এসো হে বৈশাখ, এসো এসো — বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর পক্ষ থেকে সবাইকে পহেলা বৈশাখ বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা
আগামী ১৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, মঙ্গলবার—পহেলা বৈশাখ বাংলা শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও সুবিধাবঞ্চিত সাংবাদিকদের অন্যতম আশ্রয়স্থল সংগঠন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)–এর কেন্দ্রীয় কমিটি।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি খান সেলিম রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুল হাসান সরকার বুধবার (১ এপ্রিল) স্বাক্ষরিত এক শুভেচ্ছা বার্তায় উল্লেখ করেছেন—“পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব; এটি প্রায় ৪৫০ বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার উজ্জ্বল ও গৌরবময় প্রতীক।”
বার্তায় বলা হয়েছে, পহেলা বৈশাখের আগমনে পুরোনো সব দুঃখ, কষ্ট ও ব্যর্থতাকে পেছনে ফেলে নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার আলোয় উদ্ভাসিত হয় সমগ্র জাতি। বৈশাখ মানেই নতুনের আহ্বান—প্রকৃতির মতো মানুষের জীবনেও এই দিনটি নিয়ে আসে নির্মল সূচনা ও সতেজ জাগরণ। শুষ্ক ডালে সবুজের কোমল স্পর্শ, গাছে নবপল্লবের দোলা, মৃদুমন্দ বাতাস এবং রঙিন সাজে সেজে ওঠা প্রকৃতি যেন ঘোষণা দেয়—নতুন বছর এসেছে সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বার্তায় উল্লেখ করা হয়, পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সূচনা মূলত মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে। খ্রিষ্টীয় ১৫৮৪ সালে তিনি ‘ফসলি সন’ বা বাংলা সনের প্রবর্তন করেন, যার উদ্দেশ্য ছিল কৃষকদের কাছ থেকে কর আদায়কে সহজ, সুশৃঙ্খল ও সময়োপযোগী করা। হিজরি চান্দ্রবর্ষের সঙ্গে কৃষিকাজের মৌসুমের সামঞ্জস্য না থাকায় কৃষকদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো। নতুন সন সৌর বছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়, ফলে ফসল তোলার উপযুক্ত সময়ে কর আদায় সম্ভব হয়।
সময়ের সঙ্গে এই দিনটি গ্রামবাংলার হালখাতা উৎসব থেকে শুরু হয়ে শহরে বিস্তৃত লোকউৎসবে পরিণত হয়েছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ নতুন সাংস্কৃতিক মাত্রা লাভ করেছে। ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে মঙ্গল শোভাযাত্রা, বৈশাখী মেলা, লোকসংগীত, আলপনা ও চারুকলার বর্ণিল আয়োজন—সব মিলিয়ে এটি আজ বাঙালির অন্যতম বৃহৎ অসাম্প্রদায়িক উৎসব।
বার্তায় আরও বলা হয়, পহেলা বৈশাখ কোনো একক ধর্ম বা গোষ্ঠীর উৎসব নয়; এটি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের মিলনোৎসব। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষ একসাথে এই দিন উদযাপন করে, যা বাঙালি জাতির ঐক্য, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের অনন্য দৃষ্টান্ত।
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)– এর সভাপতি খান সেলিম রহমান বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের বাঙালি জাতিসত্তার অন্যতম প্রধান উৎসব। এটি শুধু নতুন বছরের সূচনা নয়, বরং আমাদের প্রায় চারশো পঞ্চাশ বছরের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। এই দিনে আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়াই। সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় পহেলা বৈশাখ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমি আশা করি, বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ আমাদের সবার জীবনে সুখ, সমৃদ্ধি ও শান্তি বয়ে আনবে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমান সময়ে সাংবাদিক সমাজ নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে দায়িত্ব পালন করছে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীকভাবে সংবাদ পরিবেশন করা সহজ নয়। তবুও সাংবাদিকরা সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। নতুন বছরে সাংবাদিকদের জন্য আরও নিরাপদ ও সহায়ক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত হবে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)– এর সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিদুল হাসান সরকার বলেন, “পহেলা বৈশাখ আমাদের জন্য আনন্দ, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে আসে। এই দিনে আমরা অতীতের সব দুঃখ-দুর্দশা ভুলে নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা পাই। সমাজের সব স্তরের মানুষ একত্রিত হয়ে এই উৎসব উদযাপন করে—যা আমাদের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।”
তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। সমাজের অন্যায়, দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সত্য তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। অনেক সময় তারা নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হন।
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C) সবসময় নির্যাতিত সাংবাদিকদের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। নতুন বছরে আমরা সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় আরও সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার করছি।”
পরিশেষে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়—আসুন, আমরা সবাই আনন্দ, উৎসাহ ও বাঙালিয়ানার গর্বে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করি।
তবে সেই আনন্দ যেন শালীনতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার সীমারেখার মধ্যে থাকে। সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতিও সহমর্মিতার হাত প্রসারিত করি।
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)–এর পক্ষ থেকে দেশ-বিদেশে অবস্থানরত সকল বাঙালিকে জানানো হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩-এর আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।
নতুন বছর সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও অনাবিল আনন্দ।
🌺 শুভ নববর্ষ ১৪৩৩ 🌼








