সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২
সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২

ফলন নিয়ে আশাবাদী কৃষক

আমের মুকুলে উৎসবমুখর বাঘা

MD. ABU SAYED
MD. ABU SAYED - UPAZILA CORRESPONDENT, BAGHA (RAJSHAHI) প্রকাশিত: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৭ পিএম | 25 বার পড়া হয়েছে
আমের মুকুলে উৎসবমুখর বাঘা

মিষ্টি আমের রাজধানী খ্যাত রাজশাহী জেলার ঐতিহ্যবাহী বাঘা উপজেলা এখন মুকুলে মুকুলে সেজেছে। উপজেলা জুড়ে আমগাছের ডালে ডালে ফুটেছে মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মিষ্টি ঘ্রাণ। বাতাসে মৌ-মৌ সুবাসে মুখর হয়ে উঠেছে গ্রামবাংলার প্রকৃতি।

ঐতিহাসিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ এ উপজেলা শুধু ঐতিহ্যের জন্যই নয়, আমের জন্যও দেশজুড়ে সুপরিচিত। এখানে অবস্থিত প্রায় পাঁচশ বছরের পুরোনো বাঘা শাহী মসজিদ, যা ৫০ টাকার পুরোনো নোটেও স্থান পেয়েছিল। ঐতিহাসিক সূত্র মতে, ১৫২৩-১৫২৪ খ্রিষ্টাব্দে (হিজরি ৯৩০) সুলতান হোসেন শাহের পুত্র নুসরাত শাহ এই মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদের টেরাকোটায় আমের নকশা খোদাই করা রয়েছে, যা প্রমাণ করে—বাঘার আমের খ্যাতি প্রাচীনকাল থেকেই স্বীকৃত।

রাজশাহী জেলাকে আমের জন্য বিখ্যাত বলা হলেও মূল উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত বাঘা, চারঘাট ও পুঠিয়া। বর্তমানে এ উপজেলায় ৮ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর আবহাওয়াজনিত কারণে অধিকাংশ বাগানে কাঙ্ক্ষিত ফলন হয়নি। তবে এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অধিকাংশ গাছে পরিপূর্ণ মুকুল এসেছে। চাষিদের মতে, গাছে যে পরিমাণ মুকুল এসেছে তার অন্তত ২৫ শতাংশ টিকে থাকলেও বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাঘা পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের সফল আমচাষি ও আম ব্যবসায়ী মোঃ রবিউল ইসলাম রবি জানান, “মুকুল আসার পর থেকে আম পাড়া পর্যন্ত ৪-৫ বার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। এতে প্রতি হেক্টরে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়।” তিনি বলেন, এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন নিয়ে আশাবাদী চাষিরা। প্রতিবছর মাঘ মাসের শুরুতে আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করে। ফাল্গুনের শেষ দিকে গুটি বের হয়। বর্তমানে বাগান মালিকরা মুকুল রক্ষায় পরিচর্যা শুরু করেছেন।

বাঘার আম শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও সমাদৃত। গত কয়েক বছর ধরে এখানকার আম রপ্তানি হচ্ছে সুইজারল্যান্ড, ইতালি, ফ্রান্স, হংকং ও নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশে। রাজধানী ঢাকার বাজারেও বাঘার আমের আলাদা কদর রয়েছে; দামেও থাকে এগিয়ে।

উপজেলায় আমকে কেন্দ্র করে মৌসুমে ২০ থেকে ২৫টি ছোট-বড় হাট বসে। বড় বাজারগুলো বসে বাঘা সদর, মনিগ্রাম, বিনোদপুর, বাউসা, আড়ানী ও পাকুড়িয়ায়। এসব হাটে পাশ্ববর্তী চারঘাট থেকেও আম আসে। মৌসুমজুড়ে এ খাতে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের আশা, আবহাওয়া ও বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এ বছর আম বিক্রির পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এ অঞ্চলে উৎপাদিত উল্লেখযোগ্য জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ফজলি, হিমসাগর, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, আম্রপালি ও আশ্বিনা। এছাড়া বৌ-ভুলানী, রানীপছন্দ, জামাইখুশি, বৃন্দাবন, বোম্বাই খিরসা, মহনভোগ, কালীভোগসহ প্রায় দেড় শতাধিক জাতের আম চাষ হয়।

বাঘা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ শফিউল্লাহ সুলতান জনি বলেন, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৮ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। তবে আমের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।আম উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। উত্তম কৃষি চর্চা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমের উৎপাদন বৃদ্ধি ও রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে আমার অফিসের মাধ্যমে।

মুকুলের সুবাসে এখন মুখর বাঘা। প্রকৃতি যেন আগাম বার্তা দিচ্ছে—এবারও আমের রাজধানী তার সুনাম ধরে রাখতে প্রস্তুত।

রাসেদ বিল্লাহ চিশতীঃ (নোয়াখালী থেকে)

দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্ব, তাৎপর্য ও যাকাত প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণে নোয়াখালীতে সেমিনার অনুষ্ঠিত

রাসেদ বিল্লাহ চিশতীঃ (নোয়াখালী থেকে) প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্ব, তাৎপর্য ও যাকাত প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণে নোয়াখালীতে সেমিনার অনুষ্ঠিত

নোয়াখালীতে দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্ব, তাৎপর্য ও যাকাত প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণে সেমিনারের আয়োজন করেছে ইসলামিক ফাউণ্ডেশন নোয়াখালী।

(১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ইং) সকাল ১০ টায় নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের হল রুমে ইসলামিক ফাউণ্ডেশন নোয়াখালী জেলা শাখার আয়োজনে ও ইসলামিক ফাউণ্ডেশন নোয়াখালী জেলা শাখার উপপরিচালক মোঃ আবদুল্লাহ আল মাসউদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম। প্রবন্ধ উপস্থাপনা করেন নোয়াখালী ক্যারামতিয়া কামিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. মুহাম্মদ আমিনুল্লাহ।
যাকাত প্রদানে ইচ্ছুক প্রায় ১৫০ জন অতিথি
দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্ব, তাৎপর্য ও যাকাত প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণের সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

এছাড়া বিভিন্ন শ্রেণি পেশার অতিথিবৃন্দ আলোচনায় অংশ গ্রহণ করেন।
আলোচকনগন যাকাত ফান্ডে যাকাত প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণ ও দরিদ্র বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন।
ইসলামিক ফাউণ্ডেশন নোয়াখালী শাখার আয়োজনে যাকাত আদায় বিষয়ক শীর্ষক সেমিনারে ইসলামিক ফাউণ্ডেশন নোয়াখালী জেলা শাখার উপপরিচালক মোঃ আবদুল্লাহ আল মাসউদ গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘আমাদর দেশে দারিদ্র্য বিমোচনে যাকাতের অপরিসীম গুরুত্ব ও তাৎপর্য রয়েছে। যাকাত প্রদানে সবার মাঝে উৎসাহ বাড়াতে হবে। আজকে নোয়াখালীতে যাকাত প্রদানে উদ্বুদ্ধকরণে সেমিনার সফল করতে সহযোগিতা করায় সকলের প্রতি আন্তরিক ভাবে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী নারী সাইদার আকুল আবেদনঃ আমি একটি ইলেকট্রনিক হুইলচেয়ার কিনতে আর্থিক চাই

মকবুল হোসেন, ময়মনসিংহ, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:১৯ পিএম
হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী নারী সাইদার আকুল আবেদনঃ আমি একটি ইলেকট্রনিক হুইলচেয়ার কিনতে আর্থিক চাই

জীবনের চাকা থেমে গেছে বহু আগেই, চলার শক্তি নেই, নেই স্বচ্ছলতার আশ্বাস। অথচ তবুও বেঁচে থাকার লড়াই থামাননি জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার সানন্দবাড়ী উত্তর বাজার এলাকার হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী নারী সাইদা বেগম। তার জীবনের একমাত্র চাওয়া এখন একটি ইলেকট্রনিক হুইলচেয়ার, যা তাকে কিছুটা হলেও স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে সহায়তা করবে।

সাইদার পিতা মৃত সফর আলীর সংসারে উপার্জনের কোনো নির্ভরযোগ্য উৎস নেই। মানবেতর জীবন যাপন করছেন তিনি। বহু মানুষের কাছে সাহায্য চেয়েছেন কেউ সহানুভূতির হাত বাড়িয়েছেন, কেউ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।

সাইদা তাঁর আকুতি কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, আমি একজন হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী নারী। একটি ইলেকট্রনিক হুইলচেয়ার কিনবো বলে সবার প্রতি আকুল আবেদন করছি আমার জন্য আর্থিক সহযোগিতা করার। কতজনের কাছে কত কিছু চাইলাম অনেকে এখন আমায় দেখে না দেখার ভান করে চলে।হায়রে কি জীবন আমার! আল্লাহ! এমন জীবন থেকে মুক্তি দাও আমায়।তোমার নিকট প্রভু আকুল আবেদন আমাকে তুমি রক্ষা করো।

এই হৃদয়বিদারক অনুরোধটি কেবল একটি সাহায্যের আবেদন নয়, বরং একজন নিরুপায় নারীর বাঁচার আকুল বেদনার আকুতি। সমাজের বিত্তবান, হৃদয়বান মানুষদের প্রতি তার এই প্রার্থনা হয়তো আপনি-ই হতে পারেন তার জীবনে একটু আশার আলো।

যদি কেউ আর্থিকভাবে সহায়তা করতে চান, নিচের বিকাশ নম্বরে সরাসরি পাঠাতে পারেন সাহায্যঃ
বিকাশ (পার্সোনাল): ০১৭৫০-৭২৩২৬৬ (সাইদা)
আপনার ছোট্ট একটি সহায়তা হয়তো ফিরিয়ে দিতে পারে সাইদার জীবনে চলার পথ।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

আজই চসিক’র মেয়াদ শেষ, বর্তমান মেয়র চান পদে থাকতে। কী বলছে আইন?

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:১৪ পিএম
আজই চসিক’র মেয়াদ শেষ, বর্তমান মেয়র চান পদে থাকতে। কী বলছে আইন?

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান পরিষদের পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আজ রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি)। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন অনুযায়ী কোনো সিটি করপোরেশনের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ গণনা করা হয়। সে হিসাবে ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম সভা হওয়ায় আজই বর্তমান পরিষদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
তবে মেয়াদ শেষ হলেও নিজের চেয়ার ছাড়তে নারাজ বর্তমান মেয়র বিএনপির চট্টগ্রাম নগর কমিটির সাবেক আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন। এ নিয়ে নগরীর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আইনি বিতর্ক।
মেয়রের দাবি, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯–এর ৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত তিনি পদে বহাল থাকতে পারেন। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মন্ত্রণালয়ের সচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন। মেয়রের ভাষ্য অনুযায়ী, মন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তার ক্ষেত্রে ‘সেকশন সিক্স’ প্রযোজ্য হবে এবং প্রশাসক নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই।

১৫ বছর আগেই রুদ্ধ ফেরার পথঃ

আইন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মেয়র যে ধারার কথা বলছেন, সেটির রক্ষাকবচ অনেক আগেই বিলুপ্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯–এর ৬ নম্বর ধারায় ২০১১ সালে সংশোধনী এনে মেয়াদোত্তীর্ণ পরিষদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ বাতিল করা হয়।
২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর সরকারি গেজেটের মাধ্যমে আগের সেই শর্ত পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়। বর্তমানে ধারাটিতে শুধু বলা আছে—করপোরেশনের মেয়াদ হবে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার তারিখ থেকে পাঁচ বছর।
আইনের পরিশিষ্ট অংশেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১১ সালের সংশোধনীর মাধ্যমে আগের পরিষদের দায়িত্ব পালনের সুযোগ বিলুপ্ত হয়েছে। ফলে আইনবিদদের মতে, মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মেয়রের ক্ষমতা বিলুপ্ত হওয়ার কথা।

প্রশাসক নিয়োগের নজির আছেঃ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ইতিহাসে প্রশাসক নিয়োগের উদাহরণও রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় করোনা পরিস্থিতিতে নির্বাচন স্থগিত হলে তৎকালীন মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন-এর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ২০২০ সালের ৪ আগস্ট খোরশেদ আলম সুজন-কে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়। সে সময়ও স্থানীয় সরকার আইনের বাধ্যবাধকতার কারণেই বিদায়ী মেয়রকে আর দায়িত্বে রাখা হয়নি।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া সরকারের সামনে বিকল্প নেই।

প্রশাসক নিয়োগ ছাড়া উপায় নেইঃ

স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯–এর ৬০ ধারা অনুযায়ী (২০১১ সালের সংশোধনীসহ) কোনো সিটি করপোরেশনের মেয়াদ শেষ হলে সরকার নতুন পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত একজন উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কর্মকর্তাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিতে পারে।
এই বিধান অনুযায়ী, ডা. শাহাদাত হোসেনের ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা মন্ত্রীর মৌখিক আশ্বাসের চেয়ে আইনই এখানে শক্তিশালী।

তিন সিটিতে নির্বাচনের প্রস্তুতিঃ

মেয়াদ শেষ হওয়ার এই টানাপোড়েনের মধ্যেই চট্টগ্রামসহ ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম সভা হওয়ায় আজই চট্টগ্রাম সিটির মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আইন অনুযায়ী মেয়াদের শেষ ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

যেভাবে মেয়র হন শাহাদাতঃ

২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালতের রায়ে ডা. শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করা হয়।
২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এম রেজাউল করিম চৌধুরী ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। সেখানে শাহাদাত পান ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট।
নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে তিনি ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি মামলা করেন। তিন বছর পর আদালত মামলার রায় দিলে নির্বাচন কমিশন ২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর তাকে মেয়র ঘোষণা করে সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে। এরপর ১৭ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে তার মেয়র পদ নিশ্চিত করে।
এখন প্রশ্ন একটাই—আইনের ব্যাখ্যা অনুযায়ী মেয়র কি থাকবেন, নাকি প্রশাসক নিয়োগ হবে? চট্টগ্রামের প্রশাসনিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।

error: Content is protected !!