সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আমের মুকুলে উৎসবমুখর বাঘা

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি

মিষ্টি আমের রাজধানী খ্যাত রাজশাহী জেলার ঐতিহ্যবাহী বাঘা উপজেলা এখন মুকুলে মুকুলে সেজেছে। উপজেলা জুড়ে আমগাছের ডালে ডালে ফুটেছে মুকুল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে মিষ্টি ঘ্রাণ। বাতাসে মৌ-মৌ সুবাসে মুখর হয়ে উঠেছে গ্রামবাংলার প্রকৃতি।

ঐতিহাসিক নিদর্শনে সমৃদ্ধ এ উপজেলা শুধু ঐতিহ্যের জন্যই নয়, আমের জন্যও দেশজুড়ে সুপরিচিত। এখানে অবস্থিত প্রায় পাঁচশ বছরের পুরোনো বাঘা শাহী মসজিদ, যা ৫০ টাকার পুরোনো নোটেও স্থান পেয়েছিল। ঐতিহাসিক সূত্র মতে, ১৫২৩-১৫২৪ খ্রিষ্টাব্দে (হিজরি ৯৩০) সুলতান হোসেন শাহের পুত্র নুসরাত শাহ এই মসজিদ নির্মাণ করেন। মসজিদের টেরাকোটায় আমের নকশা খোদাই করা রয়েছে, যা প্রমাণ করে—বাঘার আমের খ্যাতি প্রাচীনকাল থেকেই স্বীকৃত।

রাজশাহী জেলাকে আমের জন্য বিখ্যাত বলা হলেও মূল উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত বাঘা, চারঘাট ও পুঠিয়া। বর্তমানে এ উপজেলায় ৮ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর আবহাওয়াজনিত কারণে অধিকাংশ বাগানে কাঙ্ক্ষিত ফলন হয়নি। তবে এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় অধিকাংশ গাছে পরিপূর্ণ মুকুল এসেছে। চাষিদের মতে, গাছে যে পরিমাণ মুকুল এসেছে তার অন্তত ২৫ শতাংশ টিকে থাকলেও বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বাঘা পুরাতন বাসস্ট্যান্ডের সফল আমচাষি ও আম ব্যবসায়ী মোঃ রবিউল ইসলাম রবি জানান, “মুকুল আসার পর থেকে আম পাড়া পর্যন্ত ৪-৫ বার কীটনাশক প্রয়োগ করতে হয়। এতে প্রতি হেক্টরে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়।” তিনি বলেন, এ বছর আবহাওয়া ভালো থাকলে ফলন নিয়ে আশাবাদী চাষিরা। প্রতিবছর মাঘ মাসের শুরুতে আমগাছে মুকুল আসতে শুরু করে। ফাল্গুনের শেষ দিকে গুটি বের হয়। বর্তমানে বাগান মালিকরা মুকুল রক্ষায় পরিচর্যা শুরু করেছেন।

বাঘার আম শুধু দেশেই নয়, বিদেশেও সমাদৃত। গত কয়েক বছর ধরে এখানকার আম রপ্তানি হচ্ছে সুইজারল্যান্ড, ইতালি, ফ্রান্স, হংকং ও নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশে। রাজধানী ঢাকার বাজারেও বাঘার আমের আলাদা কদর রয়েছে; দামেও থাকে এগিয়ে।

উপজেলায় আমকে কেন্দ্র করে মৌসুমে ২০ থেকে ২৫টি ছোট-বড় হাট বসে। বড় বাজারগুলো বসে বাঘা সদর, মনিগ্রাম, বিনোদপুর, বাউসা, আড়ানী ও পাকুড়িয়ায়। এসব হাটে পাশ্ববর্তী চারঘাট থেকেও আম আসে। মৌসুমজুড়ে এ খাতে লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের আশা, আবহাওয়া ও বাজার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এ বছর আম বিক্রির পরিমাণ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এ অঞ্চলে উৎপাদিত উল্লেখযোগ্য জাতগুলোর মধ্যে রয়েছে ফজলি, হিমসাগর, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, আম্রপালি ও আশ্বিনা। এছাড়া বৌ-ভুলানী, রানীপছন্দ, জামাইখুশি, বৃন্দাবন, বোম্বাই খিরসা, মহনভোগ, কালীভোগসহ প্রায় দেড় শতাধিক জাতের আম চাষ হয়।

বাঘা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মোঃ শফিউল্লাহ সুলতান জনি বলেন, এ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ৮ হাজার ৭০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। তবে আমের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে জানতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।আম উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকেন। উত্তম কৃষি চর্চা নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমের উৎপাদন বৃদ্ধি ও রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়াতে কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে আমার অফিসের মাধ্যমে।

মুকুলের সুবাসে এখন মুখর বাঘা। প্রকৃতি যেন আগাম বার্তা দিচ্ছে—এবারও আমের রাজধানী তার সুনাম ধরে রাখতে প্রস্তুত।

প্রতিষ্ঠাতা, ক্যাপশন নিউজ এবং ভিডিও এডিটরঃ মো: রাজিবুল করিম রোমিও, এম, এস, এস (সমাজ কর্ম-রাজশাহী), প্রধান উপদেষ্টাঃ মো: সাদেকুল ইসলাম (কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, সংগঠক), উপদেষ্টাঃ মো: মাহিদুল হাসান সরকার, প্রকাশকঃ কামরুন নেছা তানিয়া, সম্পাদকঃ মো: আ: হান্নান মিলন, সহকারী সম্পাদকঃ রুবিনা শেখ, ব্যবস্থাপনা সম্পাদকঃ মো: আব্দুল আজিজ, বার্তা সম্পাদকঃ মো: মিজানুর সরকার

প্রিন্ট করুন