ঋণ দেবে বলে ‘রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (RDF)’ নামে একটি ভুঁইফোড় এনজিও যশোর সদর উপজেলার হামিদপুর ও আস পাশ থেকে শত শত ব্যক্তিকে পথে বসিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে। ভুয়া এনজিও’টি অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে দশ গ্রামের মানুষকে পথে বসিয়েছে। লাপাত্তা হওয়া ওই এনজিওর বিরুদ্ধে এখন সরব ভুক্তভোগীরা।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকালে সাইনবোর্ডসর্বস্ব ওই প্রতিষ্ঠান কার্যালয় হামিদপুর গ্রামের ব্যাংকার শফিকুজ্জামানের বাড়ি ঘেরাও করে। পরে তারা মানববন্ধন করেন।
দ্রুত ওই ভুয়া এনজিওর পলাতক কর্মকর্তা কর্মচারী, বাড়িওয়ালা শফিকুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আটক ও টাকা ফেরত দাবি জানান বিক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা। বিষয়টি তারা যশোর কোতোয়ালি মডেল থানাসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অবগত করেন।
স্থানীয় সূত্র ও বিক্ষুব্ধ ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, হামিদপুর গ্রামের শফিকুজ্জামান নামে জনৈক ব্যাংকারের বাড়ি ভাড়া নিয়ে কয়েক মাস আগে রুরাল ডেভেলপমেন্ট ফোরাম-আরডিএফ নামে একটি ভুয়া এনজিও আস্তানা গাড়ে। ইয়াসমিন, সালাউদ্দিন, আলী আকবরসহ কয়েকজনের সংঘবদ্ধ চক্রটি নিজেদেরকে এই এনজিওর কর্মকর্তা কর্মচারী পরিচয় দিয়ে মাঠ চষতে থাকেন। জনপ্রতি তিন লাখ, পাঁচ লাখ, সাত লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়ার কথা প্রচার করে হামিদপুর এলাকার হামিদপুর, সুলতানপুর, বাউলিয়া নীলগঞ্জ, চাঁদপাড়া, নালিয়া, সীতারামপুর, রাজারহাট, কচুয়া ফতেপুর, ধানঘাটা, তালবাড়ীয়া, রাজাপুর, বাকডাঙ্গা, তারাগঞ্জসহ দশ গ্রামে প্রচারণা চালিয়ে টাকা হাতাতে থাকেন। জনপ্রতি কমপক্ষে ৬ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়ে কয়েকদিন আগে আত্মগোপনে চলে যায় প্রতারক চক্রটি।
গত মাসখানেক তারা সদস্য সংগ্রহ, ঋণ প্রদান ও উন্নয়নমূলক কাজের নামে অর্থ নেয়ার পর অফিস গুটিয়ে পালিয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ তুলে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন লিটন হোসেন নামে জনৈক ভুক্তভোগী।
বুধবার সকালে ওই ভুয়া এনজিওর কার্যালয় হামিদপুরের ব্যাংকার শফিকুজ্জামানের বাড়ির সামনে জড়ো হন ভুক্তভোগীরা। এনজিওর দেয়া বই হাতে নিয়ে তারা বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেন।
দায়তলার হাদিউজ্জামান, বাউলিয়ার বাসিরা বেগম, সুলতানপুরের আদুরী বেগম রুনু রুনা, নাসিমা, ধানঘাটার রিজিয়া, আলিফ, জান্নাতুল, কুলসুম, সুলতানপুরের নাসির উদ্দিন, বাউলিয়ার আছিয়া খাতুন, তালবাড়িয়ার মিরাজুল, ফতেপুরে লিটন ঘোষসহ অর্ধশত নারী-পুরুষ জানান, আরডিএফ নামে একটি এনজিও কর্মীরা তাদের কাছ থেকে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ঋণ দেয়ার নামে। তারা টাকা দেন মোটা অংকে ঋণ পেতে। এনজিও কর্মীদের মধ্যে ইয়াসমিন, সালাউদ্দিন, আলী আকবার, সানিক, নাঈমা, রোকেয়া, সিটুল, রাজিবসহ আরও অনেকেই ঋণ পেতে বিভিন্ন অংকের টাকা জমা দেন।
অভিযোগে তারা আরো উল্লেখ করেন, আরডিএফ কর্মীরা এলাকার লোকজনকে ঋণ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শত শত সদস্য সংগ্রহ করেন। সদস্যপ্রতি ২০০ টাকা করে ফি নেয়া ছাড়াও ২০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘লোন প্রোসেসিং’ খরচ আদায় করেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও কেউ ঋণ পাননি। বরং প্রতিষ্ঠানটির লোকজন নানা অজুহাত দেখিয়ে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। অতিরিক্ত অর্থ দাবি ও টাকা ফেরতের বিষয়ে প্রশ্ন তুললে হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। গত ৫ নভেম্বর দুপুরে আরডিএফ’র হামিদপুরস্থ অফিসে গেলে তারা বুঝতে পারেন প্রতিষ্ঠানটি আসলে একটি ভুয়া এনজিও। অফিসের কর্মীরা দ্রুত স্থান ত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে তারা প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হন।
ভুক্তভোগীরা ভুয়া এনজিওর দেয়া পাশ বই উঁচু করে দেখিয়ে কান্না বিজড়িত কন্ঠে আরো বলেন, অনেকেই টাকা দিয়েছেন। কেউ কেউ লাখ টাকার বেশি দিয়েছেন। এখন অফিসে গেলে কাউকে পাওয়া যায়না। তারা প্রতারিত হয়েছেন। আর সর্বশেষ বিভিন্ন অভিযোগ করেন তারা। বাড়ি মালিক শফিকুজ্জামান জেনে শুনে ভুয়া এনজিওকে ভাড়া দিয়েছেন এমনও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। তাদের দাবি এ ভুয়া চক্রে ব্যাংকার শফিকুজ্জামানও সরাসরি জড়িত। তার সাথে কথা বলতে গেলে তিনি এখন উল্টো হুমকি দিচ্ছেন।
এ ব্যাপারে দ্রুত ভুয়া এনজিওর লোকজনসহ বাড়িওয়ালা ব্যাংকার শফিকুজ্জামানকে আটকের দাবি জানান।
এ ব্যাপারে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল হাসনাত খান জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া প্রক্রিয়াধীন।
ঐ এনজিও কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা কর্মচারী পরিচয় দিয়ে যারা টাকা পয়সা নিয়েছিলেন তাদের মধ্যে ইয়াসমিন, আলী আকবার ও সালাউদ্দীনের তিন ফোন নাম্বার বন্ধ পাওয়া গেছে।
তবে যে বাড়িতে ঐ এনজিও তার মালিক অপর অভিযুক্ত ব্যাংকার শফিকুজ্জামান এ বিষয়ে নিশ্চুপ রয়েছেন।।

মালিকুজ্জামান কাকা