মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২
মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২

ইমামের প্রাপ্তি কি কেবলই বেতন নাকি আমাদের বিবেকের দায়বদ্ধতা?

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম | 43 বার পড়া হয়েছে
ইমামের প্রাপ্তি কি কেবলই বেতন নাকি আমাদের বিবেকের দায়বদ্ধতা?

সাবধান, ইমাম যেন বেশি টাকা না পায়

ঘটনা ১: ঈদের জামাত শেষে কমিটির এক প্রতিনিধি দাঁড়ালেন। জিজ্ঞেস করলেন, রুমাল কোনটা আগে চলবে? হুজুরেরটা নাকি মসজিদেরটা। তার ধারণা ছিল, লোকেরা বলবে, মসজিদেরটা। আর মসজিদের রুমালটা আগে চালালে তাতে টাকা বেশি হবে। দরকার তো মসজিদের। ইমামেরটাতে বেশি হবে কেন? কিন্তু মুসল্লিরা বললেন, ‘ইমাম সাহেবেরটা’। ইমামের রুমালে টাকা আসল ১২ হাজার আর মসজিদের রুমালে ১০ হাজার। কমিটির মন খারাপ। মসজিদের রুমালটা আগে চালাতে পারলে ২ হাজার টাকা বাড়ত। অথচ কমিটির কেউ দাঁড়িয়ে মানুষকে উৎসাহিত করেননি। বলেনি, আজ হাতখুলে দুটোতেই দান করব। ইমাম সাহেব শুধু মসজিদে দানের ফজিলত বললেন, নিজেকে দেবার কথা একটুও বললেন না।
বাংলাদেশের অনেক মসজিদেরই কমিটির মন এখনো অনেক সংকীর্ণ৷ সারাবছর যে ইমাম মসজিদের তহবিল বাড়াতে মনপ্রাণ উজাড় করে চেষ্টা করেন, তার জন্য ঈদের দিনেও একটু ছাড় দিতে পারে না৷ ঈদের দিনেও মসজিদের রুমাল চালাতেই হবে!
আচ্ছা, চালানো হোক, কিন্তু ইমাম সাহেবের রুমালটা আগে চললে মসজিদের টাকা কমে যাবে এ সংকীর্ণ চিন্তা কেন আসবে? তা আগেই চলুক মসজিদেরটা। একজন তো একটু দরদ নিয়ে দাঁড়িয়ে ইমামের অবদান, আন্তরিকতা ও তার প্রতি কর্তব্য বলতে পারেন। তা না করে ইমামের টাকা একটু বাড়লে কমিটির মন খারাপ হয়ে যায়। তাদের ধারণা, ইমাম সাহেবের এতটাকা লাগবে কেন? তাকে বেতন দিয়েছি ৮ হাজার, বোনাস ৪ হাজার, তারাবিহর ৫ হাজার। মোট ১৭ হাজার টাকা পেয়েছেন তিনি। আর কেন লাগবে? অন্যদিকে কমিটির শীর্ষ ব্যক্তিদের অনেকের চা-পানের খরচই ৮-১০ হাজার ইমামের বাসাভাড়া ৫ হাজার, স্ত্রী-সন্তান বাবামা সবাই তার হাতের দিকে তাকিয়ে আছে। অথচ এই ইমাম সবসময় মসজিদের টাকা বাড়াতে চেষ্টা করেন। ঈদের দিনে তাকে একটু বেশি হাদিয়া দিতে বললে মুসল্লিরা খারাপ চোখে দেখবে না। বরং ওই মসজিদের প্রতি মুসল্লিদের আন্তরিকতা বাড়বে।
ইমামের জন্য এভাবে টাকা তোলা অনেকের অপছন্দ। আমি এটাকেও সংস্কৃতির অংশ মনে করি৷ বাংলাদেশের ইমামদের এখনো বেশিরভাগই আর্থিক টানাপড়েনে থাকেন। তাদের ব্যাপারে সংকীর্ণতা নয়, উদারতা কাম্য।

ঘটনা ২: ইমাম সাহেবের আর্থিক অনটন নেই। এরপরও কমিটির সভাপতি এলেন ঈদের রাতে। বেতন, বোনাস, তারাবিহ সবমিলিয়ে ইমাম সাহেব যথেষ্ট সম্মানজনক হাদিয়া পেয়েছেন জেনেও ব্যক্তিগতভাবে ইমামকে একটি সম্মানজনক হাদিয়া দিলেন। ঈদ জামায়াতের পর সভাপতি দাঁড়ালেন। বললেন, ‘হুজুর সারাটি বছর আমাদের জন্য, মসজিদের আন্তরিকভাবে কাজ করেন। মসজিদের প্রতিটি কংক্রিট আর ইটবালুতে আমাদের যেমন অবদান, তাঁরও অনেক অবদান। আমাদের সবার জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত তার মমতার হাত থাকে। তার অবদানের বিনিময় টাকা দিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি চাইবেনও না, কিন্তু আমাদের তো উচিৎ তাকে সম্মানজনক সম্মানি দেওয়া…। প্রিয় ভাইয়েরা, আমরা তো ঈদ করছি আমাদের পরিবারের সাথে। আর আমাদের হুজুর পরিবারকে ছেড়ে, বাবামা সন্তানদের ছেড়ে আমাদের সঙ্গে ঈদ করছেন।
সারাবছরই তো মসজিদের জন্য তিনি কালেকশন করেন; আজকের দিনে প্রাণখুলে আমরা হাদিয়া দেব। নিজে ঈদ সম্মানি কালেকশনের রুমালে ১ হাজার টাকা দিলেন আর বললেন, সবাই আমরা একটু বেশি দেবা৷ চেষ্টা করব উভয় রুমালে ১০০+১০০ টাকা দিতে। আমি আপনাদের সবার জন্য বিশেষভাবে দোয়া করি। ঈদ মুবারক।’
২-৩ হাজার মুসল্লির জামাতে ইমাম সাহেবের রুমালে টাকা উঠল ৮৮ হাজার আর ইমামের রুমালের পরই মসজিদে দানের রুমাল ছিল তাতে টাকা আসল ৮০ হাজার। অন্য বছর দুটোতেই ২০-৩০ হাজার আসতো। এবার উভয় ফান্ডে টাকা প্রায় ৩ গুণ বাড়ল। টাকাটা কিন্তু সভাপতি একা দেননি, সবাই দিয়েছে। শুধু তার একটু আন্তরিকতার কারণে উভয়ই লাভবান হলো। ওই মসজিদ ঈদ জামাতের টাকার ৩ ভাগের দুইভাগ ইমাম পান। তিনি পেলেন ৫৮ হাজার। মুআজ্জিন পেলেন ২০ হাজার আর মসজিদের খাদেম ১০ হাজার। মসজিদের তহবিলেও যুক্ত হলো ৮০ হাজার।

বাস্তবতা: আন্তরিকতা থাকলে টাকার অভাব হয় না। সংকীর্ণতা দেখালে সবকিছু সংকোচিত হয়ে যায়।

স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও উখিয়ায় একটি শিশুপার্ক গড়ে ওঠেনি

সিরাজুল কবির বুলবুল উখিয়া প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪০ পিএম
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও উখিয়ায় একটি শিশুপার্ক গড়ে ওঠেনি

শিশুদের চিত্তবিনোদনের প্রধান আকর্ষণ হলো শিশুবিনোদন কেন্দ্র বা শিশুপার্ক। পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য যেমন খেলাধুলা প্রয়োজন তেমনি ছুটির দিনে চিত্তবিনোদনের জন্য একটি সুন্দর শিশুপার্ক প্রয়োজন। এটি বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে থাকলেও পর্যটন নগরী কক্সবাজার জেলার সীমান্তবর্তী শহর উখিয়া উপজেলায় নেই। স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিবাহিত হলেও এই বিষয়টি নিয়ে কোন সরকারি কিংবা বেসরকারি দপ্তর এগিয়ে আসেনি। প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি উখিয়া উপজেলা সীমান্তের পূর্ব পাশে মায়ানমার ও পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর তারই মাঝখানে গড়ে ওঠা তেরোটি পালংয়ের বিনিসুতোয় গাঁথা উখিয়া উপজেলা। শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতিতে কোন দিক দিয়ে পিঁছিয়ে নেই উখিয়া উপজেলা। ১৫ লক্ষ রোহিঙ্গা অধ্যুষিত উখিয়ার এই জনপদে নেই কোন বিনোদন নেই কোন আনন্দের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা।
শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য ছুটির দিনে সময় কাটানোর জন্য একটি চিত্তবিনোদন কেন্দ্র অর্থাৎ শিশুপার্ক অত্যান্ত প্রয়োজন।
এই বিষয়ে উখিয়া উপজেলার বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ,রাজনীতিবিদ,অধ্যাপক তহিদুল আলমের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি জানান শিশুপার্ক বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উখিয়ার শিশু,কিশোর, বয়োবৃদ্ধ মানুষের জন্য চিত্তবিনোদনের কোন ব্যবস্থা নেই, গত সতেরো বছর উন্নয়নের নামে আওয়ামীলীগ সরকার হরিলুট করেছে। চোখে পড়ার মতো কোন উন্নয়ন করেনি,আমি উখিয়া টেকনাফের মাননীয় সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর মাধ্যমে মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃষ্টি আকর্ষণ করছি উখিয়ায় শিশু কিশোর বয়োবৃদ্ধের আনন্দময় সময় কাটানোর জন্য একটি শিশুপার্ক একান্ত আব্যশক। এবং এটি সময়ের দাবি।
বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমার প্রাণেরদাবি দেশের প্রথম উন্নয়নটি উখিয়া থেকে শুরু হোক। একটি শিশুপার্ক উখিয়াবাসীর গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশার মধ্যে অন্যতম।

স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩৫ পিএম
স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপির কর্মসূচি ঘোষণা

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। আজ নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এসব কর্মসূচি তুলে ধরেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দিশেহারা জাতিকে নতুন পথ দেখিয়েছিল।

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের দিন ভোর ৫টায় সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই দিন ভোরে নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এ ছাড়া এর আগের দিন ২৫ মার্চ রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে দলের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখবেন।

সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, মহান স্বাধীনতা দিবস বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশকে এক স্বতন্ত্র পরিচয় দিয়েছে। বিগত সময়ে মানুষের সব স্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে গুম ও খুনের মাধ্যমে এক ভয়াবহ বন্দিদশা তৈরি করা হয়েছিল। যারা স্বাধীনতাকে দুর্বল করতে চেয়েছিল, তারা আজ পরাজিত।

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য নিজের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন। তাঁর ত্যাগের বিনিময়েই দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে। এখন মানুষ অন্তত নির্ভয়ে কথা বলতে পারছে। গঠনমূলক সমালোচনা করার পরও কেউ রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হচ্ছে না—এটিই নতুন বাংলাদেশের বড় অর্জন।’

তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের মানুষের সামনে যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, তা পূরণের লক্ষ্যে দেশ ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে। তবে সবকিছু গুছিয়ে নিতে কিছুটা সময় প্রয়োজন।’

নতুন গণতন্ত্রের এই পথচলায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা এখনো কুৎসা রটাচ্ছে, তাদের গায়ে ফ্যাসিবাদের তকমা লেগে যাবে।’

মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা

ফুলছড়িঘাটের বেড়িবাধে ঈদের দ্বিতীয় দিন বিনোদনপ্রেমীদের জনসমুদ্র

মোঃ রেজাদুল ইসলাম রেজা, গাইবান্ধা প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
ফুলছড়িঘাটের বেড়িবাধে ঈদের দ্বিতীয় দিন বিনোদনপ্রেমীদের জনসমুদ্র

পবিত্র ঈদ উপলক্ষে গাইবান্ধা সদর উপজেলার ফুলছড়ি বেড়িবাঁধ এলাকায় মানুষের ঢল নেমেছে। ঈদের দিন বিকেল থেকে শুরু করে দ্বিতীয় দিন রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো বেড়িবাঁধ এলাকা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকেই বেড়িবাঁধ ও নদীর পাড়ে ভিড় জমায়। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকে সেখানে ছবি তোলা, ঘোরাঘুরি আবার কেউ কেউ পরিবার সহ নৌকায় করে চড়ে ঘুরছে এবং কেউ আবারভআড্ডায় মেতে ওঠেন।

ফুলছড়ি বেড়িবাঁধ ও হাজিরহাট শাপলা চত্বরের আশপাশে অস্থায়ী দোকানপাট, ফুচকা, চটপটি ও আইসক্রিম বিক্রেতাদের ভিড়ও লক্ষ্য করা গেছে। এতে করে এলাকাটি এক প্রকার মেলায় পরিণত হয়। শিশুদের আনন্দ উচ্ছ্বাস ছিল দেখার মতো।

তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কিছুটা যানজটেরও সৃষ্টি হয়। স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন।

একজন দর্শনার্থীরা বলেন, “ঈদের আনন্দটা পরিবারের বাইরে বন্ধুদের সাথে ভাগাভাগি করতেই এখানে আসা। পরিবেশটা খুবই সুন্দর ও ভালো লাগার মতো।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ঈদের সময় এমন জনসমাগমকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

error: Content is protected !!