এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ
বাঁশখালীতে মোবাইল কোর্টের তথ্য পাচারের দায়ে তিনজনকে কারাদণ্ড
চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলায় রাতের আঁধারে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে পরিচালিত মোবাইল কোর্ট অভিযানের তথ্য পাচারের অভিযোগে তিনজনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) রাতে উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ওমর সানি এই অভিযান পরিচালনা করেন।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র মোবাইল কোর্ট অভিযান চলাকালে উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে মাটি কাটার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে আসছিল। ফলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও একাধিকবার অভিযান ব্যর্থ হয়। অভিযানের তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত এক্সক্যাভেটর ও মিনি ড্যাম্পার ট্রাক নিয়ে সংশ্লিষ্টরা পালিয়ে যায়।
সর্বশেষ সোমবার (২ মার্চ) রাত ১২টা থেকে ভোর ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত উপজেলার দুটি স্থানে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনাকালে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি লক্ষ্য করা যায়। জালিয়াঘাটা এলাকায় অভিযান পরিচালনার সময় যথারীতি আগাম তথ্য পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও পরবর্তীতে পুরো এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে একাধিক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এ সময় মো. রিদুয়ান (২৯), নুরুল আলম (৪৫) ও মো. ইব্রাহিম (৪৫)-এর মোবাইল ফোনকল রেকর্ডে অভিযানের তথ্য সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল কোর্ট অভিযানের খবর পেয়ে মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের ফোনে সতর্ক করে পালিয়ে যেতে সহায়তা করতেন। বিনিময়ে এ চক্রটি মাটি কাটার লভ্যাংশ ভোগ করত।
ঘটনায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মো. রিদুয়ানকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং নুরুল আলম ও মো. ইব্রাহিমকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, মো. রিদুয়ানের বিরুদ্ধে পূর্বে বাঁশখালীর পাহাড়ি অঞ্চলে অবৈধ মাটি কাটার একাধিক অভিযোগ থাকলেও এবারই প্রথম তাকে মোবাইল কোর্ট অভিযানে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। কৃষি ও প্রকৃতি রক্ষায় অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।














