বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২
বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

নাট্যোৎসব বন্ধের কারণ জানালেন ফারুকী

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, ৩:৫৭ পিএম | 99 বার পড়া হয়েছে
নাট্যোৎসব বন্ধের কারণ জানালেন ফারুকী

ঢাকা মহানগর নাট্যোৎসব ‘হুমকির মুখে’ স্থগিত হওয়ার পর সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বললেন, নাট্যকর্মীদের ‘বিক্ষুব্ধ একটি অংশের’ দাবির পরিপ্রেক্ষিতিই মহিলা সমিতি থেকে উৎসবের ভেন্যু বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে।

রোববার সকালে এক ফেইসবুক পোস্টে তিনি বলেন, নাট্যকর্মীদের ‘বিক্ষুব্ধ’ অংশটি উৎসবের বিরোধিতা করে হল বরাদ্দ বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল বেশ কিছুদিন ধরে।

তাদের পরিচয় না লিখে ‘মব’ বলে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য কী– উৎসব আয়োজকদের দিকে এমন প্রশ্নও ছুঁড়েছেন উপদেষ্টা।

অন্যদিকে উৎসব আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা উপদেষ্টার কাছেই বিরোধিতাকারীদের নাম জানতে চেয়েছেন। তাদের প্রশ্ন, নাট্যকর্মীদের মধ্যে কারা উৎসব বন্ধ করতে চাইল?

সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়ার পরও শনিবার ‘একদল ব্যক্তির হুমকির মুখে’ স্থগিত হয় ‘ঢাকা মহানগর নাট্যোৎসব’।

নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে উৎসব স্থগিতে বাধ্য হওয়ার কথা বলেন ঢাকা মহানগর নাট্য পর্ষদের আহ্বায়ক ঠান্ডু রায়হান।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়; সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।

তার পরদিন উপদেষ্টা ফারুকী তার ফেইসবুক পোস্টে বলেন, “নাট্য উৎসব বন্ধের খবরটা দেখে আমরা কাল সন্ধ্যা থেকেই খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করি। কারণ সরকার শিল্পকলার মাধ্যমে সারাদেশে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছড়িয়ে দিতে উৎসাহ দিচ্ছে, গতকালও শিল্পকলায় তিনটা প্রদর্শনী হল। আজকেও প্রাচ্যনাটের শো আছে শিল্পকলায়। তাহলে এখানে কেনো পুলিশ উৎসব বন্ধ করতে বলবে?

“খোঁজ নিয়ে জানলাম, পুলিশ এইরকম কিছুই বলেনি। কালকে রাতেই বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, তারা কাউকে উৎসব বন্ধ করতে বলেনি। বরং তারা নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত। তাহলে?

সংস্কৃতি উপদেষ্টা বলছেন, এ বিষয়ে দ্রুত অনুসন্ধান থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, নাট্যকর্মীদের মধ্যেই একটা অংশ এই উৎসবের বিরোধিতা করে মহিলা সমিতি কর্তৃপক্ষের কাছে হল বরাদ্দ বাতিলের জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছে বেশ কিছুদিন ধরে।

বিক্ষুব্ধ নাট্যকর্মীদের দাবি, এই উৎসবের আড়ালে জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতা হত্যায় বিবৃতি দিয়ে উসকানি দেওয়া কিছু ব্যক্তি বা তাদের গোত্রীয় কিছু মানুষ সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে। তারা দাবি জানায়, জুলাইয়ে তাদের ভূমিকার জন্য বিচারের মুখোমুখি হওয়ার আগে কোনো পূনর্বাসন চলবে না। অবশেষে কালকে মহিলা সমিতি বরাদ্দ বাতিল করে।

কিন্তু আয়োজকরা বিবৃতিতে সেসব কিছু লেখেননি মন্তব্য করে

ফারুকী বলেন, “এইসব কিছু না বলে কৌশলে প্রথমে পুলিশের কাঁধে দোষ চাপানোর চেষ্টা করল এবং বিবৃতির শেষে বলল- মবের কারণে উৎসব বাতিল করতে হল।

তারা তো জানেই কারা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছে। তাদের পরিচয় না লিখে মব বলে চালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্য কি একটা বিশেষ ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠা করা? বা কেন ওই বিক্ষুব্ধ নাট্যকর্মীরা প্রতিবাদ করছে তারা জানে। কিন্তু সেটাও তারা বিবৃতিতে উল্লেখ না করা কি ওই বিশেষ ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা কিনা সেটা সবাই ভেবে দেখতে পারেন।

ফারুকী প্রশ্ন তোলেন, জুলাইয়ে তাদের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে এখনো কি একবারও ক্ষমা চাওয়ার প্রয়োজন বোধ করেছে তারা?

সংস্কৃতি উপদেষ্টার এমন বক্তব্যের পর ঢাকা মহানগর নাট্য পর্ষদের সদস্য-সচিব কামাল আহমেদ বলেন, নাট্যকর্মীদের মধ্যে কারা এই উৎসবের বিরোধিতা করছেন, তা তো আমাদের জানা নেই। মহিলা সমিতি কর্তৃপক্ষকে গিয়ে কারা আমাদেরকে হল বরাদ্দ না দিতে হুমকি দিয়েছেন, তা তো আমরা জানি না।

সংস্কৃতি উপদেষ্টা যেহেতু অনুসন্ধান করে জানতে পেরেছেন যে নাট্যকর্মীদের একটি অংশই বিরোধিতা করছে, তাহলে তিনি সেই নামগুলো সবাইকে জানাবেন বলে আশা করছি।

কামাল আহমেদ বলেন, “পুলিশ থেকে উৎসব বন্ধ করতে না বললে মহিলা সমিতি আমাদেরকে বরাদ্দ দেওয়া মিলনায়তন কেন বাতিল করল? উপদেষ্টার উচিত মহিলা সমিতিকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেওয়া এবং আমাদেরকে যেন মিলনায়তন বরাদ্দ দেওয়া হয়। আমরা উৎসবটা করতে চাই।

এই উৎসবে ৮৫টি নাট্যদল অংশ নেবে, যার প্রথম পর্যায়ে ১৪টি নাট্যদলের নাটকের প্রদর্শনী হচ্ছে। যে নাটকগুলো নিয়ে এই উৎসব, এই নাটকগুলো অনেক দিন ধরেই মঞ্চে হচ্ছে। জুলাইয়ের পট-পরিবর্তনের পরও নাটকগুলো হচ্ছে, তাহলে এই নাটক নিয়ে কারা আপত্তি তুলছেন? তাদের নাম উপদেষ্টা জনসম্মুখে আনুক।

শনিবার বিকাল ৫টায় ঢাকার নাটক সরণির মহিলা সমিতি মিলনায়তনে এই উৎসব উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল। সন্ধ্যায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’ মঞ্চস্থ হওয়ার কথা ছিল। উৎসবের তিনটি পর্যায়ে একটি করে নাটক মঞ্চস্থ করার কথা ছিল ৮৫টি নাট্যদলের।

আয়োজকরা বলছেন, শুক্রবার সন্ধ্যায় মহিলা সমিতিতে কিছু লোক এসে উৎসব নিয়ে আপত্তি তোলে। উৎসব হলে হামলা করারও হুমকি দেয় তারা।

কামাল আহমেদ বলেন, “শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমাদের জানান যে, রমনা থানা থেকে ফোনে নাট্যোৎসব বন্ধ করতে বলা হয়েছে।

উৎসবের জন্য পুলিশের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে কামাল আহমেদ বলেন, “মিলনায়তনে আমরা যে নাটকের প্রদর্শনী করি, তার জন্য তো পুলিশ থেকে অনুমতি নেওয়া হয় না। এখানে তো বিদেশি নাট্যদলের অংশগ্রহণও নাই।

“যে দলের নাটকের শো হবে, তারা তো নিয়মিতই নাটকের প্রদর্শনী করছে। এ ধরনের আয়োজনের জন্য পুলিশ বা সরকারের কোনো অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।”

থানায় আলোচনার পর পুলিশ নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস দিলে নিরাপত্তা সহযোগিতা চেয়ে একটি আবেদনপত্র জমা দেওয়া হয় বলে জানান কামাল।

কিন্তু থানার ওই বৈঠকের খবর পেয়ে ‘উত্তেজিত কিছু লোক’ এসে মহিলা সমিতি প্রাঙ্গণে উৎসবের সাজসজ্জা খুলে ফেলে বলে আয়োজকদের ভাষ্য।

কারা ওই হুমকি দিয়েছে, তারা পরিচয় দিয়েছে কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে উৎসব উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব কামাল শনিবার বলেছিলেন, “বিগত দিনেও একটি নাট্যদলের নাটক বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে শো-এর মাঝপথে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল এবং এর প্রতিবাদে নাট্যকর্মীরা যখন সমাবেশ করছিল; তখন নাট্যজন মামুনুর রশীদসহ উপস্থিত নাট্যকর্মীদের উপর যারা হামলা করেছিল, আজকের ঘটনা তারই পুনরাবৃত্তি বলে আমরা মনে করি।”

ঘটনার বিষয়ে জানতে মহিলা সমিতির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছে তারা কেউ নাম প্রকাশ করে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

শনিবার রাতে ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস) মুহাম্মদ তালেবুর রহমানের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে নাট্যোৎসব বন্ধ করা বা স্থগিত করার ব্যাপারে কোন নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।

‎রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট

‎মোংলা-খুলনা মহাসড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে নৌবাহিনী-জেলা প্রশাসন

‎রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম
‎মোংলা-খুলনা মহাসড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে নৌবাহিনী-জেলা প্রশাসন

মোংলা-খুলনা মহাসড়কের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে নৌবাহিনী-জেলা প্রশাসন
‎বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৭ মার্চ) দুপুরে মোংলা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিহতদের স্বজনদের হাতে সহায়তার অর্থ তুলে দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।

‎অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১ লাখ করে টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোংলার ৯টি পরিবারকে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং রামপালের নিহত মাইক্রোবাস চালকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

‎বুধবার মোংলার ৯ জন ও রামপালের ১ জনের পরিবারকে এ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আর বৃহস্পতিবার খুলনার কয়রার ৪ জনের পরিবারের কাছে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে হবে।

‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনুপ দাস, মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি, নৌবাহিনীর খুলনা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল একেএম জাকির হোসাইন, মোংলা দিগরাজ নৌঘাঁটির অধিনায়ক ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ জুবায়ের শাহীন, মোংলা-রামপাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম।

‎উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ মোংলা-খুলনা মহাসড়কের গুনাই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় খুলনাগামী নৌবাহিনীর বাস ও মোংলাগামী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়। এর মধ্যে ছিলো মোংলার বিএনপি নেতা আ. রাজ্জাক পরিবারের ৯ জন, তার নতুন পুত্রবধূসহ তাদের পরিবারের ৪ জন এবং মাইক্রোচালক।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

বাঁশখালীতে অবৈধ ট্রলিং বোট জব্দ, জাল-মাছসহ আটক ৪

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৫ পিএম
বাঁশখালীতে অবৈধ ট্রলিং বোট জব্দ, জাল-মাছসহ আটক ৪

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ আর্টিসনাল ট্রলিং বোট, নিষিদ্ধ জাল ও বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক মাছসহ ৪ জেলেকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার দিকে কোস্ট গার্ড কন্টিনজেন্ট বাঁশখালী থানাধীন শেখেরখীল মাছঘাট সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে একটি অবৈধ আর্টিসনাল ট্রলিং বোট জব্দ করা হয়। এ সময় বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের দুটি ট্রলিং জাল ও প্রায় ৪০০ কেজি সামুদ্রিক মাছ উদ্ধারসহ চার জেলেকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে সরকার প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সাধারণত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম এবং সামুদ্রিক মাছের বংশবিস্তার রক্ষায় ৬৫ দিনের জন্য (মে-জুলাই) সাগরে সকল ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এছাড়া বছরের বিভিন্ন সময়ে নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছ ধরায়ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকে। কিন্তু অসাধু কিছু জেলে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ ট্রলিং ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করে আসছে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
পরবর্তীতে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জব্দকৃত বোট থেকে ট্রলিং সরঞ্জামাদি অপসারণ করা হয় এবং অবৈধ জাল বিনষ্ট করা হয়। উদ্ধারকৃত মাছ নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকতি বলেন, “মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে জেলেদের সচেতনতার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারি জরুরি।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টায় জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহ ময়দানে

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৪ পিএম
চট্টগ্রামে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টায় জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহ ময়দানে

মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে এ বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হতে পারে ২০ মার্চ শুক্রবার। আমিরাত জ্যোতির্বিদ্যা সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, এ বছর আরব বিশ্বে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হতে পারে এবং শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হবে ২০ মার্চ। সে হিসাবে বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে ২১ মার্চ শনিবার।
এদিকে ঈদুল ফিতরের কেন্দ্রীয় জামাত উপলক্ষে চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহ ময়দান সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ১৭ মার্চ
বুধবার জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে গত সাত দিন ধরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারেন।
তিনি জানান, প্রায় ৬৫ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে কার্পেট বিছানো হয়েছে এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখে ওপরে টারপলিন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৫০টি পাখা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, ৫০টি মাইক এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মেয়র বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মুসল্লির সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত মুসল্লির কথা বিবেচনায় রেখে দুটি জামাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে—প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।
মুসল্লিদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে তিনটি প্রধান গেট খোলা রাখা হবে এবং পেছনের গেটটিও ব্যবহারযোগ্য করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি।
নগরীর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে সিটি কর্পোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ মাসে চট্টগ্রামে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা একটি নিরাপদ নগরী গড়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব আলহাজ্ব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক আল কাদেরী।
এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরীর বিভিন্ন স্থানে সকাল ৮টায় ঈদ জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—লালদীঘি শাহী জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (রঃ) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি কর্পোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী (ভিআইপি) আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুবাজার জামে মসজিদ এবং মা আয়েশা সিদ্দিকী চসিক জামে মসজিদ।
পরিদর্শনকালে মেয়র নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং রমজানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

error: Content is protected !!