রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২
রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২

দেবিদ্বারে হাইভোল্টেজ ভোটের লড়াই ১২ ফেব্রুয়ারি

হাসনাত আবদুল্লাহ ও ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল আহসান মুন্সী মুখোমুখি 

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৫ এএম | 106 বার পড়া হয়েছে
হাসনাত আবদুল্লাহ ও ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল আহসান মুন্সী মুখোমুখি 

আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ ভোটের লড়াই। এই নির্বাচনে মুখোমুখি হচ্ছেন নবাগত রাজনৈতিক মুখ হাসনাত আবদুল্লাহ এবং চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য, প্রবীণ ও জনদরদী রাজনীতিবিদ ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল আহসান মুন্সী। এই দ্বন্দ্বকে ঘিরে দেবিদ্বারজুড়ে বিরাজ করছে ব্যাপক আলোচনা, কৌতূহল ও রাজনৈতিক উত্তেজনা।
দেবিদ্বারের রাজনীতিতে ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল আহসান মুন্সী একটি সুপরিচিত নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি চারবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। উন্নয়ন, অবকাঠামো, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে তার অবদান দেবিদ্বারবাসীর কাছে আজও স্মরণীয়। অনেকেই তাকে “দেবিদ্বারের গর্ব” ও “জনগণের জনদরদী নেতা” হিসেবে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, হাসনাত আবদুল্লাহ একজন নবাগত হলেও সাহসী রাজনৈতিক অবস্থান ও সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘোষণার মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। তিনি প্রকাশ্যেই সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার মনজুরুল আহসান মুন্সীকে ওপেন চ্যালেঞ্জ জানায় এবারের নির্বাচন আরও বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
এ নির্বাচনে দেবিদ্বার উপজেলার সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা অত্যন্ত স্পষ্ট। ভোটারদের ভাষায়—
“আমরা নিরাপদ দেবিদ্বার চাই, উন্নয়নমূলক কাজ চাই, স্বাধীনভাবে বাঁচতে চাই এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সাহসী নেতৃত্ব চাই।”
এ প্রসঙ্গে সৌদি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিম মানবতার সংঘটনের পরিচালক ও মানবাধিকার কর্মী জনাব মো: সেলিম রানা বলেন,
“নেতৃত্ব মানে শুধু পদ বা ক্ষমতা নয়—নেতার কাজ, আচরণ ও দেশপ্রেমই আমাদের বিশ্বাসের জায়গা। দেবিদ্বার উপজেলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে এমন একজন নেতৃত্বের ওপর, যিনি জনগণের কষ্ট বোঝেন, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে দাঁড়ান এবং এলাকার উন্নয়নে সৎ ও সাহসী ভূমিকা রাখবেন। দেবিদ্বারবাসী এমনই একজন নেতার প্রত্যাশা করে।”
তিনি আরও বলেন, দেবিদ্বারের মানুষ এখন মুখের কথায় নয়, কাজের মাধ্যমে প্রমাণিত নেতৃত্ব দেখতে চায়—যিনি গরীবের বন্ধু হবেন, মানবাধিকারের পক্ষে থাকবেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচন কেবল ব্যক্তি বনাম ব্যক্তির লড়াই নয়; এটি অভিজ্ঞতা বনাম নবচিন্তা, অতীতের অর্জন বনাম ভবিষ্যতের স্বপ্ন—এই দুই ধারার মুখোমুখি অবস্থান। এই দুই প্রার্থীর মধ্য থেকেই একজন হবেন দেবিদ্বার উপজেলার আগামী দিনের রূপকার।
সব মিলিয়ে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দেবিদ্বার উপজেলা রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠতে যাচ্ছে। শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রতিফলিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সচেতন মহলের।

ভূঞাপুরে মহিলা সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল

খন্দকার আউয়াল ভাসানী (টাঙ্গাইল) প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৫৮ পিএম
ভূঞাপুরে মহিলা সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এক মহিলা সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর সহধর্মিণী বিলকিস সালাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভূঞাপুর পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।বিলকিস সালাম প্রধান অতিথি বিলকিস সালাম

তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী। দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। আমরা তাঁর আদর্শ ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এগিয়ে নেব। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।”দোয়া মাহফিলে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তাঁর ভূমিকা এবং দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে বক্তারা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

সাব্বির আলম বাবু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কালের স্বাক্ষী পাঁচ শতাধিক বছরের পুরনো কমলা রানীর দীঘি

সাব্বির আলম বাবু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
কালের স্বাক্ষী পাঁচ শতাধিক বছরের পুরনো কমলা রানীর দীঘি

ঐতিহ্যের কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে পাঁচ শতাধিক বছরের পুরনো দক্ষিণ বাংলার সবচেয়ে বড় দীঘি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর তীরে ‘সুন্দরী কমলা রানীর দীঘি’।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চন্দ্রদ্বীপ রাজার শৌর্যবীর্যের স্মৃতি এই কমলা রানীর দীঘি। কথিত আছে, রাজা জয়দেবের কোনো পুত্র সন্তান ছিল না। কমলা সুন্দরী ও বিদ্যাসুন্দরী নামে দুই মেয়ে ছিল। কমলা ছিলেন বুদ্ধিমতি। পিতার নির্দেশে তিনি রাজ্য পরিচালনা ও অস্ত্র চালনা শেখেন। পরিণত বয়সে রাজা কমলাকে বাবুগঞ্জ থানার দেহেরগতি গ্রামের উষাপতির পুত্র বলভদ্র বসুর সঙ্গে বিয়ে দেন।

বলভদ্র বসু ছিলেন বিদ্যোৎশায়ী ও বিভিন্ন শাসে্ত্র পণ্ডিত এবং যুদ্ধ বিদ্যায় অতুলনীয়। বলভদ্র বসু অবশ্য দেখতে কালো ছিলেন, তাই প্রজারা তাকে কালো রাজা বলতেন। বিয়ের পর কমলা স্বামীসহ কচুয়াতেই বসবাস করতেন। রাজা জয়দেব তার মৃত্যুর সময় কমলাকে পরবর্তী রাজা নিযুক্ত করেছিলেন।১৪৯০ খ্রিস্টাব্দে কমলা সিংহাসনে আরোহণ করেন।

কমলা রানীর দীঘির পাড়ের উচ্চতা প্রায় ৪০-৫০ ফুট। এতবড় এবং উঁচু পাড় বিশিষ্ট দীঘি তখন এ বঙ্গে ছিল প্রথম। দীঘি খননে তখনকার দিনে মোট ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। কথিত আছে, দীঘি খনন হলেও দীঘিতে পানি উঠছিল না। অথচ দীঘির চার পাশে ছিল পুকুর, ডোবা-নালা, খাল-বিল পানিতে ভর্তি। পানি উঠাতে পূজা দেওয়া হয়, কাঙালি ভোজের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তারপরেও পানি ওঠেনি। এ জন্য কমলা রানীসহ সভাসদ ও প্রজাদের চোখে ঘুম ছিল না। একদিন রাতে কমলা রানী পালংকে ঘুমাচ্ছিলেন। তখন কে যেন ফিস ফিস করে তার কানে কানে সাবধান করে দিয়ে যায়- যদি না সে পুকুরের ভিতর খালি পায়ে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে হেঁটে না আসেন- তাহলে কিছুতেই এক ফোঁটা পানিও ওঠবে না। তখন কমলা রানী পূজা অর্চনা সেরে খালি পায়ে দীঘিতে হাঁটা শুরু করেন। তিনি দীঘির মাঝে পৌঁছাতেই পানি ওঠা শুরু করে। চোখের নিমিষে কমলার হাঁটু পর্যন্ত পানিতে ডুবে যায়। কমলা অবশ্য জিদ ধরে ছিলেন। পানি কোমর পর্যন্ত না ওঠা অবধি তিনি পাড়ে উঠবেন না। এই কাজ করতে গিয়ে পানি এতটাই উঠে যায় যে কমলা আর সেই পানি থেকে তীরে উঠতে পারেননি। তিনি ওই পানিতে ডুবে হারিয়ে যান। সেই কমলা সুন্দরী দীঘির উত্তর পাড় দিয়ে তেঁতুলিয়া নদীতে চলে গেল। ৫২৬ বছর আগের সেই খাল ও দীঘিটি এখন কালের সাক্ষী হয়ে নানা স্মৃতি বহন করছে।

অপহৃত ট্রাক ও চালক উদ্ধার

নওগাঁয় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

মর্তুজা শাহাদত সাধন, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৩৮ পিএম
নওগাঁয় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

নওগাঁর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নওগাঁর টানা অভিযানে আন্তঃজেলা কুখ্যাত ডাকাত চক্রের ৬ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাতির শিকার হওয়া ট্রাক, অপহৃত ট্রাকচালক ও হেলপার এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত আরেকটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে।

ডাকাতির ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার সময় প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

জানা যায়, গত ২২ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলার বদরগঞ্জ এলাকা থেকে ট্রাকচালক মারুফ ও তার হেলপার শামীম একটি ট্রাকে (ঢাকা মেট্রো-ট ১৬-০১৩৮) করে প্রায় ২৫০ বস্তা (৫০০ মন) ধান বোঝাই করে নওগাঁ জেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

পরদিন রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে নওগাঁ সদর থানার শেষ সীমানার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের নির্জন সড়কে পৌঁছালে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল পিছন দিক থেকে আরেকটি ট্রাক দিয়ে ওভারটেক করে সামনে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় ডাকাতরা ট্রাকের কাচ ভেঙে চালক ও হেলপারকে মারধর করে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং ধানসহ ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি জানার সাথে সাথেই পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সদর থানা, বদলগাছি থানা ও সদর সার্কেলের পুলিশ সদস্যরা মাঠে নামেন। তদন্তের এক পর্যায়ে পাওয়া তথ্যে বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার মোকামতলা তদন্ত কেন্দ্রে একটি ট্রাক ও একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক রাখা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ডিবি নওগাঁর একটি টিম সেখানে পৌঁছে আটক ব্যক্তি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০) কে জিজ্ঞাসাবাদ করে ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে, সে ডাকাতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এরপর আরিফুল ইসলামকে হেফাজতে নিয়ে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্যাপুর থানায় অভিযান চালিয়ে মো. গোলাপ (২৪), লাভলু (২৮) কে আরও দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর এলাকায় ডাকাত দলের সর্দার মো. সামিউল ইসলাম (৩০) কে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে গেলেও তার ভাড়া বাসা থেকে ডাকাতি হওয়া ট্রাকের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া, সাভার ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।