দাম বাড়ানোর এক দিন পরই দাম কমিয়ে নতুন করে নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন নির্ধারিত দামে ২২ ক্যারেট সোনার প্রতি ভরি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯৭৯ টাকা, যা গতকাল বুধবার ছিল ২ লাখ ৫২ হাজার ৪৮৯ টাকা। অর্থাৎ গতকালের মূল্য থেকে আজ ৪ হাজার ৫১০ টাকা কমেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সার্বিক বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আজ সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে সোনা-রুপার দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বাজুসের তালিকায় আরও দেখা যায়, ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি প্রায় ২ লাখ ৩৬ হাজার ৭২১ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি প্রায় ২ লাখ ২ হাজার ৮৯৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির সোনার মূল্য প্রতি ভরি প্রায় ১ লাখ ৬৫ হাজার ২৮৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, রুপার ২২ ক্যারেট প্রতি ভরির দাম ৫ হাজার ৭১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গতকাল বুধবার ছিল ৫ হাজার ৮৮৫ টাকা। আর ২১ ক্যারেট প্রতি ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ৪২৪ টাকা এবং ১৮ ক্যারেট প্রতি ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া, সনাতন পদ্ধতির রুপার দাম রাখা হয়েছে প্রতি ভরি ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা।
বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই মূল্য কার্যকর থাকবে। এ ছাড়া ক্রেতাদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট আদায় করে তা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রামের হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সামিয়া। ৯ এপ্রিল(বৃহস্পতিবার) পরীক্ষা দিতে কলেজে গিয়েছিলেন সামিয়া, কিন্তু ফিরলেন লাশ হয়ে। পরীক্ষা দিয়ে বেরিয়ে বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গিয়ে মৃত্যু হল সামিয়ার, পরিবার বলছে ‘পরিকল্পিত হত্যা’।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা–লালখান বাজারমুখী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় সামিয়া জাহান তানিশা (২২) নামে এক কলেজছাত্রী নিহত হয়েছেন। তিনি চট্টগ্রামের হাজেরা তজু ডিগ্রি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে নগরের বারিক বিল্ডিং এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাইভেটকারটি এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ে ধাক্কা দিলে গাড়ির সামনের সিটে বসা সামিয়া ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, সামিয়া জাহান তানিশা গতকাল পরীক্ষা দিতে কলেজে গিয়েছিলেন। পরীক্ষা শেষে তিনি বন্ধু সাইদুল আলমের সাথে পতেঙ্গা বেড়াতে যান। ফেরার পথে সাইদুল আলম চালিত চট্টমেট্রো-গ-১১-৪০৩৪ নম্বরের একটি পুরানো প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় সামিয়া ছিটকে পড়ে মারাত্মকভাবে আহত হন এবং চালক সাইদুল আলমও সামান্য আহত হন।
স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সামিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সাইদুল আলমও সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বন্দর থানার এসআই এরশাদ মিয়া জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় সামিয়া জাহান নিহত হয়েছেন। আহত চালককে পুলিশি হেফাজতে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
নিহত সামিয়ার বাসা নগরের রাহাত্তারপুল এলাকার ফুলতলীর শাহ আমানত হাউজিং সোসাইটিতে। তার বাবা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবু তালেব পাটোয়ারী এবং মা নাসিমা সুলতানা। তাদের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে হলেও দীর্ঘদিন ধরে তারা চট্টগ্রাম নগরীতে বসবাস করছেন।
নিহতের মামা গিয়াস উদ্দিন শিকদার জানান, সামিয়া তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তৃতীয়। তার বড় ভাই মাহমুদ সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মরত। আগামী ৩০ এপ্রিল তার বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। ভাইয়ের বিয়ে নিয়ে সামিয়ার অনেক পরিকল্পনা ছিল। মাত্র পাঁচদিন আগে ৪ এপ্রিল পরিবারের সাথে জন্মদিনও উদযাপন করেছিলেন তিনি।
তবে সামিয়ার পরিবার এই ঘটনাকে দুর্ঘটনা হিসেবে মানতে নারাজ। তাদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যা। পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত সাইদুল আলম সামিয়াকে ফুঁসলিয়ে নিয়ে গিয়ে গাড়ি থেকে ফেলে হত্যা করেছে।
ঘটনার পর পুলিশ সাইদুল আলমকে হেফাজতে নিয়েছে। তিনি নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকার বারৈপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং কাতার প্রবাসী বলে পুলিশ জানিয়েছে।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, সাইদুল আলম বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা থানায় এলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
এদিকে নগরবাসীর অভিযোগ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে প্রায়ই বেপরোয়া গতির কারণে দুর্ঘটনা ঘটছে। শুধু প্রাইভেট কার নয়, বাইক থেকে শুরু করে, থ্রি-হুইলার সিএনজি এমন কি অনেক ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর শহর এলাকার পাবলিক বাসও ফ্লাইওভার অতিক্রম করার সময় সর্বোচ্ছ পিক়আপে বেপরোয়া গতিতে চলার ফলে যাত্রিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরী হয়। ফ্লাইওভারের উপরে এসব দেখার বা নিয়ন্ত্রন করার কেউ নেই। ফ্লাইওভারে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেনি-পেশার লোকজন।
তীব্র দাবদাহে জনজীবন যখন অতিষ্ঠ, তখন এক বালতি শীতল পানিতে গোসল বা শাওয়ারের নিচে কিছুক্ষণ দাঁড়ানোটাই যেন বড় স্বস্তির বিষয়। তবে আপনি কি জানেন, ভুল পদ্ধতিতে গোসল করলে তা আপনার ত্বক ও চুলের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে? গ্রীষ্মের তাপে শুধু যে আমাদের শরীর ঘামে, তা-ই নয়; বরং আমাদের বাসাবাড়িতে সরবরাহ করা পানিতে খনিজ উপাদান ও লবণের মাত্রাও বেড়ে যায়। ফলে শীত বা বর্ষার গোসলের নিয়ম গরমে অকার্যকর হয়ে পড়ে। তাই এই তীব্র গরমে ত্বক ও চুল থেকে সতেজ এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল রাখতে আপনার গোসলের রুটিনে আনা চাই কিছু পরিবর্তন।
স্বাভাবিক বা কুসুম গরম পানিতে গোসল
অতিরিক্ত গরম পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের স্বাভাবিক আর্দ্রতা হারিয়ে যায় এবং ত্বক শুষ্ক হয়ে পড়ে। তাই গরমকালে শীতল বা কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করুন। শীতল পানি ত্বকের চুলকানি কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ফলে আপনি দীর্ঘক্ষণ সতেজ অনুভব করবেন এবং এটি আপনার ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ধরে রাখতেও সাহায্য করবে।
ছবি: পেক্সেলস
রাতে ঘুমানোর আগে গোসল করুন
সারা দিনের ঘাম, ধুলাবালি আর ময়লা মিলে আমাদের ত্বকের রোমকূপগুলো বন্ধ করে দেয়। ফলে ত্বক স্বাভাবিকের চেয়ে ভারী, আঠালো ও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। রাতে ঘুমানোর আগে একবার গোসল করে নিলে রোমকূপগুলো উন্মুক্ত হয় এবং মাংসপেশি শিথিল হয়। এ ছাড়া হালকা স্ক্রাবিং ত্বকের মরা কোষ দূর করে আপনাকে সতেজ অনুভব করাবে, যা সারা দিনের ক্লান্তি কাটিয়ে গভীর ও প্রশান্তিদায়ক ঘুমে দারুণ সাহায্য করবে।
গোসলের পানিতে সুগন্ধি তেল ব্যবহার করুন
সারা দিনের ক্লান্তি দূর করতে অ্যারোমাথেরাপি বা সুগন্ধি তেলের ব্যবহার খুবই চমৎকার কাজ করে। গোসলের পানিতে কয়েক ফোঁটা রোজমেরি অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। এই সুগন্ধি আপনার মন শান্ত করার পাশাপাশি ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারী। এটি মানসিক চাপ কমিয়ে শরীর চাঙা করে তুলবে।
ছবি: পেক্সেলস
বারবার গোসল এড়িয়ে চলুন
প্রচণ্ড গরমে বারবার গোসলের ইচ্ছা হওয়াটা স্বাভাবিক। তবে বারবার গোসল করলে ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষা স্তর বা স্কিন ব্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দিনে একবার ভালো করে গোসল করাই যথেষ্ট। যদি খুব বেশি গরম লাগে, তবে বারবার সাবান ব্যবহার না করে শুধু সাধারণ পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে নিতে পারেন। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকবে।
পানির গুণমান নিশ্চিত করুন
গ্রীষ্মকালে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় পানিতে লবণ ও খনিজের পরিমাণ বেড়ে যায়। এই হার্ড ওয়াটার বা খড় পানি চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ। এটি ত্বকও খসখসে করে দেয় এবং শ্যাম্পু ও সাবানের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয়। তাই সম্ভব হলে শাওয়ার ফিল্টার বা ওয়াটার সফটনার ব্যবহার করুন। পরিষ্কার পানি ত্বক ও চুলের অকালে ক্ষতি রোধে বেশি কার্যকর।
ত্বকের স্ক্রাবিং বা এক্সফোলিয়েশন
গরমকালে ত্বকের ওপর মৃত কোষের স্তর জমে যায়, যা থেকে ব্রণ ও র্যাশ হতে পারে। তাই সপ্তাহে অন্তত একবার বা দুবার স্ক্রাব করে ত্বক পরিষ্কার করুন। তবে খেয়াল রাখবেন, যেন অতিরিক্ত স্ক্রাবিং না হয়। কারণ, এতে ত্বক জ্বালাপোড়া করতে পারে। গোসলের আগে মাথার ত্বক হালকা করে ব্রাশ করে নিলে খুশকির সমস্যা থেকেও রেহাই পাওয়া যায়। গোসল শুধু শরীর পরিষ্কার করার মাধ্যম নয়, এটি নিজেকে সতেজ রাখার প্রক্রিয়াও বটে। সঠিক নিয়মে গোসল করলে আপনি যেমন তপ্ত গরমে আরাম পাবেন, তেমনি আপনার ত্বক ও চুল সুন্দর হয়ে উঠবে। মনে রাখবেন, ভালো ত্বক ও চুলের শুরুটা হয় সঠিক পানির ব্যবহার এবং স্বাস্থ্যকর গোসলের অভ্যাস থেকে। তাই এই গরমে গোসলের ব্যাপারে সচেতন থাকুন। তাতে সতেজ থাকতে পারবেন দিনভর।
ঢাকা থেকে বেশি দূরে নয় সন্তোষপুর। হাজার হাজার রাবারগাছ আছে এখানে। সেই বনে আছে বন্য বানরের লুকোচুরি। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার নওগাঁও ইউনিয়ন সন্তোষপুরে এই রাবার বন। এক সাংবাদিক বন্ধুর পাঠানো ছবি দেখে উৎসাহী হয়ে উঠি যাওয়ার জন্য। ঝটপট বন্ধুদের সঙ্গে পরিকল্পনা করে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। ছুটির দিনে আপনারাও কিন্তু চলে যেতে পারেন।
যানজটের ভয়ে ভোর চারটায় গাড়ি ছাড়ি। তারপরও কপাল মন্দ হলে যা হয়। জটেই পড়ে রইলাম। মাওনা পার হওয়ার পর কিছুটা স্বস্তি মিলল। এক টানে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফুলবাড়িয়ার কান্দানিয়া গ্রামে পৌঁছাতে পেরেছি। স্থানীয় সেই সাংবাদিক বন্ধু জানালেন, এখানে বানর দেখার মোক্ষম সময় বিকেলবেলা। তাই অনুমতি নিয়ে ঢুঁ মারি দুলমা গ্রামের দীপ্তি অর্কিডস বাগানে।
প্রধান ফটক পেরিয়ে বাগানে ঢুকতেই চোখ জুড়িয়ে যায়। শক্ত পাতার আবরণে লাল, হলুদ, সাদা, বেগুনি ইত্যাদি রঙের নানান ফুল ফুটে আছে। প্রায় ২৬ একর জায়গাজুড়ে এই অর্কিড বাগান। এ ছাড়া আরও আছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জাতের গাছপালা। বাগানজুড়ে পাখির কলতান। বেশ ভালো লাগা সময় পার হলো।
নামাজ শেষে হেঁটে চলে গেলাম টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার গুপ্ত বৃন্দাবন গ্রামে। জায়গাটা ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল জেলার সীমানায় পড়েছে। সেখানে রয়েছে একটি প্রাচীন তমালগাছ। এর সঠিক বয়স কেউই ‘সঠিক’ভাবে বলতে পারেন না। তবে শতাধিক বছর যে পেরিয়েছে, সেটা নিশ্চিত। স্থানীয় এক পুরোহিত জানালেন, তমালগাছটি নাকি একবার মারা যাওয়ার প্রায় ১২ বছর পর নতুন করে ডাল-পালা-পাতা গজিয়েছে! গাছটি দেখতেও বেশ অদ্ভুত। অনেকখানি জায়গাজুড়ে এর বিস্তৃতি। প্রকৃতি ও বৃক্ষপ্রেমী মির্জা রাসেল জানালেন, এটা তমাল নয়। তবে বিরল প্রজাতির কোনো বৃক্ষ। গাছের নাম যা-ই হোক না কেন, বর্তমানে একে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজা-অর্চনা চলে। দর্শনার্থীদের জন্যও এটি বেশ আকর্ষণীয়। গাছ নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করতে করতে ছুটি সন্তোষপুর রাবারবাগানের পথে।
সুনসান নিরিবিলি গ্রাম্য পথে গাড়ি চলছে বেশ দ্রুতগতিতে। দুই পাশে স্বপ্নময় নিসর্গ, পাকা ধানের সুগন্ধ, সিজনের পাকা আনারসের ঘ্রাণ নিতে নিতে কখন যে সন্তোষপুর পৌঁছে গিয়েছিলাম, টের পাইনি। গাড়ি থামে বনের ভেতর রাবার প্রক্রিয়াকরণ কারখানার দরজায়। ভেতরে ঢুকে রাবার তৈরির প্রক্রিয়া দেখে বনের পথ ধরে বিট অফিসের দিকে হাঁটতে থাকি।
নয়নাভিরাম সন্তোষপুর বনাঞ্চল ১০৬ একর জমি নিয়ে বিস্তৃত। এই বনে রয়েছে শাল-গজারিসহ নানান জাতের গাছ। এ ছাড়া আরও আছে বাংলাদেশ বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত রাবারবাগান। বুনো ঘ্রাণ আর শেষ বিকেলে ঘরে ফেরা বিভিন্ন পাখির কিচিরমিচির শুনতে শুনতে পৌঁছে যাই বন বিট অফিসের সামনে। এই পাশটায় যেন বানরের সভা বসেছে! নানান বয়স আর আকারের বানর। দোকানিদের কাছ থেকে কলা, বাদাম কিনে আমরাও বানরের বাঁদরামিতে অংশ নিই। আশ্চর্য বিষয়, বানরগুলো আমাদের কোলে, কাঁধে একেবারে নির্ভয়ে এসে উঠে বসল! আমরা যেন ওদের কত চেনা-পরিচিত।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সন্তোষপুরের এই বনে বিরল প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় ৫০০ বানর রয়েছে। আগে আরও অনেক ধরনের প্রাণীর দেখা মিলত। কিন্তু প্রাকৃতিক বনের বুকে আশির দশকে রাবারবাগান সৃজন আর মানুষের উৎপাতে এখন শুধু বানরকুলই কোনোরকমে টিকে আছে। বন বিভাগ থেকে বানরের জন্য খাবার বরাদ্দ থাকলেও তা অপ্রতুল। তাই বনে ঘুরতে আসা মানুষদের দেওয়া খাবারই এখন তাদের ভরসা। স্থানীয়রা এদের সামাজিক বানর হিসেবেই আখ্যায়িত করে। কারণ, এরা সাধারণত উৎপাত করে না। তবে বনে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের কেউ যদি খাবার না দেয়, তাহলে খুব অসহায়ভাবে তার কাঁধে বা কোলে বসে থাকবে। অগত্যা হাড়কিপ্টে মানুষও বানরের জন্য কিছু টাকা খরচে বাধ্য হয়। ভ্রমণপিয়াসি মানুষ আর বানরের অভূতপূর্ব মিলনের মাঝেই দিনের আলো মিলিয়ে গেল। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে আমাদেরও ফিরতি পথ ধরতে হলো।
যাবেন যেভাবে
নিজস্ব বা ভাড়ার গাড়ি নিয়ে গেলে ঘুরতে সুবিধা বেশি। তবে ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে ময়মনসিংহগামী বিভিন্ন পরিবহনের বাসে উঠে নামতে হবে ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ডে। সেখান থেকে অটোরিকশা বা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অর্কিড বাগান। ইচ্ছা করলে সারা দিনের জন্য ভাড়া নিয়ে একেবারে সন্তোষপুর রাবারবাগানসহ আরও আশপাশ ঘুরে আসা যায়। যাঁরা শুধু সন্তোষপুর বানরপল্লি যেতে চান, তাঁরা ফুলবাড়িয়া উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে অটোরিকশায় সরাসরি চলে যেতে পারেন।