৩০টি আসনে জয়ীদের শপথ স্থগিতে আইনি পদক্ষেপ নেবে জামায়াত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অন্তত ৩০টি আসনের ফলাফল জালিয়াতির অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে এসব আসনের ফল স্থগিত রেখে পুনর্গণনা ও নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে দলটি।
আজ শনিবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানিয়েছেন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ও মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা প্রায় ৩০টি আসনে চরম অব্যবস্থাপনা দেখেছি। যেখানে ভোট জালিয়াতি হয়েছে, কারচুপি হয়েছে। ফলাফলের যে সমস্ত কাগজগুলো তাঁরা দিয়েছেন সেখানে ওভার রাইটিং হয়েছে, ঘষামাজা হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা হয়েছে।’
কিছু কিছু আসনে ভোটের রেজাল্ট দিতে মারাত্মকভাবে দেরি হয়েছিল উল্লেখ করে জুবায়ের বলেন, ‘যেমন ঢাকার কয়েকটি আসনে আমরা ভোর ৫টার সময় গিয়ে নির্বাচনের রেজাল্ট পেয়েছি, অথচ আরও কিছু কিছু আসনে বিদ্যুৎ গতিতে রেজাল্ট দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট কিছু আচরণ হয়েছে, সে আচরণগুলো আমরা আপনাদের সামনে আজকে তুলে ধরব।’
এ আসনগুলো নিয়ে স্থানীয়ভাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা অথবা ঊর্ধ্বতন অফিসার যাঁরা আছেন, তাঁদের জানানোর কথা বলেন এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, ‘নতুন করে ভোট গণনার জন্য আমরা সেখানে সংশ্লিষ্ট যাঁরা আছেন, তাঁদের আহ্বান জানিয়েছি যাতে তাঁরা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করে। আমরা এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকেও জানিয়েছি। তাদের কাছে আমরা এটা পৌঁছাব এবং এই ব্যাপারে সম্ভাব্য সব ধরনের আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ আমাদের আছে। আমরা সে সমস্ত আইনি পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করব।’
নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ১১ দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ এনে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম যে ফ্যাসিবাদের সময় যে ধরনের আচরণ হয়েছিল, নতুন এই বাংলাদেশে এই ধরনের কিছু ঘটবে না। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে একের পর এক নির্বাচন-পরবর্তী এই ধরনের ঘটনাগুলো ঘটছে এবং এ ব্যাপারে যাঁরা সর্বাধিক আসন পেয়েছেন তাঁদের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ আমরা দেখতে পাচ্ছি না।’
সংবাদ সম্মেলনে দলের আরেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, ‘৩০টি আসনে ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে নানা রকম অনিয়ম ও সমস্যা হয়েছে, সেগুলোর প্রাথমিক একটি তালিকা আমরা আপনাদের সামনে নিয়ে এসেছি। এগুলোতে স্থানীয় রিটার্নিং অফিসার পর্যায়ে আমাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং ভোট পুনর্গণনার জন্য আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এরই মধ্যে গেজেট প্রকাশ করা হয়ে গেছে।’
মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘এখন আমরা এগুলো নির্বাচন কমিশন পর্যায়ে এবং পরবর্তীতে আইনি যে সমস্ত প্রক্রিয়া আছে, সেসব প্রক্রিয়ায় আমাদের বক্তব্য রেখে আসনগুলোর ফলাফল স্থগিত রাখা এবং পুনর্গণনার মধ্য দিয়ে নতুনভাবে ফলাফল ঘোষণা করার জন্য আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের আবেদনের মধ্যে আরেকটি দিক আছে—ফলাফল বাতিল এবং পুনর্গণনার আবেদনের পাশাপাশি ইতিমধ্যে ঘোষিত গেজেট অনুযায়ী তাদের যেন শপথ না দেওয়া হয়, সেই শপথ স্থগিত রাখার জন্য আমাদের আবেদন আছে। এটি আমরা ইলেকশন কমিশন পর্যায়ে অবহিত করব।’
জামায়াতের এই সহকারী সেক্রেটারি বলেন, ‘যে আসনগুলো আমরা প্রাথমিক পর্যায়ে এনেছি এবং ভবিষ্যতে আরও আসবে। আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২; দিনাজপুর-৩; দিনাজপুর-৫; লালমনিরহাট-১; লালমনিরহাট-২; গাইবান্ধা-৪; বগুড়া-২ ; বগুড়া-৩; সিরাজগঞ্জ-১; যশোর-৩; খুলনা-৩ এবং খুলনা-৫।
হেলাল বলেন, ‘আমাদের সেক্রেটারি জেনারেলের আসনসহ প্রতিটি আসন থেকে আমরা নিশ্চিত বিজয়ের বার্তা পাচ্ছিলাম, কিন্তু সেগুলোকে এই প্রক্রিয়ায় ভিন্নভাবে নেওয়া হয়েছে। আমরা আশা করি পুনর্গণনা হলে এগুলো ফিরে আসবে।’
তালিকায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, বরগুনা-১; বরগুনা-২; ঝালকাঠি-১; পিরোজপুর-২; ময়মনসিংহ-৬; ময়মনসিংহ-৮; ময়মনসিংহ-১০ এবং কিশোরগঞ্জ-৩।
মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল বলেন, ঢাকার আসনগুলোর মধ্যে ঢাকা-৬; ঢাকা-৮; ঢাকা-১০; ঢাকা-১৩—যেটি মামুনুল হকের আসন এবং ঢাকা-১৭।
এ ছাড়া গোপালগঞ্জ-২; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২; চাঁদপুর-৪; চট্টগ্রাম-১৪—এটি অলি আহমেদের ছেলের, যেখানে প্রায় ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর ঘষামাজা করে তাঁকে পরাজিত করা হয়েছে এবং কক্সবাজার-৪।
হেলাল বলেন, ‘এভাবে ভোটের ফলাফলকে ম্যানিপুলেট করে অন্যকে জিতিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা আপনাদের মাধ্যমে জাতিকে জানাতে চাই যে এখানে পুনর্গণনা করলেই সত্য প্রকাশিত হবে এবং নিশ্চিত বিজয়ী যাদের পরাজিত করা হয়েছে, তাঁরা বিজয়ী হয়ে আসবেন।’














