সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২

কায়সার ক্রাইম রিপোর্টার

ভোলাহাটের ‘সোর্স’ ইয়াকুব—প্রতারণার আড়ালে দেশবিরোধী গোয়েন্দা তৎপরতার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম | 109 বার পড়া হয়েছে
ভোলাহাটের ‘সোর্স’ ইয়াকুব—প্রতারণার আড়ালে দেশবিরোধী গোয়েন্দা তৎপরতার অভিযোগ

সীমান্তবর্তী উপজেলা ভোলাহাটে এক ভয়ংকর অপরাধী চক্রের মূলহোতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইয়াকুব আলী (২৯)। কখনো পুলিশ, কখনো র‌্যাব, আবার কখনো দেশের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থার ‘সোর্স’ পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়ানো এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এবার উঠেছে চাঞ্চল্যকর দেশবিরোধী অভিযোগ। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের দাবি, ইয়াকুব কেবল একজন সাধারণ চাঁদাবাজ বা প্রতারকই নয়, বরং সে ভিনদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর হয়ে কাজ করছে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করছে। ছদ্মবেশে অপরাধের মহোৎসব! অনুসন্ধানে জানা যায়, চামুসা গ্রামের মোজাম্মেল হক টুনুর ছেলে ইয়াকুবের শিক্ষাগত যোগ্যতা মাত্র তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত হলেও তার চাতুর্য আকাশচুম্বী। সে নিজেকে সাংবাদিক এবং সরকারি গোয়েন্দা হিসেবে জাহির করে এলাকায় একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তার মূল অস্ত্র হলো ‘ভয়’। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ছোটখাটো ব্যবসায়ী—সবাইকে প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করাই তার নেশা।

গুরুতর অভিযোগ! তথ্য পাচার ও দেশদ্রোহিতা
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ইয়াকুবের যাতায়াত ও যোগাযোগ সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্দেহজনক। বিভিন্ন অপরাধ জগতের গডফাদারদের লিড দেওয়া এবং প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আড়ালে সে দেশের অভ্যন্তরীণ তথ্য ভিনদেশে পাচার করছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। এই দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে সীমান্তের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দুই সাল থেকে মামলার পাহাড়, তবুও বেপরোয়া! রেকর্ড অনুযায়ী, ইয়াকুবের বিরুদ্ধে ভোলাহাট থানাসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, মাদক, হুমকি এবং মারামারিসহ অন্তত ১৫টি নিয়মিত মামলা রয়েছে। ইতিপূর্বে ২০২২ সালে সে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে আরও দ্বিগুণ উৎসাহে অপরাধ কর্মকাণ্ড শুরু করে।

সম্প্রতি চরধরমপুর গ্রামে ভুয়া পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে সে গণধোলাইয়ের শিকার হলেও তার স্বভাব বদলায়নি।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ ও জনরোষ
এলাকার বাসিন্দা আবু সায়েদ ও আরিফুল ইসলাম জানান”ইয়াকুব হাতে হ্যান্ডকাফ নিয়ে ঘোরে এবং নিজেকে পুলিশের লোক দাবি করে। তার অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। সে গ্রেফতার না হলে ভোলাহাটের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই, এমনকি দেশের গোপন তথ্যও নিরাপদ নয়।” সীমান্তবর্তী এলাকায় তার বাড়ি হওয়াই, মাদক অস্ত্র পাচার সহ বিভিন্ন অপকাণ্ড সে সরাসরি জড়িত, তাই এই অপরাধের সফল অপকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। বর্তমানে এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে যে, এই শীর্ষ প্রতারক কোনো শক্তিশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে আবারও বড় ধরনের কোনো অপরাধের ছক কষছে।

প্রশাসনের বক্তব্য ও জনগণের দাবি ভোলাহাট থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইয়াকুব একজন তালিকাভুক্ত অপরাধী এবং তার প্রতিটি পদক্ষেপ নজরে রাখা হচ্ছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, তাকে কেবল গ্রেফতার করলেই হবে না, বরং তাকে রিমান্ডে নিয়ে তার সাথে ভিনদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে! বিশেষ করে তার মোবাইল ক্রপ করলেই সকল তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে জানান বিশ্বস্ত সূত্রে বলছে অনেকেই। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ভোলাহাটের মানুষের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে এই ‘ছদ্মবেশী এজেন্ট’ ইয়াকুবকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, এই আগাছা বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়ে দেশের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

দেশের তথ্য পাচার ও প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে ইয়াকুবের রামরাজত্ব! অতিষ্ঠ সীমান্তবাসী, গ্রেফতারের দাবি তুঙ্গে’ ভোলাহাটের ‘ছলনাময়’ ইয়াকুবের নতুন ফন্দিতে! প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, এবার খোদ ভোলাহাট থানার ওসির বিরুদ্ধেই অপপ্রচার,গণহারে। গণধোলাই খেয়ে ‘রাজনৈতিক নাটক’
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে গোয়েন্দা সংস্থার নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায় করতে গেলে স্থানীয় এলাকাবাসী ইয়াকুবকে হাতেনাতে আটক করে উত্তম-মধ্যম দেয়। কিন্তু চতুর এই প্রতারক নিজের অপরাধ ঢাকতে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। সে নিজেকে ‘আওয়ামী লীগের নির্যাতনের শিকার’ দাবি করে ভোলাহাট থানায় একটি মিথ্যা এজাহার দায়ের করে। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে আসে আসল থলের বিড়াল। তদন্তকারী কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন যে, ইয়াকুব কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়, বরং সাধারণ মানুষের ওপর গোয়েন্দা পরিচয় দিয়ে জুলুম ও চাঁদাবাজি করার কারণেই গণধোলায় শিকার হয়েছে। মিথ্যা এজাহার দিয়ে পার না পেয়ে এবার ইয়াকুব সরাসরি পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধেই যুদ্ধে নেমেছে। পুলিশ ও ওসির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে ফাইদা হাসিলের চেষ্টা! নিজের মনগড়া মামলায় ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ায় সে কতিপয় অসাধু অনলাইন মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও ভুল তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজের অপরাধ আড়াল করাই তার মূল লক্ষ্য।

বিকাশে ‘ডোনেশন’ ও অসাধু চক্রের মদদ
অনুসন্ধানে আরও একটি ভয়াবহ তথ্য মিলেছে। ইয়াকুবের মতো একজন চিহ্নিত অপরাধীর সাথে পুলিশের কিছু অসাধু নিচু পদের সদস্য ও সোর্সের সখ্যতা রয়েছে। তথ্য আদান-প্রদানের নামে ইয়াকুবের বিকাশ নম্বরে নিয়মিত সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে ‘ডোনেশন’ বা টাকা পাঠানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অসাধু চক্রের ছত্রছায়াতেই সে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
সাংবাদিক পরিচয়ে আন্তর্জাতিক প্রতারণা
নিজেকে ‘বড় মাপের সাংবাদিক’ পরিচয় দিয়ে ইয়াকুব শুধু দেশেই নয়, প্রবাসীদের সাথেও প্রতারণা করছে। বিদেশে লোক পাঠানোর নাম করে এবং প্রশাসনিক তদবিরের ভয় দেখিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সরাসরি অভিযোগ এখন ভুক্তভো গীদের মুখে মুখে।

এলাকাবাসীর দাবি‘দেশ বাঁচাতে ইয়াকুবকে থামান! বর্তমানে ইয়াকুবের বিরুদ্ধে ভোলাহাট থানায় প্রতারণা, চাঁদাবাজি, মাদক এবং মারামারি সহ মোট ৫টিরও বেশি মামলা চলমান। স্থানীয়দের দাবি, সে শুধু একজন সাধারণ প্রতারক নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ তথ্য পাচারের সাথেও জড়িত। দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলে বেরিয়ে আসবে তার নেপথ্যের কুশীলবদের নাম। স্থানীয় এক কলেজ প্রভাষক মন্তব্য করেন ইয়াকুবের মতো অপরাধীরা যখন প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে অপরাধ করে, তখন সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়। অবিলম্বে এই ‘তথ্য পাচারকারী’ ও ‘পেশাদার প্রতারক’কে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

প্রশাসনের জালে ভোলাহাটের তথ্য পাচারকারী’ ইয়াকুব ‘জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কড়া হুঁশিয়ারি ও নজরদারির আওতায় অপরাধের প্রমাণ মিলেছে, যেকোনো সময় গ্রেফতার’ আইনশৃঙ্খলার সূত্রে জানা যায়
গোয়েন্দা সংস্থার নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, বিদেশের এজেন্ট হিসেবে তথ্য পাচার এবং পুলিশকে বিতর্কিত করার নায়ক ইয়াকুব আলীর দিন ফুরিয়ে এসেছে। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য’ ইয়াকুবের অপরাধের পাহাড়!সম্প্রতি ইয়াকুবের বিরুদ্ধে ওঠা চাঞ্চল্যকর সব অভিযোগ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক (DC), পুলিশ সুপার (SP) এবং ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জের (OC) সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ইয়াকুবের অপরাধের ভয়াবহতার সত্যতা নিশ্চিত করেন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বক্তব্য’ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, ইয়াকুবের বিরুদ্ধে তারা জোরালোভাবে তথ্য অনুসন্ধান করছেন। তার বিরুদ্ধে অনেক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং বিভিন্ন মহলের সাথে অবৈধ সখ্যতার প্রমাণ ইতোমধ্যে শক্তপুক্তভাবে হাতে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে,। অফিসার ইনচার্জ ভোলাহাট (ওসি) জানান, আমার বিরুদ্ধে ইয়াকুবের সকল অপপ্রচার, দ্রুত আইনি মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া সহ। ইয়াকুবের সকল অপরাধের বিস্তারিত তথ্য ও তার করা অপকর্মের বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে অবগত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা আসা মাত্রই তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

লালমনিরহাটে জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চয়ন কুমার রায় লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০৪ পিএম
লালমনিরহাটে জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

লালমনিরহাট জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (রোববার) জেলা পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন লালমনিরহাট জেলার পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান। সভায় জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিশেষ দিক-নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

সভায় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন:
​শাহাদত হোসেন সুমা, বিপিএম (বার), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ)।
​জিন্নাহ আল মামুন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্)।
​এ কে এম ফজলুল হক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল)।
​জয়ন্ত কুমার সেন, সহকারী পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল)।
​সালমান ফারুক, সহকারী পুলিশ সুপার (শিক্ষানবিশ)।
​এছাড়াও জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ সভায় অংশ নেন।

সভায় বিগত মাসের অপরাধচিত্র তুলে ধরে জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পর্যালোচনার মূল বিষয়গুলো ছিল:
​মাদক ও চোরাচালান রোধ: সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান রোধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

​মামলা তদন্ত: গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার।

সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বলেন, “জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধমুক্ত জেলা গড়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। অপরাধ দমনে কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন করা হবে না।” তিনি পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন এবং সাধারণ মানুষের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে সেবা প্রদানের আহ্বান জানান।
​পরিশেষে, ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠ পুলিশ অফিসারদের মাঝে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

নীতিনৈতিকতাহীন অর্থনির্ভর রাজনীতি দেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি: দেশবন্ধু রেমিটেন্স যুদ্ধা সংসদ

আন্তর্জাতিক রিপোর্টার: মো: সেলিম রানা সৌদি আরব - প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:০২ পিএম
নীতিনৈতিকতাহীন অর্থনির্ভর রাজনীতি দেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি: দেশবন্ধু রেমিটেন্স যুদ্ধা সংসদ

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে “দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যুদ্ধা সংসদ। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা এবং কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব এম এ রউফ (কাতার) এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, দেশের রাজনীতি ক্রমেই নীতি-নৈতিকতা থেকে সরে গিয়ে অর্থনির্ভর ও স্বার্থকেন্দ্রিক হয়ে উঠছে—যা রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশে হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ও লুটপাট এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক চক্রে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক মনোনয়ন পেতে অর্থ ব্যয়ের প্রবণতা, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় টাকার প্রভাব এবং ক্ষমতা অর্জনে অর্থের ব্যবহার—এসব কারণে রাজনীতি জনসেবার পথ থেকে সরে গিয়ে ব্যক্তিস্বার্থের হাতিয়ারে পরিণত হচ্ছে।
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে চাকরি পেতে ঘুষ এবং পদোন্নতির জন্য প্রভাব ও অর্থের ব্যবহার একটি সাধারণ চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে যারা এভাবে অর্থ ব্যয় করে পদ অর্জন করেন, তারা পরে জনগণের কাছ থেকে সেই অর্থ সুদে-আসলে আদায়ের প্রবণতায় লিপ্ত হন। এতে দুর্নীতি একটি চক্রে পরিণত হয়ে রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অর্থলোভী ব্যক্তি কখনোই নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শ ধরে রাখতে পারে না। তারা প্রয়োজনে দল ও অবস্থান পরিবর্তন করলেও তাদের মানসিকতা অপরিবর্তিত থাকে। তাই শুধু দল পরিবর্তন করে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়; প্রয়োজন রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও মানসিকতার মৌলিক পরিবর্তন।
সংগঠনটি আরও জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে সৎ ও দেশপ্রেমিক মানুষ ক্রমেই কোণঠাসা হয়ে পড়ছে, আর অসৎ ও লোভী ব্যক্তিরা সমাজে প্রভাবশালী হয়ে উঠছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়বে এবং জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
“দেশবন্ধু” রেমিটেন্স যুদ্ধা সংসদের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়—অর্থলোভী ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে প্রতিহত করতে হবে। জনগণকে ব্যক্তি নয়, বরং চরিত্র, সততা ও কাজের ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্বাচন করতে হবে।
নেতৃবৃন্দ বলেন, রাজনীতিকে পুনরায় নীতি, সততা, জবাবদিহিতা ও জনসেবার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই দেশ প্রকৃত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যেতে পারবে।

প্রকাশক:
অ্যাডভোকেট এ এন এম ঈসা
প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক
দেশবন্ধু রেমিটেন্স যুদ্ধা সংসদ
এম এ রউফ (কাতার)
কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব।

গাজীপুরের কোনাবাড়ি ফ্লাইওভারে মিনিবাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫

দিশা আক্তার | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৫৯ এএম
গাজীপুরের কোনাবাড়ি ফ্লাইওভারে মিনিবাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১৫

গাজীপুরের কোনাবাড়ী এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের সঙ্গে যাত্রীবাহী মিনিবাসের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। রোববার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) সন্ধ্যায় ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের ওপর এ দুর্ঘটনা ঘটে।
‎পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে তাকওয়া পরিবহনের একটি মিনিবাস কালিয়াকৈরের চন্দ্রার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে কোনাবাড়ী ফ্লাইওভারের মাঝামাঝি এলাকায় বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয় মিনিবাসটি। এতে মিনিবাসটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই যাত্রীর মৃত্যু হয়। আহত হন অন্তত ১৫ জন।
‎দুর্ঘটনার পর পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। আহতদের বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
‎এ ঘটনায় প্রায় এক ঘণ্টা ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে, ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি ফ্লাইওভার থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
‎গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) কোনাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক রেজাউল করীম জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টা পর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

error: Content is protected !!