দাশুরিয়ায় সার বোঝাই ট্রাকে অগ্নিসংযোগ
পাবনার ঈশ্বরদীতে বিকল হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা সরকারি টিএসপি সার বোঝাই ট্রাকে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় বিএনপির দুই নেতাসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ট্রাকে আগুন প্রদানকারী রিয়াদ ও তার সঙ্গীকে গ্রেফতার করা হয়নি।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- পাবনা আইন কলেজের জিএস পরিচয় প্রদানকারী জাকির হোসেন খান জ্যাকি, পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনবারের সাবেক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পরিচয়দানকারি আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং ব্যবসায়ি পরিচয় প্রদানকারী আতাউল হক। তাদের তিনজনের বাড়িই পাবনার কালাচাঁদপাড়া। এদের বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে দাশুড়িয়া ট্রাফিকমোড় থেকে আটক করে ঈশ্বরদী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
ক্ষতিগ্রস্থ ট্রাকের (চুয়াডাঙ্গা ট-১১-০৪৪২) চালক ঈশ্বরদী দাশুড়িয়া এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে ট্রাক চালক সুমন বলেন, তিনি যশোর নওয়াপাড়া সরকারি গোডাউন থেকে টিএসপি সার বোঝাই করে রাজশাহী যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে দাশুড়িয়া মোড়ে ট্রাকের মবিল ট্যাংক ফেটে রাস্তায় মবিল পড়তে থাকে। তখন তিনি ট্রাকটি স্থানীয় একটি গ্যারেজে নিয়ে যান। এরপর তার ট্রাকের হেলপারকে মবিল পড়ে যাওয়া স্থানে বালু ফেলতে পাঠান। এরমধ্যে মোটরসাইকেল যোগে আসা ওই তিনজন মবিল পড়ে থাকা স্থানে মোটর সাইকেলের চাকা স্লিপ করে পড়ে যান। তখন স্থানীয় যুবক রিয়াদ ও অজ্ঞাত আরো একজন মিলে মোটর সাইকেলে আসা তিনজনকে গ্যারেজে নিয়ে এসে বাক বিতন্ডাসহ মারপিট শুরু করেন। এক পর্যায় রিয়াদসহ অপরজন ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেন। একই সঙ্গে ট্রাকের ভিতরে থাকা নগদ ৩৫ হাজার টাকা চুরি করে ও মোবাইল ফোনটি ভাংচুর করে। তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও আদালতে প্রেরণকারী ওই তিনজন ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়ার সঙ্গে জড়িত নয়। তারপরও পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় বলে জানান সুমন।
চালক সুমন আরো বলেন, ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়ায় তার ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে আগুন নেভান। এসময় রিয়াদ ও তার অপর সঙ্গী পালিয়ে যান। অগ্নিকান্ডে বেশ কিছু বস্তা সার পুড়ে ভস্মিভুত হয়ে গেছে। আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার জন্য থানা থেকে তাকে ডাকা হবে জানিয়ে মোবাইল ফোন নম্বর নিয়ে গেলেও পরবর্তিতে তাকে আর ডাকা হয়নি বলেও জানান সুমন।
পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনবারের সাবেক সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক পরিচয়দানকারি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা রাতে পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক ও ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া আসনের ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবের গ্রামের বাড়ি সাহাপুরে গিয়ে দেখা করে তিনজন মোটর সাইকেল যোগে পাবনায় ফিরছিলাম। পথে দাশুড়িয়া ট্রাফিক মোড়ে রাস্তায় পড়ে থাকা মবিলের কারণে মোটর সাইকেলের চাকা পিছলে দূর্ঘটনার শিকার হই। এরপর পুলিশ গিয়ে তাদের আটক করে থানা নিয়ে যায়’। তবে তারা ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়ার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবী করেন।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: মুমিনুজ্জামান বলেন, আটককৃত তিনজনকে ১৫১ ধারায় গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এই কথা জানিয়ে তিনি মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর কয়েকবার সরকারি মোবাইল নম্বরে কল দেয়া হলে ওসি কল রিসিভ না করে কেটে দেন।











