শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২
শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২

বাংলাদেশের রাজনীতিঃ

আওয়ামী-ফ্যাসিবাদ কায়েমে জাতীয় পার্টির ভূমিকা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ মে, ২০২৫, ১২:২৪ পিএম | 633 বার পড়া হয়েছে
আওয়ামী-ফ্যাসিবাদ কায়েমে জাতীয় পার্টির ভূমিকা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস সর্বদাই দ্বন্দ্ব, সংগ্রাম ও ক্ষমতার পুনঃবন্টনের এক নাট্যশালা। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকে শুরু করে সামরিক শাসন, গণআন্দোলন, নির্বাচন-কেন্দ্রিক সংঘাত — প্রতিটি ধাপেই দেশটির রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো না কোনোভাবে চ্যালেঞ্জের মুখামুখি হয়েছে। কিন্তু বিগত কয়েক দশকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে পরিবর্তনটি সবচেয়ে গভীর এবং আলোচিত হয়ে উঠেছে, তা হলো ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ববাদী শাসনের ধারা, যাকে অনেক বিশ্লেষক ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদ’ বলে অভিহিত করছেন। এ ফ্যাসিবাদ শুধু প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দমন নয়, বরং একটি রাজনৈতিক জোট-প্রক্রিয়াও বটে যেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। এবার বিশ্লেষণ করা যাক, কীভাবে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের এই ফ্যাসিবাদী প্রকল্প বাস্তবায়নে সক্রিয় বা নীরব সহযোগী হয়েছিল এবং এর রাজনৈতিক-গণতান্ত্রিক পরিণতিই বা এখন কেমন।
জাতীয় পার্টির রাজনৈতিক উৎপত্তি এক সামরিক শাসকের হাত ধরে— হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে। বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর এরশাদ ১৯৮২ সালে সামরিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করে ১৯৮৬ সালে ‘গণতন্ত্রের ফিরিস্তি’ দিতে গিয়ে জাতীয় পার্টি গঠন করেন। তার শাসনামল ছিল একদিকে আমলাতান্ত্রিক উন্নয়নের প্রচার, অন্যদিকে রাজনৈতিক বিরোধী কণ্ঠ দমন এবং সংবাদমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণে এক নিপীড়নমূলক কাঠামো। ১৯৯০ সালের গণআন্দোলনের ফলে এরশাদের পতন হলেও জাতীয় পার্টি রাজনৈতিকভাবে নির্মূল হয়নি; বরং একটি মধ্যম পন্থী ‘কিংস পার্টি’র ভূমিকা পালনের মাধ্যমে বারবার ক্ষমতার কাছে থেকে গেছে। ২০০৮ সালের পর থেকে তাদের এই ভূমিকাই আবার নতুন মাত্রা লাভ করে।
২০০৮ সালের নির্বাচন আওয়ামী লীগের জন্য ছিল একটি পুনর্জন্মের সুযোগ, যেখানে দলটি দু-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসে। এরপর থেকে দেশের রাজনৈতিক চেহারাই পাল্টে যায়। একদিকে ছিল যুদ্ধাপরাধের বিচার, ডিজিটাল বাংলাদেশ নির্মাণ, সুশাসনের প্রতিশ্রুতি; অন্যদিকে শুরু হয় বিরোধী দল দমন, মিথ্যা মামলা, গুম-খুন, বিরুদ্ধ মতের ওপর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ। অনেক বিশ্লেষক এই সময়কালকে ‘নতুন কর্তৃত্ববাদ’ বা ‘হাইব্রিড রেজিম’ নামে অভিহিত করেছেন। বিশেষ করে Freedom House, Economist Intelligence Unit, এবং V-Dem Institute- এর মতামত অনুসারে, বাংলাদেশ তখন অনেকাংশে স্বৈরাচারী রাষ্ট্রের সূচকে অবস্থান করছিল।
এই পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় পার্টির ভূমিকা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ল শ্রেণির মতো। ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচন ছিল একটি মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত। বিএনপিসহ অধিকাংশ দল সেই নির্বাচনে অংশ না নিলে নির্বাচনের গণতান্ত্রিক বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। অথচ জাতীয় পার্টি শেষ পর্যন্ত অংশ নেয়, এমনকি তাদের অনেকে একদিকে বিরোধী দল হিসেবে সংসদে জায়গা করে নেয়, আবার অন্যদিকে মন্ত্রিসভায় শপথ নেয়। এটি ছিল একটি অভিনব রাজনৈতিক নাটক— যেখানে একটি দল সরকারেও আছে, আবার বিরোধী দল হিসেবেও সংসদে বিরাজ করছে। এই দ্বৈত ভূমিকা রাজনৈতিক বিজ্ঞানী Giovanni Sartori- এর “pseudo-opposition” বা ছদ্ম বিরোধী দলের ধারণার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ।
জাতীয় পার্টির এই দ্বৈত নীতি কেবল মাত্র রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনের জন্য নয়, বরং এক গভীর রাজনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। এ ধরনের ‘অনুগত বিরোধী দল’ রাখার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ নিজের কর্তৃত্বকে চ্যালেঞ্জহীন করতে পেরেছিল। কারণ, প্রকৃত বিরোধী দল গঠনে যেখানে প্রয়োজন হয় আদর্শ, আন্দোলন, ত্যাগ ও নেতৃত্ব, সেখানে জাতীয় পার্টি ছিল ‘কার্যকর নিরপেক্ষতা’র প্রতীক— যা ক্ষমতাসীন দলের জন্য আদর্শ বিরোধী কাঠামো।
একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের সংসদীয় কার্যক্রমে জাতীয় পার্টির বক্তব্যের ৮০ শতাংশই ছিল সরকারপন্থী। তাদের বক্তৃতায় সরকারের সমালোচনার চেয়ে সরকারের প্রশংসাই বেশি দেখা গেছে। অন্যদিকে সংসদে বিএনপি বা অন্যান্য বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে সংসদ কার্যত একমুখী হয়ে পড়ে। রাজনৈতিক বিজ্ঞানের ভাষায় এটি ছিল ‘rubber-stamp parliament’— যেখানে সংসদীয় গণতন্ত্রের মৌলিক চেতনাই হারিয়ে যায়।
জাতীয় পার্টির ভূমিকার আরেকটি দিক হলো রাজনৈতিক পরিসরে বিকল্প শক্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। তারা অনেক সময় বিরোধী দলীয় রাজনীতির নামে একটি ‘ভয়ের পরিবেশ’ তৈরি করে, যাতে করে জনগণের আসল বিরোধী শক্তির প্রতি আগ্রহ বা আস্থা তৈরি না হয়। জাতীয় পার্টির মধ্যে দিয়ে বিরোধী রাজনীতিকে ‘institutionalize’ করার এই কৌশলটি মূলত ক্ষমতাসীনদের ফ্যাসিবাদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই কার্যকর হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ধ্বংস করেছে। রাজনীতি এখন আর জনগণের অধিকার আদায়ের হাতিয়ার নয়, বরং হয়ে উঠেছে একটি সুবিধাভোগী শ্রেণির মধ্যে ক্ষমতা ভাগাভাগির মাধ্যম। জাতীয় পার্টির মতো দলগুলো যখন এই কাঠামোর অংশ হয়ে পড়ে, তখন রাজনীতিতে মতবিনিময়ের জায়গা সংকুচিত হয়, গণতন্ত্র হয় একমুখী এবং বিরোধী কণ্ঠ হয় প্রহসনের অংশ।
এই প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো— জাতীয় পার্টি আদৌ কি বিরোধী দল? তারা কি সরকারবিরোধী কোনো গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে? তারা কি সংসদে সরকারের নীতির বিরোধিতা করেছে? কিংবা তারা কি কখনো জনগণের মৌলিক অধিকারের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে? উত্তর হলো— না। বরং তারা বরাবরই একটি ঘূর্ণায়মান দরজার মতো, যা সরকারের চাহিদা অনুযায়ী কখনো বিরোধী দলের ছদ্মবেশ নেয়, কখনো সরকারে অন্তর্ভুক্ত হয়।
উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করলে দেখা যায়, গণতন্ত্রের জন্য শুধুমাত্র নির্বাচনই যথেষ্ট নয়। প্রাতিষ্ঠানিক শক্তি, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শক্তিশালী বিরোধী দল ও মিডিয়া— এসবই গণতান্ত্রিক কাঠামোর ভিত্তি। কিন্তু জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার এই ছদ্ম বিরোধী সম্পর্ক রাজনৈতিক ভারসাম্যকে দুর্বল করেছে, বিরোধী কণ্ঠকে বিকল করেছে, এবং দেশের রাজনৈতিক পরিসরকে সংকুচিত করে একটি প্রহসনমূলক গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে।
পরিশেষে বলা যায়, ‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদ’ কায়েমের অভিযানে জাতীয় পার্টির ভূমিকাকে নিছক সহযোগিতা বলা যাবে না। বরং এটি ছিল একটি পূর্বপরিকল্পিত ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব। এই অংশগ্রহণ গণতন্ত্রের জন্য এক ধরনের ব্যাধি, যা দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তাইতো, আজ জাতীয় পার্টি পল্লী বন্ধুর স্থলে বাংলাদেশের শত্রুতে পরিনত হয়েছে। বাংলাদেশের সকল রাজনৈতিক দলের জাপার এহেন করুন অবস্থা থেকে শিক্ষা নেয়া উচিত।

পীরগঞ্জে আকস্মিক বৃষ্টিতে কৃষকের ফসল নষ্ট

মো. আরফান আলী : প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩৬ পিএম
পীরগঞ্জে আকস্মিক বৃষ্টিতে কৃষকের ফসল নষ্ট

ঠাকূরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় ১২ ও ১৩ মার্চ রাত্রে টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে কৃষকের স্বপ্ন ভেসে গেছে পানিতে। মাঠজুড়ে সবুজ ফসল এখন বৃষ্টির পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক কৃষকের পরিশ্রম ও আশা মুহূর্তেই ক্ষতির মুখে পড়েছে। ভারাক্রান্ত কৃষক কোন কূল কিনারা না পেয়ে হতাশ, জীবন ধারণের সম্বল টুকু হারিয়ে নিঃস্ব ক্ষুদ্র কৃষকগণ। তিমটি ফসল গম, ভূট্রা আলু বৃষ্টিতে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

প্রাকৃতিক এই দূর্যোগে কৃষকের ক্ষতি অপূরণীয় হলেও সবাই আশা করছেন দ্রুত পানি নেমে যাবে এবং আবার নোতুন করে ঘুরে দাঁড়াবে কৃষকের জীবন ও কৃষি। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে কোন দূর্যোগ পূর্বাভাস প্রদান করা হয় নি। পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রণয়ন করে প্রণোদনা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে বাংলাদেশ পল্লী ফেডারেশন নির্বাহী পরিচালক কবি ও সাংবাদিক জানান, সরকার চাইলে প্রাকৃতিক দূর্যোগের জন্য কৃষি বীমা চালু করেলে কিছুটা ক্ষুদ্র কৃষকের ক্ষতিপূরণ দেওয়া যেতে পারে।

উখিয়ার শাহকামাল চৌধুরী শ্রেষ্ঠ জনসেবকের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তর

সিরাজুল কবির বুলবুল উখিয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩৪ পিএম
উখিয়ার শাহকামাল চৌধুরী শ্রেষ্ঠ জনসেবকের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তর

উখিয়া উপজেলা রাজাপালং ইউনিয়নের

চারবারের নির্বাচিত সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহকামাল চৌধুরী জনসেবকের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তর। ১৯৫৬ সালে রাজাপালং ইউনিয়নের সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে জন্ম এই ক্ষণজন্মা সাহসী মানবিক ন্যায়বিচারকের। পিতা প্রয়াত আবুল কাশেম চৌধুরী রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন পিতার মৃত্যুপর তারই আপন সহোদর উখিয়া টেকনাফের রাজনৈতিক ইতিহাসের জীবন্ত কিংবদন্তি ৫ বারে নির্বাচিত জাতীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী
রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তী শাহজাহান চৌধুরী জাতীয় রাজনীতিতে জড়িয়ে যায় উখিয়া টেকনাফ থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
বড় ভাইয়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে রাজনীতি ও সমাজ সেবায় যুক্ত হন শাহকামাল চৌধুরী। ১৯৯০ ইংরেজিতে
বিপুল ভোটের ব্যবধানে তিনি প্রথমবারে মতো রাজাপালং ইউনিয়নে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এর পর থেকে আর থেমে থাকেনি রাজাপালং এর রাজপুত্র শাহকামাল চৌধুরী
মানুষের প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে গিয়ে
একে,একে ৪ বার রাজাপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি।
১৯৯০,১৯৯৪,১৯৯৯,২০০৪ একটানা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে উখিয়া উপজেলা জেলা তথা কক্সবাজার জেলায় চমক লাগিয়ে দেন এই ক্ষণজন্মা মানবসেবক শিক্ষাবিদ শাহকামাল চৌধুরী। তিনি একাধারে ৩/৪ বার উখিয়া উপজেলা বি এন পির নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন জাতীয়তাবাদীর রাজনৈতিক অঙ্গনের তার ভূমিকা ছিলো অগ্রগণ্য ও দৃষ্টিনন্দন।
মানুষের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করা ছিলো তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
তার শাসন আমলে ছিলোনা রাজাপালং ইউনিয়নের দুর্নীতির লেশমাত্র অবিসংবাদিত এই জননেতা
নিজের জীবনকে তুচ্ছ করে দলের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে গেছেন। স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে আপোষহীন এই নেতার ভুমিকা ছিলো অগ্রগণ্য ও চোখে পড়ার মতো
রাজনৈতিক আদর্শকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে রাজপথে হাজার জনতার মিছিলে সামনের সারিতে থাকতেন বিদ্যুৎসাহী এই নেতা।
একদিন স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে হাজার জনতার কাতারে মিছিলে অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে গিয়ে স্বৈরশাসকের লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীর কিরিচের আঘাতে প্রায় দ্বিখন্ডিত হয়ে গিয়েছিল শাহকামাল চৌধুরী সাবলীল হাত!
মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে লড়তে তিনি আল্লাহ অশেষ মহিমায় বেঁচে যান তার মতো দলের জন্য এতোবড় ত্যাগ উখিয়াতে উচ্চপদস্থ আর কোন বিএনপি নেতার আছে বলে আমার জানানেই।
নিজের কর্মদক্ষতায় তিনি নিজে ছাড়িয়ে গেছেন উখিয়ার সমাজসেবা অঙ্গনে শ্রেষ্ঠ হয়ে ওঠেন দ্রুত সময়ের মধ্যে । ১৯৯৩ সালে সমাজ সেবায় বিশেষ অবদানের জন্য চট্টগ্রাম বিভাগের শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। সরকার পুরুষ্কার হিসেবে স্বর্ণপদক প্রদান করেন শাহকামাল চৌধুরীকে। তারই সুবাদে রাষ্ট্রীয় খরচে তিনি হংকং, ফিলিপাইন, ব্যাংকক সফর করেন।
২০০৪ সালে সমাজ সেবায় উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য
“সমাজ সেবা ফেডারেশন ” কতৃক “মাদার তেরেসা “পুরুষ্কারে ভূষিত হন।
এই ছাড়াও তিনি সঠিক ভাবে জন্ম নিবন্ধ প্রক্রিয়া সম্পাদন করতে পারায় কক্সবাজার জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
বহুগুণে গুনান্বিত এই সমাজসেবক ও শিক্ষাবিদ তার একান্ত প্রচেষ্টায় ১৯৯৩ সালে আবুল কাশেম নুরজাহান চৌধুরী উচ্চবিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন
যেটি আজ উখিয়া উপজেলার গন্ডি পেরিয়ে সারা বাংলাদেশে পরিচিত অর্জন করেছে বিভিন্ন ক্ষেত্র।
এছাড়াও তিনি রাজাপালং ইউনিয়নের হরিমারায় ” মোহসিন আলী রেজিস্ট্রার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যায়ল ও প্রতিষ্ঠা করেন।
জীবন অন্তিম মুহূর্তে এই ক্ষণজন্মা সাহসী ও মানবিক চেয়ারম্যান বর্তমানে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় শুয়ে আছেন ইচ্ছে আর ছুটে যেতে পারেনা মানবসেবায় তাই তিনি পরিচিতজন দেখলে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে থাকেন আর আফসোস করেন আল্লাহ তুমি আমাকে এমন কেন করেদিলে আমাকে আবার সুস্থ করে দাও মানুষকে আরও একবার সেবা করার সুযোগ দাও এই শব্দ গুলো মনে মনে বলতে বলতে চোখের পানিতে বুকভিজেয়ে পেলেন।
এই বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী মানুষ শাহকামাল চৌধুরীর যথাযথ মুল্যায়ন করা এখন লক্ষপ্রাণের দাবি। রাষ্ট্রীয় কত বড় বড় দিবস পালন করা হয় হৈচৈ করে অথচ এই ক্ষণজন্মা মানবসেকদের একটু সম্মান দেওয়ার জন্য কেউ ডাকেনা। এটা কি অবহেলা নাকি প্রশাসনের ইচ্ছেকৃত গাফিলতি নাকি অদূরদর্শীতা দুর্দান্ত পরিচয়
একজন জাতীর বিবেক হিসেবে প্রশ্ন রেখে গেলাম।

ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ(এফডিইবি)ময়মনসিংহ জেলা শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

মোঃ সুমন মিয়া :স্টাফ রিপোর্টার। প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩০ পিএম
ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ(এফডিইবি)ময়মনসিংহ জেলা শাখার উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

ফোরাম অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ(এফডিইবি)ময়মনসিংহ জেলা শাখার উদ্যোগে রমজানের তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,,,
জনাব আব্দুল করিম
প্রধান উপদেষ্টা, এফডিইবি ময়মনসিংহ জেলা।
বিশেষ অতিথিঃ
১. ইন্জিঃ দেলোয়ার হোসেন সাঈদি, সভাপতি, এফডিইবি, ময়মনসিংহ মহানগর।
2. জনাব, ছাইফ উল্লাহ পাঠান ফজলু, উপদেষ্টা, ভালুকা উপজেলা শাখা।

ইফতার পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন,পবিত্র রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়া অর্জনের মাস। এ মাস মানুষের মধ্যে ধৈর্য, সহমর্মিতা ও মানবিকতা জাগ্রত করে। রোজা মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং অন্যের কষ্ট ও দুঃখ উপলব্ধি করতে শেখায়। তাই রমজানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সমাজে ন্যায়-নীতি, সততা ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানান বক্তারা।
এই শাখার উদ্যোগে “মাহে রমজানের মহিমা ও তাৎপর্য শীর্ষক আলোচনা সভা, দোয়া ও ইফতার মাহফিল” অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৩ মার্চ) বিকাল ৫টায় ময়মনসিংহের ভালুকায় অবস্থিত হোটেল সেভেন ইস্টারে।

এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, রমজান হচ্ছে আত্মশুদ্ধি, তাকওয়া অর্জন ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের মাস। এই মাস আমাদেরকে সংযম, ত্যাগ ও ধৈর্যের শিক্ষা দেয়। তিনি বলেন, রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারলে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি ইসলামী আদর্শের আলোকে সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এ সময় বক্তারা বলেন, রমজান মানুষকে আল্লাহভীতি ও নৈতিকতার শিক্ষা দেয়। এই মাসে কোরআন তিলাওয়াত, দান-সদকা ও ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে হব।
পরিশেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। পরে উপস্থিত অতিথি ও মুসল্লিদের সম্মানে ইফতার পরিবেশন করা হয়।

error: Content is protected !!