বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২

জেমস আব্দুর রহিম রানা

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ: নিরাপত্তার নামে গণতন্ত্রকে নীরব করার আয়োজন

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১০ পিএম | 38 বার পড়া হয়েছে
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষিদ্ধ: নিরাপত্তার নামে গণতন্ত্রকে নীরব করার আয়োজন

ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তটি কেবল অযৌক্তিকই নয়, এটি সরাসরি নাগরিক অধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

নিরাপত্তার অজুহাতে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত বাস্তবে ভোটারকে আরও অনিরাপদ করে তুলছে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ দাঁড়ায়—ভোট দিতে যেতে হলে একজন নাগরিককে নিজের মোবাইল ফোন ঘরে রেখে যেতে হবে। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় এমন নির্দেশনা শুধু অবাস্তবই নয়, বরং ভয়ংকরও। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি, সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হলে ভোটার কিংবা সংশ্লিষ্ট কেউ তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে জানাতে পারবে না। এটি ভোটাধিকার প্রয়োগকে উৎসাহিত করার বদলে নিরুৎসাহিত করবে—বিশেষ করে নারী, বয়স্ক ও নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করা ভোটারদের ক্ষেত্রে।
এর চেয়েও উদ্বেগজনক হলো, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে মোজো সাংবাদিকতা ও সিটিজেন জার্নালিজমকে কার্যত নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গত এক দশকে দেখা গেছে, নির্বাচনী অনিয়ম, কেন্দ্র দখল, জাল ভোট কিংবা প্রভাব বিস্তারের মতো ঘটনাগুলোর অনেকটাই প্রথম সামনে এসেছে সাধারণ মানুষের বা মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকদের মোবাইল ভিডিওর মাধ্যমে। সিসি ক্যামেরা থাকলেও সেগুলো নিয়ন্ত্রিত, অনেক সময় অকার্যকর এবং তাৎক্ষণিক জনসমক্ষে আসে না। বরং ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনই ছিল গণতন্ত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী ও স্বতঃস্ফূর্ত নজরদারি মাধ্যম।
প্রশ্ন হলো—যদি নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়, তবে মোবাইল ফোনে ভয় কোথায়? অনিয়ম বা জালিয়াতির কোনো ইচ্ছা না থাকলে এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনই বা কেন? বরং এই নিষেধাজ্ঞা সেই সন্দেহকেই জোরালো করে যে, ভোটকেন্দ্রে কী ঘটছে তা জনসমক্ষে আসুক—এটা কেউ চায় না।
এটি কোনো বিচ্ছিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; বরং গণতন্ত্রকে ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণের একটি অংশ বলেই প্রতীয়মান হয়। সংবাদপত্র, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজের চোখ-কান বন্ধ রাখলে নির্বাচন যে প্রশ্নবিদ্ধ হবে—সে বাস্তবতা নির্বাচন কমিশনের অজানা থাকার কথা নয়। তবু এমন সিদ্ধান্ত কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতার প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে।
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নির্বাচন কমিশনের কাজ ক্ষমতাকে রক্ষা করা নয়, ভোটারকে সুরক্ষা দেওয়া। মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করে সেই সুরক্ষার জায়গাটিকেই দুর্বল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে এটি শুধু ভোটার বিমুখতা বাড়াবে না, ভবিষ্যতে নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি আস্থার শেষ অবশিষ্ট অংশটুকুও ক্ষয় করবে।
অতএব, অবিলম্বে ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধাহীন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ মুক্ত গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিক নজরদারি ছাড়া কোনো নির্বাচনই প্রকৃত অর্থে সুষ্ঠু হতে পারে না।
নির্বাচন কমিশনের মনে রাখা প্রয়োজন—নীরবতা কখনোই গণতন্ত্রের নিরাপত্তা নয়; বরং তা স্বৈরতন্ত্রের সবচেয়ে বিশ্বস্ত সহচর।

লেখক: জেমস আব্দুর রহিম রানা
সিনিয়র গণমাধ্যমকর্মী ও কলামিস্ট।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বিএম‌এস‌এফ, ঢাকা।
মোবাইল: ০১৩০০৮৩২৮৬৮

আমীরে জামায়াতের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৩ এএম
আমীরে জামায়াতের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইজাবস এর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠককালে তারা বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার ব্যাপারে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঘনিষ্টভাবে কাজ করবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করার ব্যাপারে তারা একমত পোষণ করেন।
এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আশ্বাস প্রদান করা হয় যে, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউনিয়নের ২০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কাজ করবে।
ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইইউনিয়ন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
আমীরে জামায়াতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ এবং আমীরে জামায়াতের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।

রাজশাহীতে ভুটভুটি ও বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত-২

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:০২ এএম
রাজশাহীতে ভুটভুটি ও বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত-২

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার তাহেরপুর রোডে বালুবাহী ট্রাকের সাথে ভুটভুটির সংঘ*র্ষে দুইজন নি*হ*ত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে আটটার দিকে এই দুর্ঘ*টনা ঘটে।
পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানান, বালুবাহী ট্রাকটি পুঠিয়া থেকে তাহেরপুরের দিকে যাচ্ছিল। পুঠিয়া পৌরসভার গন্ডগোহালী গ্রামের নিমতলা এলাকায় বিপরীত দিকে থেকে আসা একটি ভুটভুটির সাথে ট্রাকটির (কুষ্টিয়া-ট-১১-০২১৬) মুখোমুখি সংঘ*র্ষ হয়। এ ঘটনায় নসিমনে থাকা শ্রমিক রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম শেখপাড়া এলাকার নাহিম ও হামিম নি*হ*ত হন। তারা শহর থেকে পুঠিয়ায় মুরগি কিনতে এসেছিলেন।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় জনতা ট্রাকচালক মিন্টুকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মুরগি ব্যবসায়ী মামুন হোসেন বলেন, আমার গাড়ির দুজন লোক মারা গেছে। প্রায় দেড় লাখ টাকার মুরগি ছিল। আমার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।

এক বছরে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৭ এএম
এক বছরে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা

এক বছরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার ৩৯২ টাকার। এক বছর আগের অর্থ বছরে তাঁর সম্পদ ছিল ১৪ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকার। বিদায়ী অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা। সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদি আমানতে বৃদ্ধি, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ার ইত্যাদি কারণে মোট সম্পদ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বাড়লেও এক বছরে কমেছে তাঁর স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের সম্পদ। এক বছরে তাঁর সম্পদ কমেছে ৮৪ লাখ ১৩ হাজার ৯১৪ টাকা। এক বছর আগের অর্থ বছরে তাঁর ২ কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকা। বিদায়ী অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকা।
মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।