বোরো মৌসুমে চরম বিপাকে কৃষক
সাঘাটায় নামে মাত্র বিএডিসির সেচ প্রকল্প
গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় কাটাখালী নদীতে তীব্র পানি সংকট দেখা দিয়েছে। অথচ নদীকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) একটি সেচ প্রকল্প কাগজে-কলমে চলমান থাকলেও বাস্তবে এর সুফল পাচ্ছেন না কৃষকরা। প্রকল্পের কঠোর নিয়ম-কানুন ও নতুন সেচ লাইসেন্স প্রদানে জটিলতার কারণে আসন্ন বোরো মৌসুমে শতাধিক বিঘা জমির আবাদ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
মূল প্রতিবেদন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাঘাটার কচুয়া ও আশপাশের এলাকায় কাটাখালী নদী একসময় কৃষি সেচের প্রধান ভরসা ছিল। নদীতে স্থাপিত বিএডিসির সেচ পাম্পের মাধ্যমে কয়েকটি মৌজার জমিতে নিয়মিত সেচ দেওয়া হতো। তবে দীর্ঘদিন ধরে নদীতে পানি না থাকায় সেচ পাম্পগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রকল্পটি এখনও কাগজে সক্রিয় থাকলেও বাস্তবে এর কোনো কার্যকারিতা নেই। নতুন করে সেচ লাইসেন্স নিতে গেলে নানা শর্ত ও নিয়মের বেড়াজালে আটকে পড়তে হচ্ছে। লাইসেন্স না থাকায় বিকল্প কোনো সরকারি সেচ সুবিধাও তারা পাচ্ছেন না।
এদিকে বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক দূরবর্তী এলাকা থেকে স্যালো ইঞ্জিনের মাধ্যমে সেচ দিতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচের বোঝা বইছেন। এতে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, অনেকেই ক্ষতির আশঙ্কা করছেন।
কচুয়া গ্রামের কৃষক আব্দুল মালেক বলেন, “নদীতে পানি নেই, পাম্প চলে না। লাইসেন্স নিতে গেলেও একটার পর একটা শর্ত। শেষ পর্যন্ত নিজের টাকায় স্যালো বসাতে হয়। এভাবে বোরো চাষ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।”
প্রশাসনের বক্তব্য
এ বিষয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নদীতে পানির স্বল্পতার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে প্রকল্পের নীতিমালা পরিবর্তন বা নতুন লাইসেন্স ইস্যু করার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
শেষাংশ
কৃষকরা দ্রুত কাটাখালী নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা, অচল সেচ প্রকল্প সংস্কার এবং বাস্তবতা বিবেচনায় সেচ লাইসেন্সের জটিলতা নিরসনের দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায় আসন্ন বোরো মৌসুমে সাঘাটার বিস্তীর্ণ কৃষিজমি অনাবাদি থেকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

















