বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২
বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২

আল্লাহ তা‘আলা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেন

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪৪ এএম | 86 বার পড়া হয়েছে
আল্লাহ তা‘আলা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেন

একদিন একজন বৃদ্ধা মা অত্যন্ত কান্নাকাটি ও আকুল অবস্থায় ইমাম বাকী বিন মাখলাদ (রহ.)-এর কাছে এসে উপস্থিত হলেন। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বললেন:
“হে শাইখ! আমার একমাত্র ছেলে শত্রুদের হাতে বন্দী রয়েছে। তাকে মুক্ত করার জন্য আমার কাছে কোনো মুক্তিপণ দেওয়ার সামর্থ্য নেই। আমার আর কোনো উপায়ও নেই। আপনি যদি এমন কাউকে চেনেন যিনি আমার ছেলেকে মুক্ত করতে পারেন বা সাহায্য করতে পারেন, তাহলে আমার প্রতি খুব বড় অনুগ্রহ করা হবে।
আমার বুক ফেটে যাচ্ছে, পাগল হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে!”
ইমাম বাকী (রহ.) কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর নম্র কণ্ঠে বললেন:
“আপনি বাড়ি যান। আমি বিষয়টি দেখছি। আল্লাহর উপর ভরসা রাখুন।”
বৃদ্ধা মা চলে গেলেন।
তারপর ইমাম বাকী বিন মাখলাদ (রহ.) মাথা নিচু করে, অত্যন্ত একাগ্রচিত্তে ও গভীর মনোযোগের সাথে দোয়া। শুরু করলেন। তাঁর ঠোঁট নড়ছিল, চোখ থেকে অশ্রু ঝরছিল, কিন্তু কোনো শব্দ উচ্চারণ করছিলেন না—শুধু মনে মনে আল্লাহর কাছে আকুতি জানাচ্ছিলেন।
কয়েকদিন পর সেই বৃদ্ধা মা তার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ও বিস্মিত অবস্থায় ইমামের কাছে ফিরে এলেন।
সবাই অবাক হয়ে যুবকটিকে জিজ্ঞাসা করল:
“তুমি কীভাবে মুক্তি পেলে? কী ঘটেছিল?”
যুবকটি বিস্ময় ও কৃতজ্ঞতার সুরে বলতে লাগল:
“আমি একজন বাদশাহর অধীনে অত্যন্ত কঠোর পাহারায় বন্দী ছিলাম। একদিন আমাকে কাজে লাগানো হয়েছিল। হঠাৎ আমার পায়ের শিকল নিজে নিজে খুলে মাটিতে পড়ে গেল!
পাহারাদাররা চিৎকার করে ছুটে এলো। তারা অবাক হয়ে দেখল, শিকল খোলা! তারা তৎক্ষণাৎ কামার ডেকে আনল এবং আরও মজবুত ও ভারী শিকল দিয়ে আমার পা আটকে দিল।
কিন্তু কামার চলে যাওয়ার পরপরই, যখন আমি একটু হাঁটার চেষ্টা করলাম, তখন সেই নতুন মজবুত শিকলটিও ঝনঝন শব্দ করে ছিঁড়ে মাটিতে পড়ে গেল!”
পাহারাদাররা পুরোপুরি হতভম্ব হয়ে গেল। তারা তাদের ধর্মযাজকদের (পাদ্রী/পুরোহিত) ডেকে আনল।
পাদ্রীরা যুবককে জিজ্ঞাসা করল:
“তোমার কি মা আছে?”
যুবক বলল: “হ্যাঁ, আছে।”
তখন তারা পরস্পরে বলাবলি করল:
“নিশ্চয়ই তোমার মায়ের দোয়া কবুল হয়েছে। যার জন্য আসমানের দরজা খুলে গেছে, তাকে পৃথিবীর শিকল দিয়ে আটকে রাখা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”
এরপর তারা যুবককে সম্মানের সাথে কিছু পাথেয় দিয়ে মুক্ত করে দিল এবং বিদায় করল।
সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো—
যুবক যে দিন ও যে সময়ে শিকল দুটি পরপর খুলে পড়েছিল, সেই সময়টি ছিল ঠিক সেই মুহূর্ত, যখন ইমাম বাকী বিন মাখলাদ (রহ.) মাথা নিচু করে গভীর মনোযোগে দোয়া করছিলেন।
শিক্ষা
যখন সব জাগতিক দরজা বন্ধ হয়ে যায়,
সমস্ত উপায় ও সামর্থ্য শেষ হয়ে যায়,
তখন একমাত্র দোয়ার দরজা খোলা থাকে।
আর সেই দরজা এমন এক দরজা—যার মাধ্যমে আল্লাহ তা‘আলা অসম্ভবকে সম্ভব করে দেন।
সূত্র:
ধাহাবী (রহ.) রচিত “সিয়ারু আ‘লামিন নুবালা” (خণ্ড ১৩, পৃষ্ঠা ২৯০) এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক গ্রন্থে এ ঘটনার উল্লেখ পাওয়া যায়।
এই ঘটনা আমাদের শেখায় যে—
দোয়া কখনো বৃথা যায় না।
বিশেষ করে মায়ের দোয়া, আল্লাহর কাছে অত্যন্ত কবুলের মর্যাদা রাখে।
আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিকভাবে দোয়া করার তাওফিক দান করুন এবং আমাদের দোয়াসমূহ কবুল করুন। আমীন। 🤲

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, ব্যুরো চীফ নোয়াখালী

“XMG ইমেজিং” নামে শত কোটি টাকার এস্কেম: পাবনায় অফিস

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, ব্যুরো চীফ নোয়াখালী প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১১:২৯ এএম
“XMG ইমেজিং” নামে শত কোটি টাকার এস্কেম: পাবনায় অফিস

বাংলাদেশে অনলাইন প্রতারণার ভয়াবহতা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বিকাশ ও নগদ অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে ওটিপি (OTP) ব্যবহার করে টাকা উধাও—এমন অভিযোগে সম্প্রতি একাধিক চক্র প্রশাসনের হাতে ধরা পড়লেও, “XMG ইমেজিং কোম্পানি” নামে আরেকটি বড় প্রতারক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে উঠেছে বিস্ফোরক অভিযোগ। দাবি করা হচ্ছে, এই চক্র কলেজ ছাত্রছাত্রী, যুবক-যুবতী এবং প্রবাসীদের টার্গেট করে শত কোটি টাকার প্রতারণা চালিয়েছে।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রতারকরা বিদেশি ও বাংলাদেশি সিম ব্যবহার করে WhatsApp ও Telegram-এ গ্রুপ খুলে “ঘরে বসে মোটা অংকের আয়”–এর লোভনীয় অফার ছড়াত।
প্রথমে ছোট অংকের ডিপোজিট নিয়ে কিছুদিন “লাভ” দেখানো হতো। এরপর বড় অংকের টাকা জমা করালে হঠাৎ ওয়েবসাইট ও অফিস বন্ধ করে উধাও হয়ে যেত চক্রটি।

ওটিপি সংগ্রহ ও ডিভাইস হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে অনেকের বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্ট থেকেও টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পাবনায় অফিস, ছিল না কোনো নিবন্ধন!
অভিযোগ রয়েছে, পাবনা জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় কোম্পানির সাইনবোর্ড টানিয়ে অফিস পরিচালনা করা হলেও কোনো রাষ্ট্রীয় নিবন্ধন বা আইনগত কাগজপত্র ছিল না। কিছু আইটি দক্ষ ব্যক্তির সহায়তায় ওয়েবসাইট ও সফটওয়্যার পরিচালিত হতো বলে জানা গেছে।

সূত্রমতে, এই সফটওয়্যারভিত্তিক প্রতারণা ব্যবসার সঙ্গে তিন ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, মো. আব্দুল্লাহ সরকার (পিতা: ফজলু মিয়া), ইউনিয়ন: নিচাইচড়া, গ্রাম: মাছগ্রাম, থানা: চাটমোহর, জেলা: পাবনা।হাসিনুর (প্রবাসী) (পিতা: মোহাম্মদ ইসমাইল), গ্রাম: বোয়ালমারী, থানা: ভাঙ্গুড়া, জেলা: পাবনা।রিয়াজুল, গ্রাম: বোয়ালমারী, থানা: ভাঙ্গুড়া, জেলা: পাবনা।

অভিযোগ আছে, এরা দীর্ঘদিন ধরে একের পর এক “ওয়েব এস্কেম” চালিয়ে আসছে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ভুক্তভোগীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার ৮নং বিজবাগ ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রমজান আলী, মোহাম্মদ জয়, বিবি মরিয়মসহ অনেকেই এই প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আমানত হারিয়ে তারা এখন আর্থিক ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত।

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্তদের একটাই দাবি-অবিলম্বে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন-কতদিন এভাবে অনলাইন এস্কেম চক্র যুব সমাজকে ধ্বংস করবে?

কখনোই অপরিচিত কারও সঙ্গে OTP শেয়ার করবেন না। “নিশ্চিত লাভ” বা “ঘরে বসে আয়”–এর প্রলোভনে টাকা বিনিয়োগের আগে সরকারি নিবন্ধন যাচাই করুন।
সন্দেহজনক লেনদেন হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ জানান।

এই বিষয়ে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।

শিক্ষা ও সৌহার্দ্যের বন্ধনে একত্রিত হলেন শিক্ষক-রাজনৈতিক-সামাজিক নেতৃবৃন্দ

ফেনীতে জেলা শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা সংবাদদাতা প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৪ এএম
ফেনীতে জেলা শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে জেলা শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে ফেনীতে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) শহরের সালাম কমিটির সেন্টারে আয়োজিত এ ইফতার অনুষ্ঠানে শিক্ষা, রাজনীতি ও সামাজিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলাল উদ্দিন আলাল, সদস্য সচিব, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), ফেনী জেলা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ফেনী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল হান্নান, বিএনপির যুগ আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, জেলা শিক্ষা অফিসার শফি উল্লাহ, ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ফেনী জেলা শাখার সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন।

ইফতার মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ কে এম শামসুল হুদা চৌধুরী এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর আহাদ চৌধুরী।

সভাপতির বক্তব্যে এ কে এম শামসুল হুদা চৌধুরী বলেন, “রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও ভ্রাতৃত্ববোধের শিক্ষা দেয়।

শিক্ষক সমাজ জাতির মেরুদণ্ড—শিক্ষকদের ঐক্য ও নৈতিক দৃঢ়তা দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আলাল উদ্দিন আলাল শিক্ষকদের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “একটি জাতির উন্নয়ন নির্ভর করে শিক্ষার মান ও শিক্ষকদের সম্মানজনক অবস্থানের উপর।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আমন্ত্রিত অতিথিরা। তারা শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত নিরাপত্তা এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ইফতার পূর্বে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

মাহফিলে ফেনী জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ, শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দ এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশে আয়োজিত এ ইফতার মাহফিল শিক্ষক সমাজের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে গতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

শওকত হোসেন মুন্না

ক্লিন, গ্রীন ও নিরাপদ চট্টগ্রাম নগরী করতে চাই: ডাক্তার শাহাদাত হোসেন

শওকত হোসেন মুন্না প্রকাশিত: বুধবার, ৪ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
ক্লিন, গ্রীন ও নিরাপদ চট্টগ্রাম নগরী করতে চাই: ডাক্তার শাহাদাত হোসেন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সকল কর্মকর্তা ও বিভাগকে সমন্বিতভাবে কাজ করে চট্টগ্রামকে একটি ক্লিন, গ্রিন ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, নগরীর সৌন্দর্য, পরিবেশ ও পথচারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
সোমবার টাইগারপাসস্থ চসিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সমন্বয় সভায় মেয়র এ নির্দেশনা প্রদান করেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তারা।
সভায় মেয়র আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, নগরীর সড়কসমূহের পাশে সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত তদারকি করতে হবে। নালার ওপর স্ল্যাব রয়েছে কিনা এবং সড়কের ম্যানহোলের ঢাকনা সঠিক অবস্থায় আছে কিনা তা সরেজমিনে যাচাই করার নির্দেশ দেন তিনি। কোথাও স্ল্যাব বা ম্যানহোল অনুপস্থিত থাকলে দ্রুত প্রকৌশল বিভাগকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলেন।
মেয়র নগর পরিকল্পনা বিভাগের আওতাধীন সড়কের গাছের পরিচর্যায় নিজস্ব মালি ও কর্মীদের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্ব আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের ওপর ন্যস্ত করেন। তিনি বলেন, সবুজায়ন ও পরিচ্ছন্নতা একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে। ক্লিন ও গ্রিন সিটির ধারণা বাস্তবায়নে নিয়মিত পরিচর্যা, রক্ষণাবেক্ষণ ও মনিটরিং অত্যন্ত জরুরি।
সভায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আমিন বলেন, নগরীর বিমানবন্দর এলাকা থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও আইল্যান্ডসমূহ নান্দনিকভাবে সাজালে নগরীর সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। সড়কের পাশে স্থাপিত পিলারগুলো রঙিন করা এবং মিডিয়ান আইল্যান্ডে পরিকল্পিত বাগান তৈরির পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখায় সড়ক সংকুচিত হয়ে যানজট ও পরিবেশদূষণের সৃষ্টি হচ্ছে উল্লেখ করে এ সমস্যা মোকাবেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার প্রস্তাব দেন।
মেয়র এ বিষয়ে কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অঞ্চলভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন। তিনি বন্দর থেকে জিইসি এলাকা পর্যন্ত সড়কের পাশে জমে থাকা ময়লা দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেন এবং প্রকৌশল বিভাগকে পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সড়কগুলোতে নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা নগর সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমে তরুণ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করার প্রস্তাব দেন। মেয়র জানান, সড়কের ধুলাবালি পরিষ্কারের কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
এ সময় মেয়র বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। ৪১ নম্বর ওয়ার্ড থেকে শুরু হওয়া জরিপ কার্যক্রম নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করে প্রকৃত উপকারভোগীদের মাঝে কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি চসিকের তত্ত্বাবধানে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম বেগবান করতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেন।
মেয়র আরও জানান, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জরুরি। তিনি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চট্টগ্রাম ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠকের আয়োজন করে হিজড়া খালসহ অন্যান্য খালের খনন কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
মেয়র প্রধান প্রকৌশলীকে নগরীজুড়ে খেলার মাঠসহ অবকাঠামো উন্নয়নে প্রকল্প প্রণয়নের নির্দেশ দেন। বর্ষাকালের আগেই সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারকাজ বেগবান করার নির্দেশ দেন তিনি। সভায় মেয়র উল্লেখ করেন, চট্টগ্রামকে ক্লিন, গ্রিন ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তর করতে হলে সকল বিভাগকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে এবং মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন নিশ্চিত করতে হবে।

error: Content is protected !!