শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২

ডোর–টু–ডোর বর্জ্য সংগ্রহে তৃতীয় পক্ষকে টাকা না দেওয়ার নির্দেশ চসিক মেয়রের

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫১ পিএম | 48 বার পড়া হয়েছে
ডোর–টু–ডোর বর্জ্য সংগ্রহে তৃতীয় পক্ষকে টাকা না দেওয়ার নির্দেশ চসিক মেয়রের

 

চট্টগ্রাম নগরীর বাসাবাড়ি থেকে ডোর–টু–ডোর বর্জ্য সংগ্রহে বেসরকারি ভেন্ডরদের কার্যক্রম গত মার্চ মাস থেকে মেয়রের নির্দেশে বন্ধ করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। ফলে এপ্রিল মাস থেকে নগরবাসীকে বাসার ময়লা সংগ্রহের জন্য কোনো ভেন্ডর বা তৃতীয় পক্ষকে টাকা দিতে হবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গতকাল ৯ এপ্রিল(বৃহস্পতিবার) চসিক সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নির্দেশক্রমে গত মার্চ মাস থেকে নগরের বাসাবাড়িতে ডোর–টু–ডোর বর্জ্য সংগ্রহে বেসরকারি ভেন্ডরদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে চসিকের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় পরিচ্ছন্ন বিভাগের কর্মীরা সরাসরি বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে কিছু অসাধু ব্যক্তি এখনো নিজেদের ভেন্ডর পরিচয় দিয়ে বাসাবাড়ি থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে। এ ধরনের কাজ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং এ বিষয়ে নগরবাসীকে সতর্ক থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে চসিক কর্তৃপক্ষ।
যদি কেউ জোরপূর্বক বা প্রতারণার মাধ্যমে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে চসিকের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা (মোবাইল: ০১৮১১-৮০৩৬৬৬) অথবা মেয়রের একান্ত সহকারী মারুফুল হক চৌধুরী (মারুফ)-এর (মোবাইল: ০১৮৯৪-৮৮৩০২০, ০১৮১৯-৯৫৮৮৬০, ০১৭৪৩-৯০১৪৮০০) সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
চসিক নগরবাসীকে ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি, সেফ, স্মার্ট সিটি’ গড়তে যত্রতত্র ময়লা ফেলা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এদিকে ময়লা অপসারণের বিষয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ডের বেশ কয়েকজন নাগরিকদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ‘মেয়রের ঘোষণা শুনে সবাই খুশি হয়েছিলাম। ময়লা নিতে আসা লোকজন এই এপ্রিল মাসেও টাকা দাবি করলে মেয়রের ঘোষণার কথা তাদের জানাই। উত্তরে ওই পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান টাকা না দিলে ময়লা ডাস্টবিনে ফেলে আসতে হবে। অথবা চসিকের লোকজনকে এসে ময়লা নিয়ে যেতে বলেন। পরে বাধ্য হয়েই পূর্বের মত প্রতি ফ্ল্যাট থেকে ৭০ টাকা করে দিতে হচ্ছে।’ তারা আরো বলেন, মেয়র মহোদয় চট্টগ্রাম নগরীর অভিভাবক। তার কথাই যদি বাস্তবায়ন না হয় আমরা কার কাছে যাব?’

জ্বালানিতে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতে পারে

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৭ পিএম
জ্বালানিতে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতে পারে

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। ফলে সরকারকে অতিরিক্ত ৩৬ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হতে পারে, যা বাজেট ও রিজার্ভ—দুটির ওপরই চাপ তৈরি করবে। এই ভর্তুকি একদিকে যেমন সরকারের বাজেট ঘাটতি বাড়ানোর দিকে যাবে, অন্যদিকে সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর প্রভাব ফেলবে।

আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরে দেওয়া বিবৃতিতে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নানা আর্থিক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে। সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালের আর্থিক খাতের চিত্রও বর্ণনা করেন অর্থমন্ত্রী।

আমীর খসরু বলেন, ‘একটি আমদানিনির্ভর অর্থনীতি হিসেবে বাংলাদেশ এই বাস্তবতার বাইরে নয়। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনগণকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন হলেও সরকার জনগণের কষ্টের কথা মাথায় রেখেছে। এখন পর্যন্ত পূর্ণ সমন্বয় না করে আগের মূল্যই বহাল রেখেছে। এই প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিবেশের মধ্যে আমাদের অর্থনীতিকে সামনে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা অর্থনীতির বিভিন্ন ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা স্থাপন ও নানামুখী চাপ মোকাবিলা করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ হাতে নিয়েছি।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে বাস্তবায়িত মেগা প্রকল্পগুলো এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ্য। ফলে জনগণ সেই বিনিয়োগের প্রত্যাশিত সুফল ভোগ করতে পারছে না। এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারি ক্ষেত্রে একটি অস্বাস্থ্যকর পরিবর্তন পরিলক্ষিত হয়, যেখানে ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং তুলনামূলক উচ্চ সুদের ব্যয় সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি করে।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু তাঁর বক্তব্যে স্বীকার করেন, অর্থনীতির চ্যালেঞ্জগুলো গভীর ও বহুমাত্রিক। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সুশাসন, সংস্কার এবং জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব।

খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় পরিচয়হীন একজন পুরুষের পায়ের নিচের অংশে পচন ধরেছে

জাহিদ হোসেন, খুলনা প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৪ পিএম
খুলনায় সড়ক দুর্ঘটনায় পরিচয়হীন একজন পুরুষের পায়ের নিচের অংশে পচন ধরেছে

রাস্তাঘাটে চলাচলকারী ও পরিচয়হীন ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশ সরকারের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন, বিভিন্ন শ্রেণীর ব্যক্তিবর্গরা।

সড়ক দুর্ঘটনায় গরিব অসহায়দের জন্য বিনামূল্যের চিকিৎসার খুব সু-ব্যবস্থা করা হোক। যাতে করে চিকিৎসার অভাবে পরিচয়হীন মানুষগুলো মৃত্যুবরণ করতে না হয়।

সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক পুরুষের পায়ের নিচের অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয় খুলনা রেলওয়ে স্টেশনে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

কোন কিছুর সাথে গভীরভাবে বিদ্ধ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসা করার মতো এমন কোন হৃদয়বান ব্যক্তির দেখা যায় নী।

দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তির পাশে দুজন পথচারী বলছে আজ থেকে ২০ বছর যাবত খুলনা রেলস্টেশনে যেখানে- সেখানে জীবন পার করছে। আরোও বলেন আমাদের জানা সত্ত্বে তিনি ইন্ডিয়ান ব্যক্তি। সেই পরিচয়হীন মানুষটি কোন ভাবে বাংলাদেশের চলে আসে কিন্তু মানুষটির পরিচয় আজও কেউ জানতে পারি নি।

এটি একটি বিপজ্জনক ধরনের আঘাত, যাতে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি এবং দ্রুত পরিচয়হীন মানুষটির জন্য এ মুহূর্তে সরকারের নিকট থেকে ভালো চিকিৎসা না করানো হলে এটি রক্তনালীর ক্ষতি করতে পারে ও পরিচয়হীন পুরুষ ব্যক্তিটির পায়ের অংশটি পচনে গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

পরিচয়হীন রোগীর পায়ের নিচের অংশে সড়ক দুর্ঘটনায় পায়ের অংশটি ভয়াবহতা সৃষ্টি হয়। একজন রিক্সার চালক কয়েকদিন পর পর পরিচয়হীন ব্যক্তিটির পায়ের ব্যান্ডেজ করা অংশটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা করে।

গভর্নর পদের ৬৭ বছরের বয়সসীমা তুলে দিয়ে বিল পাস

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
গভর্নর পদের ৬৭ বছরের বয়সসীমা তুলে দিয়ে বিল পাস

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদে সর্বোচ্চ ৬৭ বছর বয়সসীমা তুলে দিয়ে একটি বিল পাস করেছে জাতীয় সংসদ। বিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদের চার বছরের মেয়াদ ও পুনর্নিয়োগের সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে। তবে ৬৭ বছর পূর্ণ হলে পদে থাকা যাবে না বলে যে শর্ত ছিল, তা বাদ দেওয়া হয়েছে।

আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২ সংশোধনের বিলটি উত্থাপন করেন। পরে দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী না থাকায় তা উত্থাপিত আকারে পাস হয়। নতুন আইনের নাম রাখা হয়েছে—বাংলাদেশ ব্যাংক সংশোধন আইন, ২০২৬।

বিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদের চার বছরের মেয়াদ ও পুনর্নিয়োগের সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে। তবে ৬৭ বছর পূর্ণ হলে পদে থাকা যাবে না বলে যে শর্ত ছিল, তা বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ১৯৭২-এর ১০ অনুচ্ছেদের ৫ দফায় থাকা শর্ত বিলুপ্ত হবে। এর অর্থ, গভর্নর পদে চার বছরের মেয়াদ ও পুনর্নিয়োগের বিধান থাকবে, কিন্তু বয়স ৬৭ বছর পার হলে পদ ছাড়তে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা আর থাকবে না।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ-সংবলিত বিবৃতিতে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা, ব্যাংক তদারকি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়সহ আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য গভর্নর পদে ‘অভিজ্ঞ, দক্ষ ও প্রজ্ঞাসম্পন্ন ব্যক্তি’ নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। সেখানে বলা হয়েছে, বিদ্যমান বয়সসীমা অনেক ক্ষেত্রে আর্থিক খাতে দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগের পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের তৈরি সংশোধনের যৌক্তিকতা-সংবলিত তুলনামূলক বিবরণীতেও একই কথা বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, এই পদে বয়সসীমা ৬৭ বছর নির্ধারিত থাকায় আর্থিক খাতে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে গভর্নর হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।

ওই বিবরণীতে আরও বলা হয়েছে, পার্শ্ববর্তী দেশ নেপাল ও পাকিস্তান ছাড়া অন্য অনেক দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর পদের জন্য সর্বোচ্চ বয়সসীমার উল্লেখ নেই। সে কারণেই ‘উক্ত আইনগত সীমাবদ্ধতা দূরীকরণ’ জনস্বার্থে প্রয়োজন বলে মত দেওয়া হয়েছে। সংসদের চলতি অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা বিভিন্ন অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দেওয়ার যে প্রক্রিয়া চলছে, তার অংশ হিসেবেই এই সংশোধনী বিলটি আনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সংশোধন বিলের পাশাপাশি আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো-সংক্রান্ত আরও কয়েকটি বিলও ওই অধিবেশনে নিষ্পত্তি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর দেশের মুদ্রানীতি, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, ব্যাংক তদারকি, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা, রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেন। সে কারণে এই পদে নিয়োগের যোগ্যতা, মেয়াদ, পুনর্নিয়োগ ও বয়সসীমা নিয়ে আইনি বিধান সব সময়ই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়।

সরকারের যুক্তি হচ্ছে, আর্থিক খাতে অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করতে গেলে বয়সের নির্দিষ্ট সীমা অনেক সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে জটিল ব্যাংকিং ও আর্থিক বাস্তবতায় অভিজ্ঞ নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা সামনে এনে তারা এই সংশোধনী প্রস্তাব এনেছে।

গভর্নর পদের বয়সসীমা নিয়ে এটাই প্রথম পরিবর্তন নয়। ২০২০ সালে আইন সংশোধন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর করা হয়েছিল। তখন সাবেক গভর্নর ফজলে কবিরকে দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্বে রাখতেই সেই পরিবর্তন আনা হয়। পরে ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর করার উদ্যোগ নিলে আবারও বয়সসীমার বিষয়টি সামনে আসে। সে সময় সরকারের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, বিদ্যমান আইনে ৬৭ বছরের বেশি বয়সী কাউকে গভর্নর পদে রাখার সুযোগ নেই। প্রায় ৭৩ বছর বয়সী আহসান এইচ মনসুরকে দায়িত্ব দিতে তাই আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সংসদে পাস হওয়া সংশোধনীর মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর পদের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হলো।

বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার অনুযায়ী গভর্নরের মেয়াদ চার বছর। পুনর্নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এই অবস্থায় বয়সসীমা তুলে দেওয়ার ফলে ভবিষ্যতে সরকার এই পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে বয়সের বদলে অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও প্রজ্ঞাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ পাবে।

নতুন সংশোধনীতে গভর্নরের চার বছরের মেয়াদ ও পুনর্নিয়োগের সুযোগ বহাল থাকছে। বাদ যাচ্ছে শুধু বয়সসীমা-সংক্রান্ত শর্তটি। আহসান এইচ মনসুরকে গভর্নর করার সময় অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশ জারি করে বয়সসীমা-সংক্রান্ত এই পরিবর্তন কার্যকর করেছিল; সংসদে বিল পাসের মধ্য দিয়ে সেটি এখন আইনি ভিত্তি পেল।

 

error: Content is protected !!