কেন বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য ‘গেম চেঞ্জার’?
🌏 অনেকেই প্রশ্ন করেন, আমাদের নির্বাচন নিয়ে ভারত, চীন বা আমেরিকার এত মাথাব্যথা কেন? উত্তরটা লুকিয়ে আছে আমাদের ম্যাপে আর আমাদের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতায়। চলুন জেনে নিই কেন বাংলাদেশের নির্বাচন দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতির জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ:
📍 ১. ভৌগোলিক সংযোগ বা কানেক্টিভিটি:
বাংলাদেশ হলো দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সেতুবন্ধন। ভারতের ‘সেভেন সিস্টার্স’ বা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর জন্য বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেন’স নেক’-এর বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশের ট্রানজিট ভারতের নিরাপত্তার জন্য ভাইটাল।
⚓ ২. বঙ্গোপসাগরের নিয়ন্ত্রণ:
বঙ্গোপসাগর এখন বিশ্ব রাজনীতির নতুন কেন্দ্রবিন্দু। আমেরিকার ‘ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি’ (IPS) আর চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ’ (BRI) — এই দুই মহাপরিকল্পনার মাঝখানে বাংলাদেশ এক স্ট্র্যাটেজিক অবস্থানে আছে। আমাদের সমুদ্রবন্দরগুলোর নিয়ন্ত্রণ বা অংশীদারিত্ব কার হাতে থাকবে, তা আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দিতে পারে।
🤝 ৩. ভারত-চীন-আমেরিকা সমীকরণ:
বাংলাদেশ বর্তমানে এক বিরল ভারসাম্য বজায় রাখছে। ভারতের ঐতিহাসিক বন্ধু, চীনের বিশাল অর্থনৈতিক পার্টনার এবং আমেরিকার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক সহযোগী। নির্বাচনে ক্ষমতার রদবদল বা নতুন সরকারের নীতি এই তিন শক্তির সাথে সম্পর্কের সমীকরণ বদলে দিতে পারে।
📈 ৪. অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা:
২০২৬ সালে বাংলাদেশ এলডিসি (LDC) থেকে উত্তরণ করতে যাচ্ছে। এই অঞ্চলের অন্যতম বড় বাজার হিসেবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেশী দেশগুলোর বাণিজ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। অস্থিরতা মানেই পুরো অঞ্চলের সাপ্লাই চেইন ব্যাহত হওয়া।
🛡️ ৫. নিরাপত্তা ও চরমপন্থা দমন:
দক্ষিণ এশিয়ায় উগ্রবাদ এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশের ভূমিকা প্রশংসিত। একটি গণতান্ত্রিক ও স্থিতিশীল সরকার এখানে না থাকলে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে।
পরিশেষে:
বাংলাদেশের মানুষের একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে আগামীর পররাষ্ট্রনীতি। আমরা কার সাথে কতটা ঝুঁকব, নাকি ‘সবার সাথে বন্ধুত্ব’ বজায় রাখব—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।














