তাড়াশে খালকুলা আঞ্চলিক সড়কে বেহাল দশা জনদুর্ভোগ চরমে
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে খালকুলা বাজার সংলগ্ন আঞ্চলিক সড়কটি বহু বছর ধরে সংস্কারের অভাবে ভয়াবহ অবস্থায় পৌঁছেছে। খানাখন্দ, বড় বড় গর্ত, উঠে যাওয়া কার্পেটিং ও ছড়িয়ে থাকা পাথর-খোয়ার কারণে এই সড়কে চলাচল এখন সাধারণ মানুষের জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যানবাহন তো দূরের কথা, অনেক জায়গায় সাইকেল বা হেঁটে চলাও কষ্টসাধ্য।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তাড়াশ পৌর শহর থেকে খালকুলা পর্যন্ত প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে দীর্ঘদিন ধরেই কোনো কার্যকর সংস্কারকাজ হয়নি। প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করলেও বছরের পর বছর অবহেলায় পড়ে থাকায় দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। এলাকাবাসীর কাছে সড়কটি এখন ‘মৃত্যুর ফাঁদ’ নামেই পরিচিত।
জানা গেছে, এলজিইডি-র আওতাধীন এই সড়কটি বাস, সিএনজি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ ভারী যানবাহন চলাচলের একমাত্র ভরসা। কিন্তু কার্পেটিং উঠে গিয়ে নিচের পাথর-বালু বেরিয়ে এসেছে, বৃষ্টির পানি জমে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত, যা দীর্ঘদিন শুকায় না। ফলে প্রতিদিনই দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে পথচারী ও চালকদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পানি জমে গর্ত বোঝা না যাওয়ায় প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে, কখনো কখনো যানবাহন উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে। দ্রুত সংস্কার না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, সড়কটির পূর্ণ সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।
অন্যদিকে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান জানান, বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিঠিপত্র পাঠানো হয়েছে। দ্রুত অনুমোদন মিললে সংস্কারকাজ শুরু হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কটি দ্রুত সংস্কার করে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় প্রতিদিনের দুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা তাদের।

















