রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩১ ফাল্গুন ১৪৩২
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩১ ফাল্গুন ১৪৩২

খুলনায় প্রবাসী নারী শিউলী বেগম হ ত্যা: ছেলে রিয়াদ খান গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৫০ পিএম | 77 বার পড়া হয়েছে
খুলনায় প্রবাসী নারী শিউলী বেগম হ ত্যা: ছেলে রিয়াদ খান গ্রেপ্তার

খুলনা মহানগরীতে চাঞ্চল্যকর শিউলি বেগমকে (৫০) হ*ত্যা মামলার আসামি ছেলে রিয়াদ খান (১৯) কে ফেনী থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬। গ্রেফতারকৃত আসামি রিয়াদ ডুমুরিয়া গজেন্দ্রপুর গ্রামের সালাউদ্দিন খানের ছেলে। আজ (২৫ ডিসেম্বর) র‌্যাব-সিপিসি সদর কোম্পানি ও র‌্যাব-৭, সিপিসি-১, ফেনীর যৌথ আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফেনী জেলার সদর থানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে খুলনা সদর থানার চাঞ্চল্যকর শিউলি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত একমাত্র পলাতক আসামী মোঃ রিয়াদকে গ্রেফতার করে। আসামি রিয়াদ খান ও নিহত ভিকটিম শিউলি বেগম সম্পর্কে মা-ছেলে। নিহত শিউলি বেগম পেশায় একজন সৌদি আরব প্রবাসী ছিলেন। গত ২৭ অক্টোবর তিনি দুই মাসের ছুটিতে বাংলাদেশে আসেন। গত ১০ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে মিউনিসিপ্যাল ট্যাংক রোডরে একটি বাড়তিে আসামি রিয়াদ খান অজ্ঞাত কারণে তার মা ভিকটিম শিউলি বেগমকে হ*ত্যা করে আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর ভিকটিমের ছোট ভাই ডুমুরিয়া সেনপাড়ার রায়হান গাজী বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় রিয়াদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। উল্লেখ যে, গ্রেফতারকৃত আসামির হেফাজত ২ লক্ষ ৫ হাজার ৮৪০ টাকা, দুইটি আইফোন, একটি স্মার্ট ফোন ও একটি এয়ারপড জব্দ করা হয়েছে। এ গ্রেফতারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফেনী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র‌্যাব ৬ সূত্রে জানা গেছে।

নিপাহ-জলাতঙ্কের সমাধান খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:২৪ পিএম
নিপাহ-জলাতঙ্কের সমাধান খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা

দিনে দিনে মশার উৎপাত বাড়ছে। বাড়ছে ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ার মতো মশাবাহিত রোগের উপদ্রব। অন্যদিকে এবার বাংলাদেশ ও ভারতে বাদুড়বাহিত নিপাহ ভাইরাসের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। সেই প্রকোপ মোকাবিলায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশ বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন বন্দরে বিধিনিষেধ আরোপ ও স্বাস্থ্যপরীক্ষার ব্যবস্থা করেছে।

এই পরিস্থিতিতে বিজ্ঞানীরা ‘কাঁটা দিয়ে কাঁটা তোলার’ পথ খুঁজছেন। তাঁরা মশা ব্যবহার করে বাদুড় থেকে নিপাহ ভাইরাসসহ প্রাণঘাতী বিভিন্ন ভাইরাস ছড়ানো বন্ধের চেষ্টা করছেন। বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী নেচার-এর অনলাইনে এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে। চীনের একদল গবেষক গবেষণাটি করছেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা গবেষণাগারে এমন কিছু বিশেষ মশার জন্ম দিয়েছেন, যারা কামড়ে বাদুড়ের শরীরে জলাতঙ্ক ও নিপাহ ভাইরাসের প্রতিষেধক পৌঁছে দেবে। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে এই ভাইরাসগুলোর সংক্রমণ ঠেকানো। তবে বন্য পরিবেশে এই কৌশল কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে যথেষ্ট সংশয়ও রয়েছে।

বাদুড় প্রাকৃতিকভাবেই অনেক বিপজ্জনক ভাইরাসের বাহক। এশিয়ার দেশগুলোয় নিপাহ ভাইরাস একটি আতঙ্কের নাম। বাদুড় থেকে ছড়ানো এই রোগে আক্রান্তদের প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত মারা যেতে পারে। অন্যদিকে, জলাতঙ্ক বা র‍্যাবিস ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যু প্রায় শতভাগ নিশ্চিত। তাই এই দুই ভাইরাসের উৎস বাদুড়কে রোগমুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

মজার ব্যাপার হলো, বাদুড় নিজে এসব ভাইরাসে অসুস্থ হয় না। তবে তাদের শরীর থেকে ভাইরাস অন্য প্রাণী বা মানুষের শরীরে ঢুকলে তা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। বাদুড় যেহেতু ফল ও ফলের রস খায়, কাজেই আপাতত সহজ সমাধান হিসেবে বিশেষজ্ঞরা খেজুরের কাঁচা রস পান না করার পরামর্শ দেন। ফলও ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

গবেষকেরা বলছেন, নিপাহ ও জলাতঙ্কের ভাইরাস ঠেকানোর আরেকটি উপায় হতে পারে বাদুড়কে টিকা দেওয়া। কিন্তু বাদুড় গুহাবাসী। থাকেও দলবদ্ধভাবে। লাখ লাখ বাদুড়কে টিকা দেওয়া অসম্ভব। এই সমস্যা সমাধানে মশাকে ব্যবহারের সুযোগ খুঁজছেন বিজ্ঞানীরা।

গবেষণার অংশ হিসেবে চীনা গবেষকদল ‘এডিস ইজিপ্টি’ মশাকে এমন রক্ত পান করিয়েছেন, যাতে নিপাহ কিংবা জলাতঙ্ক ভাইরাসের টিকা মেশানো ছিল। রক্তপানের পর মশার লালাগ্রন্থিতে পৌঁছায় সেই টিকা। এরপর মশাগুলো বাদুড়কে কামড়ালে কিংবা বাদুড় সেই মশাকে খেয়ে ফেললে তাদের শরীরে টিকা পৌঁছে যায়। গবেষণাগারে দেখা গেছে, এই ‘টিকাবাহী’ মশার সংস্পর্শে আসা ইঁদুর ও বাদুড়ের শরীরে জলাতঙ্ক ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে।

একইভাবে নিপাহ ভাইরাসের ক্ষেত্রেও ভালো ফলাফল পাওয়া গেছে। বেইজিংয়ের চাইনিজ একাডেমি অব সায়েন্সেসের ভাইরোলজিস্ট আইহুয়া জেং বলেন, বড় গবেষণাগারে বাদুড়ের ওপর পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। তারপরও একই পর্যায়ের অ্যান্টিবডি তৈরি হওয়া বাদুড়েরা নিপাহ ভাইরাস থেকে সুরক্ষিত ছিল।

কিন্তু গবেষণায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ফলখেকো বাদুড় বা ফ্রুট ব্যাটদের নিয়ে। কারণ, তারা মশা খায় না। তাদের জন্য বিজ্ঞানীরা টিকার মিশ্রণ মেশানো বিশেষ ‘স্যালাইন ড্রিঙ্কিং স্টেশন’ বা পানির পাত্র তৈরি করেছেন। এই পদ্ধতিতে টিকা গ্রহণেও বাদুড়ের শরীরে আশাব্যঞ্জক রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দেখা গেছে।

এই অভাবনীয় কৌশল নিয়ে বিজ্ঞানীদের একাংশ বেশ চিন্তিত। ম্যালেরিয়া বিশেষজ্ঞ বার্ট নোলস মনে করেন, পানীয়র মাধ্যমে টিকা দেওয়া নিরাপদ হলেও মশা ব্যবহারের ঝুঁকি অনেক। তাঁর মতে, ‘মশা কাকে কামড়াবে তা নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব। এমনও হতে পারে যে টিকা নিতে অনিচ্ছুক কোনো মানুষের গায়েও সেই মশা বসে টিকা দিয়ে দিল!’

মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইরোলজিস্ট ড্যানিয়েল অ্যান্ডারসন বলেন, বন্য বাদুড়েরা আগে থেকেই নানা ভাইরাসে আক্রান্ত থাকে। গবেষণাগারে সুস্থ বাদুড়ের ওপর টিকা কাজ করলেও প্রাকৃতিকভাবে আক্রান্ত বাদুড়ের শরীরে তা কতটা কার্যকর হবে, তা স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া বাদুড়ের দেড় হাজারের বেশি প্রজাতি রয়েছে। তাই প্রতিটি প্রজাতির জন্য আলাদা কৌশলের প্রয়োজন হতে পারে।

গবেষক আইহুয়া জেং স্বীকার করেছেন, এখনই এই পদ্ধতি বন্য পরিবেশে প্রয়োগ করা সম্ভব নয়। বর্তমানে তারা পরীক্ষা করছেন কীভাবে গবাদিপশুর শরীরে বাদুড় থেকে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকানো যায়। সরকারি অনুমোদন এবং কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষার পরই হয়তো কোনো একদিন মশার মাধ্যমে মহামারি রুখে দেওয়ার স্বপ্ন সত্যি হবে।

আর্জেন্টিনা রাজি না হওয়াতেই বাতিল ফিনালিসিমা

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:২০ পিএম
আর্জেন্টিনা রাজি না হওয়াতেই বাতিল ফিনালিসিমা

লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালের রোমাঞ্চকর এক লড়াই দেখার অপেক্ষায় ছিলেন বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিই যে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবু ম্যাচটি আয়োজন করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিল উয়েফা ও কনমেবল। তবে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কাছে একের পর এক প্রস্তাব দেওয়া হলেও কোনোটিতে তাদের রাজি করানো যায়নি।

আগের সূচি অনুযায়ী ২৭ মার্চ কাতারের লুসাইল আইকনিক স্টেডিয়ামে হওয়ার কথা ছিল আর্জেন্টিনা-স্পেন ফিনালিসিমা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলায় উত্তেজনা বিরাজ করছে মধ্যপ্রাচ্যে। উয়েফা আজ আর্জেন্টিনা-স্পেন ফিনালিসিমা বাতিলের কথা নিশ্চিত করেছে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘প্রথম প্রস্তাব ছিল নির্ধারিত দিনে সান্তিয়ানো বার্নাব্যুতে হবে ফিনালিসিমা। দুই দলের সমর্থকদের ৫০:৫০ অনুপাতে ভাগ করা হতো। আর্জেন্টিনা-স্পেন ফিনালিসিমা আয়োজনের জন্য দারুণ এক ভেন্যু ছিল এটা। আর্জেন্টিনা তাতে রাজি হয়নি।’

ইরান যুদ্ধে বাতিল আর্জেন্টিনা-স্পেন ফিনালিসিমাইরান যুদ্ধে বাতিল আর্জেন্টিনা-স্পেন ফিনালিসিমা
সান্তিয়াগো বার্নাব্যু ও বুয়েনস এইরেসে দুই লেগে ভাগ করে ফিনালিসিমা আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এমনকি এ মাসের শেষে নিরপেক্ষ ভেন্যুতেও আর্জেন্টিনা-স্পেন ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আর্জেন্টিনা কিছুতেই রাজি হয়নি। উয়েফা বলেছে, ‘দ্বিতীয় প্রস্তাব ছিল ফিনালিসিমা দুই লেগে আয়োজন করা। একটি ম্যাচ ২৭ মার্চ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে আয়োজন করা। আরেকটি উয়েফা ইউরো ২০২৮ ও কোপা আমেরিকা ২০২৮-এর মাঝে কোনো এক আন্তর্জাতিক বিরতিতে ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। মাদ্রিদের ম্যাচেও সমর্থকদের ৫০:৫০ ভাগ দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। এই প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত যদি ইউরোপে কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যু পাওয়া যায়, তাহলে ২৭ মার্চ বা ৩০ মার্চে ম্যাচটি আয়োজন করা যেতে পারে। তবে উয়েফা এমন প্রস্তাব দিলেও রাজি হয়নি আর্জেন্টিনা।’

১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে হবে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ। দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ শেষে ফিনালিসিমা আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল আর্জেন্টিনা। কিন্তু কোনো তারিখ না মেলাতে পারায় ফিনালিসিমা বাতিলই করতে হয়েছে। উয়েফা বলেছে, ‘আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের পর ম্যাচটি খেলার জন্য একটি পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু স্পেনের কোনো ফাঁকা তারিখ না থাকায় সেই বিকল্পটি বাতিল করতে হয়।’

২০২১ ও ২০২৪ সালে টানা দুবার কোপা আমেরিকা জিতে এই টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ ১৬ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কীর্তি গড়ে আর্জেন্টিনা। এই দুবার ইংল্যান্ড ইউরোতে রানার্সআপ হয়েছিল। ২০২১ ও ২০২৪ ইউরো জিতেছিল ইতালি আর স্পেন। সবশেষ ২০২২ ফিনালিসিমায় ওয়েম্বলিতে ইতালিকে ৩-০ গোলে হারিয়েছিল আর্জেন্টিনা।

ফেঁসে যাচ্ছেন রাজপরিবারের সদস্য ও তারকারা

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৮ পিএম
ফেঁসে যাচ্ছেন রাজপরিবারের সদস্য ও তারকারা

প্রকাশ্যে চলাফেরা বা আড্ডার সময় রাজপরিবারের সদস্য ও তারকাদের কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁদের প্রতিনিধি ও উপদেষ্টারা। ইন্টারনেটে ‘লিপ-রিডিং’ বা ঠোঁট পড়ার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার প্রবণতা বাড়ায় এখন ঘর বা প্রাসাদের বাইরে বলা প্রতিটি শব্দ কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অনলাইনে ফাঁস ও ডিকোড হয়ে যাচ্ছে।

সম্প্রতি চ্যানেল ফাইভের একটি তথ্যচিত্র ‘লিপ-রিডিং দ্য রয়্যালস’-এ বিশেষজ্ঞ লিপ-রিডাররা প্রিন্স উইলিয়ামের একটি কথোপকথন অনুবাদ করেছেন। সেখানে দেখা যায়, সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু (অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর) তাঁর ভাতিজা উইলিয়ামের কাছে ক্ষমা চাওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু উইলিয়াম তা এড়িয়ে যান। লিপ-রিডারের দাবি অনুযায়ী অ্যান্ড্রু বলছিলেন, ‘আমি আমার ভুল থেকে শিখেছি। এখন আমি কি ক্ষমা চাইতে পারি?’ উইলিয়াম এর কোনো উত্তর না দিয়ে নীরব ছিলেন।

উল্লেখ্য, কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার নতুন তথ্য আসায় গত বছরের অক্টোবরে অ্যান্ড্রু তাঁর সব রাজকীয় উপাধি ত্যাগ করতে বাধ্য হন।

তথ্যচিত্রটিতে আরও দাবি করা হয়েছে, রাজকীয় গাড়িতে ওঠার সময় রাজা চার্লসকে বিরক্তিভরে একটি গালি (fuck me) উচ্চারণ করতে দেখা গেছে। এ ছাড়া প্রিন্সেস অ্যানকে ডাচেস অব সাসেক্স (মেগান মার্কেল) সম্পর্কে পরনিন্দা বা ‘গসিপ’ করতে দেখা গেছে।

লিপ-রিডিংয়ের এই ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় চরম বিরক্ত ব্রিটিশ রাজপরিবার। রাজকীয় একটি সূত্র দ্য গার্ডিয়ানকে জানিয়েছে, এটি মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপের একটি ভয়ানক প্রবণতা। রানির সাবেক প্রেস সেক্রেটারি ডিকি আর্বিটার রাজপরিবারের সদস্যদের সতর্ক করে বলেছেন, জনসাধারণের সঙ্গে মেশার সময় বা ক্যামেরার সামনে যেন তাঁরা কোনো আলটপকা কথা না বলেন।

কেবল রাজপরিবার নয়, হলিউড তারকারাও এই ‘ডিজিটাল গোয়েন্দাগিরি’র শিকার হচ্ছেন। গোল্ডেন গ্লোবসের মতো আসরে যেখানে মাইক্রোফোন থাকে না, সেখানেও তারকাদের ঠোঁট পড়ে ভিডিও তৈরি করছেন টিকটক ব্যবহারকারীরা।

এক ভিডিওতে দেখা যায়, কাইলি জেনার অভিনেত্রী জেনিফার লরেন্সের কাছে পাশের একজনের জ্বর ও কাশি নিয়ে অভিযোগ করছেন।

২০২৪ সালের একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, সেলেনা গোমেজ অভিযোগ করছেন যে, তিনি টিমোথি শ্যালামের সঙ্গে ছবি তুলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু কাইলি জেনার ‘না’ করে দিয়েছেন।

এ ছাড়া বেন অ্যাফ্লেক ও জেনিফার লোপেজ (যাঁদের ২০২৫ সালে বিচ্ছেদ হয়েছে) বিভিন্ন জমকালো অনুষ্ঠানে তর্কে লিপ্ত হচ্ছেন—এমন দৃশ্যও লিপ-রিডাররা ফাঁস করেছেন।

মিডিয়া কনসালটেন্সি এজেন্সি জেএইচএমের পরিচালক অ্যান্ডি মে বলেন, ২০ বছর আগে নিয়ম ছিল মাইক্রোফোন থেকে দূরে থাকা। কিন্তু এখনকার নিয়ম হলো—ধরে নিন ক্যামেরা সব সময় চলছে। স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট—সবার হাতেই এখন ফোন এবং সবাই এখন কনটেন্ট ক্রিয়েটর।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন একটি ‘সেসপিল’ বা নোংরা আস্তাকুঁড়ের মতো হয়ে গেছে, যেখানে রাজপরিবার বা তারকাদের একটি খারাপ দিন বা সামান্য ভুল মুহূর্ত কয়েক মিনিটের মধ্যে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।

 

error: Content is protected !!