রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩১ ফাল্গুন ১৪৩২
রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬, ৩১ ফাল্গুন ১৪৩২

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সৌদি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিম মানবতার সংঘটনের শুভেচ্ছা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১০:২১ এএম | 197 বার পড়া হয়েছে
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সৌদি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিম মানবতার সংঘটনের শুভেচ্ছা

১৬ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে সৌদি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিম মানবতার সংঘটন বাংলাদেশের সকল জনগণ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতি অর্জন করে চূড়ান্ত বিজয় ও স্বাধীনতা। লাখো শহীদের আত্মত্যাগ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতায় জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। মহান বিজয় দিবস জাতির গৌরব, অহংকার ও অনুপ্রেরণার প্রতীক।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সৌদি আরবে অবস্থানরত প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি মানবিক কার্যক্রম, প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং অন্যায়-অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রবাসে থেকেও তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা হৃদয়ে ধারণ করে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে।

রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিম মানবতার সংঘটন জানায়, মহান বিজয় দিবসের এই গৌরবময় মুহূর্তে তারা দেশপ্রেম, ঐক্য ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে সংগঠনের পক্ষ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণকারী সকলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানানো হয়। একই সঙ্গে দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির কামনা করা হয়।

প্রচারে:

সৌদি প্রবাসী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ১০১ টিম মানবতার সংঘটন

পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঈদ উপহার

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:১৩ পিএম
পাকিস্তানকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঈদ উপহার

পবিত্র ঈদুল ফিতর যখন সমাগত, সেই সময়ে দেশবাসীকে দারুণ এক রোমাঞ্চকর জয় উপহার দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ-তাসকিন আহমেদরা। যে ম্যাচ হয়েছে, তা যেন ব্লকবাস্টার থ্রিলার মুভিকেও হার মানাবে। উত্তেজনায় ঠাসা ম্যাচ জিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১১ বছর পর সিরিজ তো বাংলাদেশ জিতলই। একই সঙ্গে দেশবাসীও পেয়ে গেল ঈদের আগে ঈদ উপহার।

‘আনপ্রেডিক্টেবল’ পাকিস্তানকে নিয়ে আগে থেকে কোনো ভবিষ্যদ্বাণী করা বেশ কঠিন। কখনো নিশ্চিত জেতা ম্যাচ হেরে যায়, কখনোবা হারা ম্যাচ জিতে যায়। কখনোবা শুরুতে মারাত্মক চাপে থাকলেও সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়াতে ওস্তাদ। মিরপুরে আজ সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডে বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচটা ছিল এমনই। পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে সিরিজ জিতে দেশবাসীকে ঈদ উপহার দিল বাংলাদেশ।

সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে শেষ ৩ ওভারে হাতে ৩ উইকেট নিয়ে ৩৩ রানের সমীকরণের সামনে এসে পড়ে পাকিস্তান। সেই ওভারের প্রথম তিন বলে তিন রান দেন তাসকিন আহমেদ। চতুর্থ বলে তাসকিন আহমেদের স্লোয়ার বল তুলে মারতে যান সালমান আলী আগা। আকাশে দীর্ঘক্ষণ ভেসে থাকা বল মেহেদী হাসান মিরাজ তালুবন্দী করার পর প্রাণ ফিরে পায় মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। মাঠে তাসকিন-মিরাজদের উদযাপন যেন স্পর্শ করে দর্শকদেরও।

৪৮তম ওভারে তাসকিন ৫ রান দিলে ২ ওভারে ২৮ রানের সমীকরণের সামনে পড়ে পাকিস্তান। স্নায়ুচাপের চূড়ান্ত পরীক্ষা দিতে আসেন মোস্তাফিজুর রহমান। তার সেই ওভার থেকে প্রথম চার বলের মধ্যে দুই ছক্কা মারেন শাহিন আফ্রিদি। পঞ্চম বলে শাহিনের জোরালো শট মোস্তাফিজের হাঁটুতে সজোরে লেগেছে। মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর মোস্তাফিজের খোঁজ-খবর নেন শাহিন। মাঠে সেবা-শুশ্রূষা নেওয়ার পর বোলিংয়ে নামেন মোস্তাফিজ। সেই ওভারের শেষ বলে তাঁর কাটারে বিভ্রান্ত হয়ে হারিস রউফ সোজা ওপরে তুলে মারেন। হাওয়ায় ভেসে থাকা বল ক্যাচ ধরেন মিরাজ।

শেষ ওভারে ১৪ রানের সমীকরণ যখন, তখন বোলিংয়ে আসেন রিশাদ। সেই ওভারের দ্বিতীয় বলে সোজা আকাশে তুলে মারেন শাহিন আফ্রিদি। পেছন দিকে দৌড়েও তালুবন্দী করতে পারেননি রিশাদ। সেই ওভারে মাত্র ২ রান দিয়ে ইনিংসের শেষ বলে শাহিনকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন রিশাদ। তাতেই বাংলাদেশ পেয়ে যায় ১১ রানের জয়।

২৯১ রানের লক্ষ্যে নেমে ১৭ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত ৬ রান করে আউট হয়েছেন। আরেক অভিজ্ঞ ব্যাটার মোহাম্মদ রিজওয়ান করেছেন ৪ রান। যার মধ্যে তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে রিজওয়ানকে অসাধারণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন তাসকিন। এর আগে ফারহানের উইকেটও নিয়েছেন তাসকিন। আরেক ওপেনার সাদাকাতকে ফেরান নাহিদ রানা।

২.৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১৭ রানে পরিণত হওয়া পাকিস্তানের হাল ধরেন আবদুল সামাদ ও গাজী ঘোরি। যাঁর মধ্যে ঘোরির আজ অভিষেক হয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে। চতুর্থ উইকেটে ৬৭ বলে ৫০ রানের জুটি গড়েন তাঁরা (ঘোরি-সামাদ)। ১৪তম ওভারের শেষ বলে রানাকে ব্যাকফুটে কাট করতে গিয়ে বোল্ড হয়েছেন ঘোরি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক ম্যাচে ৩৯ বলে ২৯ রান করেছেন।

আরেক সেট ব্যাটার সামাদকে (৩৪) ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান মোস্তাফিজুর রহমান। ঘোরি-সামাদ ফেরায় পাকিস্তানের স্কোর হয়ে যায় ১৭.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ৮২ রান। ছয় নম্বরে নামা সালমান আলী আগা একপ্রান্তে আগলে রেখে নিজের মতো করে খেলতে থাকেন। ষষ্ঠ উইকেটে সাদ মাসুদ ও সালমান আগা গড়েন ৮২ বলে ৭৯ রানের জুটি। ৩২তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মাসুদকে (৩৮) অসাধারণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন মোস্তাফিজ। মাসুদেরও আজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে।

বাংলাদেশের আগুনে বোলিংয়ে পুড়ছে পাকিস্তানবাংলাদেশের আগুনে বোলিংয়ে পুড়ছে পাকিস্তান
সপ্তম উইকেটে ফাহিম আশরাফের সঙ্গে ৪৯ বলে ৪৮ রানের জুটি গড়তে অবদান রাখেন সালমান। ফাহিমকে (৯) বোল্ড করে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান তাসকিন। পাকিস্তানের স্কোর তখন হয়ে যায় ৩৯.৩ ওভারে ৭ উইকেটে ২০৯ রান। ৬৩ বলে ৮২ রানের সমীকরণ যখন সফরকারীদের সামনে, তখন একপ্রান্তে নিজের মতো করে খেলে যান সালমান। ৮৯ বলে তুলে নেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি। যদিও তাঁর সেঞ্চুরি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। ৯৮ বলে ৯ চার ও ৪ ছক্কায় করেন ১০৬ রান। ৫০ ওভারে ২৭৯ রানে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। তাসকিন ১০ ওভারে ৪৯ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট।

সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পাকিস্তান অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি। সফরকারীরা তাদের একাদশে তিন পরিবর্তন নিলেও বাংলাদেশ তিন ম্যাচ খেলেছে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়েই। টস হেরে আগে ব্যাটিং পাওয়া বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৫ উইকেটে করেছে ২৯০ রান। তানজিদ হাসান তামিম ১০৭ বলে ৬ চার ও ৭ ছক্কায় করেছেন ১০৭ রান। ম্যাচসেরার পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেছেন তাওহীদ হৃদয়। পাকিস্তানের হারিস রউফ নিয়েছেন ৩ উইকেট। একটি করে উইকেট পেয়েছেন আবরার আহমেদ ও শাহিন আফ্রিদি।

ইরানে হামলাকে সমর্থন জানাল পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:১০ পিএম
ইরানে হামলাকে সমর্থন জানাল পাকিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন

পাকিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবিতে সক্রিয় একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলাকে সমর্থন জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের অবস্থান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেওয়া এবং সম্ভাব্য সমর্থন পাওয়ার কৌশল হতে পারে।

রোববার (১৫ মার্চ) ‘নিক্কেই এশিয়া’ জানিয়েছে, বেলুচিস্তানভিত্তিক সংগঠন ‘ফ্রি বেলুচিস্তান মুভমেন্ট’ (এফবিএম) এক বিবৃতিতে ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পদক্ষেপকে ‘সাহসী সিদ্ধান্ত’ বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও ‘কার্যকর, সমন্বিত ও ফলপ্রসূ’ উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানায়। তাদের মতে—এর মাধ্যমে মানবাধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।

এফবিএম মূলত পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে সক্রিয় একটি জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক সংগঠন। দীর্ঘদিন ধরে এটি বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবি তুলে আসছে। সংগঠনটি তথাকথিত ‘গ্রেটার বেলুচিস্তান’ ধারণার পক্ষে—যার আওতায় পাকিস্তান, ইরান ও আফগানিস্তানের কিছু অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এফবিএম-এর সঙ্গে বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র সংগঠন বেলুচ লিবারেশন আর্ম (আজাদ) এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। এই সংগঠনটি ২০১৭ সালে বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) থেকে বিভক্ত হয়ে গঠিত দুটি অংশের একটি। বিএলএ পাকিস্তান থেকে বেলুচিস্তানের স্বাধীনতার দাবিতে বিভিন্ন সময় নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি স্থাপনা ও চীনা অবকাঠামো প্রকল্পে হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ইতিমধ্যে এই সংগঠনটিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এফবিএম-এর বিবৃতি আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণের প্রচেষ্টা। ইসলামাবাদভিত্তিক থিংকট্যাংক সানোবার ইনস্টিটিউট-এর নির্বাহী পরিচালক কামার চিমা বলেন, ‘সংগঠনটি যুক্তরাষ্ট্রকে বোঝাতে চাইছে, তারা আঞ্চলিক রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ। একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক স্বীকৃতি ও সম্ভাব্য আর্থিক সহায়তা পাওয়ার প্রচেষ্টাও হতে পারে।’

অন্যদিকে স্বাধীন বিশ্লেষক কিয়া বালুচ মনে করেন, বিদেশি শক্তিগুলো রাজনৈতিক লবিং, আন্তর্জাতিক প্রচারণা কিংবা গোয়েন্দা ও লজিস্টিক সহায়তার মতো বিভিন্ন উপায়ে সমর্থন দিতে পারে।

তবে পাকিস্তানের সব বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এই অবস্থানের সঙ্গে একমত নয়। যেমন বেলুচ লিবারেশন ফ্রন্ট বা বিএলএ-এর আরেক অংশ বিএলএ-জুনায়েদ এখনো ইরান পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, মতভেদের মূল কারণ ভৌগোলিক লক্ষ্য। অনেক গোষ্ঠী শুধু পাকিস্তান থেকে বিচ্ছিন্নতার দাবিতে সক্রিয় থাকলেও এফবিএম পাকিস্তান, ইরান ও আফগানিস্তান জুড়ে বৃহত্তর বেলুচিস্তানের স্বপ্ন দেখে।

এদিকে পাকিস্তানের নিরাপত্তা মহলে আশঙ্কা রয়েছে—ইরানের সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে যদি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে সীমান্তজুড়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠী, অপরাধচক্র ও পাচারকারীদের তৎপরতা বেড়ে যেতে পারে। এতে পাকিস্তানের বেলুচিস্তানেও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকেরা।

 

এখনো মরেননি নেতানিয়াহু, ভিডিওতে দেখালেন হাতের ৫ আঙুল

উজ্জ্বল বাংলাদেশ ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২৬, ১১:০৭ পিএম
এখনো মরেননি নেতানিয়াহু, ভিডিওতে দেখালেন হাতের ৫ আঙুল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানের হামলায় নিহত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সেই গুজব উড়িয়ে দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। আজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ওই ভিডিওতে তাঁকে একটি ক্যাফেতে কফি অর্ডার করতে এবং নিজের মৃত্যু নিয়ে রসিকতা করতে দেখা যায়।

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, গত বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহুর এক হাতে ছয়টি আঙুল দেখা গেছে, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি। ভিডিওতে এই দাবির জবাব দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু ক্যামেরার সামনে নিজের দুই হাত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা কি আমার আঙুল গুনতে চান? এই যে এখানে দেখুন। দেখেছেন?’

নিজের মৃত্যু নিয়ে ছড়ানো ষড়যন্ত্রতত্ত্বের জবাবে একটি হিব্রু বাগধারা ব্যবহার করে তিনি রসিকতা করে বলেন, আমি মরে গেছি…কফির জন্য (অর্থাৎ কফির জন্য পাগল)। আপনারা জানেন কি? আমি আমার জনগণের জন্য ‘মরছি’।

ইসরায়েলি নাগরিকদের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আপনারা বাইরে বেরোন, নির্মল বাতাস নিন, তবে অবশ্যই সুরক্ষিত আশ্রয়ের কাছাকাছি থাকবেন। আপনাদের এই মনোবল আমাকে, সরকারকে, আইডিএফ এবং মোসাদকে শক্তি জোগাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এমন কিছু কাজ করছি যা এই মুহূর্তে আমি বলতে পারছি না, তবে আমরা আজও ইরানকে অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত করছি। আপনারা কি আমাকে লড়াই চালিয়ে যেতে বলছেন? আমি আপনাদের বলছি—আপনারাও লড়াই চালিয়ে যান।’

এদিকে, নেতানিয়াহুর এই ভিডিও প্রকাশের আগে আজ রোববার ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস এক বিবৃতিতে তাঁকে ‘খুঁজে বের করে হত্যার’ অঙ্গীকার ব্যক্ত করে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যদি এই শিশু হত্যাকারী অপরাধী বেঁচে থাকে, তবে আমরা পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাঁকে ধাওয়া করব এবং হত্যা করব।’

উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধের ১৬তম দিন চলছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর এই সংঘাত চরম আকার ধারণ করে।

কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, চলমান এই যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যে এখন পর্যন্ত দুই হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইরানে প্রায় ১ হাজার ৪৪৪ জনের বেশি।

পেন্টাগন জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত তারা ইরানে ১৫ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। সম্প্রতি পেন্টাগন এই অঞ্চলে ২ হাজার ৫০০ নৌসেনাসহ উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ মোতায়েন করেছে।

নেতানিয়াহু তাঁর ভিডিওর শেষে বলেন, ‘হোম ফ্রন্ট কমান্ডের নির্দেশনা মেনে চলুন। আমরা বিধিনিষেধ যতটা সম্ভব শিথিল করব। আর এই কফির জন্য ধন্যবাদ, এটি চমৎকার ছিল।’

 

error: Content is protected !!