শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

দাম্পত্য

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৫, ১:০৯ পিএম | 75 বার পড়া হয়েছে
দাম্পত্য

দুটি অচেনা মানুষ হঠাৎ একসঙ্গে থাকা শুরু করে কোন
এক মন্ত্র বলে। বিছানা, বালিশ, বাথরুম, টাওয়েল,
আলমিরা, খাবারের টেবিল সবকিছুতে অংশীদারিত্ব
চলে আসে। দুজনে হাসিমুখে, আনন্দচিত্তে সব কিছু ই
ভাগাভাগি করে মেনে নেয়। তাদের সুখ দুঃখ, ভালোলাগা
মন্দলাগা, সবকিছুতেই সহ অবস্থান তৈরি হয়।
অচেনা মানুষ ধীরে ধীরে চেনা হয়। ভালোবাসা বাড়ে।
আবেগ, অনুভূতি, সহানুভূতি, সহনশীলতা, বিশ্বস্ততা
বাড়ে। একটি পর্যায়ে দুজনের মধ্যে কোন ব্যবধান
থাকেনা। যেমন দেহে তেমনি মনেও। আমৃত্যু এভাবেই
রয়ে যায় স্বামী স্ত্রীর বিনি সুতোর প্রেম।
আজকাল এমন দম্পতির সংখ্যা কমে যাচ্ছে ।
দাম্পত্য জীবন এখন অনেকটা ছেলে খেলার মত হয়ে
গেছে। যেমন ধরেন পায়ের জুতার মত। লাগলে ভালো
না লাগলে ছুঁড়ে ফেলে দিতে কেউ কুন্ঠা করে না। অথচ
এক সময় মানুষ কত মানিয়ে শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার
চেষ্টা করতো। এখন মানুষের চেষ্টা করার ধৈর্য কমে গেছে।
এখনকার দম্পতিদের বেলায় এমন খুব কম দেখা যায়।
আগের দিনের সেই স্পর্শকাতরতা কোথায় যেন
মিলিয়ে গেছে, কোথায় যেন তাঁর ছিঁড়ে গেছে। এক
সময় যত সমস্যাই সামনে এসে দাঁড়াতো প্রবল ঝড়ে ও
দুজনের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ঘরগুলো টিকে থাকতো।
উঠোনে নতুন বীজ রোপন হতো,মাঠ ভরে যেতো নতুন
সোনালী ফসলে। আর এখন ঝড় উঠলে মানুষ দরজা
খুলে দেয়। উত্তাল হাওয়া এসে পর্দা সরিয়ে ঘরের চাল
উড়িয়ে নেয়। ঘর ভেঙে পড়ে। না থাকে বসত না আশ্রয়।
অথচ দুজনের একটু সতর্কতা, একটু যত্ন, একটু
সহনশীলতা তাদের জীবনের শেষ সীমানায় পৌঁছতে সক্ষম হতো।
যেকোনো সম্পর্ক যত্ন দিয়ে, সম্মান দিয়ে
টিকিয়ে রাখতে হয়। চরিত্র আর ব্যবহার খুব মূল্যবান।
এদের যত্ন খুব প্রয়োজন। মানুষের জীবনে খারাপ
সময় চিরদিন থাকে না। কিন্তু খারাপ ব্যবহার মনের
ভেতর গেঁথে থাকে। যতটা সম্ভব নিজের ব্যবহার সুন্দর
রাখতে পারলে পুরো সম্পর্কগুলো সুন্দর থাকবে।
একটি বই এতটা জ্ঞান দিতে পারে না, যতোটা অনুকুল অথবা প্রতিকূল পরিস্থিতি দিতে পারে।
পরিবেশ পরিস্থিতিতে অর্জিত জ্ঞান সবচেয়ে মূল্যবান জ্ঞান।

✍️ দিলরুবা আক্তার পারভীন

ভারতীয় নাগরিকের লাশ দেখার সুযোগ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর মানবিক দৃষ্টান্ত

শামসুন্নাহার সুমা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৪০ পিএম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর মানবিক দৃষ্টান্ত

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় গত ০৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যা সাত ঘটিকায় ভারতীয় নাগরিক মালদা জেলায় কালিয়াচক থানা দিছতরদিঘির গ্রামের বাসিন্দা কসিমুদ্দিনের স্ত্রী ফনি বেগম (৭৫) বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। সংবাদ পেয়ে বাংলাদেশে বসবাসকারী চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর জমিনপুর গ্রামে মৃত ফনি বেগম এর ভাই আতাউর রহমান (৬০) ও তার স্বজনরা লাশ দেখার জন্য বিজিবি’র নিকট আবেদন করেন।

সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজিবি’র পক্ষ হতে তাৎক্ষণিক প্রতিপক্ষ বিএসএফ এর সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং গতকাল (০৫ ডিসেম্বর) শুক্রবার সকাল সাড়ে আট ঘটিকায় মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধীনস্থ কিরণগঞ্জ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১৭৯/৩-এস এর নিকট শূন্য লাইনে বিজিবি-বিএসএফ এর উপস্থিতিতে মৃতের লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। লাশ দেখে বাংলাদেশী আত্মীয়-স্বজন আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন এবং শেষবারের মত আত্মীয়কে দেখতে পেরে তারা বিজিবি’র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম কিবরিয়া, বিজিবিএম, বিজিওএম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বিজিবি অত্যন্ত মানবিক এবং মানবিক কাজে সব সময় সহানুভূতিশীল। বিজিবি সকল প্রকার মানবিক কাজ মৌলিক কর্তব্য হিসেবে সম্পাদনে বদ্ধ পরিকর।

ক্ষমতায় গেলে মাটিসহ খেয়ে ফেলবে

বিএনপি দুর্নীতিতে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন: জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম পাবনা ঈশ্বরদী প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:৩৬ পিএম
বিএনপি দুর্নীতিতে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন: জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল

বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামির কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন-“ বিএনপি ক্ষমতায় গিয়ে দুর্নীতিতে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। দেশের সর্বত্র বালু খাওয়া, পাথর খাওয়া, সব শেষ। টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি ভুমিদখল, খুন, রাহাজানি করেছে। এবার যদি বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় যায় তাহলে দেশের মাটিসহ খেয়ে ফেলবে। তার প্রমান হলো, গত ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে ফ্যাসিবাদ শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগ পালালে বিএনপি ভেবেছিল তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা চলে গেছে। এই কারণে দেশের সব জায়গায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি টেন্ডারবাজি, খুন, জখম করেছে। নিজ দলের নেতাকর্মীদের খুন করেছে। মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছে”।

আজ (শুক্রবার) বিকেলে ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াত ইসলামির আমির ড. নুরুজ্জামান প্রামানিকের সভাপতিত্বে আলহাজ্ব খায়রুজ্জামান বাবু বাস টার্মিনালে পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘড়িয়া) আসনে দলীয় প্রার্থীর আবু তালেব মন্ডলের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আরও বলেন-“ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনটি দল বাংলাদেশকে শাসন করেছে। তার একটি দল পালিয়েছে। আরেকটি দল অতিরিক্ত দালানি করে মুছে গেছে। আরেকটি দল বাকি। যারা দুর্নীতিতে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এই দলের নেতাকর্মী আজকে অনেক কিছু করতে পারেন। অথচ সেদিন বেগম জিয়া কাজের মেয়ে ফাতেমাকে নিয়ে বালুর ট্রাকের সামনে পড়েছিলেন। সেদিন তো আপনারা কেউ এগিয়ে যাননি। মানুষ এখন বলছে সব দল দেখা শেষ, এখন জামায়াত ইসলামের বাংলাদেশ”।

মোঃ আবু সাঈদ বাঘা (রাজশাহী) প্রতিবেদক

বাঘায় গ্রাম্য শালিসের আংশিক মীমাংসা হলো ষাট বছরের জমি বিরোধ

মোঃ আবু সাঈদ বাঘা (রাজশাহী) প্রতিবেদক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৭:১৬ পিএম
বাঘায় গ্রাম্য শালিসের আংশিক মীমাংসা হলো ষাট বছরের জমি বিরোধ

রাজশাহীর বাঘায় দীর্ঘ ছয় দশকের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ আংশিকভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে গ্রাম্য শালিসের মাধ্যমে। বাউসা ইউনিয়নের ফতিয়াদাড় গ্রামে বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এই বড় পরিসরের শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শালিসে উপস্থিত ছিলেন—বাউসা ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল জলিল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন, বাউসা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ রেজাউল করিম, সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন, বাঘা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফ মিঞা, বিএনপি নেতা আব্দুর রশিদ মাস্টার, রাজশাহী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক নাজমুল হক, মনিগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ মুকুলসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

দীর্ঘ সময় উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনা, আদালতের রায়, পরিমাপ, নথিপত্র ও পুরোনো দলিল যাচাইয়ের পর সালিস কমিটি একমত সিদ্ধান্তে পৌঁছে।

জানা যায়, ফতিয়াদাড় গ্রামের মৃত তজিম উদ্দীনের ছেলে নাজিম উদ্দীন লাল্টু ও মৃত জেকের আলীর ছেলে আরিফুল ইসলামের মধ্যে পারিবারিক উত্তরাধিকার ও ক্রয় সূত্রে পাওয়া জমি নিয়ে প্রায় ৬০ বছর ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার অভিযোগ, থানায় জিডি এবং আদালতে মামলা করেও জটিলতায় দীর্ঘসূত্রতা দেখা দেয়। এতে দুই পরিবারের সম্পর্কও তিক্ত হয়ে ওঠে।

সালিস সূত্রে জানা যায়, নাজিম উদ্দীন লাল্টু পাচপাড়া মৌজায় তার প্রাপ্য ৭ একর ২৫ শতাংশ জমির চেয়ে ২ একর ২২ শতাংশ বেশি—মোট ৯ একর ৪৭ শতাংশ জমি ভোগদখলে রেখেছিলেন। এই অতিরিক্ত অংশ নিয়েই আরিফুল ইসলামের সঙ্গে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল।

সালিস কমিটি আদালতের রায় ও কাগজপত্র যাচাই শেষে নাজিম উদ্দীন লাল্টুর দখলে থাকা জমির মধ্যে ৭৫ শতাংশ (প্রায় আড়াই বিঘা) জমি আরিফুল ইসলামকে ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়।

শালিসের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আব্দুল জলিল জানান, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সার্ভেয়ারের মাধ্যমে আরিফুল ইসলামকে ৬৩ শতাংশ জমি হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় আগামী ১৩ ডিসেম্বর পরবর্তী শালিসে তা নিষ্পত্তি করা হবে।

সার্ভেয়ার মামুনুর রশিদও নিশ্চিত করেন যে, আরিফুল ইসলামকে ৬৩ শতাংশ জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। উভয় পক্ষ সালিসি সিদ্ধান্তের বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে।