রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২
রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৪ চৈত্র ১৪৩২

স্মৃতির নীলাঞ্জনা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:২২ পিএম | 50 বার পড়া হয়েছে
স্মৃতির নীলাঞ্জনা

প্রকৃতির এক নিপুণ কারুকার্য এই কুয়াকাটা, যেখানে বঙ্গোপসাগরের নীল জলরাশি আর পলিমাটির সুগন্ধ মাখা সৈকত মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। একে আমরা ভালোবেসে ডাকি ‘সাগর কন্যা’। এই ভূখণ্ডের বিশেষত্ব কেবল তার আঠারো কিলোমিটার দীর্ঘ বালুকাময় তটে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পরতে পরতে লুকিয়ে আছে এক অলৌকিক দৃশ্যকাব্য। পৃথিবীর খুব কম সৈকতই আছে যেখানে দাঁড়িয়ে মানুষ ভোরের প্রথম সূর্যকে উদিত হতে দেখে আবার সেই একই দিগন্তে দিনের শেষ আলোকে বিলীন হতে দেখার সাক্ষী থাকে। আমার লেখক জীবনের ব্যস্ত চোরাবালিতে যখনই হাঁপিয়ে উঠেছি, তখনই সাগর কন্যা আমাকে তার লোনা বাতাসের মন্ত্রে দুবার ডেকে নিয়েছে। সেই ডাক উপেক্ষা করার সাধ্য কোনো শব্দচাষীর নেই।
​কুয়াকাটার আসল জাদুকরী রূপ দেখা যায় ভোরের আলো ফোটার আগে। গোধূলি আর উষার সন্ধিক্ষণে এখানে যে অলৌকিক দৃশ্য তৈরি হয়, তা কোনো দক্ষ চিত্রশিল্পীর তুলিতেও আঁকা অসম্ভব। সৈকতের বালুরাশিতে হাজার হাজার লাল কাঁকড়ার লুকোচুরি খেলা দেখে মনে হয়, প্রকৃতি যেন লাল রঙের আলপনা এঁকে ভ্রমণার্থীদের স্বাগত জানাচ্ছে। একটু ভেতরে গেলেই দেখা মেলে গঙ্গামতির জঙ্গল, যেখানে ম্যানগ্রোভ বনের নিবিড় ছায়া আর বন্য পরিবেশ মানুষের যান্ত্রিক ক্লান্তি ধুয়ে দেয়। এই জনপদের মানুষের জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতিও অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। রাখাইনদের জীবনধারা, তাদের হাতে বোনা তাঁতের কাপড় আর মিশ্রিপাড়ার বিশাল বৌদ্ধ মন্দির পর্যটকদের মনে এক আধ্যাত্মিক প্রশান্তি এনে দেয়।
​আমার সেই দুইবারের কুয়াকাটা ভ্রমণ কেবল পর্যটন ছিল না, ছিল হৃদয়ের গহীনে জমানো কিছু অব্যক্ত শব্দের মুক্তি। স্মৃতির পাতায় অমলিন হয়ে আছে ‘হোটেল নীলাঞ্জনা’। সেখানে কাটানো সেই দুটি রাত আমার লেখক জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নির্জন সময়। হোটেলের জানালার কপাট খুললেই লোনা বাতাসের ঝাপটা আর সমুদ্রের গর্জন হৃদয়ে নাড়া দিয়ে যেত। রাতের নিস্তব্ধতায় যখন চারপাশ নিঝুম হয়ে যেত, তখন নীলাঞ্জনার সেই ছায়াঘেরা পরিবেশে বসে আকাশের অগুনতি নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে আমি আমার সাহিত্যের প্লট সাজিয়েছি। সেই দুটি রাত ছিল যেন পূর্ণিমার আলোয় ধোয়া এক একটি স্বপ্নের প্রহর। সমুদ্রের নোনা গন্ধে আর নীলাঞ্জনার স্নিগ্ধ আতিথেয়তায় নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলাম এক অদ্ভুত ভালো লাগার ঘোরে।
​কুয়াকাটা এখন আধুনিক পর্যটকদের জন্য অনেক বেশি সমৃদ্ধ। আন্তর্জাতিক মানের সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাস, হোটেল কুয়াকাটা গ্র্যান্ড কিংবা হোটেল গ্রেভার ইনের মতো বিলাসবহুল আবাসস্থলগুলো পর্যটকদের যেমন আরামদায়ক পরিবেশ দেয়, তেমনি সরকারি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সটি আস্থার এক অনন্য নাম। ভ্রমণার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার জন্য এখানে সবসময় ট্যুরিস্ট পুলিশ তৎপর থাকে, যা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নির্ভয়ে বিচরণের সুযোগ করে দেয়। সৈকতে স্পিডবোট রাইডিং, সাইক্লিং কিংবা ফিশ মার্কেটে বসে টাটকা মাছ ভাজার স্বাদ নেওয়া—সব মিলিয়ে এক পূর্ণাঙ্গ বিনোদনের পসরা সাজিয়ে বসে আছে এই সাগর কন্যা।
​প্রথমবার যখন কুয়াকাটা গিয়েছিলাম, তখন সে ছিল আমার কাছে এক অচেনা কিশোরীর মতো রহস্যময়ী। আর দ্বিতীয়বারের যাত্রা ছিল যেন কোনো পুরনো প্রেমিকার কাছে ফিরে যাওয়া। নীল জলরাশির বুকে যখন সূর্যের রক্তিম আভা আছড়ে পড়ত, তখন আমার ডায়েরির পাতাগুলো নিজে থেকেই ভরে উঠত শব্দের মিছিলে। সাগর কন্যা কুয়াকাটা কেবল একটি ভূখণ্ড নয়, এটি একটি অনুভূতি। এর বালুকণা আর রাখাইন পল্লীর বাঁশির সুর মিলে এক অখণ্ড কবিতা তৈরি করে। হোটেল নীলাঞ্জনার সেই স্মারক মুহূর্তগুলো আমার চেতনার ক্যানভাসে আজও রঙিন হয়ে আছে। এই পাণ্ডুলিপি আসলে সেই লোনা জল আর জোছনায় ভেজা মুহূর্তগুলোরই এক সাহিত্যিক সংকলন।

ইউএনও ছাতক ডিপ্লোম্যাসি চাকমা

কোন অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না

সেলিম মাহবুবঃ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
কোন অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না

ছাতক উপজেলার দোলার বাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুরশি গ্রামে সাম্প্রতিক গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চুরির সাথে জড়িতদের ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোম্যাসি চাকমা। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন। এ সময় ভাঙচুরের শিকার পরিবারগুলোর সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। একজন জেল হাজতে। তবে তাদের স্বজনদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারকে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশনা দেন তিনি। পরিদর্শনকালে ইউএনও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি মনোযোগ সহকারে গ্রামবাসীর বক্তব্য শোনেন এবং গত ২৫ মার্চ ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন,অপরাধী যে-ই হোক, আইনের মাধ্যমেই তার বিচার নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।তিনি আরও জানান, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি চুরি প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। তবে কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন ইউএনও।এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পরিবারের কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছিল। বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ি সেবুল রেজা বলেন, এ পরিস্থিতি উত্তরণে গ্রামের ছাত্র-যুবক ও প্রবাসীদের উদ্যোগে একটি “চোর নির্মূল কমিটি” গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, চুরির উপদ্রপে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এলাকার চোরদের সম্প্রতি ডেকে এনে শাসানো হয়। কিন্তু এরপরও চুরি বন্ধ হয়নি। তার দাবি, ২৫ মার্চের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না; বরং তা আকস্মিকভাবে সংঘটিত হয়েছে। গ্রামবাসীরা জানান, প্রশাসনের সহযোগিতা কামনায় ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে মোহাম্মদ বাজারে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে একটি বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শনে আসায় তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।স্থানীয়রা বলেন, তারা এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং মাদক, চুরি ও সকল ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন। সার্বিকভাবে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, গ্রামবাসী ও অভিযুক্ত পরিবার-সবার অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সময় এলাকার সর্বস্হরের শতশত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তেল সংগ্রহের নতুন সময় নির্ধারণ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
তেল সংগ্রহের নতুন সময় নির্ধারণ

জ্বালানি তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা ও সংকট মোকাবিলায় ফিলিং স্টেশনগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপো থেকে তেল সংগ্রহের সময় দুই ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার জারি করা এ নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। নির্দেশনাটি বিপিসির অধীন বিপণন কোম্পানিগুলোকে ২৮ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

এর আগে, ডিলাররা বেলা ১১টা থেকে ডিপো থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারতেন। একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলোকে দৃশ্যমান স্থানে ব্ল্যাক বা হোয়াইট বোর্ডে দৈনিক তেল গ্রহণের তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দেওয়া এই নির্দেশনাটি দাপ্তরিক ওয়েবসাইট কিংবা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেনি সংস্থাটি। তবে আজ শনিবার আজকের পত্রিকা থেকে যোগাযোগ করা হলে বিপিসির একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওই নির্দেশনা গণমাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য নয়। এটি সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা।

দ্য টেলিগ্রাফ থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ

জয়ের পথে ইরান

দ্য টেলিগ্রাফ থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
জয়ের পথে ইরান

গত তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমানবাহিনী ইরানের আকাশে অনবরত বোমাবর্ষণ করে চলেছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বছরের পর বছর ইসলামিক রিপাবলিককে ভেতর থেকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। এত কিছুর পরও আশ্চর্যজনক শোনালেও সত্য যে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সামনে এই যুদ্ধে ‘বিজয়ী’ হওয়ার একটি স্পষ্ট পথরেখা তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হঠকারিতা এবং রণকৌশলের ভুলগুলোই মূলত ইরানের এই জয়ের পথকে প্রশস্ত করেছে, যার ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর।

প্রথমত, যেকোনো মূল্যে টিকে থাকাই ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের আসল বিজয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প ইরানিদের ‘মুক্তির সময় এসেছে’ বলে অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছিলেন। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বহু শীর্ষ কমান্ডার ও মন্ত্রী নিহত হয়েছেন। কিন্তু শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি, বরং রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এখন কার্যত দেশটির ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতক্ষণ না লাখো মার্কিন সেনা ইরানে সরাসরি স্থল অভিযান চালাচ্ছে, ততক্ষণ কোনো গণবিপ্লব ছাড়া এই শাসনের পতন সম্ভব নয়। এমনকি নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প এখন ইসলামিক রিপাবলিকের পতনের চেয়ে পর্দার আড়ালে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে চুক্তির পথ খুঁজছেন। কেননা ইরান টিকে গেলে সেটি হবে তাদের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক বিজয়।

দ্বিতীয়ত, ইরানের দ্বিতীয় বড় শক্তি হলো বিশ্বের অর্থনীতির অন্যতম ধমনি ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে এক চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনকে একপ্রকার বাধ্য হয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে হচ্ছে, যেই দেশটিকে তিনি কিছুদিন আগেও ‘নিঃশর্তে আত্মসমর্পণ’ করার হুমকি দিয়েছিলেন। এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানকে যুদ্ধের ময়দানে এক বড় দর-কষাকষির হাতিয়ার তুলে দিয়েছে।

তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ইরানকে এক নতুন আয়ের উৎস করে দিয়েছে। দেশটি বর্তমানে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কোন জাহাজ এই পথ দিয়ে যাবে আর কোনটি যাবে না। অভিযোগ রয়েছে, চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো নিরাপদে প্রতিটি তেলবাহী জাহাজ পার করার জন্য ইরানকে ২০ লাখ ডলার করে ফি দিচ্ছে। এমনকি তেলের বাজারে বড় বিপর্যয় এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে সমুদ্রে থাকা ইরানের ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিক্রির সুযোগ দিয়েছে। ট্রাম্প এখন হরমুজ প্রণালি ‘যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করার প্রস্তাব দিচ্ছেন। এটি ইরানের জন্য এক অভাবনীয় সুযোগ তৈরি করেছে; যে প্রণালি দিয়ে আগে জাহাজ চলাচলে ইরান এক পয়সাও পেত না, এখন সেখান থেকে তারা নিষেধাজ্ঞামুক্ত এক বিশাল রাজস্ব আয়ের স্বপ্ন দেখছে।

চতুর্থত, যদি ইরান এই যুদ্ধে টিকে যায় এবং হরমুজ প্রণালি থেকে নতুন করে অর্থ উপার্জন করতে পারে, তবে তারা সেই অর্থ দিয়ে তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক সক্ষমতা পুনরায় তৈরি করতে পারবে। যদিও নেতানিয়াহু দাবি করছেন, তাঁরা ইরানের অস্ত্রশিল্পের ভিত্তি এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ ও সময় পেলে ইরান আবারও সেগুলো পুনর্নির্মাণ করতে সক্ষম। হয়তো এই সক্ষমতা ফিরে পেতে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং ততদিনে ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকবেন না, কিন্তু তাঁরা তাদের উত্তরসূরিদের জন্য এক চরম শক্তিশালী ইরানকে রেখে যাবেন।

পরিশেষে বলা যায়, এই যুদ্ধ ইরানকে হয়তো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে। জনগণের তীব্র ক্ষোভ হয়তো ভবিষ্যতে এই শাসনের পতন ঘটাতে পারে, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টিকে থাকাটাই ইরানের কাছে এক বড় বিজয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

error: Content is protected !!