মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২

২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা সরকারের: মিরসরাইয়ে অর্থমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৭ পিএম | 68 বার পড়া হয়েছে
২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা সরকারের: মিরসরাইয়ে অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে খাল খনন কর্মসূচির প্রস্তাব রয়েছে এবং জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে মিরসরাই উপজেলার বামনসুন্দর এলাকায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, খাল খনন প্রকল্পে দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। খাল দখলে যত শক্তিশালী দখলদারই থাকুক না কেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি জানান, সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে অন্তত ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার খনন সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে মিরসরাইয়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার খাল খনন কাজ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে বাকি কাজ শেষ করা হবে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে এই অঞ্চলের প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমি নতুন করে চাষাবাদের আওতায় আসবে এবং অতিরিক্ত প্রায় ৫ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা কমবে এবং খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ করা হবে, যা পরিবেশ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মুহাম্মদ বদিউল আলম সরকার, মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজির আহমেদ খাঁনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা।

শহিদুল ইসলাম

নানিয়ারচর জোন কর্তৃক ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঈদ উপহার ও আর্থিক অনুদান প্রদান

শহিদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
নানিয়ারচর জোন কর্তৃক ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঈদ উপহার ও আর্থিক অনুদান প্রদান

রাঙ্গামাটি নানিয়ারচর উপ‌জেলায় ১৬ মার্চ ২০২৬, সোমবার নানিয়ারচর সেনা জোন (১৭ ই বেংগল) এর উদ্যোগে জোনের আওতাধীন এলাকার ৪১ মুসলিম পরিবারের মাঝে ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ উপলক্ষে ঈদ উপহার সামগ্রী, ঈদ পোষাক এবং আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

উক্ত কর্মসূচিতে নানিয়ারচর সেনা জোনের জোন কমান্ডার বিএ-৭৯০০ লেঃ কর্নেল মোঃ মশিউর রহমান, পিএসসি এবং বিএ-৮২২০ মেজর শেখ মোহাম্মদ নাঈম, জোন উপ-অধিনায়ক এর উপস্থিতিতে নানিয়ারচর জোনের আওতাধীন এলাকার ৩০টি মুসলিম পরিবারকে ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঈদ উপহার সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান, ১০ জন গরীব ও অসহায় ব্যক্তিদেরকে ঈদ পোষাক হিসেবে পাঞ্জাবী এবং ০১ জন অসহায় অসুস্থ্য ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

এ সময় জোন কমান্ডার বলেন, নানিয়ারচর জোন কর্তৃক দূর্গম প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী সদস্যগণ যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদ-উল-ফিতর পালন করতে পারেন সে জন্য নানিয়ারচর সেনা জোনের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার সামগ্রী, ঈদ পোষাক এবং আর্থিক অনুদান প্রদান করা হলো। এছাড়াও, এলাকার জণসাধারণ যাতে সুষ্ঠুভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারে সে বিষয়ে জোন কর্তৃক সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণ সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগের প্রতি প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেনাবাহিনী সবসময় দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য যে, অত্র এলাকার মানুষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিঃস্বার্থ এই সহযোগীতায় অত্যন্ত আনন্দিত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা নানিয়ারচর জোন কর্তৃক অত্র এলাকার জনসাধারণের কল্যাণের জন্য বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড চলমান রয়েছে।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

বাঁশখালীতে আগুনে পুড়ে ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:১১ পিএম
বাঁশখালীতে আগুনে পুড়ে ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

চট্টগ্রামের বাঁশখালী-সাতকানিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে দুই ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লটমনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো জাহেদা আক্তার (১৪) ও আব্দুল মালেক (৩)। তারা লক্ষ্মীপুর জেলার বাসিন্দা মো. হাসান ও হালিমা আক্তারের সন্তান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লটমনি এলাকার জেএমবি ব্রিকস নামের একটি ইটভাটার পাশে পরিত্যক্ত একটি বেড়ার ঘরে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন মো. হাসান ও হালিমা আক্তার। ওই ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন হালিমা আক্তার। আর বাবা মো. হাসান অন্যত্র কাজ করতেন। ঘটনার সময় সন্তানদের ঘরে রেখে মা-বাবা দুজনই বাইরে কাজে ছিলেন।

বিকেলের কোনো এক সময় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ঘরে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে পুরো ঘরটি পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে দুই শিশু আগুনে পুড়ে মারা যায়।

বাঁশখালী থানার রামদাশহাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক তপন কুমার বাগচী বলেন, নিহত দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, দুর্গম এলাকায় হওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করতে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রবাসীদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা সংবাদদাতা প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
প্রবাসীদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

গাজী ইয়াছিন ফকির জামে মসজিদে ধর্মীয় পরিবেশে আয়োজন; সমাজের কল্যাণ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত

ফেনী সদর উপজেলার দক্ষিণ মধুয়াই ২ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত গাজী ইয়াছিন ফকির জামে মসজিদে প্রবাসীদের উদ্যোগে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আয়োজিত এই মাহফিলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক জনাব আবুল কাশেম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পবিত্র রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার মাস।

এই মাসে দোয়া, ইবাদত এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি প্রবাসীদের এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওসমান গণী। তাঁর সাবলীল উপস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়।

তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রবাসীরা দেশের বাইরে থেকেও নিজেদের শেকড় ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ ভুলে যাননি। তাদের সহযোগিতায় এ ধরনের আয়োজন সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

দোয়া ও ইফতার মাহফিলে বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সহকারী যুগ্ম মহাসচিব ও ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক জনাব মোহাম্মদ হানিফ (সাংবাদিক)।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, রমজানের এই পবিত্র সময়ে সবাইকে মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, তেমনি সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তারা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে যাচ্ছেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে মোহাম্মদ বাবর, মোহাম্মদ রাজন, ফখর লিটন এবং রিয়াজ উদিনসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

তারা সবাই এই আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ইফতার মাহফিলে মসজিদ এলাকার অসংখ্য মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন। একসঙ্গে ইফতার করার মাধ্যমে সকলের মাঝে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

উপস্থিত সবাই প্রবাসীদের এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে গাজী ইয়াছিন ফকির জামে মসজিদের ইমাম সাহেব দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং প্রবাসীদের সুস্বাস্থ্য ও সফলতা কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন।

তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন সবাইকে নেক আমল করার তৌফিক দান করা হয় এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় থাকে।

ধর্মীয় আবহে অনুষ্ঠিত এ দোয়া ও ইফতার মাহফিল এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রবাসীদের সহযোগিতায় এমন মানবিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।

তাদের বিশ্বাস, এ ধরনের আয়োজন সমাজে ঐক্য, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।

error: Content is protected !!