মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২

ওপার বাংলাতেও সমান জনপ্রিয় জয়া আহসান

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১১:৫৭ এএম | 119 বার পড়া হয়েছে
ওপার বাংলাতেও সমান জনপ্রিয় জয়া আহসান

দেশের সীমানা পেরিয়ে ওপার বাংলাতেও সমান জনপ্রিয় জয়া আহসান। আবীর চট্টোপাধ্যায় সঙ্গে তার বন্ধুত্ব বহু পুরোনো এবং ইন্ডাস্ট্রিতে এই জুটির পর্দার রসায়নও দারুণ জনপ্রিয়। সম্প্রতি জয়া আহসানের কথায় আবীর চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি তার মুগ্ধতা যেন এক অন্য মাত্রা পেল।
জয়া জানান, ইন্ডাস্ট্রিতে বহু মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হলেও আবীর চট্টোপাধ্যায় তাদের মধ্যে অন্যতম ব্যতিক্রমী। তিনি একজন অত্যন্ত নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ। জয়ার কথায়, ‘ওর সঙ্গে আমার সবচেয়ে বেশি কাজ। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, ইন্ডাস্ট্রিতে আমার সবচেয়ে কমফোর্ট জোন আবীর।’
‘আমি কখনও দেখিনি ও কোনও আড্ডায় বা কখনও কোথাও কাউকে নিয়ে সমালোচনা করছে। কেউ কষ্ট পেতে পারে এরকম কথা আমি আবীরকে কখনও বলতে শুনিনি। তাই ওর জায়গা আমার জীবনে অনেকটা উপরে। একটু বেশিই সমালোচনাহীন মানুষ। যদিও মাঝেমধ্যেই একটু টক-ঝাল গল্প হলে সকলেরই খুব ভালোলাগে। তবে ওর মধ্যেও নিশ্চয়ই সেটা আছে, নয় সেটা কেউ খুঁজে পায় না। অথবা আমরা দেখতে পাই না।’
অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘পুতুল নাচের ইতিকথার জন্য আমরা কিছু দিন আগে যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে গিয়েছিলাম। ওরে বাবা! আবীর ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে সে যা হলো। আমাদের দিকে আর কে তাকাবে, আমাদের কথা কারও তখন কান দিয়ে মাথা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। সকলে শুধু ওর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। মুগ্ধ নয়নে সকলে আবীরকে দেখছে। আমিও দেখছিলাম যে আহা কী অপূর্ব এই দৃশ্য। ওর জন্য অনুরাগীরা কতটা পাগল। এই ভক্তদের সামলে রাখা এবং সবটা এমন যত্নে রাখাও খুব কঠিন কাজ। আবীর খুব সুন্দর মেনটেন করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আসলে আবীরের থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। সংসার এবং কর্মজীবন পাশাপাশি চালিয়ে যাওয়া খুব সহজ কাজ নয়। আবীর খুব সুন্দর ভাবে পরিবারকে প্রাধান্য দিয়ে সংসার জীবনটা মেনটেন করে। শুধু তাই নয়, কাজের জায়গাটাও ব্যালান্স করে। আসলে তার মতো একজন মানুষকে বন্ধু হিসেবে পাওয়া খুব ভাগ্যের ব্যাপার।’
জয়ার কথায়, ‘ওর অনুভূতি খুব মন থেকেই আসে সেটা যার জন্যই হোক। এবং এই বিষয়টা কিন্তু ফেক নয়। আমি চাইব ও যেন সারাজীবন এমনই থাকে। আমরা যা করতে পারিনি বা পারি না সেটাই ও অতি যত্নে করে দেখায়। কত অবলীলায় আমরা বলে ফেলি কর্মজীবন ও পরিবার একসঙ্গে সামলানো কঠিন, ও সেটা ভুল প্রমাণ করে দেখিয়েছে বার বার।’

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

প্লাস্টিকের বদলেই রমজানের বাজার

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৩:৫১ পিএম
প্লাস্টিকের বদলেই রমজানের বাজার

চট্টগ্রাম নগরীর পরিবেশ সুরক্ষা এবং পবিত্র রমজানে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষের সহায়তায় এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নগরীর সরকারি কমার্স কলেজের সামনে স্থাপিত ‘প্লাস্টিক এক্সচেঞ্জ কর্নার’–এ ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে মিলবে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও ইফতার সামগ্রীসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ‘রমজানের বাজার’।

ক্লিন বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক সহযোগিতায় গতকাল রবিবার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

উদ্বোধনী বক্তব্যে মেয়র বলেন, “প্লাস্টিক দূষণ আজ আমাদের নগরীর অন্যতম প্রধান সমস্যা। ড্রেন ও নালা–নর্দমা প্লাস্টিকে ভরাট হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। আমরা চাই রমজানে শহর পরিচ্ছন্ন থাকুক এবং দ্রব্যমূল্যের চাপে কেউ যেন কষ্ট না পায়। নাগরিকরা বাসায় জমে থাকা প্লাস্টিক বোতল বা বর্জ্য এখানে জমা দিয়ে পয়েন্ট সংগ্রহ করবেন। সেই পয়েন্টের বিনিময়ে তারা প্রয়োজনীয় বাজার ও ইফতার সামগ্রী নিতে পারবেন।”

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, নির্দিষ্ট বুথে প্লাস্টিক বোতল বা সামগ্রী জমা দিলে ওজন অনুযায়ী ডিজিটাল কার্ড বা কুপনে পয়েন্ট যুক্ত হবে। সেই পয়েন্ট ব্যবহার করে কর্নারে সাজানো ‘রমজানের বাজার’ থেকে প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করা যাবে।

উদ্বোধন শেষে মেয়র স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে প্লাস্টিকের বিনিময়ে রমজানের বাজার ও ইফতার সামগ্রী তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে সিটি কর্পোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ আব্দুল কাদের সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজি) তাড়াশ কলেজ, তাড়াশ, সিরাজগঞ্জ

স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সময়োপযোগিতা, কাঠামোগত বাস্তবতা ও দলীয় প্রতীকের প্রশ্ন

মোঃ আব্দুল কাদের সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজি) তাড়াশ কলেজ, তাড়াশ, সিরাজগঞ্জ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৩:৪৭ পিএম
স্থানীয় সরকার নির্বাচন: সময়োপযোগিতা, কাঠামোগত বাস্তবতা ও দলীয় প্রতীকের প্রশ্ন

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোর সর্বনিম্ন স্তর ইউনিয়ন পরিষদ-এর নির্বাচন আগামী জুলাই মাস থেকে শুরু করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে প্রথম ধাপে ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, যার অধিকাংশই বরিশাল বিভাগ-এর ছয়টি জেলায় অবস্থিত। পরবর্তী ধাপে চলতি বছরের শেষের দিকে আরও ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পরপরই এই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা একটি ধারাবাহিক নির্বাচন প্রক্রিয়ার ইঙ্গিত বহন করে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভের পর সরকার তার জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করতে আগ্রহী। এই প্রেক্ষাপটে প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানিয়েছেন, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই নির্বাচন দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে কি না, তা জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। আগামী ১২ মার্চ জাতীয় সংসদ-এর প্রথম অধিবেশনে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
আইনগত কাঠামো অনুসারে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনে উল্লেখ রয়েছে যে, কোনো ইউনিয়ন পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার ১৮০ দিনের মধ্যে পরবর্তী নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। এই বিধান অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২১ জুন অনুষ্ঠিত প্রথম ধাপের ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, ফলে সেখানে নির্বাচন আয়োজন এখন আইনগত প্রয়োজনীয়তা হিসেবেই আবির্ভূত হয়েছে।
এদিকে, প্রশাসনিক বাস্তবতা বেশ জটিল আকার ধারণ করেছে। দেশের মোট ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরিষদে নির্বাচিত চেয়ারম্যান অনুপস্থিত।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক অস্থিরতায় প্রায় দেড় হাজার চেয়ারম্যান আত্মগোপনে চলে যান, যাদের অনেকের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। ফলে বহু ইউনিয়নে প্রশাসক নিয়োগ দিতে হয়েছে, আবার কোথাও প্যানেল চেয়ারম্যান দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে কতসংখ্যক ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, প্যানেল চেয়ারম্যান বা প্রশাসক দায়িত্বে রয়েছেন, এ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কাছেও নেই। এই প্রেক্ষাপটে জেলা প্রশাসকদের কাছে বিস্তারিত তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে সক্রিয়।
পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলোতে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে কোনো আইনি জটিলতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। একইভাবে বরিশাল জেলার প্রশাসক উল্লেখ করেছেন, তাঁর জেলায় কিছু ইউনিয়ন প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও সংখ্যাটি খুব বেশি নয়।
এ অবস্থায় প্রথম ধাপে ২০২১ সালের জুনে অনুষ্ঠিত ইউনিয়নগুলোতে নির্বাচন আয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী ধাপগুলোতেও পর্যায়ক্রমে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—যেমন ২০২১ সালের নভেম্বর, ডিসেম্বর এবং ২০২২ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন ধাপের ইউনিয়নগুলোতে।
তবে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে একটি মৌলিক প্রশ্ন জড়িয়ে রয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হবে, নাকি নির্দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৫ সালে আইন সংশোধনের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার পাঁচটি স্তরে দলীয় প্রতীক চালু করা হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে অন্তর্বর্তী সরকার এই বিধান বাতিল করে। এখন প্রশ্ন হলো, সংসদে এই অধ্যাদেশ আইন হিসেবে গৃহীত হবে কি না, এবং হলে দলীয় প্রতীক থাকবে কি না।
অতীত অভিজ্ঞতা এই বিতর্ককে আরও তীব্র করেছে। দলীয় প্রতীকে স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ফলে সহিংসতা বৃদ্ধি, প্রাণহানি, মনোনয়ন বাণিজ্য এবং অযোগ্য প্রার্থীর অংশগ্রহণের মতো নেতিবাচক প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। ভোটার উপস্থিতিও কমে গেছে, যা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের জন্য একটি উদ্বেগজনক দিক। একই সঙ্গে প্রশাসক নিয়োগের কারণে স্থানীয় জনগণ সেবা প্রাপ্তিতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার এই প্রেক্ষাপটে মন্তব্য করেছেন যে, দলীয় প্রতীকে নির্বাচন দেশের জন্য ক্ষতিকর প্রমাণিত হয়েছে। তাঁর মতে, নির্দলীয় নির্বাচনের পরিবেশে অধিক যোগ্য, সম্মানিত ও জনপ্রিয় ব্যক্তিরা অংশগ্রহণের সুযোগ পেতেন, যা বর্তমানে সীমিত হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে দলীয় প্রতীকের কারণে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং প্রতিযোগিতার সংকোচন ঘটেছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এখন কেবল একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নয়; বরং এটি স্থানীয় শাসনব্যবস্থার কার্যকারিতা পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। তবে এই নির্বাচনকে অর্থবহ ও অংশগ্রহণমূলক করতে হলে দলীয় প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ এবং সহিংসতামুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা অপরিহার্য। জাতীয় সংসদের সিদ্ধান্তই নির্ধারণ করবে, ভবিষ্যতের স্থানীয় সরকার নির্বাচন গণতান্ত্রিক বিকাশের পথে এগোবে, নাকি পুরোনো বিতর্কের পুনরাবৃত্তি।

মোঃ আব্দুল কাদের
সহকারী অধ্যাপক (ইংরেজি)
তাড়াশ কলেজ, তাড়াশ, সিরাজগঞ্জ

কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাজারহাটে ৪০০ বছরের পুরনো চান্দামারী মসজিদ

রুহুল আমিন রুকু কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৩:৪০ পিএম
কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে রাজারহাটে ৪০০ বছরের পুরনো চান্দামারী মসজিদ

কুড়িগ্রামের রাজারহাটের ঐতিহাসিক চান্দামারী মসজিদ। এ মসজিদটি মোঘল আমলে প্রায় ৪’শ বছর আগে নির্মাণ করা হয় বলে কথিত রয়েছে।

স্থাপত্যের নিপুণ কারুকার্যে নির্মিত চান্দামারী জামে মসজিদ আজও তার স্ব-স্থানে মাথা উঁচু করে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

যদিও মসজিদটি অনেক পুরোনো। তবুও এখনও এ মসজিদটি রয়েছে অক্ষত। এখনও এ মসজিদের নামাজ আদায় করেন এলাকার তথা দূর দুরান্ত থেকে আসা মুসল্লিগণ।

এ মসজিদটি কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা সদর থেকে ৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থিত। এটি উপজেলার চান্দামারী মন্ডলপাড়া গ্রামের মাঝে অবস্থিত।

এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ মসজিদটি মোট ৫১ শতাংশ জমির উপর নির্মিত হয়। প্রায় ৪০০ বছর আগে মোঘল আমলে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে তাদের ধারণা। ভারতের বাবরী মসজিদ ও বাগেরহাটের ষাট গম্বুজ মসজিদের সঙ্গে চান্দামারী মসজিদটির যথেষ্ট সাদৃশ্য রয়েছে।

ঐতিহ্য ও স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে আজও ভগ্ন দশায় দাঁড়িয়ে আছে এ মসজিদটি। এখানে গম্বুজ সংখ্যা কম হলেও সৌন্দর্যে কোনও অংশে কম নয়। তিন গম্বুজ এবং তিন মেহেরার বিশিষ্ট ইট, সুরকী দ্বারা সুনিপুণ কারুকার্যে নির্মিত এ ধরনের মসজিদ জেলার কোথাও দেখা যায় না।

মসজিদের পুরো অবকাঠামোটির দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট এবং প্রস্থ ২২ ফুট। চারদিকে বাউন্ডারি ওয়াল বেষ্টিত এবং ৬০ ফুট উচ্চতা সম্পন্ন মসজিদটি বিভিন্ন কারণে এখন তার সেই জৌলুস নেই।

মসজিদটি অত্যন্ত দৃষ্টিন্দন হওয়ায় অনেক মানুষ এমনিতে যেমন দেখতে আসেন তেমনি নামাজ আদায় করতেও আসেন।

error: Content is protected !!