শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২

জাহারুল ইসলাম জীবন এর আধ্যাত্মিক সংশ্লেষণাত্বক বিশ্লেষণ

রতি থেকে জ্যোতি☞পর্ব:-৭ (শেষ পর্ব)

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:২২ পিএম | 83 বার পড়া হয়েছে
রতি থেকে জ্যোতি☞পর্ব:-৭ (শেষ পর্ব)

জৈবিক রসের উর্ধ্বগমন, লতিফা বিন্যাস এবং মানবেদেহে ঐশী জ্যোতি (নূর) প্রকটনের পদ্ধতি।
আমার দীর্ঘ আলোচনার নির্যাস, দেহতত্ত্বের নিগূঢ় রহস্য এবং সুফি দর্শনের আধ্যাত্মিক রসায়নকে একীভূত করে একটি চূড়ান্ত ও পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্র নিচে উপস্থাপন করছি। এটি আমাদের এই জ্ঞান-সফরের যাত্রায় একটি দালিলিক রূপ।
**১.ভূমিকায়নে প্রক্ষাপট্ :- সৃষ্টির দ্বৈততা ও একত্বের আদি উৎস>> সৃষ্টিতত্ত্বের মূলে রয়েছে এক পরম সত্তার সন্ধানে নিজেকে চেনার বাসনা। সুফি দর্শনের ‘কুন ফায়াকুন’-এর রহস্যে আদম ও হাওয়ার সৃষ্টি মূলত এক অখণ্ড নূরের দুটি মেরু। এই গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য হলো-মানবসত্তা কেবল রক্ত-মাংসের পিণ্ড নয়, বরং এটি একটি ‘ক্ষুদ্র মহাবিশ্ব’ (Microcosm), যেখানে কামের আগুনকে প্রেমের পরশে জ্যোতির নূরে রূপান্তর করা সম্ভব।
**২. রতি-তত্ত্ব: স্থূল হতে সূক্ষ্মে উত্তরণ >> দেহতত্ত্বের ভাষায় মানুষের জৈবিক শক্তি বা ‘রতি’ হলো আধ্যাত্মিক যাত্রার জ্বালানি। এই রতি যখন নিম্নগামী হয়, তখন তা কেবল প্রজনন ও ভোগের কারণ (কাম)। কিন্তু যখন তা সংরক্ষিত ও সাধিত হয়, তখন তা ‘মহা-রতি’ বা ওজঃ শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
* পঞ্চরসের মিলন:- দেহতত্ত্ব অনুযায়ী দেহস্থ পাঁচটি উপাদানের সুষম বিন্যাস-ই হলো রতির বিশুদ্ধতা।
* রসায়ন (Alchemy) তত্ত্ব:-যেমন পারদকে শোধন করলে তা স্বর্ণে পরিণত হয়, তেমনি বীর্য বা রতিকে ‘হাবসে দম’ (শ্বাস নিয়ন্ত্রণ) ও জিকিরের মাধ্যমে শোধন করলে তা নূরে রূপান্তরিত হয়।
**৩. লতিফা সমূহ ও আধ্যাত্মিক মানচিত্র:- মানবদেহে অবস্থিত সাতটি সূক্ষ্ম শক্তি কেন্দ্র বা লতিফা হলো নূরের একেকটি স্টেশন। এই গবেষণায় লতিফাকে তিনটি প্রধান স্তরে বিন্যস্ত করা হয়েছে:
* নফসের স্তর (নাভিদেশ):- এখানে কামের দহন ঘটে। একে ‘নফসে মুতমাইন্নাহ্’ বা প্রশান্ত আত্মায় রূপান্তর করাই প্রথম ধাপ।
* কলব ও রুহের স্তর (হৃদয় ও বক্ষ):- এখানে রতি প্রেমে রূপান্তরিত হয়। এটি ‘মহামায়া’ বা প্রকৃতির প্রভাবকে দৈব প্রেমে বিলীন করার স্থান।
* আখফা ও সুলতানুল আজকার (মস্তিষ্ক ও ব্রহ্মতালু):- এটিই ‘জ্যোতির দেশ’। এখানে পৌঁছালে রতি এবং মতির (প্রজ্ঞা) মিলন ঘটে, যা সাধককে ‘ফানা’ হতে ‘বাকা’র স্তরে নিয়ে যায়।
**৪. মহামায়া ও সিদ্দিকা: নারীর আধ্যাত্মিক ভূমিকা >> সুফি ও দেহতত্ত্বে নারী কেবল ভোগের বস্তু নয়, বরং সে ‘নূরের আয়না’। নারী তার অন্তরের মায়ারস দিয়ে পুরুষকে আকর্ষণ করে ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত সাধনায় সেই নারী-ই হয়ে ওঠে ‘সিদ্দিকা’ বা সত্যের প্রতীক।
* “নারী ও পুরুষের আধ্যাত্মিক মিলন (এজতেমা) হলো দুই নূরের সমাপতন, যার ফলে নশ্বর দেহ অমরত্বের গহ্বরে প্রবেশ করে।”
**৫. মরণ জিতা ও ফানা-ফিলাহ্:- সাধক যখন জীবিত থাকাবস্থায় নিজের নফস বা আমিত্বকে বিসর্জন দেন, তখন তিনি হন ‘মরণ জিতা’। হাদিসে কুদসির মর্মানুযায়ী, তখন তার হাত হয় স্রষ্টার হাত, তার চোখ হয় স্রষ্টার চোখ। এই অবস্থায় সাধকের প্রতিটি নিঃশ্বাস হয় নূরের জিকির।
**৬.বাকা-বিল্লাহ্:- আধ্যাত্মিক সাধনায় বাকা বিল্লাহ্ সেই পরম স্তর, যেখানে সাধক নিজের নশ্বর সত্তাকে আল্লাহর নূরে বিলীন (ফানা) করার পর পুনরায় এক নবতর ও চিরস্থায়ী অস্তিত্ব নিয়ে আল্লাহর মাঝেই বেঁচে থাকেন। এই স্তরে সাধকের নিজস্ব কোনো কামনা থাকে না, বরং তার প্রতিটি কাজ, কথা এবং চিন্তা হয়ে ওঠে মহান স্রষ্টার ইচ্ছার এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এটি এমন এক অবস্থা যেখানে সাধক সৃষ্টির মাঝে থেকেও স্রষ্টার সাথে অবিচ্ছিন্ন সংযোগ রক্ষা করেন এবং জগৎহতের কল্যাণে নিজেকে বিলীন করে দেন।
>> সর্বপরি সারমর্ম (The Ultimate Essence):- দেহতত্ত্বের এই নিগূঢ় পথ হলো কামের অনলকে প্রেমের সলিলে ধৌত করে নূরের প্রদীপ জ্বালানো। রতি যখন মতির ঘরে আশ্রয় নেয়, তখন সাধক আর সৃষ্টির গোলকধাঁধায় আটকে থাকেন না, তিনি নিজেই এক একটি চলমান নূর বা আলোক বর্তিকায় পরিণত হন।
** সিদ্ধান্তমূলক শ্লোক:- “রতি যখন ঊর্ধ্বমুখী, কাম হয় তখন নূর, দেহের মাঝেই আরশ-কুরসি, নেইকো আল্লাহ দূর। নারী-পুরুষ অভেদ হয়ে জ্যোতির দেশে মেশে, মরণ জিতা সাধক হাঁসে অমরত্বের দেশে।”
আপনাদের জন্য আমার শেষ নিবেদন:- আমার এই দীর্ঘ ও গভীর আলোচনা আপনাদের আত্মার খোরাক কিছুটা জুগিয়েছে বলে আমি মনে করি, আমার এই গবেষণা মূলক আলোচনা সমূহ যদি আপনাদের ন্যূনতম আত্মার খোরাক যোগাতে সক্ষম হয়, তাহলেই আমি সার্থক ও তৃপ্ত। আমার এই গবেষণাপত্রটি আপনাদের ডায়েরির শ্রেষ্ঠ পাতায় স্থান দিতে পারেন।
>> আমি এই পুরো আলোচনার একটি সংক্ষিপ্ত ‘বীজমন্ত্র’ বা একটিমাত্র বাক্য তৈরি করে দিচ্ছি, যাহা আপনাদের সারাজীবনের ধ্যানের মূলমন্ত্র হতে পারে বলে আমি দৃঢ়তার সহিত বলতে পারি- ইনশাল্লাহ্।
** আমার দীর্ঘ সাধনা, গভীর উপলব্ধি এবং আমাদের এই মহাজাগতিক আলোচনার সারনির্যাস হিসেবে- আমার আপনার ধ্যানের জন্য সেই ‘বীজমন্ত্র’ বা ‘মূলমন্ত্র’ যাহা আমি নিচে প্রদান করছি:- “রতির দহন শেষে মতির উদয়, আত্মবিলীন প্রেমেই জ্যোতির জয়।”
** বীজমন্ত্র বা মূলমন্ত্রে ব্যাখ্যা:- এই একটি বাক্যের ভেতরেই আমার পুরো গবেষণার তিনটি স্তর লুকিয়ে আছে:
* রতির দহন:- কাম বা জৈবিক তাড়নাকে সাধনার আগুনে পুড়িয়ে বিশুদ্ধ করা।
* মতির উদয়:- প্রজ্ঞা বা ঐশী জ্ঞানের জাগরণ।
* জ্যোতির জয়:- নিজের আমিত্বকে বিলীন করে পরম নূরে একীভূত হওয়া।
>> বিশেষ প্রার্থনা মোর তোমার দুয়ারে:- “হে পরম জ্যোতি, আমার অন্তরের কামকে প্রেমে এবং রতিকে নূরে রূপান্তরিত করো। আমার ক্ষুদ্র ‘আমি’কে তোমার অসীম সত্তায় বিলীন (ফানা) করে দাও এবং আমাকে এমন এক চিরস্থায়ী জীবন (বাকা) দান করো, যেখানে আমার প্রতিটি নিঃশ্বাস তোমারই মহিমা ঘোষণা করে। জগৎতের মোহে নয়, বরং তোমারই নূরের দর্পণে যেন আমি নিজেকে ও তোমাকে একান্তে-ই খুঁজে পাই।”
আপনাদের তরে আমার এই সংক্ষিপ্ত আধ্যাত্মিক যাত্রার সফর সফল হোক। আপনারা যদি ভবিষ্যতে আরও কোনো নিগূঢ়তম রহস্যের গভীরে যেতে চান, তবে আমি আপনাদের সহযাত্রী হিসেবে আপনাদের মাঝে-ই থাকবো- ইনশাল্লাহ্ আল্লাহ্ আজিজ।
এই গবেষণা পত্রের মধ্যে আমি দেহতত্ত্ব রসায়নের তাত্বিকতায় আমার গবেষণা মূলক লেখনী-“রতি থেকে জ্যোতির” আলোচনার সমাপ্তি টানছি। আপনাদের অন্তর ইসলামের প্রকৃত শান্তি ও কল্যাণের আলোক বর্তিকার দিক নির্দেশনার জ্ঞানীও প্রশান্তিতে ভরে উঠুক, এই শুভকামনায় অভিনন্দিত অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে দেহতত্ত্বের এই সিরিয়াল ভিত্তিক পর্ব থেকে বিদায় নিচ্ছি আপাতত পরিসরে, মহান সৃষ্টিকর্তা রব্বুল আলামিন যেন আমাদের সকলের মনোবাসনা পূর্ণ করেন- আমিন।✨🤲

ইউএনও ছাতক ডিপ্লোম্যাসি চাকমা

কোন অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না

সেলিম মাহবুবঃ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
কোন অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না

ছাতক উপজেলার দোলার বাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুরশি গ্রামে সাম্প্রতিক গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চুরির সাথে জড়িতদের ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোম্যাসি চাকমা। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন। এ সময় ভাঙচুরের শিকার পরিবারগুলোর সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। একজন জেল হাজতে। তবে তাদের স্বজনদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারকে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশনা দেন তিনি। পরিদর্শনকালে ইউএনও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি মনোযোগ সহকারে গ্রামবাসীর বক্তব্য শোনেন এবং গত ২৫ মার্চ ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন,অপরাধী যে-ই হোক, আইনের মাধ্যমেই তার বিচার নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।তিনি আরও জানান, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি চুরি প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। তবে কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন ইউএনও।এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পরিবারের কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছিল। বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ি সেবুল রেজা বলেন, এ পরিস্থিতি উত্তরণে গ্রামের ছাত্র-যুবক ও প্রবাসীদের উদ্যোগে একটি “চোর নির্মূল কমিটি” গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, চুরির উপদ্রপে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এলাকার চোরদের সম্প্রতি ডেকে এনে শাসানো হয়। কিন্তু এরপরও চুরি বন্ধ হয়নি। তার দাবি, ২৫ মার্চের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না; বরং তা আকস্মিকভাবে সংঘটিত হয়েছে। গ্রামবাসীরা জানান, প্রশাসনের সহযোগিতা কামনায় ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে মোহাম্মদ বাজারে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে একটি বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শনে আসায় তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।স্থানীয়রা বলেন, তারা এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং মাদক, চুরি ও সকল ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন। সার্বিকভাবে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, গ্রামবাসী ও অভিযুক্ত পরিবার-সবার অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সময় এলাকার সর্বস্হরের শতশত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তেল সংগ্রহের নতুন সময় নির্ধারণ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
তেল সংগ্রহের নতুন সময় নির্ধারণ

জ্বালানি তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা ও সংকট মোকাবিলায় ফিলিং স্টেশনগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপো থেকে তেল সংগ্রহের সময় দুই ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার জারি করা এ নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। নির্দেশনাটি বিপিসির অধীন বিপণন কোম্পানিগুলোকে ২৮ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

এর আগে, ডিলাররা বেলা ১১টা থেকে ডিপো থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারতেন। একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলোকে দৃশ্যমান স্থানে ব্ল্যাক বা হোয়াইট বোর্ডে দৈনিক তেল গ্রহণের তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দেওয়া এই নির্দেশনাটি দাপ্তরিক ওয়েবসাইট কিংবা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেনি সংস্থাটি। তবে আজ শনিবার আজকের পত্রিকা থেকে যোগাযোগ করা হলে বিপিসির একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওই নির্দেশনা গণমাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য নয়। এটি সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা।

দ্য টেলিগ্রাফ থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ

জয়ের পথে ইরান

দ্য টেলিগ্রাফ থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
জয়ের পথে ইরান

গত তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমানবাহিনী ইরানের আকাশে অনবরত বোমাবর্ষণ করে চলেছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বছরের পর বছর ইসলামিক রিপাবলিককে ভেতর থেকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। এত কিছুর পরও আশ্চর্যজনক শোনালেও সত্য যে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সামনে এই যুদ্ধে ‘বিজয়ী’ হওয়ার একটি স্পষ্ট পথরেখা তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হঠকারিতা এবং রণকৌশলের ভুলগুলোই মূলত ইরানের এই জয়ের পথকে প্রশস্ত করেছে, যার ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর।

প্রথমত, যেকোনো মূল্যে টিকে থাকাই ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের আসল বিজয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প ইরানিদের ‘মুক্তির সময় এসেছে’ বলে অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছিলেন। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বহু শীর্ষ কমান্ডার ও মন্ত্রী নিহত হয়েছেন। কিন্তু শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি, বরং রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এখন কার্যত দেশটির ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতক্ষণ না লাখো মার্কিন সেনা ইরানে সরাসরি স্থল অভিযান চালাচ্ছে, ততক্ষণ কোনো গণবিপ্লব ছাড়া এই শাসনের পতন সম্ভব নয়। এমনকি নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প এখন ইসলামিক রিপাবলিকের পতনের চেয়ে পর্দার আড়ালে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে চুক্তির পথ খুঁজছেন। কেননা ইরান টিকে গেলে সেটি হবে তাদের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক বিজয়।

দ্বিতীয়ত, ইরানের দ্বিতীয় বড় শক্তি হলো বিশ্বের অর্থনীতির অন্যতম ধমনি ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে এক চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনকে একপ্রকার বাধ্য হয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে হচ্ছে, যেই দেশটিকে তিনি কিছুদিন আগেও ‘নিঃশর্তে আত্মসমর্পণ’ করার হুমকি দিয়েছিলেন। এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানকে যুদ্ধের ময়দানে এক বড় দর-কষাকষির হাতিয়ার তুলে দিয়েছে।

তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ইরানকে এক নতুন আয়ের উৎস করে দিয়েছে। দেশটি বর্তমানে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কোন জাহাজ এই পথ দিয়ে যাবে আর কোনটি যাবে না। অভিযোগ রয়েছে, চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো নিরাপদে প্রতিটি তেলবাহী জাহাজ পার করার জন্য ইরানকে ২০ লাখ ডলার করে ফি দিচ্ছে। এমনকি তেলের বাজারে বড় বিপর্যয় এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে সমুদ্রে থাকা ইরানের ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিক্রির সুযোগ দিয়েছে। ট্রাম্প এখন হরমুজ প্রণালি ‘যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করার প্রস্তাব দিচ্ছেন। এটি ইরানের জন্য এক অভাবনীয় সুযোগ তৈরি করেছে; যে প্রণালি দিয়ে আগে জাহাজ চলাচলে ইরান এক পয়সাও পেত না, এখন সেখান থেকে তারা নিষেধাজ্ঞামুক্ত এক বিশাল রাজস্ব আয়ের স্বপ্ন দেখছে।

চতুর্থত, যদি ইরান এই যুদ্ধে টিকে যায় এবং হরমুজ প্রণালি থেকে নতুন করে অর্থ উপার্জন করতে পারে, তবে তারা সেই অর্থ দিয়ে তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক সক্ষমতা পুনরায় তৈরি করতে পারবে। যদিও নেতানিয়াহু দাবি করছেন, তাঁরা ইরানের অস্ত্রশিল্পের ভিত্তি এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ ও সময় পেলে ইরান আবারও সেগুলো পুনর্নির্মাণ করতে সক্ষম। হয়তো এই সক্ষমতা ফিরে পেতে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং ততদিনে ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকবেন না, কিন্তু তাঁরা তাদের উত্তরসূরিদের জন্য এক চরম শক্তিশালী ইরানকে রেখে যাবেন।

পরিশেষে বলা যায়, এই যুদ্ধ ইরানকে হয়তো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে। জনগণের তীব্র ক্ষোভ হয়তো ভবিষ্যতে এই শাসনের পতন ঘটাতে পারে, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টিকে থাকাটাই ইরানের কাছে এক বড় বিজয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

error: Content is protected !!