শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২
শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬, ২১ চৈত্র ১৪৩২

কায়সার ক্রাইম রিপোর্টার

ভোলাহাটের ‘সোর্স’ ইয়াকুব—প্রতারণার আড়ালে দেশবিরোধী গোয়েন্দা তৎপরতার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩৯ পিএম | 108 বার পড়া হয়েছে
ভোলাহাটের ‘সোর্স’ ইয়াকুব—প্রতারণার আড়ালে দেশবিরোধী গোয়েন্দা তৎপরতার অভিযোগ

সীমান্তবর্তী উপজেলা ভোলাহাটে এক ভয়ংকর অপরাধী চক্রের মূলহোতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ইয়াকুব আলী (২৯)। কখনো পুলিশ, কখনো র‌্যাব, আবার কখনো দেশের প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থার ‘সোর্স’ পরিচয়ে দাপিয়ে বেড়ানো এই ব্যক্তির বিরুদ্ধে এবার উঠেছে চাঞ্চল্যকর দেশবিরোধী অভিযোগ। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীদের দাবি, ইয়াকুব কেবল একজন সাধারণ চাঁদাবাজ বা প্রতারকই নয়, বরং সে ভিনদেশি গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ (RAW)-এর হয়ে কাজ করছে এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করছে। ছদ্মবেশে অপরাধের মহোৎসব! অনুসন্ধানে জানা যায়, চামুসা গ্রামের মোজাম্মেল হক টুনুর ছেলে ইয়াকুবের শিক্ষাগত যোগ্যতা মাত্র তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত হলেও তার চাতুর্য আকাশচুম্বী। সে নিজেকে সাংবাদিক এবং সরকারি গোয়েন্দা হিসেবে জাহির করে এলাকায় একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তার মূল অস্ত্র হলো ‘ভয়’। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ছোটখাটো ব্যবসায়ী—সবাইকে প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায় করাই তার নেশা।

গুরুতর অভিযোগ! তথ্য পাচার ও দেশদ্রোহিতা
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ইয়াকুবের যাতায়াত ও যোগাযোগ সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্দেহজনক। বিভিন্ন অপরাধ জগতের গডফাদারদের লিড দেওয়া এবং প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আড়ালে সে দেশের অভ্যন্তরীণ তথ্য ভিনদেশে পাচার করছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। এই দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের ফলে সীমান্তের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। দুই সাল থেকে মামলার পাহাড়, তবুও বেপরোয়া! রেকর্ড অনুযায়ী, ইয়াকুবের বিরুদ্ধে ভোলাহাট থানাসহ বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি, মাদক, হুমকি এবং মারামারিসহ অন্তত ১৫টি নিয়মিত মামলা রয়েছে। ইতিপূর্বে ২০২২ সালে সে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও জামিনে বেরিয়ে এসে আরও দ্বিগুণ উৎসাহে অপরাধ কর্মকাণ্ড শুরু করে।

সম্প্রতি চরধরমপুর গ্রামে ভুয়া পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে সে গণধোলাইয়ের শিকার হলেও তার স্বভাব বদলায়নি।
ভুক্তভোগীদের আর্তনাদ ও জনরোষ
এলাকার বাসিন্দা আবু সায়েদ ও আরিফুল ইসলাম জানান”ইয়াকুব হাতে হ্যান্ডকাফ নিয়ে ঘোরে এবং নিজেকে পুলিশের লোক দাবি করে। তার অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। সে গ্রেফতার না হলে ভোলাহাটের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নেই, এমনকি দেশের গোপন তথ্যও নিরাপদ নয়।” সীমান্তবর্তী এলাকায় তার বাড়ি হওয়াই, মাদক অস্ত্র পাচার সহ বিভিন্ন অপকাণ্ড সে সরাসরি জড়িত, তাই এই অপরাধের সফল অপকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে প্রশাসনের নাকের ডগায়। বর্তমানে এলাকায় গুঞ্জন উঠেছে যে, এই শীর্ষ প্রতারক কোনো শক্তিশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে আবারও বড় ধরনের কোনো অপরাধের ছক কষছে।

প্রশাসনের বক্তব্য ও জনগণের দাবি ভোলাহাট থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইয়াকুব একজন তালিকাভুক্ত অপরাধী এবং তার প্রতিটি পদক্ষেপ নজরে রাখা হচ্ছে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, তাকে কেবল গ্রেফতার করলেই হবে না, বরং তাকে রিমান্ডে নিয়ে তার সাথে ভিনদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে! বিশেষ করে তার মোবাইল ক্রপ করলেই সকল তথ্য বেরিয়ে আসবে বলে জানান বিশ্বস্ত সূত্রে বলছে অনেকেই। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ভোলাহাটের মানুষের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে এই ‘ছদ্মবেশী এজেন্ট’ ইয়াকুবকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, এই আগাছা বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়ে দেশের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

দেশের তথ্য পাচার ও প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে ইয়াকুবের রামরাজত্ব! অতিষ্ঠ সীমান্তবাসী, গ্রেফতারের দাবি তুঙ্গে’ ভোলাহাটের ‘ছলনাময়’ ইয়াকুবের নতুন ফন্দিতে! প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, এবার খোদ ভোলাহাট থানার ওসির বিরুদ্ধেই অপপ্রচার,গণহারে। গণধোলাই খেয়ে ‘রাজনৈতিক নাটক’
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত কয়েকদিন আগে গোয়েন্দা সংস্থার নাম ভাঙিয়ে চাঁদা আদায় করতে গেলে স্থানীয় এলাকাবাসী ইয়াকুবকে হাতেনাতে আটক করে উত্তম-মধ্যম দেয়। কিন্তু চতুর এই প্রতারক নিজের অপরাধ ঢাকতে ঘটনাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে। সে নিজেকে ‘আওয়ামী লীগের নির্যাতনের শিকার’ দাবি করে ভোলাহাট থানায় একটি মিথ্যা এজাহার দায়ের করে। তবে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে আসে আসল থলের বিড়াল। তদন্তকারী কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন যে, ইয়াকুব কোনো রাজনৈতিক কারণে নয়, বরং সাধারণ মানুষের ওপর গোয়েন্দা পরিচয় দিয়ে জুলুম ও চাঁদাবাজি করার কারণেই গণধোলায় শিকার হয়েছে। মিথ্যা এজাহার দিয়ে পার না পেয়ে এবার ইয়াকুব সরাসরি পুলিশ প্রশাসনের বিরুদ্ধেই যুদ্ধে নেমেছে। পুলিশ ও ওসির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে ফাইদা হাসিলের চেষ্টা! নিজের মনগড়া মামলায় ব্যবস্থা নিতে দেরি হওয়ায় সে কতিপয় অসাধু অনলাইন মাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এবং তদন্তকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও ভুল তথ্য দিয়ে প্রতিবেদন ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করে নিজের অপরাধ আড়াল করাই তার মূল লক্ষ্য।

বিকাশে ‘ডোনেশন’ ও অসাধু চক্রের মদদ
অনুসন্ধানে আরও একটি ভয়াবহ তথ্য মিলেছে। ইয়াকুবের মতো একজন চিহ্নিত অপরাধীর সাথে পুলিশের কিছু অসাধু নিচু পদের সদস্য ও সোর্সের সখ্যতা রয়েছে। তথ্য আদান-প্রদানের নামে ইয়াকুবের বিকাশ নম্বরে নিয়মিত সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে ‘ডোনেশন’ বা টাকা পাঠানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এই অসাধু চক্রের ছত্রছায়াতেই সে দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
সাংবাদিক পরিচয়ে আন্তর্জাতিক প্রতারণা
নিজেকে ‘বড় মাপের সাংবাদিক’ পরিচয় দিয়ে ইয়াকুব শুধু দেশেই নয়, প্রবাসীদের সাথেও প্রতারণা করছে। বিদেশে লোক পাঠানোর নাম করে এবং প্রশাসনিক তদবিরের ভয় দেখিয়ে বহু মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সরাসরি অভিযোগ এখন ভুক্তভো গীদের মুখে মুখে।

এলাকাবাসীর দাবি‘দেশ বাঁচাতে ইয়াকুবকে থামান! বর্তমানে ইয়াকুবের বিরুদ্ধে ভোলাহাট থানায় প্রতারণা, চাঁদাবাজি, মাদক এবং মারামারি সহ মোট ৫টিরও বেশি মামলা চলমান। স্থানীয়দের দাবি, সে শুধু একজন সাধারণ প্রতারক নয়, বরং দেশের অভ্যন্তরীণ তথ্য পাচারের সাথেও জড়িত। দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে নিলে বেরিয়ে আসবে তার নেপথ্যের কুশীলবদের নাম। স্থানীয় এক কলেজ প্রভাষক মন্তব্য করেন ইয়াকুবের মতো অপরাধীরা যখন প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে অপরাধ করে, তখন সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হয়। অবিলম্বে এই ‘তথ্য পাচারকারী’ ও ‘পেশাদার প্রতারক’কে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

প্রশাসনের জালে ভোলাহাটের তথ্য পাচারকারী’ ইয়াকুব ‘জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কড়া হুঁশিয়ারি ও নজরদারির আওতায় অপরাধের প্রমাণ মিলেছে, যেকোনো সময় গ্রেফতার’ আইনশৃঙ্খলার সূত্রে জানা যায়
গোয়েন্দা সংস্থার নাম ভাঙিয়ে চাঁদাবাজি, বিদেশের এজেন্ট হিসেবে তথ্য পাচার এবং পুলিশকে বিতর্কিত করার নায়ক ইয়াকুব আলীর দিন ফুরিয়ে এসেছে। প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায় থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রশাসনের ভাষ্য’ ইয়াকুবের অপরাধের পাহাড়!সম্প্রতি ইয়াকুবের বিরুদ্ধে ওঠা চাঞ্চল্যকর সব অভিযোগ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক (DC), পুলিশ সুপার (SP) এবং ভোলাহাট থানার অফিসার ইনচার্জের (OC) সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা ইয়াকুবের অপরাধের ভয়াবহতার সত্যতা নিশ্চিত করেন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের বক্তব্য’ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, ইয়াকুবের বিরুদ্ধে তারা জোরালোভাবে তথ্য অনুসন্ধান করছেন। তার বিরুদ্ধে অনেক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং বিভিন্ন মহলের সাথে অবৈধ সখ্যতার প্রমাণ ইতোমধ্যে শক্তপুক্তভাবে হাতে নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে,। অফিসার ইনচার্জ ভোলাহাট (ওসি) জানান, আমার বিরুদ্ধে ইয়াকুবের সকল অপপ্রচার, দ্রুত আইনি মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া সহ। ইয়াকুবের সকল অপরাধের বিস্তারিত তথ্য ও তার করা অপকর্মের বিষয়গুলো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে অবগত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা আসা মাত্রই তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

“আর হবে না দেখা” — প্রয়াত গুণী শিল্পীদের স্মরণে আবেগঘন স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

তালাত মাহামুদ, বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩৮ এএম
“আর হবে না দেখা” — প্রয়াত গুণী শিল্পীদের স্মরণে আবেগঘন স্মরণসভা অনুষ্ঠিত

নরসিংদীতে আবেগঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো প্রয়াত তিন গুণী সংগীত ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করার এক ব্যতিক্রমী আয়োজন। “আর হবে না দেখা” শিরোনামে এই স্মরণসভা আয়োজন করে বৈশাখী সংগীত একাডেমী, নরসিংদী।

আজ বিকেল ৩টায় নরসিংদী প্রেসক্লাব হলরুমে আয়োজিত এ সভায় স্মরণ করা হয় দেশের প্রখ্যাত লোকসংগীত শিল্পী নাজির উদ্দিন আহমেদ, বিশিষ্ট তবলা বাদক ফকির পিয়ার হোসেন এবং তবলা বাদক বীরেন্দ্র চন্দ্র দাসকে।
বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের গীতিকার, সুরকার ও সংগীত পরিচালক এবং বৈশাখী সংগীত একাডেমীর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোঃ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আলী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “এমন গুণী শিল্পীদের অবদান আমাদের সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ। তাদের শূন্যতা কখনো পূরণ হওয়ার নয়, তবে তাদের কর্ম আমাদের পথ দেখাবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মন্দী গার্লস হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আলতাফ হোসেন নাজির, নরসিংদী প্রেসক্লাবের প্রবীণ সাংবাদিক ও সাবেক সভাপতি নিবারণ চন্দ্র রায়, সহ-সভাপতি হলধর দাস, জেলা সম্মিলিত সাংস্কৃতিক সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. রমজান আলী প্রামানিক, বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকারী নূর হোসেন মিন্টু, দৈনিক আজকের খোঁজখবর পত্রিকার সম্পাদক মনজিল এ মিল্লাত, সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, নজরুল একাডেমী জেলা শাখার অধ্যক্ষ মতিউর রহমান চৌধুরী, যুগান্তর সজন সমাবেশের সভাপতি মোঃ আসাদুজ্জামান খোকন এবং নবধারা কণ্ঠশিল্পন-এর পরিচালক মোতাহার হোসেন অনিকসহ আরও অনেকে।
প্রয়াত তিন শিল্পীর জীবনী পাঠ করেন বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের কণ্ঠশিল্পী তাসনিম আনআম রাইসা। জীবনী পাঠের সময় উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
স্মরণসভায় বক্তারা প্রয়াত শিল্পীদের জীবন, কর্ম এবং সংগীতে তাদের অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বৈশাখী সংগীত একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক তাসমিনা ইয়াসমিন রুনা, তবলা প্রশিক্ষক অভিজিৎ পদ্মা টিপু, কণ্ঠশিল্পী টিপু সুলতান, পুরবী সংগীত একাডেমীর অধ্যক্ষ বাদল চন্দ্র বিশ্বাস এবং নজরুল সংগীত শিল্পী ও গবেষক মনিরুল ইসলাম মনি স্মৃতিচারণ করেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দেবব্রত সাহা দেবু, নরোত্তম দাস, শফিকুল ইসলাম লিটন, স্বপন সাহা, প্রেমানন্দ বিশ্বাস, নিতাই সাহা, সৌরভ, ডা. বিধু ভূষণ দাস, জাহাঙ্গীর আলম খোকন, শাওন, ঝন্টু, অসিত বর্মন, সন্তোষ কুমার সূত্রধর, সমীর রায়, জয় সাহাসহ জেলার বহু শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বৈশাখী সংগীত একাডেমীর সাংগঠনিক সম্পাদক পরিতোষ চন্দ্র দাস।
স্মরণসভা শেষে প্রয়াত শিল্পীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও নীরবতা পালন করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভরা এক অনন্য পরিবেশ—যেখানে বারবার উচ্চারিত হয়েছে, “আর হবে না দেখা”, কিন্তু তাদের সৃষ্টিকর্ম চিরকাল বেঁচে থাকবে আমাদের হৃদয়ে।

লালমনিরহাটে দিনদুপুরে হামলা-ভাঙচুর, গাছ কেটে লুটপাট: আতঙ্কে অসহায় পরিবার, থানায় অভিযোগ

ফারুক হোসাইন, বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান লালমনিরহাট প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৩১ এএম
লালমনিরহাটে দিনদুপুরে হামলা-ভাঙচুর, গাছ কেটে লুটপাট: আতঙ্কে অসহায় পরিবার, থানায় অভিযোগ

লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নের তেলীপাড়া গ্রামে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দিনদুপুরে বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে আপন ভাই ও ভাতিজাদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় একটি পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুস সাত্তার (৬৮) তার বড় ভাই মোঃ আব্দুস সোবাহান (৭০) ও ভাতিজা মোঃ সাগর (৩২) এবং মোঃ রেজাউল (২২)-এর সাথে দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির উত্তর পাশের সীমানা নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে আছেন।
গত ২৯ মার্চ ২০২৬ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রসজ্জিত হয়ে ভুক্তভোগীর বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় তারা টিনের ঘর ও বেড়া ভাঙচুর করে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করে এবং টিন খুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতেই ক্ষান্ত না হয়ে তারা বাড়ির সীমানায় থাকা প্রায় ২০-২৫টি বিভিন্ন ফলজ গাছ—সুপারি, আম ও কাঁঠাল গাছ কেটে ফেলে, যার আনুমানিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার টাকা বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগীর পুত্রবধূ মোছাঃ নুর জাহান বেগম (২০)-কে মারধর করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া অপর পুত্রবধূ মোছাঃ হোসনে আরা খাতুনকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র নিয়ে তেড়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পরিবারের দাবি, তিনি নয় মাসের গর্ভবতী ছিলেন এবং তার গর্ভের সন্তানের জীবননাশেরও চেষ্টা করা হয়।
ঘটনার সময় স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। পরে অভিযুক্তরা চলে যাওয়ার সময় পুনরায় সুযোগ পেলে হত্যার হুমকি দিয়ে যায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে থাকা ভুক্তভোগী পরিবার লালমনিরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
ভুক্তভোগী আব্দুস সাত্তার বলেন, “আমরা এখন চরম আতঙ্কে আছি। যেকোনো সময় তারা আবার হামলা করতে পারে।”
এ বিষয়ে লালমনিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার জেলার অভিভাবক ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।

চট্টগ্রামে মানবাধিকার সংস্থার সাধারণ সভা: ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ঐক্যের আহ্বান

মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা সংবাদদাতা। প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৫৮ এএম
চট্টগ্রামে মানবাধিকার সংস্থার সাধারণ সভা: ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে ঐক্যের আহ্বান

মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকদের সমন্বয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা ও নির্যাতন প্রতিরোধে জোর

চট্টগ্রাম, শুক্রবার:
ন্যায়, মানবতা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়ে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার জেলা শাখার গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ সভা। বিকাল ৪টায় জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী হোছাইনের ল’ চেম্বারে আয়োজিত এই সভায় মানবাধিকার কর্মী ও সাংবাদিকদের সম্মিলিত ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী হোছাইন। বক্তারা বলেন, সমাজের অসঙ্গতি ও অন্যায় তুলে ধরতে সাংবাদিকরা যেমন অগ্রণী ভূমিকা রাখেন, তেমনি সেই সমস্যার প্রতিকার নিশ্চিত করতে কাজ করেন মানবাধিকার কর্মীরা। এই সমন্বয়ই একটি সুস্থ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে।
সভায় সংস্থার চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রধান মাস্টার আবুল কাশেম এবং জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী হোছাইনের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে গৃহীত কার্যক্রমের প্রশংসা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে অঙ্গীকারের বার্তা
অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী হোছাইন বলেন,
“আমরা শুধু একটি সভায় বসিনি, আমরা একটি দায়িত্ব ও মানবিক সংগ্রামের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার কোনো দয়া নয়, এটি প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানো এবং বঞ্চিতদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনায় গুরুত্ব বাস্তবায়নে
সভায় বক্তারা কথার চেয়ে কাজে গুরুত্ব দেওয়ার ওপর জোর দেন। এ লক্ষ্যে কয়েকটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়—
প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া
নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ
মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা ও শিক্ষা বিস্তার
অন্যান্য বক্তাদের অংশগ্রহণ
সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ওমর শরীফ লিটনের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, গণমাধ্যম বিষয়ক সচিব সাংবাদিক মোহাম্মদ সেলিম খান, হাটহাজারীর দায়িত্বশীল মোহাম্মদ আবদুল হালিম আলম, শ্রম বিষয়ক সচিব মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, শিল্প, জলবায়ু ও পরিবেশ বিষয়ক সচিব মোহাম্মদ মোরশেদ আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
উপসংহার
সভাটি একটি শক্তিশালী ও কার্যকর মানবাধিকার আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয়ে শেষ হয়। বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অন্যায়-অবিচারমুক্ত, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

error: Content is protected !!