সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২
সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ১ চৈত্র ১৪৩২

পুলিশ সংস্কারে একগুচ্ছ প্রস্তাব

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ অক্টোবর, ২০২৪, ৫:৫৪ এএম | 116 বার পড়া হয়েছে
পুলিশ সংস্কারে একগুচ্ছ প্রস্তাব

পুলিশ সংস্কারে একগুচ্ছ প্রস্তাব দিয়েছে বেসরকারি সংগঠন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। আজ মঙ্গলবার (১ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষায় পুলিশি ব্যবস্থার সংস্কার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভা এসব প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। আলোচনা সভায় লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সামজীর আহমেদ।

সভায় বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণেই শিক্ষার্থীদের কোটাবিরোধী আন্দোলন চলাকালে বেশকিছু স্পটে পুলিশ বিতর্কিত ভূমিকা পালন করে। নিয়মবহির্ভূত প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণ করে। এজন্য রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট পুলিশের গুটি কয়েক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাই দায়ী। অথচ যার খেসারত দিতে হচ্ছে গোটা পুলিশ প্রশাসনকে।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক চাপে পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে আইজিপি পর্যন্ত কাউকে দুই বছরের আগে বদলি করা যাবে না। পুলিশের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে মন্ত্রী-সংসদ সদস্য বা যে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির মৌখিক, লিখিত বা টেলিফোনে সুপারিশ ফৌজদারি অপরাধ বলে গণ্য হবে। পুলিশের মহাপরিদর্শক পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া যাবে না।

এছাড়া ক্রসফায়ার, এনকাউন্টার, বন্দুকযুদ্ধ বা পুলিশ হেফাজতে কারও মৃত্যু হলে তা আইনসঙ্গত ছিল কি না তা তদন্ত করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এসব ক্ষেত্রে খসড়া প্রস্তাবে ১১ সদস্যের জাতীয় পুলিশ কমিশন, ৫ সদস্যের স্বাধীন পুলিশ অভিযোগ কর্তৃপক্ষ এবং অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যকে দ্রম্নত সাজা দেওয়ার জন্য পুলিশ ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষক, গবেষক, আইনজীবী ও পুলিশের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা।

সভায় সাবেক আইজিপি ড. এনামুল হক লিখিত বক্তব্যে বলেন, পুলিশ আইন ও পিআরবির অসামঞ্জস্য দূর করতে হবে। ওসি নিয়োগের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্ব দিতে হবে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে পুলিশকে ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। পুলিশের আর্থিক হিসাব-নিকাশ এর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। যারা এখনো যোগদান করেনি দ্রুত নোটিশ করে তাদেরকে চাকরিতে যোগদানের তাড়া দিতে হবে।

অধ্যাপক সামজীর বলেন, বাংলাদেশের পুলিশ চলে ব্রিটিশ উপনিবেশের তৈরি করা আইনে। তাই এই পুলিশ বারবারই জনগণের বিপক্ষে দাঁড়ায় এবং জুলুমের বাহিনীতে পরিণত হয়। তিনি পুলিশের নাম ও পোশাক পরিচ্ছদ পরিবর্তনের প্রস্তাব করেন। পাশাপাশি পুলিশের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে জনগণের ফিডব্যাকের ব্যবস্থা করারও প্রস্তাব করেন তিনি। সেইসাথে পুলিশকে জনগণের রেগুলার সমস্যার ক্ষেত্রে অভিযোগ জানানোর জন্য ইমেইল ও অনলাইনের ব্যবস্থা থাকারও প্রস্তাব করেন।

অধ্যাপক সি আর আবরার বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আত্মদান আমাদেরকে প্রজা থেকে নাগরিকে উন্নীত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। যেই সুযোগগুলো আমরা চাই রাষ্ট্রের কাছে, মর্যাদা নিয়ে বেচে থাকার জন্য সেগুলো আমাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে। বিগত সময়ে পুলিশসহ সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুম, খুন, মিথ্যা মামলা, বিরোধীমত দমনসহ সকল অপকর্মই করেছে। সর্বশেষ আমলে যারা দ্রুত প্রমোশন ও সুযোগ-সুবিধা পেয়েছে তাদের ব্যাপারে দ্রুত তদন্ত করে জনগণের সামনে প্রকাশ করতে হবে।

সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান বলেন, বিরোধীদলে থাকার সময় শেখ হাসিনা বলেছিলেন র‍্যাব বাতিল করবেন। কিন্তু ক্ষমতায় এসে উনি ইতিহাসের সর্বোচ্চ বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য র‍্যাবকে ব্যবহার করেছেন। ২০ হাজার পাবলিক সার্ভেন্টকে ঠিক করতে পারলে বাংলাদেশ ঠিক হয়ে যাবে। তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় না আনতে পারলে বাংলাদেশ সংস্কার অর্থবহ হবে না।

অধ্যাপক নিজার বলেন, জালিয়ানওয়ালাবাগ থেকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিগত ১০০ বছরে এতো হত্যাকাণ্ড এমনকি উপনিবেশ আমলেও হয়নি। নতুন রাষ্ট্রের মেটাপ্রিন্সিপাল হওয়া দরকার মানবিকীকরণ প্রক্রিয়া। সেই অনুযায়ী সকল উপনিবেশিক এবং পরবর্তী আইন-কানুন সংস্কার করা দরকার। আমরা দ্রুতই সকল উপনিবেশিক আইনের জুলুমের ধারাগুলো জনগণের সামনে প্রকাশ করবো।

অধ্যাপক মারুফুল ইসলাম বলেন, পুলিশ যতো রকম অপরাধ নির্মুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রায় সকল অপরাধের সাথে পুলিশ নিজে জড়িত হয়ে পড়েছে। উলটো মানুষ আইনি সহযোগিতা পেতে চাইলে নানা হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। আমাদের তাৎক্ষণিক কাজ হচ্ছে, যারা চাকরিতে আছেন তাদের স্ক্রিনিং করা, তারা সৎ কিনা, কর্মক্ষম কি না ইত্যাদি। নৌ বাহিনি, বিমান বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর সদ্য অবসর প্রাপ্তদের পুলিশে চুক্তি ভিত্তিক নিয়োগ করা যেতে পারে।

ওয়ালিউল্লাহ বাশার বলেন, পুলিশী সংস্কার করতে হলে বিভিন্ন মেয়াদি সমাধান নিয়ে আলাপ করতে হবে। দীর্ঘ মেয়াদি সংস্কার উদ্যোগের পাশাপাশি মধ্যমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী উদ্যোগও নেয়া দরকার। পাশাপাশি শহীদদের ব্যাপারে আমরা যেমন সহানুভূতিশীল তেমনি পুলিশের মধ্যে যারা নিহত হয়েছেন তাদের ব্যাপারেও সহানুভূতিশীল হতে হবে।

আইন গবেষক রাশেদ রাহম বলেন, আধুনিক রাষ্ট্র হচ্ছে সম্মতির ভিত্তিতে বলপ্রয়োগ এর প্রতিষ্ঠান। এই বলপ্রয়োগকে ব্যালেন্স করার জন্য রাষ্ট্রে গণতন্ত্র দরকার। বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে পুলিশকে খুনি বাহিনী হিসেবে জনগণের বিরুদ্ধে দাড়া করিয়ে দেয়া হয়েছিল। এগুলোকে আমলে না নিয়ে সংস্কার করা যাবে না।

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান বলেন, শুধু পোশাক পরিচ্ছদ ও নাম পরিবর্তন করলে তো নয়ই এমনকি শুধু পুলিশ সংস্কার করলেও হবে না। আমাদেরকে প্রধানত শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করতে হবে, নয়তো কোনো সংস্কারই টিকবে না। ৩ লেভেলে ভর্তির বদলে পুলিশে ২ লেভেলে ভর্তির প্রস্তাব করেন তিনি।

আলোচনা সভায় রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম সভাপতিত্ব করেন।

শহিদুল ইসলাম

নানিয়ারচর জোন কর্তৃক ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঈদ উপহার ও আর্থিক অনুদান প্রদান

শহিদুল ইসলাম প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
নানিয়ারচর জোন কর্তৃক ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঈদ উপহার ও আর্থিক অনুদান প্রদান

রাঙ্গামাটি নানিয়ারচর উপ‌জেলায় ১৬ মার্চ ২০২৬, সোমবার নানিয়ারচর সেনা জোন (১৭ ই বেংগল) এর উদ্যোগে জোনের আওতাধীন এলাকার ৪১ মুসলিম পরিবারের মাঝে ঈদ-উল-ফিতর ২০২৬ উপলক্ষে ঈদ উপহার সামগ্রী, ঈদ পোষাক এবং আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

উক্ত কর্মসূচিতে নানিয়ারচর সেনা জোনের জোন কমান্ডার বিএ-৭৯০০ লেঃ কর্নেল মোঃ মশিউর রহমান, পিএসসি এবং বিএ-৮২২০ মেজর শেখ মোহাম্মদ নাঈম, জোন উপ-অধিনায়ক এর উপস্থিতিতে নানিয়ারচর জোনের আওতাধীন এলাকার ৩০টি মুসলিম পরিবারকে ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে ঈদ উপহার সামগ্রী ও আর্থিক অনুদান, ১০ জন গরীব ও অসহায় ব্যক্তিদেরকে ঈদ পোষাক হিসেবে পাঞ্জাবী এবং ০১ জন অসহায় অসুস্থ্য ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

এ সময় জোন কমান্ডার বলেন, নানিয়ারচর জোন কর্তৃক দূর্গম প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসকারী সদস্যগণ যাতে সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ঈদ-উল-ফিতর পালন করতে পারেন সে জন্য নানিয়ারচর সেনা জোনের পক্ষ থেকে ঈদ উপহার সামগ্রী, ঈদ পোষাক এবং আর্থিক অনুদান প্রদান করা হলো। এছাড়াও, এলাকার জণসাধারণ যাতে সুষ্ঠুভাবে ঈদ উদযাপন করতে পারে সে বিষয়ে জোন কর্তৃক সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণ সেনাবাহিনীর এই উদ্যোগের প্রতি প্রশংসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সেনাবাহিনী সবসময় দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ কাজের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য যে, অত্র এলাকার মানুষ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিঃস্বার্থ এই সহযোগীতায় অত্যন্ত আনন্দিত। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী তথা নানিয়ারচর জোন কর্তৃক অত্র এলাকার জনসাধারণের কল্যাণের জন্য বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড চলমান রয়েছে।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

বাঁশখালীতে আগুনে পুড়ে ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:১১ পিএম
বাঁশখালীতে আগুনে পুড়ে ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু

চট্টগ্রামের বাঁশখালী-সাতকানিয়া সীমান্তবর্তী এলাকায় অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে দুই ভাইবোনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (১৫ মার্চ) বিকেল চারটার দিকে উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের লটমনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলো জাহেদা আক্তার (১৪) ও আব্দুল মালেক (৩)। তারা লক্ষ্মীপুর জেলার বাসিন্দা মো. হাসান ও হালিমা আক্তারের সন্তান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লটমনি এলাকার জেএমবি ব্রিকস নামের একটি ইটভাটার পাশে পরিত্যক্ত একটি বেড়ার ঘরে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন মো. হাসান ও হালিমা আক্তার। ওই ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন হালিমা আক্তার। আর বাবা মো. হাসান অন্যত্র কাজ করতেন। ঘটনার সময় সন্তানদের ঘরে রেখে মা-বাবা দুজনই বাইরে কাজে ছিলেন।

বিকেলের কোনো এক সময় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে ঘরে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে পুরো ঘরটি পুড়ে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও ততক্ষণে দুই শিশু আগুনে পুড়ে মারা যায়।

বাঁশখালী থানার রামদাশহাট পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের পরিদর্শক তপন কুমার বাগচী বলেন, নিহত দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, দুর্গম এলাকায় হওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করতে কিছুটা সময় লেগেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রবাসীদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা সংবাদদাতা প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
প্রবাসীদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত

গাজী ইয়াছিন ফকির জামে মসজিদে ধর্মীয় পরিবেশে আয়োজন; সমাজের কল্যাণ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত

ফেনী সদর উপজেলার দক্ষিণ মধুয়াই ২ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত গাজী ইয়াছিন ফকির জামে মসজিদে প্রবাসীদের উদ্যোগে এক দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আয়োজিত এই মাহফিলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ধর্মপ্রাণ মুসল্লি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশ, জাতি এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক জনাব আবুল কাশেম। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পবিত্র রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার মাস।

এই মাসে দোয়া, ইবাদত এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। তিনি প্রবাসীদের এই মহতী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ওসমান গণী। তাঁর সাবলীল উপস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে পরিচালিত হয়।

তিনি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রবাসীরা দেশের বাইরে থেকেও নিজেদের শেকড় ও সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ ভুলে যাননি। তাদের সহযোগিতায় এ ধরনের আয়োজন সমাজে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

দোয়া ও ইফতার মাহফিলে বিশেষ মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সহকারী যুগ্ম মহাসচিব ও ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক জনাব মোহাম্মদ হানিফ (সাংবাদিক)।

তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, রমজানের এই পবিত্র সময়ে সবাইকে মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

তিনি বলেন, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে যেমন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন, তেমনি সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেও তারা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে যাচ্ছেন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে মোহাম্মদ বাবর, মোহাম্মদ রাজন, ফখর লিটন এবং রিয়াজ উদিনসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

তারা সবাই এই আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের ধর্মীয় ও সামাজিক কার্যক্রম আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ইফতার মাহফিলে মসজিদ এলাকার অসংখ্য মুসল্লি ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশগ্রহণ করেন। একসঙ্গে ইফতার করার মাধ্যমে সকলের মাঝে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

উপস্থিত সবাই প্রবাসীদের এই উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে গাজী ইয়াছিন ফকির জামে মসজিদের ইমাম সাহেব দেশ ও জাতির কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং প্রবাসীদের সুস্বাস্থ্য ও সফলতা কামনায় বিশেষ দোয়া পরিচালনা করেন।

তিনি আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন সবাইকে নেক আমল করার তৌফিক দান করা হয় এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় থাকে।

ধর্মীয় আবহে অনুষ্ঠিত এ দোয়া ও ইফতার মাহফিল এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রবাসীদের সহযোগিতায় এমন মানবিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে।

তাদের বিশ্বাস, এ ধরনের আয়োজন সমাজে ঐক্য, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।

error: Content is protected !!