পান চাষে বদলে যাচ্ছে মানুষের ভাগ্য
মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে পান চাষে দিন দিন বেড়েই চলেছে কৃষকদের আগ্রহ। পতিত জমি বা ছায়াঘেরা নিরিবিলি জায়গাতেও সঠিক যত্ন ও শ্রম দিলে লাভজনক ফসল হিসেবে পানি চাষ ধীরে ধীরে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন প্রাণ সঞ্চার করছে।
মণিরামপুর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলায় ১ হাজার ১৩৭ জন কৃষক পান চাষের সঙ্গে যুক্ত। চলতি মৌসুমে পান চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২৮ হেক্টর জমি। তবে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে প্রায় ১৩০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। যদিও সরকারিভাবে পান চাষিদের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো ভর্তুকি বা প্রণোদনা নেই। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পান চাষ হচ্ছে ঢাকুরিয়া ইউনিয়নে। এ ছাড়া খানপুর ইউনিয়নের ঘঘুদহ ও ফেদাইপুর, ভরতপুর, ঢাকুরিয়া ইউনিয়নের সুবলকাটি, তারুয়াপাড়া ও শ্রীপুর, মশ্বিমনগর ইউনিয়নের পারখাজুরা, চাকলা, নোয়ালি ও হাজরাকাটি, পাশাপাশি মশ্বিমনগর, গোপালপুর ও কাশিমনগর গ্রামে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে পান চাষ হচ্ছে। সোমবার ভরতপুর গ্রামে গেলে চোখে পড়ে সারি সারি পানের বরজ।
কৃষি অফিস জানায়, এক বিঘা জমিতে স্থাপিত একটি পান বরজে প্রতিদিন ৩ থেকে ১০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। ফলে পান চাষের মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
মনিরামপুর পৌরসভা বাজারের পান ব্যবসায়ী ইন্দ্রজিৎ দাস বলেন, এলাকার পানের চাহিদা খুব ভালো। প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও মঙ্গলবার ভোরে দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকাররা এখানে পান কিনতে আসে। বর্তমানে এক পোন (স্থানীয় হিসেবে ৮০টি পান) ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খানপুর ইউনিয়নের পান চাষি সুবোধ দাস বলেন, পান চাষ আমাদের প‚র্বপুরুষের পেশা। আমার তিন বিঘা জমিতে তিনটি বরজ রয়েছে। এই বরজ থেকেই আমার পরিবারের প্রধান আয়ের উৎস আসে। বছরে দুই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়।
মনিরামপুর উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন বলেন, পান একটি লাভজনক ও শ্রমঘন ফসল। সঠিক পরিচর্যা ও রোগবালাই দমন করতে পারলে কৃষকরা ভালো ফলন ও ন্যায্যম‚ল্য পান।
অপর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দাস বলেন, পান চাষে আধুনিক পদ্ধতি ও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো গেলে উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। এ লক্ষ্যে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পান চাষিদের জন্য সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা বাড়ানো হলে এ খাত আরও সম্প্রসারিত হবে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে আরও লাভবান হবেন।











