শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২
শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬, ১৩ চৈত্র ১৪৩২

শরিয়তের কোন কারণ ছাড়া অবশ্যই দ্বিতীয় বিয়ে জায়েজ নেই

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম | 52 বার পড়া হয়েছে
শরিয়তের কোন কারণ ছাড়া অবশ্যই দ্বিতীয় বিয়ে জায়েজ নেই

বস্তুর উর্ধ্বে মানব সত্তার প্রবক্তা,মানবতার রাজনীতির প্রবর্তক ও ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত এক প্রেস রিলিজে বলেন শরিয়ত সম্মত কারন ছাড়া ও শর্ত ছাড়াই নিছক জৈবিক কারনে দ্বিতীয় বিয়ে জায়েজ নাই হারাম ও জুলুম এবং বিশ্বাসঘাতকতা। ইসলামের নির্দেশিত চেতনা ভাষা গোত্র দেশ রাষ্ট্র লিংগ বর্ণ বর্ডার সকল বস্তুর উর্ধে কেবল স্রষ্টার নামে স্রষ্টার আলো মহান রাসুলের নামে জীবনের সত্য ভিত্তিক অস্তিত্ব ও চেতনা।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, মওদুদিবাদ ওয়াবিবাদ সালাফিবাদ শিয়াবাদ তালেবান তবলীগ ইসলাম নয় ইসলামের নামে আসল ইসলামকে জবাই করা। আসল ইসলাম জংগীবাদ সন্ত্রাসবাদ উগ্রবাদ নয়, আসল ইসলাম আল্লাহতাআলার উদ্দেশ্যে প্রাণাধিক প্রিয়নবীর প্রেম ভিত্তিক ও আহলে রাসুলের মোহাব্বত ভিত্তিক যে প্রেমের ধারায় সব মানুষের কল্যাণ ও ভালোবাসা ভিত্তিক তথা খেলাফতে ইনসানিয়াত ই আসল ইসলামের রাষ্ট্র ও বিশ্বব্যবস্থার রূপরেখা। আসল ইসলাম ঈমান ভিত্তিক, আসল ইসলাম আইন বিধান ভিত্তিক নয়। আসল ইসলাম লিংগবাদ নয় ভাই বোন সবার সমান মর্যাদার ও সমান দায়িত্বের ইসলাম।

আল্লামা ইমাম হায়াত আরও বলেন, আসল ইসলাম রাষ্ট্রকে ইসলামের নামে করা নয়, সব মানুষের সমান নিরাপত্তা-স্বাধীনতা-অধিকার ভিত্তিক অসাম্প্রদায়িক সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র ই ইসলামের নির্দেশিত একমাত্র রাষ্ট্র। আসল ইসলাম রাব্বিল আলামীন ও রাহমাতাল্লিল আলামীন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের দেয়া ও আওলিয়া কেরামের অনুসৃত রহমতের ইসলাম যা রহমতের জীবন ও রহমতের সমাজ রাষ্ট্র দুনিয়া তৈরি করে।
ওয়াবিবাদ সালাফিবাদ শিয়াবাদ মওদুদিবাদ তালেবান মানে ইসলামপন্থী নয়। ওরা ইসলামের বিপরীত ও ইসলামের ধ্বংসাত্মক শত্রু ওয়াবিবাদ মওদুদিবাদ কুফরি মতবাদ।
ইসলামে ভাই বোন সবার সমান নিরাপত্তা -স্বাধীনতা-অধিকার- মর্যাদা- মালিকানা। ইসলাম জীবনের সত্য ভিত্তিক মানবিক চেতনার ধারক ।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, ঈমানের চেতনা লিংগ ভিত্তিক বা কোনো বস্তুবাদি চেতনা নয়।
কলেমার ঈমানী চেতনা কেবল তাওহীদ রেসালাত ভিত্তিক চেতনা যা বস্তুবাদি চেতনার বিপরীত।
বস্তুবাদি লিংগবাদি চেতনা ঈমানের কলেমার চেতনার বিপরীত আইয়ামে জাহেলিয়াতের কুফরি চেতনা।

আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, ইসলামে লিংগবাদি বৈষম্য নাই এবং কোনো প্রকার বস্তুবাদি বৈষম্য নাই। ইসলাম জীবনের সত্য ভিত্তিক অস্তিত্বের নাম। ইসলামে ঈমানীসত্তা ও মানবসত্তা সকল বস্তুর উর্ধে।
ইসলামের নির্দেশিত রাজনীতি একমাত্র জীবনের দয়াময় স্রষ্টার ভালোবাসা ও স্রষ্টার আলো মহান রাসুলের ভালোবাসায় সব মানুষের ভালোবাসায়
সব মানুষের কল্যাণে সব মানুষের প্রতিনিধিত্বশীল সর্বজনীন মানবতার রাজনীতি।
ইসলামের নির্দেশিত রাষ্ট্র মানবতার রাষ্ট্র মানে মানুষ হিসেবে মুসলিম অমুসলিম সবার নিরাপত্তা-স্বাধীনতা- অধিকার- মর্যাদা- মালিকানার রাষ্ট্র খেলাফতে ইনসানিয়াত state and world of universal humanity based on authority of every life irrespective of faith without any materialistic discrimination beyond all inequality and borders.

ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ এর চেয়ারম্যান আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, ইসলামের নামে কেবল মুসলিমদের রাষ্ট্র ইসলামের শিক্ষার বিপরীত ইসলামের নামে ধোকা। ইসলামের নামে রাজনৈতিক দল ও রাষ্ট্র ইসলামের নীতিবিরুদ্ধ, কারন ইসলাম ক্ষমতার বলে চাপিয়ে দেয়া আল্লাহতাআলা কোরআনুল করীমে নিষিদ্ধ করেছেন।

ইসলামের নামে রাষ্ট্র মানে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর মতবাদ বলপূর্বক ইসলামের নামে চাপিয়ে দিয়ে আসল ইসলাম হত্যা করা। মানুষের জন্য আল্লাহতাআলার রাসুল প্রাণাধিক প্রিয়নবীকে আল্লাহতাআলা শুধু মুসলিমদের নন সব মানুষের সব সৃষ্টির জন্য আল্লাহতাআলা রাব্বিল আলামীন অসীম রহমত সত্য ও মানবতার মুক্তি ও সকল কল্যাণ নিরাপত্তা অধিকার স্বাধীনতা মর্যাদার উৎস ঘোষণা করেছেন।

আল্লামা ইমাম হায়াত।
(বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রবর্তক এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান)

ইউএনও ছাতক ডিপ্লোম্যাসি চাকমা

কোন অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না

সেলিম মাহবুবঃ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:২০ পিএম
কোন অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া যাবে না

ছাতক উপজেলার দোলার বাজার ইউনিয়নের দক্ষিণ কুরশি গ্রামে সাম্প্রতিক গরু চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে চুরির সাথে জড়িতদের ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডিপ্লোম্যাসি চাকমা। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে তিনি সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেন। এ সময় ভাঙচুরের শিকার পরিবারগুলোর সদস্যরা পলাতক থাকায় তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা সম্ভব হয়নি। একজন জেল হাজতে। তবে তাদের স্বজনদের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত দুই পরিবারকে দ্রুত উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার নির্দেশনা দেন তিনি। পরিদর্শনকালে ইউএনও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি মনোযোগ সহকারে গ্রামবাসীর বক্তব্য শোনেন এবং গত ২৫ মার্চ ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন,অপরাধী যে-ই হোক, আইনের মাধ্যমেই তার বিচার নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব।তিনি আরও জানান, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি চুরি প্রতিরোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। তবে কোনো অবস্থাতেই আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার জন্য সবাইকে কঠোরভাবে সতর্ক করেন ইউএনও।এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রামবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পরিবারের কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছিল। বিএনপি নেতা ও ব্যবসায়ি সেবুল রেজা বলেন, এ পরিস্থিতি উত্তরণে গ্রামের ছাত্র-যুবক ও প্রবাসীদের উদ্যোগে একটি “চোর নির্মূল কমিটি” গঠন করা হয়েছে। তিনি বলেন, চুরির উপদ্রপে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী এলাকার চোরদের সম্প্রতি ডেকে এনে শাসানো হয়। কিন্তু এরপরও চুরি বন্ধ হয়নি। তার দাবি, ২৫ মার্চের ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল না; বরং তা আকস্মিকভাবে সংঘটিত হয়েছে। গ্রামবাসীরা জানান, প্রশাসনের সহযোগিতা কামনায় ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার বিকেলে মোহাম্মদ বাজারে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে একটি বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরেজমিন পরিদর্শনে আসায় তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।স্থানীয়রা বলেন, তারা এলাকায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান এবং মাদক, চুরি ও সকল ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ প্রত্যাশা করেন। সার্বিকভাবে, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে প্রশাসন, গ্রামবাসী ও অভিযুক্ত পরিবার-সবার অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সময় এলাকার সর্বস্হরের শতশত মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তেল সংগ্রহের নতুন সময় নির্ধারণ

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৮ পিএম
তেল সংগ্রহের নতুন সময় নির্ধারণ

জ্বালানি তেল সরবরাহে স্বচ্ছতা ও সংকট মোকাবিলায় ফিলিং স্টেশনগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ডিপো থেকে তেল সংগ্রহের সময় দুই ঘণ্টা এগিয়ে আনা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার জারি করা এ নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে প্রতিদিন সকাল ৭টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। নির্দেশনাটি বিপিসির অধীন বিপণন কোম্পানিগুলোকে ২৮ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে কার্যকর করতে বলা হয়েছে।

এর আগে, ডিলাররা বেলা ১১টা থেকে ডিপো থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারতেন। একই সঙ্গে ফিলিং স্টেশনগুলোকে দৃশ্যমান স্থানে ব্ল্যাক বা হোয়াইট বোর্ডে দৈনিক তেল গ্রহণের তথ্য প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার দেওয়া এই নির্দেশনাটি দাপ্তরিক ওয়েবসাইট কিংবা গণমাধ্যমে প্রকাশ করেনি সংস্থাটি। তবে আজ শনিবার আজকের পত্রিকা থেকে যোগাযোগ করা হলে বিপিসির একজন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওই নির্দেশনা গণমাধ্যমে প্রকাশ করার জন্য নয়। এটি সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা।

দ্য টেলিগ্রাফ থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ

জয়ের পথে ইরান

দ্য টেলিগ্রাফ থেকে অনুবাদ করেছেন আবদুল বাছেদ প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৬ পিএম
জয়ের পথে ইরান

গত তিন সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমানবাহিনী ইরানের আকাশে অনবরত বোমাবর্ষণ করে চলেছে। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বছরের পর বছর ইসলামিক রিপাবলিককে ভেতর থেকে দুর্বল করার চেষ্টা করেছে। এত কিছুর পরও আশ্চর্যজনক শোনালেও সত্য যে ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের সামনে এই যুদ্ধে ‘বিজয়ী’ হওয়ার একটি স্পষ্ট পথরেখা তৈরি হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের হঠকারিতা এবং রণকৌশলের ভুলগুলোই মূলত ইরানের এই জয়ের পথকে প্রশস্ত করেছে, যার ভিত্তি দাঁড়িয়ে আছে চারটি প্রধান স্তম্ভের ওপর।

প্রথমত, যেকোনো মূল্যে টিকে থাকাই ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের আসল বিজয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় ট্রাম্প ইরানিদের ‘মুক্তির সময় এসেছে’ বলে অভ্যুত্থানের ডাক দিয়েছিলেন। ইসরায়েলি ও মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ বহু শীর্ষ কমান্ডার ও মন্ত্রী নিহত হয়েছেন। কিন্তু শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়েনি, বরং রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এখন কার্যত দেশটির ভাগ্যবিধাতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যতক্ষণ না লাখো মার্কিন সেনা ইরানে সরাসরি স্থল অভিযান চালাচ্ছে, ততক্ষণ কোনো গণবিপ্লব ছাড়া এই শাসনের পতন সম্ভব নয়। এমনকি নেতানিয়াহু এবং ট্রাম্প এখন ইসলামিক রিপাবলিকের পতনের চেয়ে পর্দার আড়ালে কোনো একটি পক্ষের সঙ্গে চুক্তির পথ খুঁজছেন। কেননা ইরান টিকে গেলে সেটি হবে তাদের জন্য এক বিশাল রাজনৈতিক বিজয়।

দ্বিতীয়ত, ইরানের দ্বিতীয় বড় শক্তি হলো বিশ্বের অর্থনীতির অন্যতম ধমনি ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে এক চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ট্রাম্প প্রশাসনকে একপ্রকার বাধ্য হয়ে ইরানের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে হচ্ছে, যেই দেশটিকে তিনি কিছুদিন আগেও ‘নিঃশর্তে আত্মসমর্পণ’ করার হুমকি দিয়েছিলেন। এই প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ইরানকে যুদ্ধের ময়দানে এক বড় দর-কষাকষির হাতিয়ার তুলে দিয়েছে।

তৃতীয়ত, হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ ইরানকে এক নতুন আয়ের উৎস করে দিয়েছে। দেশটি বর্তমানে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, কোন জাহাজ এই পথ দিয়ে যাবে আর কোনটি যাবে না। অভিযোগ রয়েছে, চীন ও ভারতের মতো দেশগুলো নিরাপদে প্রতিটি তেলবাহী জাহাজ পার করার জন্য ইরানকে ২০ লাখ ডলার করে ফি দিচ্ছে। এমনকি তেলের বাজারে বড় বিপর্যয় এড়াতে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে সমুদ্রে থাকা ইরানের ১৪০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বিক্রির সুযোগ দিয়েছে। ট্রাম্প এখন হরমুজ প্রণালি ‘যৌথভাবে নিয়ন্ত্রণ’ করার প্রস্তাব দিচ্ছেন। এটি ইরানের জন্য এক অভাবনীয় সুযোগ তৈরি করেছে; যে প্রণালি দিয়ে আগে জাহাজ চলাচলে ইরান এক পয়সাও পেত না, এখন সেখান থেকে তারা নিষেধাজ্ঞামুক্ত এক বিশাল রাজস্ব আয়ের স্বপ্ন দেখছে।

চতুর্থত, যদি ইরান এই যুদ্ধে টিকে যায় এবং হরমুজ প্রণালি থেকে নতুন করে অর্থ উপার্জন করতে পারে, তবে তারা সেই অর্থ দিয়ে তাদের ধ্বংস হয়ে যাওয়া ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক সক্ষমতা পুনরায় তৈরি করতে পারবে। যদিও নেতানিয়াহু দাবি করছেন, তাঁরা ইরানের অস্ত্রশিল্পের ভিত্তি এবং ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলো গুঁড়িয়ে দিয়েছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত অর্থ ও সময় পেলে ইরান আবারও সেগুলো পুনর্নির্মাণ করতে সক্ষম। হয়তো এই সক্ষমতা ফিরে পেতে কয়েক বছর সময় লাগবে এবং ততদিনে ট্রাম্প বা নেতানিয়াহু ক্ষমতায় থাকবেন না, কিন্তু তাঁরা তাদের উত্তরসূরিদের জন্য এক চরম শক্তিশালী ইরানকে রেখে যাবেন।

পরিশেষে বলা যায়, এই যুদ্ধ ইরানকে হয়তো ধ্বংসস্তূপে পরিণত করবে এবং দেশটির অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করা কঠিন হবে। জনগণের তীব্র ক্ষোভ হয়তো ভবিষ্যতে এই শাসনের পতন ঘটাতে পারে, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে টিকে থাকাটাই ইরানের কাছে এক বড় বিজয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

error: Content is protected !!