এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
চট্টগ্রাম বন্দরে ২৭ হাজার টন ডিজেলবাহী ট্যাংকার, পথে আরও ৪টি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতিতে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। সিঙ্গাপুর থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল নিয়ে একটি ট্যাংকার ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে আরও চারটি ডিজেলবাহী ট্যাংকার বন্দরে ভিড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, ‘শিউ চি’ নামের একটি ট্যাংকার সোমবার (৯ মার্চ) প্রায় ২৭ হাজার ২০৪ টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় প্রবেশ করে। বর্তমানে জাহাজটি কুতুবদিয়া উপকূলের কাছে নোঙর করে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর প্রায় ১০ দিন পর এটিই প্রথম ডিজেলবাহী জাহাজ যা বন্দরে পৌঁছেছে।
শিপিং সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে আরও চারটি ট্যাংকার বন্দরে পৌঁছাবে। এসব ট্যাংকারে মোট প্রায় ১ লাখ ৪৭ হাজার টনের বেশি পরিশোধিত ডিজেল রয়েছে।
চারটি ট্যাংকারের স্থানীয় এজেন্ট প্রতিষ্ঠান প্রাইড শিপিং লাইন্স–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নজরুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী এক সপ্তাহের মধ্যেই সব জাহাজ বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এরপর ধাপে ধাপে জ্বালানি খালাসের কাজ শুরু হবে।
শিপিং এজেন্টদের তথ্য অনুযায়ী, ‘লিয়ান হুয়ান হু’ নামের একটি ট্যাংকার মঙ্গলবার রাতেই প্রায় ৩০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া ‘এসপিটি থেমিস’ নামের আরেকটি জাহাজ বৃহস্পতিবার প্রায় ৩০ হাজার ৪৮৪ টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া ‘র্যাফেলস সামুরাই’ ও ‘চাং হাং হং তু’ নামের আরও দুটি ট্যাংকার আগামী শনিবারের মধ্যে বন্দরে পৌঁছাতে পারে। প্রতিটি জাহাজেই প্রায় ৩০ হাজার টন করে ডিজেল রয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, দেশে ব্যবহৃত মোট জ্বালানির প্রায় ৭০ শতাংশই ডিজেল। প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ হাজার টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে, যার বড় অংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল।
এই পাঁচটি ট্যাংকারে আসা ডিজেল দিয়ে স্বাভাবিক হিসাবে প্রায় ১২ দিনের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তবে মজুত বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে দৈনিক সরবরাহ কমিয়ে ৯ হাজার টনে নামিয়েছে। এভাবে সরবরাহ অব্যাহত থাকলে ওই ডিজেল দিয়ে প্রায় ১৬ দিনের চাহিদা মেটানো যাবে।
বর্তমানে যে মজুত রয়েছে এবং নতুন চালান মিলিয়ে মোট জ্বালানি সরবরাহ দিয়ে প্রায় এক মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।











