সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

নাট্যোৎসব বন্ধের কারণ জানালেন ফারুকী

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৩:৫৭ পিএম | 98 বার পড়া হয়েছে
নাট্যোৎসব বন্ধের কারণ জানালেন ফারুকী

ঢাকা মহানগর নাট্যোৎসব ‘হুমকির মুখে’ স্থগিত হওয়ার পর সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বললেন, নাট্যকর্মীদের ‘বিক্ষুব্ধ একটি অংশের’ দাবির পরিপ্রেক্ষিতিই মহিলা সমিতি থেকে উৎসবের ভেন্যু বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে।

রোববার সকালে এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি বলেন, নাট্যকর্মীদের ‘বিক্ষুব্ধ’ অংশটি উৎসবের বিরোধিতা করে হল বরাদ্দ বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল বেশ কিছুদিন ধরে।

তাদের পরিচয় না লিখে ‘মব’ বলে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য কী– উৎসব আয়োজকদের দিকে এমন প্রশ্নও ছুঁড়েছেন উপদেষ্টা।

অন্যদিকে উৎসব আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা উপদেষ্টার কাছেই বিরোধিতাকারীদের নাম জানতে চেয়েছেন। তাদের প্রশ্ন, নাট্যকর্মীদের মধ্যে কারা উৎসব বন্ধ করতে চাইল?

সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরও শনিবার ‘একদল ব্যক্তির হুমকির মুখে’ স্থগিত হয় ‘ঢাকা মহানগর নাট্যোৎসব’।

নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে উৎসব স্থগিতে বাধ্য হওয়ার কথা বলেন ঢাকা মহানগর নাট্য পর্ষদের আহ্বায়ক ঠান্ডু রায়হান।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।

তার পরদিন উপদেষ্টা ফারুকী তার ফেইসবুক পোস্টে বলেন, “নাট্য উৎসব বন্ধের খবরটা দেখে আমরা কাল সন্ধ্যা থেকেই খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করি। কারণ সরকার শিল্পকলার মাধ্যমে সারাদেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছড়িয়ে দিতে উৎসাহ দিচ্ছে, গতকালও শিল্পকলায় তিনটা প্রদর্শনী হল। আজকেও প্রাচ্যনাটের শো আছে শিল্পকলায়। তাহলে এখানে কেনো পুলিশ উৎসব বন্ধ করতে বলবে?

“খোঁজ নিয়ে জানলাম, পুলিশ এইরকম কিছুই বলেনি। কালকে রাতেই বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তারা কাউকে উৎসব বন্ধ করতে বলেনি। বরং তারা নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত। তাহলে?

সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলছেন, এ বিষয়ে দ্রুত অনুসন্ধান থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, নাট্যকর্মীদের মধ্যেই একটা অংশ এই উৎসবের বিরোধিতা করে মহিলা সমিতি কর্তৃপক্ষের কাছে হল বরাদ্দ বাতিলের জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছে বেশ কিছুদিন ধরে।

বিক্ষুব্ধ নাট্যকর্মীদের দাবি, এই উৎসবের আড়ালে জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতা হত্যায় বিবৃতি দিয়ে উসকানি দেওয়া কিছু ব্যক্তি বা তাদের গোত্রীয় কিছু মানুষ সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তারা দাবি জানায়, জুলাইয়ে তাদের ভূমিকার জন্য বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আগে কোনো পূনর্বাসন চলবে না। অবশেষে কালকে মহিলা সমিতি বরাদ্দ বাতিল করে।

কিন্তু আয়োজকরা বিবৃতিতে সেসব কিছু লেখেননি মন্তব্য করে

ফারুকী বলেন, “এইসব কিছু না বলে কৌশলে প্রথমে পুলিশের কাঁধে দোষ চাপানোর চেষ্টা করল এবং বিবৃতির শেষে বলল- মবের কারণে উৎসব বাতিল করতে হল।

তারা তো জানেই কারা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। তাদের পরিচয় না লিখে মব বলে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য কি একটা বিশেষ ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা করা? বা কেন ওই বিক্ষুব্ধ নাট্যকর্মীরা প্রতিবাদ করছে তারা জানে। কিন্তু সেটাও তারা বিবৃতিতে উল্লেখ না করা কি ওই বিশেষ ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা কিনা সেটা সবাই ভেবে দেখতে পারেন।

ফারুকী প্রশ্ন তোলেন, জুলাইয়ে তাদের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে এখনো কি একবারও ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেছে তারা?

সংস্কৃতি উপদেষ্টার এমন বক্তব্যের পর ঢাকা মহানগর নাট্য পর্ষদের সদস্য-সচিব কামাল আহমেদ বলেন, নাট্যকর্মীদের মধ্যে কারা এই উৎসবের বিরোধিতা করছেন, তা তো আমাদের জানা নেই। মহিলা সমিতি কর্তৃপক্ষকে গিয়ে কারা আমাদেরকে হল বরাদ্দ না দিতে হুমকি দিয়েছেন, তা তো আমরা জানি না।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা যেহেতু অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছেন যে নাট্যকর্মীদের একটি অংশই বিরোধিতা করছে, তাহলে তিনি সেই নামগুলো সবাইকে জানাবেন বলে আশা করছি।

কামাল আহমেদ বলেন, “পুলিশ থেকে উৎসব বন্ধ করতে না বললে মহিলা সমিতি আমাদেরকে বরাদ্দ দেওয়া মিলনায়তন কেন বাতিল করল? উপদেষ্টার উচিত মহিলা সমিতিকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া এবং আমাদেরকে যেন মিলনায়তন বরাদ্দ দেওয়া হয়। আমরা উৎসবটা করতে চাই।

এই উৎসবে ৮৫টি নাট্যদল অংশ নেবে, যার প্রথম পর্যায়ে ১৪টি নাট্যদলের নাটকের প্রদর্শনী হচ্ছে। যে নাটকগুলো নিয়ে এই উৎসব, এই নাটকগুলো অনেক দিন ধরেই মঞ্চে হচ্ছে। জুলাইয়ের পট-পরিবর্তনের পরও নাটকগুলো হচ্ছে, তাহলে এই নাটক নিয়ে কারা আপত্তি তুলছেন? তাদের নাম উপদেষ্টা জনসম্মুখে আনুক।

শনিবার বিকাল ৫টায় ঢাকার নাটক সরণির মহিলা সমিতি মিলনায়তনে এই উৎসব উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। সন্ধ্যায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ মঞ্চস্থ হওয়ার কথা ছিল। উৎসবের তিনটি পর্যায়ে একটি করে নাটক মঞ্চস্থ করার কথা ছিল ৮৫টি নাট্যদলের।

আয়োজকরা বলছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় মহিলা সমিতিতে কিছু লোক এসে উৎসব নিয়ে আপত্তি তোলে। উৎসব হলে হামলা করারও হুমকি দেয় তারা।

কামাল আহমেদ বলেন, “শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমাদের জানান যে, রমনা থানা থেকে ফোনে নাট্যোৎসব বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

উৎসবের জন্য পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে কামাল আহমেদ বলেন, “মিলনায়তনে আমরা যে নাটকের প্রদর্শনী করি, তার জন্য তো পুলিশ থেকে অনুমতি নেওয়া হয় না। এখানে তো বিদেশি নাট্যদলের অংশগ্রহণও নাই।

“যে দলের নাটকের শো হবে, তারা তো নিয়মিতই নাটকের প্রদর্শনী করছে। এ ধরনের আয়োজনের জন্য পুলিশ বা সরকারের কোনো অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।”

থানায় আলোচনার পর পুলিশ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিলে নিরাপত্তা সহযোগিতা চেয়ে একটি আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয় বলে জানান কামাল।

কিন্তু থানার ওই বৈঠকের খবর পেয়ে ‘উত্তেজিত কিছু লোক’ এসে মহিলা সমিতি প্রাঙ্গণে উৎসবের সাজসজ্জা খুলে ফেলে বলে আয়োজকদের ভাষ্য।

কারা ওই হুমকি দিয়েছে, তারা পরিচয় দিয়েছে কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে উৎসব উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব কামাল শনিবার বলেছিলেন, “বিগত দিনেও একটি নাট্যদলের নাটক বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শো-এর মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং এর প্রতিবাদে নাট্যকর্মীরা যখন সমাবেশ করছিল; তখন নাট্যজন মামুনুর রশীদসহ উপস্থিত নাট্যকর্মীদের উপর যারা হামলা করেছিল, আজকের ঘটনা তারই পুনরাবৃত্তি বলে আমরা মনে করি।”

ঘটনার বিষয়ে জানতে মহিলা সমিতির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে তারা কেউ নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শনিবার রাতে ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস) মুহাম্মদ তালেবুর রহমানের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে নাট্যোৎসব বন্ধ করা বা স্থগিত করার ব্যাপারে কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

শহিদুল ইসলাম

নানিয়ারচর জোন কর্তৃক ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঈদ উপহার ও আর্থিক অনুদান প্রদান

শহিদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
নানিয়ারচর জোন কর্তৃক ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঈদ উপহার ও আর্থিক অনুদান প্রদান

রাঙ্গামাটি নানিয়ারচর উপ‌জেলায় ১৬ মার্চ ২০২৬, সোমবার নানিয়ারচর সেনা জোন (১৭ ই বেংগল) এর উদ্যোগে জোনের আওতাধীন এলাকার ৪১ মুসলিম পরিবারের মাঝে ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ উপলক্ষে ঈদ উপহার সামগ্রী, ঈদ পোষাক এবং আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

উক্ত কর্মসূচিতে নানিয়ারচর সেনা জোনের জোন কমান্ডার বিএ-৭৯০০ লেঃ কর্নেল মোঃ মশিউর রহমান, পিএসসি এবং বিএ-৮২২০ মেজর শেখ মোহাম্মদ নাঈম, জোন উপ-অধিনায়ক এর উপস্থিতিতে নানিয়ারচর জোনের আওতাধীন এলাকার ৩০টি মুসলিম পরিবারকে ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঈদ উপহার সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান, ১০ জন গরীব ও অসহায় ব্যক্তিদেরকে ঈদ পোষাক হিসেবে পাঞ্জাবী এবং ০১ জন অসহায় অসুস্থ্য ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

এ সময় জোন কমান্ডার বলেন, নানিয়ারচর জোন কর্তৃক দূর্গম প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী সদস্যগণ যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদ-উল-ফিতর পালন করতে পারেন সে জন্য নানিয়ারচর সেনা জোনের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার সামগ্রী, ঈদ পোষাক এবং আর্থিক অনুদান প্রদান করা হলো। এছাড়াও, এলাকার জণসাধারণ যাতে সুষ্ঠুভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারে সে বিষয়ে জোন কর্তৃক সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণ সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগের প্রতি প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেনাবাহিনী সবসময় দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য যে, অত্র এলাকার মানুষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিঃস্বার্থ এই সহযোগীতায় অত্যন্ত আনন্দিত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা নানিয়ারচর জোন কর্তৃক অত্র এলাকার জনসাধারণের কল্যাণের জন্য বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড চলমান রয়েছে।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

বাঁশখালীতে আগুনে পুড়ে ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:১১ পিএম
বাঁশখালীতে আগুনে পুড়ে ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

চট্টগ্রামের বাঁশখালী-সাতকানিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে দুই ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লটমনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো জাহেদা আক্তার (১৪) ও আব্দুল মালেক (৩)। তারা লক্ষ্মীপুর জেলার বাসিন্দা মো. হাসান ও হালিমা আক্তারের সন্তান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লটমনি এলাকার জেএমবি ব্রিকস নামের একটি ইটভাটার পাশে পরিত্যক্ত একটি বেড়ার ঘরে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন মো. হাসান ও হালিমা আক্তার। ওই ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন হালিমা আক্তার। আর বাবা মো. হাসান অন্যত্র কাজ করতেন। ঘটনার সময় সন্তানদের ঘরে রেখে মা-বাবা দুজনই বাইরে কাজে ছিলেন।

বিকেলের কোনো এক সময় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ঘরে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে পুরো ঘরটি পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে দুই শিশু আগুনে পুড়ে মারা যায়।

বাঁশখালী থানার রামদাশহাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক তপন কুমার বাগচী বলেন, নিহত দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, দুর্গম এলাকায় হওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করতে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রবাসীদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা সংবাদদাতা প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
প্রবাসীদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

গাজী ইয়াছিন ফকির জামে মসজিদে ধর্মীয় পরিবেশে আয়োজন; সমাজের কল্যাণ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত

ফেনী সদর উপজেলার দক্ষিণ মধুয়াই ২ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত গাজী ইয়াছিন ফকির জামে মসজিদে প্রবাসীদের উদ্যোগে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আয়োজিত এই মাহফিলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক জনাব আবুল কাশেম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পবিত্র রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার মাস।

এই মাসে দোয়া, ইবাদত এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি প্রবাসীদের এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওসমান গণী। তাঁর সাবলীল উপস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়।

তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রবাসীরা দেশের বাইরে থেকেও নিজেদের শেকড় ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ ভুলে যাননি। তাদের সহযোগিতায় এ ধরনের আয়োজন সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

দোয়া ও ইফতার মাহফিলে বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সহকারী যুগ্ম মহাসচিব ও ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক জনাব মোহাম্মদ হানিফ (সাংবাদিক)।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, রমজানের এই পবিত্র সময়ে সবাইকে মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, তেমনি সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তারা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে যাচ্ছেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে মোহাম্মদ বাবর, মোহাম্মদ রাজন, ফখর লিটন এবং রিয়াজ উদিনসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

তারা সবাই এই আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ইফতার মাহফিলে মসজিদ এলাকার অসংখ্য মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন। একসঙ্গে ইফতার করার মাধ্যমে সকলের মাঝে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

উপস্থিত সবাই প্রবাসীদের এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে গাজী ইয়াছিন ফকির জামে মসজিদের ইমাম সাহেব দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং প্রবাসীদের সুস্বাস্থ্য ও সফলতা কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন।

তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন সবাইকে নেক আমল করার তৌফিক দান করা হয় এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় থাকে।

ধর্মীয় আবহে অনুষ্ঠিত এ দোয়া ও ইফতার মাহফিল এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রবাসীদের সহযোগিতায় এমন মানবিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।

তাদের বিশ্বাস, এ ধরনের আয়োজন সমাজে ঐক্য, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।

error: Content is protected !!