কীভাবে কাটছে নব্বইয়ের দশকের তারকাদের সময়
নব্বইয়ের দশকে ঢালিউডের রুপালি পর্দা দাপিয়ে বেড়ানো নায়িকাদের সংখ্যা ছিল কম নয়। কেউ অভিনয়ে পার করেছেন ৩৫ বছর, কেউবা ২৫ বছরেরও বেশি সময়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই জনপ্রিয় মুখগুলোর অনেকেই আজ ক্যামেরার আড়ালে। কেউ সংসার ও পরিবারকে প্রাধান্য দিয়েছেন, কেউ পাড়ি জমিয়েছেন দেশের বাইরে, আবার কেউ বিনোদন অঙ্গনে কাজের ধরন বদলে নিয়েছেন। একনজরে দেখা যাক নব্বইয়ের দশকের আলোচিত তিন নায়িকা—শাবনাজ, মৌসুমী ও শাবনূর—এখন কোথায় আছেন এবং কীভাবে কাটছে তাঁদের জীবন।
শাবনাজ: আড়ালের জীবন, হঠাৎ দেখা
১৯৯১ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী’ ছবির চাঁদনী চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি দর্শকের নজর কাড়েন শাবনাজ। এরপর একের পর এক ছবিতে অভিনয় করলেও প্রায় ১৮ বছর ধরে তিনি চলচ্চিত্রের বাইরে। বর্তমানে স্বামী, সন্তান ও সংসার নিয়েই ব্যস্ত এই অভিনেত্রী। তাঁর বসবাস ঢাকার উত্তরায়।
চলচ্চিত্র ছাড়ার পর কিছু নাটকে অভিনয় করলেও এখন দুটি মাধ্যম থেকেই পুরোপুরি আড়ালে তিনি। চলচ্চিত্র বা নাটক–সংশ্লিষ্ট কিছু ঘরোয়া আয়োজনে মাঝেমধ্যে তাঁর দেখা মেলে।
শাবনাজ জানান, এখন তাঁর জীবন একেবারেই ভিন্ন। সংসার, স্বামী ও সন্তানই তাঁর পৃথিবী। চলচ্চিত্রে কাজ করতে গিয়ে সহশিল্পী ও সেই সময়ের জনপ্রিয় নায়ক নাঈমের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ‘বিষের বাঁশি’ ছবির কাজ করতে গিয়ে শুরু হয় সেই সম্পর্ক, যা ‘লাভ’ ছবির সময় আরও গভীর হয়। ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর তাঁরা ভালোবেসে বিয়ে করেন।
বিয়ের পর দুই বছর অভিনয় করলেও নাঈমের বাবার মৃত্যুর পর সংসার ও স্বামীর পাশে থাকাকেই অগ্রাধিকার দেন শাবনাজ। সে সময় ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেন অভিনয়জগৎ থেকে।
মৌসুমী: পরিবারকে প্রাধান্য
নব্বইয়ের দশকের সোনালি পর্দার অন্যতম উজ্জ্বল তারকা মৌসুমী দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ছবির মাধ্যমে। সোহানুর রহমান সোহান পরিচালিত এই ব্লকবাস্টার ছবির পর দীর্ঘদিন তিনি ছিলেন ঢালিউডের প্রথম সারির নায়িকা।
বর্তমানে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অবস্থান করছেন। চলচ্চিত্র অঙ্গন থেকে খানিকটা দূরে সরে গেছেন। স্বামী ওমর সানীর ভাষ্য অনুযায়ী, মৌসুমী এখন অভিনয় থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার কথাই ভাবছেন। ভালো গল্পের অভাব ও শুটিংয়ের পরিবেশ নিয়ে তাঁর আগ্রহ কমে গেছে।

















