আনোয়ারা পি,এ,বি সড়কে সিএনজির দাপট
কর্ণফুলী টানেল ও শিল্পকারখানাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ চলাচলের পথ আনোয়ারা পি,এ,বি সড়কে সিএনজি অটোরিকশার দাপটে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও বৈধ কাগজপত্রবিহীন এবং নাম্বারপ্লেট ছাড়া বিপুলসংখ্যক সিএনজি অটোরিকশা এ সড়কে চলাচল করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা-বাঁশখালী পি,এ,বি সড়কে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার সিএনজি অটোরিকশা চলাচল করে। এর মধ্যে অনেক গাড়ির প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন চালক অভিযোগ করেন, বৈধ কাগজপত্র না থাকলেও মাসিক ‘কোটা’ দিলে নির্বিঘ্নে গাড়ি চালানো যায়।
চালকদের দাবি, প্রতি মাসে ৫০০ টাকা করে দিতে হয়। মাসিক অর্থ না দিলে ট্রাফিক মামলা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তারা। চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, চাতরী চৌমুহনী ট্রাফিক ইনচার্জ টি আই আবুল কালাম আজাদের তদারকিতে কোনো রশিদ বা টোকেন ছাড়াই নাম ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে অর্থ আদায় করা হয়। তার ব্যক্তিগত কয়েকজন লোকের মাধ্যমে এ অর্থ সংগ্রহ করা হয় বলেও অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগ রয়েছে, মাসিক চাঁদা দেওয়ার পর অনেক চালক বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সড়কের মাঝখানে এলোমেলোভাবে গাড়ি দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করান। ফলে দিন-রাত লেগেই থাকে যানজট।
আনোয়ারা এলাকায় অবস্থিত Chinese Economic Zone, Chittagong Urea Fertilizer Limited, KAFCO এবং Korean Export Processing Zone-সহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক ও কর্মকর্তা যাতায়াত করেন। চট্টগ্রাম নগরীসহ আনোয়ারা, কর্ণফুলী, বাঁশখালী, সাতকানিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ, চকরিয়া, পেকুয়া ও কক্সবাজার এলাকা থেকে কর্মজীবী মানুষ সিএনজি, বাস, মাইক্রো ও জিপযোগে কর্মস্থলে যাতায়াত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিয়মিত অর্থ লেনদেনের কারণে সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো যাচ্ছে না। দীর্ঘ যানজটে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় শ্রমিক, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ট্রাফিক ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ না করে কেটে দেন।
স্থানীয়রা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।














