সাব্বির আলম বাবু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ
পরিবেশবান্ধব ও নির্মানশৈলীর অপূর্ব নির্দশন চরফ্যাশন খাসমহল মসজিদ
পরিবেশবান্ধব নির্মাণশৈলী অপূর্ব নিদর্শন ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলায় অবস্থিত কেন্দ্রীয় খাসমহল মসজিদ। সিরামিক ইটের গাঁথুনিতে পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে গড়া মসজিদটিতে একসঙ্গে প্রায় সাড়ে চার হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। মুসল্লিদের জন্য রয়েছে প্রয়োজনীয় সকল সুযোগ-সুবিধা। ৯০ বছর আগে ব্রিটিশদের গড়া পরিকল্পিত জনপদ ভোলার চরফ্যাশন শহরের প্রাণকেন্দ্রে জ্যাকব টাওয়ারের পাশে নির্মিত এই মসজিদটি।
নির্মাণশৈলী সিরামিক ইটের গাঁথুনির ফাঁকে ফাঁকে নির্মল বাতাস ও উপরে মাকড়সা আকৃতির কাঁচের গম্বুজ ভেদ করে সূর্যের আলোকরশ্মি ছড়াচ্ছে মসজিদ জুড়ে। ভিতর বাহিরে নান্দনিক লাইটিং আর প্রকৃতিবান্ধব নির্মাণ শৈলীর ডিজাইন এই মসজিদ মেলবন্ধনে আবদ্ধ করেছে ইসলাম প্রিয় ধর্মপ্রাণ মানুষকে। মসজিদটির ভেতরে প্রাকৃতিকভাবেই আলো-বাতাসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো ধরনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ইটের ফাঁকে ফাঁকে নির্মল বাতাস এবং বৈদ্যুাতিক ফ্যানের বাতাসেই পুরো মসজিদ শীতল থাকবে। কোনো ধরনের চাকচিক্য ছাড়াই মসজিদটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এর ভেতরে ঢুকলে প্রাকৃতিক পরিবেশের ছোঁয়ায় যে কারো মন ভালো হয়ে যায়। ভূগর্ভস্থ মেঝেসহ চারতলা বিশিষ্ট মসজিদটিতে একসঙ্গে সাড়ে চার হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারে। আলাদা প্রবেশ পথসহ ৫০০ নারীর নামাজ আদায়ের ব্যবস্থাও আছে এই মসজিদে। মসজিদের ছাদে বিশাল আকৃতির কাচের গম্বুজ স্থাপন করা হয়েছে। ফলে দিনের বেলায় ভেতরে বৈদ্যুতিক বাতি জ্বালানোর প্রয়োজন হয় না। রয়েছে ইমাম ও মুয়াজ্জিনের থাকার ব্যবস্থাসহ দুই শতাধিক লোকের অজু, গোসল ও টয়লেটের ব্যবস্থা।
জানা গেছে, ২০১৮ সাল থেকে মসজিদটি নির্মাণ করতে পাঁচ বছর সময় লেগেছে। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। উপজেলা পর্যায়ে বাংলাদেশে এই প্রথম নারীদের নামাজের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এই মসজিদে। বর্তমানে এই মসজিদে জুমার নামাজের ইমামতি করেন মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন।
চরফ্যাশন পৌর প্রকৌশলী শামিম হাসান জানান, ভোলা জেলা পরিষদের উদ্যোগে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এই মসজিদের নকশা করেছেন ভোলার কৃতী সন্তান স্থপতি এ. কে. এম কামরুজ্জামান লিটন।
নির্মিত এই মসজিদ ১৭ হাজার বর্গফুট জায়গায় নির্মাণ করা হয়। পরিবেশবান্ধব রাখতে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন স্টোন চিপসের সমন্বয়ে সাদা সিমেন্টের প্লাস্টার করা হয়েছে। এই প্লাস্টার ১০০ বছরের বেশিও স্থায়ী হবে। নির্মাণ ব্যয়ের ২৫ কোটি টাকার মধ্যে চরফ্যাশন পৌরসভার নিজস্ব তহবিল থেকে ১০ কোটি টাকা ব্যয় করে জ্যাকব টাওয়ার ও খাসমহল মসজিদের আশপাশে ওয়াকওয়ে ও ফুলের বাগান করা হয়েছে।
মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গত দুই মাস ধরে এ মসজিদে খতিব হিসেবে আমি আছি। আল্লাহর এই ঘরটি আমার কাছে বেশ ভালো লাগে। খুব মনোরম এবং নান্দনিকভাবে মসজিদটি তৈরি করা হয়েছে। মসজিদটি খোলামেলা হওয়ায় নামাজ আদায় করেও স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন মুসল্লিরা। রমজান মাসে তারাবিসহ প্রতি ওয়াক্তে নামাজ আদায় করতে মুসল্লিদের ব্যাপক আগমন ঘটে মসজিদে।











