বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২
বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬, ১৯ চৈত্র ১৪৩২

সঞ্চয় করবেন যেভাবে

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ জুলাই, ২০২৫, ৩:৪১ পিএম | 92 বার পড়া হয়েছে
সঞ্চয় করবেন যেভাবে

একদিন দুই বন্ধু—রাহুল ও জুবায়ের—একসাথে চাকরিতে যোগ দিলো। দুজনেই সমান বেতন পেতো, সমান বয়স, সমান স্বপ্ন।

৫ বছর পর দেখা গেল, রাহুল ব্যাংক ব্যালান্সে ৩ লাখ টাকা জমিয়েছে, ডিপিএস চলছে, কিছু ইনভেস্টও করেছে। আর জুবায়ের? সব টাকা খরচ, কিছুই হাতে নেই। অসুস্থতায় ধার করে চলতে হচ্ছে।

রাহুল বলল, “বন্ধু, আয় যতই হোক না কেন, যদি অভ্যাস না বদলাও—সঞ্চয় হবে না।”

এই গল্পটা আজ আমাদের সবার বাস্তব চিত্র। এখনই যদি ব্যবস্থা না নিই, ভবিষ্যৎ শুধু কষ্ট আর অনিশ্চয়তায় ডুবে যাবে।

তাই উপায় হলো সঞ্চয় করা।

কিন্তু কিভাবে সঞ্চয় করবেন সেটারই কিছু টিপস এখানে দেয়া হলো-

১. লক্ষ্য ঠিক করুন – কেন সঞ্চয় করবেন?

আপনার কি ভবিষ্যতে একটি বাড়ি দরকার? সন্তানদের জন্য শিক্ষা? জরুরি চিকিৎসা? নাকি একটু নিশ্চিন্ত জীবন? এই লক্ষ্য থাকলে সঞ্চয় হবে অর্থবহ। কারণ, “যার লক্ষ্য নেই, তার সঞ্চয়ও নেই।”

২. আগে সঞ্চয়, পরে খরচ” নিয়মে চলুন:

বেতন পেলেই প্রথমেই একটা নির্দিষ্ট অংশ (ধরুন ১৫%) আলাদা করে রাখুন সঞ্চয়ের জন্য। বাকি দিয়ে খরচ করুন। উল্টোটা করলে কিছুই থাকবে না।

৩. অপ্রয়োজনীয় খরচ কেটে ফেলুন:

প্রতিদিনের অর্ডার করা খাবার, অব্যবহৃত সাবস্ক্রিপশন, অহেতুক কেনাকাটা—এই খরচগুলো আস্তে আস্তে আপনাকে দেউলিয়া করে ফেলে। কারণ, প্রয়োজন নয়, লোভই বেশিরভাগ খরচের কারণ।”

৪. জরুরি তহবিল তৈরি করুন (Emergency Fund):

জীবনে হঠাৎ অসুস্থতা, চাকরি হারানো বা কোনো বিপদ এলেই এই ফান্ড হবে আপনার নিরাপত্তা। অন্তত ৩-৬ মাসের খরচ জমিয়ে রাখুন।

৫. ডিপিএস/সঞ্চয়পত্র চালু করুন:

এই প্ল্যানগুলো সঞ্চয়কে নিয়মিত রাখে। মাসে অল্প অল্প করে জমিয়ে রাখলে একদিন তা বড় হয়ে দাঁড়ায়। কারণ, ধৈর্যের সঞ্চয়ই বড় ফল দেয়।

৬. খরচের হিসাব রাখুন – টাকা কোথায় যাচ্ছে?

একটা খাতা বা অ্যাপ ব্যবহার করুন। প্রতিদিন কত টাকা কোথায় খরচ করছেন তা লিখে রাখলে মনের অজান্তে অপচয় কমে যাবে।

৭. ক্যাশলেস অভ্যাস গড়ুন – কিন্তু সীমা মেনে:

কার্ড বা মোবাইল পেমেন্ট অনেক সুবিধাজনক, কিন্তু সাথে লোভের ফাঁদও। তাই ডিজিটাল ব্যবহার করুন, কিন্তু সীমাবদ্ধ বাজেটের মধ্যে।

৮. ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন:

প্রথমে ৫০০ টাকা, তারপর ১০০০, এরপর ২০০০… এভাবে বাড়িয়ে নিন। সঞ্চয় কখনো হঠাৎ বড় হয় না—ধীরে ধীরে অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়।

৯. বাড়তি আয়ের পথ খুঁজুন এবং তা সঞ্চয় করুন:

ফ্রিল্যান্সিং, পার্টটাইম, অনলাইন সেল—এই বাড়তি আয় পুরোপুরি সঞ্চয়ে রাখতে পারেন। এতে আপনার মূল আয় চাপমুক্ত থাকবে।

১০. নিজেকে মাঝে মাঝে পুরস্কার দিন, কিন্তু সঞ্চয়ের ক্ষতি নয়:

সঞ্চয় মানে সব আনন্দ ছেড়ে দেয়া নয়। একটি নির্দিষ্ট বাজেট রেখে মাঝে মাঝে নিজের জন্য ছোট আনন্দ রাখুন—এতে অভ্যাস ভাঙে না।

সব শেষ কথা কথা হলো, জীবনের প্রতিটি ধাপেই টাকা দরকার। কিন্তু টাকা শুধু আয় করলেই হবে না, সঞ্চয় করাই আসল বুদ্ধিমত্তা। যিনি কম আয় করেও সঞ্চয় করতে পারেন, তিনি সত্যিকারের নিরাপদ মানুষ। কারণ, “ভবিষ্যতের জন্য যিনি আজ থেকেই ভাবেন, তিনিই আগামীতে সবচেয়ে নিশ্চিন্ত থাকেন।”

জয় ই মামুন

মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

জয় ই মামুন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
মানিকগঞ্জে অবৈধভাবে ইট উৎপাদনের দায়ে সাতটি ইটভাটাকে জরিমানা

সোমবার (৩০ মার্চ) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের মাটি কেটে ইট তৈরির অভিযোগে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০১৯-এর ৫(১) ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ১৫(১) ধারা অনুযায়ী এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানে যেসব ইটভাটাকে জরিমানা করা হয়েছে সেগুলো হলো- কে এফ সি ব্রিকস (বেরুন্ডি) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স সোহানা ব্রিকস (খোলাপাড়া) ৪ লাখ টাকা, মেসার্স এ এ বি অ্যান্ড কোং (গাড়াদিয়া) ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মেসার্স জে বি সি ব্রিকস (গোবিন্দল) ২ লাখ টাকা, মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-১ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা,
মেসার্স কে বি সি ব্রিকস-২ (রামকান্তপুর) ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং মেসার্স এম আর এম ব্রিকস (রামকান্তপুর) ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অভিযানটি পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাজ্জাদ জাহিদ রাতুল। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা। প্রসিকিউটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী পরিচালক মো. মোজাফফর খান।

অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় র‍্যাব-৪ ও জেলা পুলিশের সদস্যরা সহায়তা প্রদান করেন।

পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

নিয়মিত এ ধরনের অভিযান পরিচালিত হলে পরিবেশ ধ্বংস রোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিস্টরা।

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী

জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

সামিনুর ইসলাম নীলফামারী প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৩ পিএম
জলঢাকায় শিক্ষার্থী হত্যার বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার বগুলাগাড়ী পৌর (৪নং ওয়ার্ড) ডাঙ্গপাড়া এলাকায় সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় মানববন্ধন করেছে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

নিহত মিমনুর রহমান ভ্যানচালক আলমগীর হোসেন (আল্লীর) প্রথম পুত্র এবং বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ মার্চ তিনি ছিনতাইকারীদের হামলার শিকার হয়ে নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উদ্বেগ, শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ মর্মান্তিক ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের উদ্যোগে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে ব্যানার হাতে নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা ন্যায়বিচারের দাবি জানান। এসময় উপস্থিত ছিলেন বগুলাগাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষিকা মোছা: মনোয়ারা বেগম, সহকারী প্রধান শিক্ষক মহুবর রহমান, শিক্ষক আব্দুল হাই, মিজানুর রহমান, স্বপন কুমার রায়, ভগীরথ চন্দ্র রায় এবং সহকারী শিক্ষিকা সাজেদা সুলতানা ও শিলা রানী রায়সহ অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একজন নিরপরাধ শিক্ষার্থীর এমন নির্মম মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা অবিলম্বে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একইসঙ্গে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি জোরদার করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা যায়।

এ বিষয়ে জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। বিষয়টি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। খুব শিগগিরই জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এদিকে, নিহতের পরিবার শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে এবং দ্রুত বিচার প্রত্যাশা করছে। পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, যাতে এমন ঘটনা আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে চারতলা ভবন

আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

মেহেদী হাসান রিপন প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১১ পিএম
আধুনিক হচ্ছে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা

যশোরবাসীর পুলিশি সেবা আরও বেগবান ও আধুনিক করতে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগে হাত দিয়েছে সরকার। শহরের জরাজীর্ণ কোতোয়ালি মডেল থানা ভবনটি ভেঙে সেখানে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক চারতলা ভবন নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

ষাট দশকে নির্মিত বর্তমান থানা ভবনটি দীর্ঘ ব্যবহারের ফলে বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সরকারের দেশব্যাপী ১০৭টি থানা আধুনিকায়ন প্রকল্পের আওতায় এই সংস্কার কাজ শুরু হচ্ছে। যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে।

যশোর গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন এই ভবনটি নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ কোটি ৭২ লাখ টাকা। ২৬ হাজার স্কয়ার ফিটের এই ভবনের মূল কাঠামো বা ফাউন্ডেশন হবে ছয়তলা পর্যন্ত, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি চারতলা হিসেবে নির্মিত হবে। ঝিনাইদহের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি সম্পন্ন করার দায়িত্ব পেয়েছে। আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে নির্মাণ কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সেবাপ্রার্থী এবং পুলিশ সদস্যদের সুবিধার্থে ভবনের প্রতিটি তলা সুনিপুণভাবে সাজানো হয়েছে:
* প্রথম তলা: অভ্যর্থনা কেন্দ্র এবং দাপ্তরিক অফিস।
* দ্বিতীয় তলা: হাজতখানা ও প্রশাসনিক শাখা।
* তৃতীয় তলা: অফিস এবং নারী পুলিশ সদস্যদের জন্য ব্যারাক।
* চতুর্থ তলা: পুরুষ পুলিশ সদস্যদের জন্য আধুনিক ব্যারাক।

অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম চলবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়িতে

নির্মাণ কাজ চলাকালীন জনসেবা যেন ব্যাহত না হয়, সেজন্য থানার যাবতীয় কার্যক্রম সাময়িকভাবে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে পরিচালিত হবে। আগামী ৫ এপ্রিলের মধ্যে বর্তমান ভবনটি খালি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে জনবল অনুযায়ী চাঁচড়া ফাঁড়িতে পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় পুলিশ সদস্যদের সাময়িকভাবে কিছুটা আবাসন সংকটে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান বলেন, উন্নত ও আধুনিক পুলিশি সেবার স্বার্থে এই সাময়িক কষ্টটুকু মেনে নিতে হবে। নতুন ভবন নির্মিত হলে যশোরবাসীকে সেবা প্রদানের মান ও পুলিশের সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

error: Content is protected !!