যুক্তরাষ্ট্রের ছায়া থেকে বেরোতে চায় মধ্যপ্রাচ্য
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তাদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে। বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠন এবং যুদ্ধের পর আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠা ইরানকে মোকাবিলায় তারা এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর না করে নতুন নতুন নিরাপত্তা অংশীদার খুঁজছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোকে এখন প্রতিদিনই ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকির মধ্যে বসবাস করতে হবে। যুদ্ধের সময় তাদের মাটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো ইরানের পাল্টা হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। এর ফলে এই দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধের শিকারে পরিণত হয়।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালি। এই জলপথ দিয়ে অধিকাংশ উপসাগরীয় দেশের বাণিজ্য পরিচালিত হয়। যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ইরান শর্ত দিয়েছে, যুদ্ধের সময় দখল করা এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ তারা ছাড়বে না। এটি তেহরানকে যখন খুশি উপসাগরীয় দেশগুলোর টুঁটি চেপে ধরার ক্ষমতা দেবে। ধরাণা করা হচ্ছে, শনিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠেয় আলোচনায় এই বিষয়টি হবে সবচেয়ে বড় বিরোধের জায়গা।
এদিকে ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলো দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে। অন্যদিকে কিছু দেশ তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে শান্তি চায়।
গত বৃহস্পতিবার সৌদি আরব ও ইরান যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো দাপ্তরিক যোগাযোগ করেছে। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে আলোচনা করেছেন। তবে আমিরাতের চিত্র ভিন্ন। ইরান দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা পর তাদের লাভান দ্বীপের তেল স্থাপনায় হামলার পেছনে আমিরাত ছিল। এর জবাবে ইরানও পাল্টা আঘাত হেনেছে।
কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বদর মুসা আল-সাইফ বলেন, এমন পরিস্থিতিতে উপসাগরীয় দেশগুলোর উচিত তুরস্কের মতো উদীয়মান শক্তির সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানো।














