বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২

এস এম শিমুল কলেজ শিক্ষক, লেখক-সাহিত্যিক ও ফিচার কলামিস্ট

তিন বোনের মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি: অনলাইন গেমের মরণফাঁদ ও বিপন্ন শৈশব

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩০ পিএম | 72 বার পড়া হয়েছে
তিন বোনের মর্মান্তিক ট্র্যাজেডি: অনলাইন গেমের মরণফাঁদ ও বিপন্ন শৈশব

​ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডি। গত বুধবার একই পরিবারের তিন নাবালিকা বোন—বিশিকা (১৬), প্রাচী (১৪) ও পাখি (১২) একটি ৯ তলা ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে একসঙ্গে আত্মহত্যা করেছে। এই নিথর দেহগুলো শুধু তিনটি কিশোরীর মৃত্যু নয়, বরং আধুনিক ডিজিটাল সভ্যতার এক চরম পরাজয়ের দলিল। তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক ভয়াবহ সত্য—এই তিন বোন একটি কোরিয়ান অনলাইন গেমের প্রতি মারাত্মকভাবে আসক্ত ছিল। করোনাকালে শুরু হওয়া সেই আসক্তি তাদের এতটাই গ্রাস করেছিল যে, তারা স্কুল ছেড়ে দিয়ে নিজেদের বাস্তব সত্তা ভুলে গেমের চরিত্রের নামে নিজেদের পরিচয় দিতে শুরু করেছিল। তাদের এই মর্মান্তিক প্রস্থান আমাদের জন্য রেখে গেছে এক গভীর শোক ও কঠিন সতর্কবার্তা।

​গভীর অণুবীক্ষণ পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এই আসক্তি কোনো সাধারণ শখ ছিল না; এটি ছিল এক ধরনের ‘ডিজিটাল হিপনোটিজম’ বা ভার্চুয়াল সম্মোহন। গেমের আসক্তির কারণে তাদের জীবনযাপন হয়ে পড়েছিল অস্বাভাবিকভাবে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। খাওয়া, ঘুমানো, গোসল—সবই তারা একসঙ্গে করত। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, যখন বাস্তব জগতের চেয়ে ভার্চুয়াল জগত কোনো কিশোর বা কিশোরীর কাছে বেশি অর্থবহ হয়ে ওঠে, তখন তারা বাস্তব বিচারবুদ্ধি হারিয়ে ফেলে। এই তিন বোনের ক্ষেত্রেও হয়তো গেমের কোনো কাল্পনিক জগত তাদের প্ররোচিত করেছিল মৃত্যুর মধ্য দিয়ে নতুন কোনো ‘লেভেল’ বা স্তরে পৌঁছাতে। ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটে কান্নার ইমোজিসহ লেখা ছিল— “Sorry, Baba”। এই দুটি শব্দে যেমন বাবার প্রতি ভালোবাসা আছে, তেমনি লুকিয়ে আছে এক অসহায় অন্ধকার থেকে মুক্তি পাওয়ার আকুতি।

​এই ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, শিশু ও কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং গেম আসক্তি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। করোনাকালীন ঘরবন্দি সময় সন্তানদের হাতে আমরা যে মোবাইল তুলে দিয়েছিলাম, তা আজ অনেকের জন্য মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সন্তানকে শাসন করার আগে তাদের বুঝতে শেখা এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। পরিবারে প্রায়ই এ নিয়ে কলহ হতো বলে জানা গেছে; কিন্তু সেই কলহ তাদের গেম থেকে ফেরাতে পারেনি, বরং হয়তো আরও বেশি কোণঠাসা করে তুলেছিল। আমাদের বুঝতে হবে, প্রযুক্তির নেশা থেকে সন্তানকে ফেরাতে হলে ধমক নয়, বরং তাদের সময় দেওয়া এবং বিকল্প বিনোদন তৈরি করা জরুরি।

​ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি এই লেখনীর মাধ্যমে আমার বিশেষ বার্তা—জীবন কোনো অনলাইন গেম নয় যে ‘রিস্টার্ট’ করা যাবে। জীবন এক অনন্য উপহার, যা একবার হারিয়ে গেলে আর ফিরে পাওয়া যায় না। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভার্চুয়াল জগতের মায়া কাটিয়ে বাস্তব পৃথিবীর ঘাস, মাটি আর মানুষের স্পর্শে ফিরে আসতে হবে। অভিভাবকদের প্রতি বিনীত অনুরোধ—সন্তানের হাতে শুধু মোবাইল নয়, নিজের অমূল্য সময় দিন। তাদের কথা শুনুন, তাদের বন্ধু হওয়ার চেষ্টা করুন। সন্তানদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করুন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে, তবে তা যেন নজরদারি না হয়ে সহমর্মিতা হয়।

​গাজিয়াবাদের এই তিন বোনের মৃত্যু যেন শেষ শোকবার্তা হয়। আমাদের সচেতনতার অভাবে আর কোনো কিশোর-কিশোরী যেন এভাবে আত্মাহুতির পথ বেছে না নেয়। দেরি হওয়ার আগেই আমাদের সমাজ, রাষ্ট্র ও পরিবারকে সচেতন হতে হবে। সন্তানের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া এখন বিলাসিতা নয়, বরং সময়ের দাবি। শোকাহত এই পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং আশা করি এই ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা আমাদের আগামী প্রজন্মকে সুস্থ ও সুন্দর শৈশব ফিরিয়ে দিতে সচেষ্ট হব।

আমীরে জামায়াতের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৩ এএম
আমীরে জামায়াতের সঙ্গে ইইউ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধানের সৌজন্য সাক্ষাৎ

১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকাল ১১টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সম্মানিত আমীর ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের প্রধান পর্যবেক্ষক ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্য ইভারস ইজাবস এর নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকটি অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠককালে তারা বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার ব্যাপারে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঘনিষ্টভাবে কাজ করবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া বাংলাদেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও শক্তিশালী ও টেকসই করার ব্যাপারে তারা একমত পোষণ করেন।
এ সময় ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আশ্বাস প্রদান করা হয় যে, বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউনিয়নের ২০০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল কাজ করবে।
ভবিষ্যতে ইউরোপীয় ইইউনিয়ন ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
আমীরে জামায়াতের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, জামায়াতের ইউরোপের মুখপাত্র ব্যারিস্টার আবু বকর মোল্লা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. যুবায়ের আহমেদ এবং আমীরে জামায়াতের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মাহমুদুল হাসান।

রাজশাহীতে ভুটভুটি ও বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত-২

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:০২ এএম
রাজশাহীতে ভুটভুটি ও বালুবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত-২

রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার তাহেরপুর রোডে বালুবাহী ট্রাকের সাথে ভুটভুটির সংঘ*র্ষে দুইজন নি*হ*ত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে আটটার দিকে এই দুর্ঘ*টনা ঘটে।
পুঠিয়া থানার ওসি ফরিদুল ইসলাম জানান, বালুবাহী ট্রাকটি পুঠিয়া থেকে তাহেরপুরের দিকে যাচ্ছিল। পুঠিয়া পৌরসভার গন্ডগোহালী গ্রামের নিমতলা এলাকায় বিপরীত দিকে থেকে আসা একটি ভুটভুটির সাথে ট্রাকটির (কুষ্টিয়া-ট-১১-০২১৬) মুখোমুখি সংঘ*র্ষ হয়। এ ঘটনায় নসিমনে থাকা শ্রমিক রাজশাহী নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম শেখপাড়া এলাকার নাহিম ও হামিম নি*হ*ত হন। তারা শহর থেকে পুঠিয়ায় মুরগি কিনতে এসেছিলেন।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে স্থানীয় জনতা ট্রাকচালক মিন্টুকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে।
এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মুরগি ব্যবসায়ী মামুন হোসেন বলেন, আমার গাড়ির দুজন লোক মারা গেছে। প্রায় দেড় লাখ টাকার মুরগি ছিল। আমার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।

এক বছরে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৭ এএম
এক বছরে প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা

এক বছরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সম্পদ বেড়েছে ১ কোটি ৬১ লাখ ৪ হাজার ৩৯২ টাকার। এক বছর আগের অর্থ বছরে তাঁর সম্পদ ছিল ১৪ কোটি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৬৭৩ টাকার। বিদায়ী অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৫ টাকা। সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদি আমানতে বৃদ্ধি, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ার ইত্যাদি কারণে মোট সম্পদ বেড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টার সম্পদ বাড়লেও এক বছরে কমেছে তাঁর স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের সম্পদ। এক বছরে তাঁর সম্পদ কমেছে ৮৪ লাখ ১৩ হাজার ৯১৪ টাকা। এক বছর আগের অর্থ বছরে তাঁর ২ কোটি ১১ লাখ ৭৭ হাজার ২৭৪ টাকা। বিদায়ী অর্থবছরে তা কমে হয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ৩৬০ টাকা।
মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।