খোকন হাওলাদার, সাভার (ঢাকা) প্রতিনিধি
২১শে ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ৮ই ফাল্গুনকে ভাষা শহীদ দিবস হিসেবে স্বীকৃতির দাবি
২১শে ফেব্রুয়ারীর পরিবর্তে বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী ৮ই ফাল্গুনকে ভাষা শহীদ দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে বাংলাদেশ হাইকোর্ট ও জাতীয় শিক্ষা অধিকার চত্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ভাষা আন্দোলনের চেতনায় উদ্বুদ্ধ নাগরিক মোঃ নস্কর আলী।
সোমবার (২রা ফেব্রুয়ারি) দুপুর আনুমানিক ১২টার সময়ে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে তিনি বলেন, “বাংলা আমাদের রাষ্ট্রভাষা, জাতীয় পরিচয় ও স্বাধীনতার মূল ভিত্তি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে আমরা আজও ভাষা শহীদদের স্মরণ করি ইংরেজি তারিখে—২১শে ফেব্রুয়ারি হিসেবে। অথচ ১৩৫৮ বঙ্গাব্দের ৮ই ফাল্গুনেই সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ নাম না জানা বহু শহীদ মাতৃভাষা বাংলার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। এই দিনটি বাংলায় পালন না করা শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে প্রতারণার শামিল।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় ভাষা হিসেবে বাংলার সাংবিধানিক স্বীকৃতি থাকলেও প্রশাসন, বিচারব্যবস্থা, উচ্চশিক্ষা, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যখাত ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বাংলার পূর্ণাঙ্গ ও বাধ্যতামূলক ব্যবহার আজও নিশ্চিত হয়নি। এর ফলে সাধারণ জনগণ সরকারি সেবা গ্রহণে নানাবিধ জটিলতা ও হয়রানির মুখে পড়ছে।
মোঃ নস্কর আলী জানান, বাংলা ভাষার সর্বক্ষেত্রে বাস্তবায়নের দাবিতে তিনি ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ সালে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন, যার নম্বর ২০৮৬/২০২০। পিটিশনে ২১শে ফেব্রুয়ারীসহ সকল জাতীয় দিবসে বাংলার বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ৮ই ফাল্গুনকে ভাষা শহীদ দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আবেদন জানানো হয়। তবে দীর্ঘ প্রায় ছয় বছরেও মামলাটির নিষ্পত্তি হয়নি বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “আদালতের প্রতি সবিনয় আবেদন—আগামী ৮ই ফাল্গুনের আগেই যেন মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। এই দাবিতেই আজকের অবস্থান কর্মসূচি।”
অবস্থান কর্মসূচিতে তিনি যে দাবিসমূহ উত্থাপন করেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— সকল জাতীয় দিবস ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে বাংলা পঞ্জিকা অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা। ২১শে ফেব্রুয়ারীর নাম পরিবর্তন করে ৮ই ফাল্গুন ভাষা শহীদ দিবস ঘোষণা। একুশে বই মেলার নাম পরিবর্তন করে ‘৮ই ফাল্গুন বই মেলা’ নামকরণ। একুশে পদকের নাম পরিবর্তন করে ‘ভাষা শহীদ পদক’ করা। সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বাংলা সন, তারিখ ও ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা। সকল পণ্যের মোড়কে, সাইনবোর্ড, ব্যানার, লিফলেট ও প্রচারপত্রে বাংলা ভাষার বাধ্যতামূলক ব্যবহার। বাংলা ভাষা ব্যবহার না করলে আইনানুগ শাস্তি ও জরিমানার বিধান প্রণয়ন।
কর্মসূচি চলাকালে তিনি লিফলেট বিতরণ করেন এবং বলেন, “বাংলা ভাষা সর্বক্ষেত্রে বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে দেশব্যাপী আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে।”
বাংলা ভাষার মর্যাদা, নাগরিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব বাস্তবায়নের প্রশ্নে এই কর্মসূচি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।














