মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২
মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৪ চৈত্র ১৪৩২

অর্ধ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা

আরডিএফ প্রতারণায় ১০ গ্রামের মানুষ দিশেহারা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৯ নভেম্বর, ২০২৫, ৪:০৬ পিএম | 82 বার পড়া হয়েছে
আরডিএফ প্রতারণায় ১০ গ্রামের মানুষ দিশেহারা

ঋণ দেবে বলে ‘রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (RDF)’ নামে একটি ভুঁইফোড় এনজিও যশোর সদর উপজেলার হামিদপুর ও আস পাশ থেকে শত শত ব্যক্তিকে পথে বসিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। ভুয়া এনজিও’টি অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে দশ গ্রামের মানুষকে পথে বসিয়েছে। লাপাত্তা হওয়া ওই এনজিওর বিরুদ্ধে এখন সরব ভুক্তভোগীরা।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকালে সাইনবোর্ডসর্বস্ব ওই প্রতিষ্ঠান কার্যালয় হামিদপুর গ্রামের ব্যাংকার শফিকুজ্জামানের বাড়ি ঘেরাও করে। পরে তারা মানববন্ধন করেন।
দ্রুত ওই ভুয়া এনজিওর পলাতক কর্মকর্তা কর্মচারী, বাড়িওয়ালা শফিকুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আটক ও টাকা ফেরত দাবি জানান বিক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি তারা যশোর কোতোয়ালি মডেল থানাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবগত করেন।
স্থানীয় সূত্র ও বিক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, হামিদপুর গ্রামের শফিকুজ্জামান নামে জনৈক ব্যাংকারের বাড়ি ভাড়া নিয়ে কয়েক মাস আগে রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফোরাম-আরডিএফ নামে একটি ভুয়া এনজিও আস্তানা গাড়ে। ইয়াসমিন, সালাউদ্দিন, আলী আকবরসহ কয়েকজনের সংঘবদ্ধ চক্রটি নিজেদেরকে এই এনজিওর কর্মকর্তা কর্মচারী পরিচয় দিয়ে মাঠ চষতে থাকেন। জনপ্রতি তিন লাখ, পাঁচ লাখ, সাত লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়ার কথা প্রচার করে হামিদপুর এলাকার হামিদপুর, সুলতানপুর, বাউলিয়া নীলগঞ্জ, চাঁদপাড়া, নালিয়া, সীতারামপুর, রাজারহাট, কচুয়া ফতেপুর, ধানঘাটা, তালবাড়ীয়া, রাজাপুর, বাকডাঙ্গা, তারাগঞ্জসহ দশ গ্রামে প্রচারণা চালিয়ে টাকা হাতাতে থাকেন। জনপ্রতি কমপক্ষে ৬ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে কয়েকদিন আগে আত্মগোপনে চলে যায় প্রতারক চক্রটি।
গত মাসখানেক তারা সদস্য সংগ্রহ, ঋণ প্রদান ও উন্নয়নমূলক কাজের নামে অর্থ নেয়ার পর অফিস গুটিয়ে পালিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ তুলে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন লিটন হোসেন নামে জনৈক ভুক্তভোগী।
বুধবার সকালে ওই ভুয়া এনজিওর কার্যালয় হামিদপুরের ব্যাংকার শফিকুজ্জামানের বাড়ির সামনে জড়ো হন ভুক্তভোগীরা। এনজিওর দেয়া বই হাতে নিয়ে তারা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন।
দায়তলার হাদিউজ্জামান, বাউলিয়ার বাসিরা বেগম, সুলতানপুরের আদুরী বেগম রুনু রুনা, নাসিমা, ধানঘাটার রিজিয়া, আলিফ, জান্নাতুল, কুলসুম, সুলতানপুরের নাসির উদ্দিন, বাউলিয়ার আছিয়া খাতুন, তালবাড়িয়ার মিরাজুল, ফতেপুরে লিটন ঘোষসহ অর্ধশত নারী-পুরুষ জানান, আরডিএফ নামে একটি এনজিও কর্মীরা তাদের কাছ থেকে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ঋণ দেয়ার নামে। তারা টাকা দেন মোটা অংকে ঋণ পেতে। এনজিও কর্মীদের মধ্যে ইয়াসমিন, সালাউদ্দিন, আলী আকবার, সানিক, নাঈমা, রোকেয়া, সিটুল, রাজিবসহ আরও অনেকেই ঋণ পেতে বিভিন্ন অংকের টাকা জমা দেন।
অভিযোগে তারা আরো উল্লেখ করেন, আরডিএফ কর্মীরা এলাকার লোকজনকে ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শত শত সদস্য সংগ্রহ করেন। সদস্যপ্রতি ২০০ টাকা করে ফি নেয়া ছাড়াও ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘লোন প্রোসেসিং’ খরচ আদায় করেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও কেউ ঋণ পাননি। বরং প্রতিষ্ঠানটির লোকজন নানা অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। অতিরিক্ত অর্থ দাবি ও টাকা ফেরতের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। গত ৫ নভেম্বর দুপুরে আরডিএফ’র হামিদপুরস্থ অফিসে গেলে তারা বুঝতে পারেন প্রতিষ্ঠানটি আসলে একটি ভুয়া এনজিও। অফিসের কর্মীরা দ্রুত স্থান ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে তারা প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন।
ভুক্তভোগীরা ভুয়া এনজিওর দেয়া পাশ বই উঁচু করে দেখিয়ে কান্না বিজড়িত কন্ঠে আরো বলেন, অনেকেই টাকা দিয়েছেন। কেউ কেউ লাখ টাকার বেশি দিয়েছেন। এখন অফিসে গেলে কাউকে পাওয়া যায়না। তারা প্রতারিত হয়েছেন। আর সর্বশেষ বিভিন্ন অভিযোগ করেন তারা। বাড়ি মালিক শফিকুজ্জামান জেনে শুনে ভুয়া এনজিওকে ভাড়া দিয়েছেন এমনও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তাদের দাবি এ ভুয়া চক্রে ব্যাংকার শফিকুজ্জামানও সরাসরি জড়িত। তার সাথে কথা বলতে গেলে তিনি এখন উল্টো হুমকি দিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে দ্রুত ভুয়া এনজিওর লোকজনসহ বাড়িওয়ালা ব্যাংকার শফিকুজ্জামানকে আটকের দাবি জানান।
এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত খান জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রক্রিয়াধীন।
ঐ এনজিও কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা কর্মচারী পরিচয় দিয়ে যারা টাকা পয়সা নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে ইয়াসমিন, আলী আকবার ও সালাউদ্দীনের তিন ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া গেছে।
তবে যে বাড়িতে ঐ এনজিও তার মালিক অপর অভিযুক্ত ব্যাংকার শফিকুজ্জামান এ বিষয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন।।

কাজিপুরে হৃদরোগে তেল ব্যবসায়ীর মৃত্যু, শোক প্রকাশ প্রেসক্লাবের

অঞ্জনা চৌধুরী, নির্বাহী সম্পাদক উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫১ এএম
কাজিপুরে হৃদরোগে তেল ব্যবসায়ীর মৃত্যু, শোক প্রকাশ প্রেসক্লাবের

কাজিপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের তথ্য বিষয়ক সম্পাদক সদস্য ও দৈনিক আজকের খবর কাজিপুর প্রতিনিধি এবং সিরাজগঞ্জ কণ্ঠ-এর স্টাফ রিপোর্টার সাংবাদিক মো লিমন খানের পিতা রফিকুল ইসলাম আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

জানা যায়, সোমবার (৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা আনুমানিক ৮টার দিকে চালিতাডাঙ্গা জামে মসজিদে নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিকভাবে স্বজনরা তাকে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে সেখানে নেওয়ার পথে তিনি ইন্তেকাল করেন।

মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৬০ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পেশাগত জীবনে তিনি একজন সুনামধন্য তেল ব্যবসায়ী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন।

তার মৃত্যুতে কাজিপুর উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহজাহান আলী ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল জলিল গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

মরহুমের নামাজে জানাজা মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকাল ১০টায় সিবি দুর্গতিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে নিজ বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার

এনামুল হক রাশেদীঃ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৯ পিএম
কাঁচামালের সংকটে ২৫ দিন বন্ধ থাকতে পারে দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার

বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে।

কাঁচামালের সংকটে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ বন্ধ থাকায় আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে রিফাইনারিটির মজুত শেষ হয়ে যেতে পারে। ফলে অন্তত ২৫ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রতিষ্ঠার ৫৭ বছরের ইতিহাসে কাঁচামালের অভাবে এমন পরিস্থিতি এবারই প্রথম।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে গত ৩৫ দিনে অপরিশোধিত তেলবাহী কোনো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়নি। বর্তমানে ইআরএলে ব্যবহারযোগ্য অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে প্রায় ২০ হাজার টন। মজুত দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উৎপাদনও কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার ৫০০ টন জ্বালানি উৎপাদন হলেও এখন তা কমে ৩ হাজার ২০০ টনে নেমে এসেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসে নতুন কোনো অপরিশোধিত তেলের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসার সম্ভাবনা নেই। পরবর্তী চালানটি আসতে পারে আগামী ১ মে। এক লাখ টন তেলবাহী সেই জাহাজ থেকে লাইটার জাহাজের মাধ্যমে রিফাইনারিতে তেল আনতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে। এ হিসাবে অন্তত ২৫ দিন ইআরএলের উৎপাদন বন্ধ থাকতে পারে।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রামের এই রিফাইনারি মাসে প্রায় দেড় লাখ টন তেল পরিশোধন করে। এখান থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৬০ হাজার টন ডিজেল, ১৫ হাজার টন পেট্রোলসহ মোট ১৪ ধরনের জ্বালানি পণ্য উৎপাদন হয়। দেশে বছরে প্রায় ৭২ লাখ টন জ্বালানি তেলের চাহিদার মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন জ্বালানি পরিশোধন করে ইআরএল, যা মোট চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ।
বিকল্প ব্যবস্থার কথা বলছে বিপিসি
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে বিপিসি। জ্বালানি বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ইআরএল সাময়িক বন্ধ হলেও দেশে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট হবে না। বর্তমানে অন্তত তিন মাস চলার মতো অকটেন মজুত রয়েছে।
তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেল না এলেও ইতোমধ্যে ১০টি জাহাজে ডিজেল দেশে এসেছে। এপ্রিল মাসে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল আসা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের ডিপোগুলোতে মজুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার টন ডিজেল এবং আরও প্রায় ৬০ হাজার টন আমদানির প্রক্রিয়া চলছে।

পেট্রোল-অকটেনের মজুত স্বাভাবিকঃ

দেশে মাসে প্রায় ৩৫ হাজার টন অকটেন ও ৩০ হাজার টনের কিছু বেশি পেট্রোলের চাহিদা রয়েছে। সিলেট গ্যাসফিল্ডের কনডেনসেট ফ্রাকশনেশন প্লান্টসহ কয়েকটি বেসরকারি প্লান্ট থেকে পেট্রোল উৎপাদন হওয়ায় এ খাতে তেমন সংকট নেই। সম্প্রতি ২৫ হাজার টন অকটেন নিয়ে একটি জাহাজ দেশে পৌঁছেছে এবং আরও একটি জাহাজ আগামী সপ্তাহে আসার কথা রয়েছে।
তবে ইআরএল বন্ধ হয়ে গেলে ন্যাফথা সরবরাহ কিছুটা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ পেট্রোল ও অকটেন মিশ্রণ প্রক্রিয়ায় এই উপাদানটি গুরুত্বপূর্ণ।
মে মাসে আসতে পারে অপরিশোধিত তেল
বিপিসি সূত্র জানায়, সৌদি আরবের ইয়ানবু কমার্শিয়াল পোর্ট থেকে ২০ এপ্রিল এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল জাহাজে তোলা হবে। এছাড়া ‘এমটি নরডিক পলুকস’ নামের আরেকটি জাহাজে এক লাখ টন তেল হরমুজ প্রণালিতে আটকে রয়েছে। দুটি জাহাজ মিলিয়ে প্রায় দুই লাখ টন অপরিশোধিত তেল মে মাসের শুরুতে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
তেল খালাস করে রিফাইনারিতে পৌঁছাতে কয়েক দিন সময় লাগবে। এরপর গুণগত মান যাচাই শেষে পুনরায় পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দেশে জ্বালানির ব্যবহারঃ

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে জ্বালানি তেলের সবচেয়ে বেশি ব্যবহার হয় পরিবহন খাতে। মোট ব্যবহারের প্রায় ৬৩ শতাংশই এই খাতে ব্যয় হয়। এছাড়া কৃষিতে ১৫ শতাংশ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১২ শতাংশ, শিল্পে প্রায় ৬ শতাংশ এবং অন্যান্য খাতে বাকি জ্বালানি ব্যবহৃত হয়।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিপিসি মোট ৬৮ লাখের বেশি টন জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ডিজেল—৪৩ লাখ টনেরও বেশি, যা মোট বিক্রির প্রায় ৬৪ শতাংশ।

নোয়াখালীতে যুবককে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা

প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু নাছের, ব্যুরো চীফ নোয়াখালী: প্রকাশিত: সোমবার, ৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৭ পিএম
নোয়াখালীতে যুবককে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা

নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলায় মো. খোকন (৩২) নামে এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। লাশটি আগুনে পোড়ানো অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) সকালে চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মোন্নাফ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গতকাল রোববার ৫ এপ্রিল রাত ১০টার দিকে চাটখিল পৌরসভার দৌলতপুর গ্রামের মন্ত্রী পোল সংলগ্ন ঝোঁপ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত খোকন ওই এলাকার হোসেন আলী পাটোয়ারী বাড়ির মো. ফারুক হোসেনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, খোকন পেশায় একজন দিনমজুর ছিল। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন পেয়ে খোকন বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে শনিবার (৪ এপ্রিল) রাতে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৯০) করা হয়।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দুর্বৃত্তরা অন্যত্র তাকে পিটিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করে লাশ চাটখিল পৌরসভার দৌলতপুর গ্রামের মন্ত্রী পোল সংলগ্ন ঝোঁপের মধ্যে ফেলে যায়। পরে রোববার রাতে স্থানীয়রা ঝোঁপের মধ্যে অর্ধগলিত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ওসি আব্দুল মোন্নাফ আরও বলেন, লাশটি পোড়ানো মনে হচ্ছে। তবে ফরেনসিক রিপোর্ট না পেলে কিছু বলা যাচ্ছেনা। তবে এটি প্রাথমিক ভাবে হত্যাকান্ড বলে মনে হচ্ছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার অজ্ঞাত আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

error: Content is protected !!