শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৭ চৈত্র ১৪৩২

ফ্যাসিবাদী সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ১:৫১ পিএম | 69 বার পড়া হয়েছে
ফ্যাসিবাদী সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকার সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের মাধ্যমে অর্থনীতিকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে দাঁড় করানোর পাশাপাশি সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাতকে অকার্যকর করে দিয়েছে। অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে হুন্ডি প্রবাহ এবং অর্থ পাচারের কারণে রিজার্ভের পরিমাণ কমে ২০ বিলিয়নে নেমে আসে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রপ্তানি কিছুটা বাড়লেও আমদানি প্রবৃদ্ধি কমে এসেছে এবং রেমিট্যান্স বা প্রবাস আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

আজ শুক্রবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক চিত্র তুলে ধরে দেওয়া বিবৃতিতে এসব কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। বিবৃতিতে তাঁর বক্তব্যে আর্থিকখাতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে।

সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালের আর্থিকখাতের চিত্রও বর্ণনা করেন অর্থমন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, কোন অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচিত সরকার দেশের দায়িত্ব নিয়েছে। সরকারের পরবর্তী জার্নিটা কোথায় হবে সেই বিষয়ে বিবৃতি দিচ্ছেন।

তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের সময় যে রেমিট্যান্সগুলোর বন্ধ ছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তা বেড়েছে। এই রেমিট্যান্স না বাড়লে এই সরকারের সময়ে অর্থনীতি ম্যানেজ করা খুবই কঠিন হতো কারণ আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি তখন সবগুলো অর্থনৈতিক সূচক নিম্নগামী ছিল।

তিনি বলেন, বিগত সরকারের আমলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির জনগোষ্ঠীকে ভাতা প্রদান করা হলেও এর আগে ভাতার পরিমাণ মূল্যস্ফীতি রেখে যৌক্তিকীকরণ করা হয়নি, এতে উপকারভোগীরা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বাইরে থেকে গেছে যার ক্রমে বৈষম্যকে বাড়িয়ে দিয়েছে। উপকারভোগী নির্বাচনে দলীয়করণ ও দুর্নীতির প্রমাণ অজস্র।

মন্ত্রী বলেন, বাজার ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামো দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে যা সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করেছে। বাজার সিন্ডিকেট দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য হিসেবে এ পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করেছে।

মন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী নেওয়া পদক্ষেপগুলোও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্ব প্রদান করেছে। ঘাটতি অর্থায়নের বিকল্প ও সহজ শর্তে বৈদেশিক উৎস এবং মূলধন বাজার উন্নয়ন গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করছে। ঘাটতি অর্থায়ন ও এর উৎসের মধ্যে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ ও ঋণের ঝুঁকি হ্রাসের দিকে নজর দিচ্ছে। উন্নয়ন প্রকল্পে রাজস্ব খাত থেকে অর্থায়ন বাড়িয়ে ঋণ নির্ভরতা হ্রাস করা এবং জিডিপির উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে ঋণ-জিডিপি অনুপাত কমিয়ে আনা এবং ফিসক্যাল স্পেস তৈরির মাধ্যমে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে টেকসই করা হবে।

তিনি বলেন, মূলধন গঠনে ব্যাংকিং খাতের পরিবর্তে পুঁজিবাজারকে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় কাঠামোগত সংস্কারের বিষয়ে আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে দিক নির্দেশনা দিয়েছি যা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বাজারে বিনিয়োগকারীদের ফিরিয়ে আনতে বিএসইসি-কে প্রকৃত স্বাধীনতা দেওয়া হবে এবং বাজার কারসাজির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত ১৫ বছরের অনিয়ম তদন্তে বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে।

বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান, ভোগ ও রাজস্বের স্বাভাবিক চক্রকে সচল করার মাধ্যমে সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত অর্থনীতিতে পরিণত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ আমাদের ওপর আস্থা রেখে আমাদের নির্বাচিত করেছে এবং সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটানোই হবে এই সরকারের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।’

বাঁশখালীতে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান, ডাম্পার ট্রাক জব্দ

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৬ পিএম
বাঁশখালীতে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান, ডাম্পার ট্রাক জব্দ

 

 

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে একটি ডাম্পার ট্রাক জব্দ করেছে। একই সঙ্গে পাহাড় কাটায় ব্যবহৃত একটি এক্সক্যাভেটর বিকল করে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে জেলা এনএসআই চট্টগ্রামের তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের লটমনি এলাকায় গড়ে ওঠা জেবিএম ও এএসসি নামের দুটি ইটভাটায় এ অভিযান পরিচালনা করেন বাঁশখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর সানি আকন।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে পাহাড় কাটার একাধিক আলামত পাওয়া গেলেও জড়িত কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে থাকা একটি ডাম্পার ট্রাক জব্দ করা হয় এবং পাহাড় কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সক্যাভেটর বিকল করে দেওয়া হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ওমর সানি আকন বলেন, “ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকটি পাহাড় কাটার স্পষ্ট আলামত পাওয়া গেছে। পাহাড় কাটায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে মামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
অভিযানকালে জেলা এনএসআই চট্টগ্রামের কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন এবং বাঁশখালী থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিলেন। অভিযান পরিচালনা কালে উপজেলা সহকারী প্রশাসন(ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ওমর সানি ়়আকন পাহাড় কাটা সহ জমির টপ সয়েল কাটা এবং মাদক, জুয়া, ইভটিজিং সহ সামাজিক যেকোন অপরাধের বিরোদ্ধে সাধারন জনগণের সচেতনতা কামনা করে বলেন, যেকোন সামাজিক অপরাধ নাগরিকদের দৃষ্ঠিগোচর হওয়ার সাথে সাথে প্রশাসনকে অবহিত করা উচিত। জনগনের সচেতনতা ও সহযোগিতা ছাড়া সামাজিক অপরাধ কমিয়ে ়আনা দুরহ ব্যাপার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধভাবে পাহাড় কাটা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। এতে পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং বর্ষা মৌসুমে ভূমিধসের ঝুঁকি বেড়ে যায়। পাশাপাশি পাহাড়ি বনাঞ্চল ধ্বংস হওয়ায় জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ে এবং স্থানীয় পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়ে।
এছাড়া পাহাড় কেটে মাটি সরিয়ে নেওয়ার ফলে আশপাশের বসতি ও সড়ক অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং বৃষ্টিপাতের সময় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের সম্ভাবনাও বাড়ে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অপরাধ বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানোর কথা জানানো হয়েছে।

যুদ্ধবিরতি করে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ এড়ালেন বঠে, তবে দিতে হচ্ছে চড়া মূল্য

এনামুল হক রাশেদীঃ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩২ পিএম
যুদ্ধবিরতি করে ট্রাম্প ইরান যুদ্ধ এড়ালেন বঠে, তবে দিতে হচ্ছে চড়া মূল্য

★ গত মঙ্গলবার সকালেও পরিস্থিতি অনেক জঠিল ছিল, ওই সময় ট্রাম্প ইরানি সভ্যতাকে চিরতরে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। যদি এই যুদ্ধবিরতি শেষ পর্যন্ত স্থায়ী শান্তিও আনে, তবু ইরান যুদ্ধ ও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য বিশ্ববাসীর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি বদলে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ এড়াতে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছেন। তবে এই সিদ্ধান্তে তিনি তাৎক্ষণিক সংকট থেকে রেহাই পেলেও রাজনৈতিকভাবে তাকে চড়া মূল্য দিতে হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের মত।

ওয়াশিংটন সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা ৩২ মিনিটে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি ‘চূড়ান্ত’ শান্তি চুক্তির পথে অনেক দূর এগিয়েছে। আলোচনার সুযোগ তৈরি করতেই তিনি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিয়েছেন।

এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, রাত ৮টার মধ্যে সমঝোতা না হলে ইরানের জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তেই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসে, যা পরিস্থিতিতে তীব্র স্নায়ুচাপ সৃষ্টি করেছিল।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে শর্তঃ

যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরানকে সব ধরনের সংঘাত বন্ধ করতে হবে এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রনালী পুরোপুরি খুলে দিতে হবে। ইরান এসব শর্ত মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছে, যদিও তারা বলছে—এই জলপথের ওপর তাদের ‘কর্তৃত্ব’ এখনো বজায় রয়েছে।

এই সমঝোতায় ট্রাম্প একটি কঠিন সংকট থেকে আপাতত রেহাই পেলেন। কারণ এর আগে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন—‘আজ রাতে একটি আস্ত সভ্যতা বিলীন হয়ে যেতে পারে।’ ফলে তাকে হয় যুদ্ধ শুরু করতে হতো, না হয় নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতো।

আলোচনার পথে দুই সপ্তাহঃ

আগামী দুই সপ্তাহ দুই দেশ আলোচনায় বসবে এবং একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করবে। যদিও বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনার পথ সহজ হবে না।

তবে যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে এবং মার্কিন শেয়ারবাজারের সূচকও বেড়েছে।

ট্রাম্পের বক্তব্যে সমালোচনার ঝড়ঃ

যুদ্ধবিরতির আগের দিনই ট্রাম্প ইরানি সভ্যতাকে ‘চিরতরে ধ্বংস করে দেওয়ার’ হুমকি দেন। এমন নজিরবিহীন বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

ডেমোক্র্যাট নেতা ও সিনেটর Chuck Schumer বলেন, রিপাবলিকানদের মধ্যে যারা এই যুদ্ধ থামানোর পক্ষে দাঁড়াবেন না, তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।

কংগ্রেস সদস্য জ্যাকুইন ক্যাস্ট্রো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, প্রেসিডেন্টের মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটছে এবং তিনি দেশ পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নন।

এমনকি রিপাবলিকান দলের মধ্যেও ভিন্নমত দেখা গেছে। জর্জিয়ার কংগ্রেস সদস্য অস্টিন স্কট বিবিসিকে বলেন, একটি সভ্যতা ধ্বংসের হুমকি দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ ছাড়া উইসকনসিনের সিনেটর রন জনসন বলেন, ট্রাম্প যদি হামলা চালিয়ে যেতেন, সেটি হতো ‘একটি বিরাট ভুল’। একই ধরনের অবস্থান নিয়েছেন আলাস্কার সিনেটর লিজা মারকুয়াস্কি।

ইরানের প্রতিক্রিয়াঃ

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সায়্যিদ আব্বাস আরগাছি জানিয়েছেন, ইরান আপাতত ‘প্রতিরক্ষামূলক অভিযান’ বন্ধ রাখবে। তবে হরমুজ প্রনালী দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে হলে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবের মূল কাঠামো মেনে নিয়েছে। এসব প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে রাখা।

সাময়িক স্বস্তি, স্থায়ী সমাধান নয়ঃ

বিশ্লেষকদের মতে, এই যুদ্ধবিরতি ট্রাম্পের জন্য আপাতত একটি রাজনৈতিক স্বস্তি এনে দিলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়। কারণ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের অবস্থা এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ওপর তেহরানের প্রভাবসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে দুই সপ্তাহের আলোচনায় পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকেই এখন নজর বিশ্ব রাজনীতির।

দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিনের প্রতিনিধিপ্রেসক্লাবের সভাপতির সম্মেলনে : ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ঢাকা

স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা: প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৮ পিএম
দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিনের প্রতিনিধিপ্রেসক্লাবের সভাপতির সম্মেলনে : ন্যায় প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ঢাকা

মানবাধিকার রক্ষা ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে “মানবাধিকার প্রতিদিন” পত্রিকার উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য প্রতিনিধি সম্মেলন, আলোচনা ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আগত প্রতিনিধিদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি হয়ে ওঠে প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর এবং তাৎপর্যপূর্ণ।
সম্মেলনের শুরুতেই মানবাধিকার বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি, সাংবাদিকতার নৈতিকতা এবং পেশাগত দায়বদ্ধতা নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত প্রামাণ্য উপস্থাপনা করা হয়। এতে বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার পরিস্থিতি, চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক প্রেসক্লাব ও ঢাকা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আওরঙ্গজেব কামাল। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,
“সত্য প্রকাশে নিরপেক্ষতা, আর শক্তিতে ঐক্য—এই দুটিই সাংবাদিকতার প্রাণ। মানবাধিকার রক্ষায় গণমাধ্যমের ভূমিকা আজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি আরও বলেন, “একজন সাংবাদিক শুধু খবর পরিবেশন করেন না, বরং সমাজের বিবেক হিসেবে কাজ করেন। তাই প্রতিটি সংবাদে সত্য, ন্যায় এবং মানবিকতা প্রতিফলিত হওয়া জরুরি। এ সময় তিনি আরো বলেন সাংবাদিকদের মান উন্নয়নের জন্য প্রতিটি সাংবাদিকের সরকারি ভাতার কাড চালু করতে হবে। বেশি বেশি সাংবাদিকদের সরকারি সুবিধা দিতে হবে এবং সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইফুল খান রুবেল, সিইও, ন্যাচারাল ভার্চু। তিনি বলেন,
“বর্তমান যুগ প্রযুক্তিনির্ভর। সঠিকভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার করলে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের এই দিকটি গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগাতে হবে।
তিনি প্রতিনিধিদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং আধুনিক সাংবাদিকতায় নিজেদের প্রস্তুত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মানবাধিকার গ্রুপের চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হাসান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন,
“মানবাধিকার শুধু একটি তাত্ত্বিক বিষয় নয়, এটি বাস্তব জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রযোজ্য একটি দায়িত্ব। সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায় ও সুবিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, “এই প্রতিনিধি সম্মেলন সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ঐক্য গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
সভায় বক্তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সাহসী ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার বিকল্প নেই। তারা বলেন, তথ্য যাচাই-বাছাই করে সত্য সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ভূমিহীন ও গৃহহীন হাউজিং লিমিটেডের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো: আজহার আলী, মো: কুতুব উদ্দিন প্রমুখ। এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আশা প্রতিনিধিরা তাদের নিজ নিজ এলাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেন। অনেকেই মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন, তা শেয়ার করেন এবং এর সমাধানে কেন্দ্রীয়ভাবে সহযোগিতা বৃদ্ধির দাবি জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারীরা মানবাধিকার রক্ষায় আরও সক্রিয় ও সংগঠিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সম্মেলন নিয়মিত আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সম্মেলনটি শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়, বরং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা ও সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠান শেষে সকলের দুপুরের মধ্যাহ্নভোজের যুক্ত হয়।

error: Content is protected !!