যাচাই করা হবে।

৪. ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি : আপনার এনআইডি এবং মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি হবে।

৫. কার্ড বিতরণ : যাচাই শেষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আপনাকে এই স্মার্ট কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে।

সতর্কবার্তা

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো কৃষককে তার ঘামের ন্যায্যমূল্য দেওয়া। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষি খাতের ভর্তুকিতে স্বচ্ছতা আসবে এবং উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, এই নীতিতেই আমরা স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলছি।’

অনুষ্ঠানে আরও সতর্ক করা হয় যে, এই কার্ডটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে। কার্ডের জন্য কোনো প্রকার অর্থ লেনদেনে না জড়াতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

error: Content is protected !!