রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২
রবিবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১১ মাঘ ১৪৩২

সুলেখা আক্তার শান্তা

শেষ অর্ডার

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ১:৪২ পিএম | 218 বার পড়া হয়েছে
শেষ অর্ডার

সুলেখা আক্তার শান্তা
কোনোরকমে জীবন চালিয়ে অবশেষে একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই করেন আজাদ। এত বছর অন্যের জমিতে ঘর তুলে ছিলেন; মনটা সবসময় খচখচ করত। মৃত্যুর আগে অন্তত নিজের জমি, নিজের ঘরে ঘুমিয়ে মরতে পারলেই হবে। এই প্রত্যাশা বুক নিয়েই আছি। ঘরের দরজায় দাঁড়িয়ে রান্নাঘরের দিকে মুখ করে বউ সালেহার সঙ্গে কথা বলছিলেন আজাদ।
সালেহা রান্নাঘরে বসে স্বামীর কথায় সায় দিলেন। “এই বুড়ো বয়সেও তোমাকেই কাজ করতে হয়। দুই ছেলে ঘর করেছে, বাবা-মাকে তাদের বাড়িতে তুলল না।”
আজাদ শান্ত গলায় বললেন, “যাক সালেহা, এসব নিয়ে আফসোস করো না! আল্লাহপাক আমাদের একটা নিজের জায়গা দিয়েছেন। এখন তুমি তোমার স্বামীর নিজের হাতে বানানো ঘরেই থাকতে পারবে। সালেহা বুঝলেন, নারীর কাছে স্বামীই যেন তার সব।
আজাদের বাবা–মায়ের পৈতৃক ব্যবসা ছিল লেপ-তোশক বানানো। সেই ব্যবসাই তিনি ধরে রেখেছেন। অন্য কোনো কাজ তিনি জানেন না, করতেও চান না। বাড়ি বাড়ি ঘুরে লেপ-তোশক বানিয়ে দেন, কেউ অর্ডার দিলে বানিয়ে দেন, আবার নিজে বানিয়েও বিক্রি করেন। এটাই তাঁর বাপ-দাদার কাজ ছিল।
আজাদের এখন বয়স হয়েছে, আগের মতো আর তিনি কাজ করতে পারেন না। তবু কী করবে, কাজ না করলে খাবেন কী?
সালেহা স্বামীকে বারবার বলেন, “এই বয়সে আর কাজে যেয়েন না। না খেয়েই থাকব, তবু আপনার কষ্ট ভালো লাগে না।” আজাদ হাসতে হাসতে বলেন, “বউ পেট তো আর বোঝে না, পেটে তো খাবার দিবার লাগে। না থাকলে না খাইয়া থাকমু।” তারপর সালেহার দিকে তাকিয়ে মৃদু কণ্ঠে বলেন আজাদ, “তুমি আমাকে খুব ভালোবাসো? তোমার এই ভালোবাসা নিয়েই তো বেঁচে আছি। না হলে টিকে থাকতে পারতাম না।”
সালেহা বিরক্ত হয়ে বলেন, “চুপ থাকেন আপনি। আমি আর আপনার লাইগা কী-ই বা করতে পারি?” আজাদ মাথা নাড়িয়ে বলেন, “না সালেহা, তুমি আমার জন্য অনেক করেছ। ভাগ্যে ভালো, তোমার মতো একটা বউ পেয়েছি।” “হয়েছে হয়েছে, এবার থামেন।” বলে সালেহা কথার ইতি টানলেন।
“বউ, ধুনকারি দাও”, সালেহা এগিয়ে দিলেন ধুনকারি। আজাদ লেপ–তোশকের বান্ডিল মাথায় নিয়ে বের হলেন। গ্রাম থেকে গ্রাম ঘুরে ডাকতে থাকলেন, “লেপ-তোশক বানাবেন নাকি? লেপ-তোশক বানাই!” কিন্তু কারো কাছ থেকেই সাড়া মিলছিল না।
হাঁটতে হাঁটতে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রাম পার হচ্ছিলেন আজাদ। বয়স হয়েছে, এখন আর মাথায় বোঝা নিয়ে আগের মতো হাঁটা যায় না। মনে মনে ভাবলেন, “এ কথা সালেহাকে বললে তো আর বেরুতে দেবে না। দু’জনের খাওন লাগে,কাজ না করলে চলবে কীভাবে?”
ঠিক তখনই কানে ভেসে এলো—
“ওই লেপতোশকওলা!”
আজাদের মনটা খুশিতে ভরে গেল। “যাক, ডাকটা পেলাম অবশেষে!” তিনি বাড়িতে ঢুকতেই বললেন, “কি বানাইবেন মা?”
জাহানারা বললেন, “দুইটা তোশক আর দুইটা লেপ। দাম বেশি ধরবা না। তোমার লাভ যতটুক রাখবে রেখো। কাজ ভালো করলে তোমাকে আরো কাজ দেবো।”
আজাদ বিনয়ের সঙ্গে বলেন, “মা, আমি গরিব, তাই বলে কাউরে ঠকিয়ে না। ভালো কাপড় দেই, ভালো সেলাই করি।”
জাহানারা মাথা নাড়লেন, “ঠিক আছে, তুমি কাজ করো। আমি আমার ঘরের কাজ সেরে আসি।”
আজাদ উঠোনে বসে এক ধ্যানে মন দিয়ে কাজ শুরু করলেন। কিন্তু হাতটা ব্যথা করছিল, তুলা ঠিকমতো মারতে পারছিলেন না। কিছুক্ষণ পর বললেন, “ঠিক আছে, বাড়ি যাই। বউরে নিয়ে দু’জনে মিলে কাজটা সেরে এনে দেই।”
তিনি সবকিছু গুছিয়ে নিলেন।
ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে জাহানারাকে ডাকলেন আজাদ। কিন্তু কোনো সাড়া শব্দ পেলেন না। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে বললেন, “থাক, কতক্ষণই বা দাঁড়িয়ে থাকমু! তার চেয়ে বাড়ি যাই, সালেহাকে নিয়ে কাজটা শেষ করে এনে দেই।”
আজাদ বাড়ি ফিরে ডাকলেন, “কই গো সালেহা?”
স্বামীর ডাক শুনে সালেহা ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন।
আজাদ বললেন, “ভালো একটা অর্ডার পাইছি। হাতটা ব্যথা করছে, ঠিকমতো কাজ করতে পারছিলাম না। ভাবলাম তোমারে নিয়েই কাজটা করি।”
সালেহা হেসে বললেন, “ঠিক আছে, দু’জনে মিলেই করি। তাহলে তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে।” দু’জনে উঠোনে সবকিছু বিছিয়ে কাজ শুরু করল। গল্প করতে করতে কাজ এগোতে থাকলো, তারপর শেষও হয়ে গেল।
আজাদ বললেন,“যাক, কাজটা শেষ হলো। এবার আমি নিয়ে যাই। আসার পথে, তাকে বাড়িতে পাইনি। এখনই দিয়ে আসি, দূরত্ব পায়।”
এদিকে জাহানারা বাড়িতে ফিরে এসে দেখেন—লেপ–তোশকওলা উঠোনে নেই। তিনি অবাক হয়ে বললেন, “হায় হায়! লোকটার হাতে লেপ তোশক বানানোর কাজ দিয়ে গেলাম, আর সে না বলেই চলে গেল! আমি তো ভাবছিলাম খুশি করব, টাকাও বেশি দেব!”
জাহানারা আশেপাশে কয়েক ঘর গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন “ওই লেপতোশকওলা কি তোমাদের বাড়িতে আসছে?”
সবার উত্তর এক, “না, আসে নাই।”
পাশে তখন ছিল দেবরের ছেলে ফরিদ।
“কি হয়েছে চাচি?” ফরিদ জিজ্ঞেস করল।
জাহানারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “বলিস না বাবা, এক বুড়ো মানুষরে লেপ তোশক বানাতে দিছিলাম। আমি একটু পাশের বাড়িতে গেছিলাম, ফিরে দেখি লোকটা হাওয়া!”
“তুই একটু খেয়াল করে দেখিস তো, কোথাও দেখলে ডাকিস।”
ফরিদ বলল, “ঠিক আছে চাচি, আপনি যান। আমি বাড়ির একটু কাজ সাইরা দেখি লোকটারে দেখি কিনা। পাইলে আপনিরে এনে দিমু।”
আজাদ যখন জাহানারার বাড়ির ভিতরে ঢোকার পথে, তখনই দেখা হলো ফরিদের সঙ্গে।
ফরিদ সন্দেহভরা চোখে জিজ্ঞেস করল “আপনি কি এই বাড়ির লেপ তোশকের অর্ডার নিয়েছিলেন?”
আজাদ হাঁপাতে হাঁপাতে বললেন “হ্যাঁ বাবা…”।
মাথায় ভারী লেপ তোশোকের বোঝা, তার ওপর বয়স, ঠিকমতো কথাও বলতে পারছিলেন না। তিনি বাকিটা বুঝিয়ে বলার আগেই ফরিদ উত্তেজিত হয়ে উঠল। হঠাৎ কোথা থেকে একটা বাঁশ কুড়িয়ে এনে রাগে-গরম হয়ে বৃদ্ধ লোকটার ওপর বাড়ি বর্ষণ শুরু করে দিলো।
আজাাদ কাঁপা গলায় বললেন “এই তুমি আমাকে মারছ কেন?”
ফরিদ চিৎকার করে বলল, “শালা চোর! সব নিয়ে পালাইছিস!”
আমি চোর না, আমি চোর না! আমি খেটে–খাওয়া মানুষ!” বুকে হাত চেপে কাঁপা গলায় বলতে থাকলেন আজাদ। কিন্তু কে শোনে কার কথা! ফরিদের মাথা তখন রাগে অন্ধ। হঠাৎ এমন জোরে একটা বাড়ি দিলো বৃদ্ধ আজাদের মাথায়, সেই মুহূর্তেই মাথা ফেটে অঝোরে রক্ত ঝরতে লাগল! চারদিকে মানুষ জড়ো হতে থাকল।
“কি হইল? কি হইল?” লোকজন দৌড়ে এলো। ঘটনাটা জানতে চাইলো।
ফরিদ গলায় জোর দিয়ে বলল, “এই বুড়ো শালা চোর! আমার চাচি ওরে লেপ তোশক বানাইতে দিছিল। সবকিছু নিয়া পালাইছে!” রক্তে ভেজা চোখ তুলে আজাদ কাঁপা কণ্ঠে বললেন,“না… না, আমি কিছু নিয়া পালাই নাই… আমি বলতে চাইছিলাম… কিন্তু তাঁরে বাড়িতে পাই নাই। পরে বাড়ি গিয়া আমার বউরে নিয়াই এই লেপ তোশক বানাই নিয়া আইছি।
কথা বলতে বলতে আজাদের শ্বাস ঢিলা হয়ে এলো—পরান যায় যায়।
এসময় আশেপাশের লোকেরা ফরিদকে ধমক দিলো, “তোর জন্যই বুড়ো লোকটার এই অবস্থা! না জেনে মানুষেরে এমনে মারবি?”
লোকজন ফরিদকে ধমক দিচ্ছিল। “তাঁর কথা শুনতে তো পারতি! এত তাড়াহুড়া কেন?”
ঠিক তখনই দৌড়ে এসে উপস্থিত হলেন জাহানারা। দৃশ্য দেখে তিনি হা করে উঠে বললেন,
“হায় হায়! এই বুড়ো মানুষটা কে তার জন্যে এইভাবে মারবি!”
তৎক্ষণাৎ একটা ভ্যান ডেকে আজাদ কে হাসপাতালে নেওয়া হলো। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ—আজাদ দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছেন!
খবর পেয়ে সালেহা ছুটে এলেন। স্বামীর নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। “আপনারা কিছু না জেনে, না শুনে একটা মানুষকে মাইরা ফেললেন! আপনাদের কী হারাইছে? আমি তো আমার স্বামীকে হারালাম!”
জাহানারা কাঁদতে কাঁদতে টাকা দিতে চাইলে সালেহা দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, “আমি লাশ বিক্রি করে টাকা নিতে আসিনি! আমার স্বামীরে ফিরে পাব না। হ্যাঁ, টাকার দরকার আছে… কিন্তু মানুষের জীবনের বদলে টাকা, এইটা আমি নেব না।”
স্বামীর লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন সালেহা।
বাবার মৃত্যুর খবর শুনে দুই ছেলে তাদের বউ নিয়ে বাড়ি এলো।
সালেহা বললেন, “আমার স্বামীর কবর এই উঠোনেই দাও। ঘরে বসে যেন তাঁর কবর দেখতে পাই”।
দুই ছেলে বাবার দাফন সেরে চলে গেল।
সালেহা নিঃসঙ্গ বাড়িতে বসে রইলেন।
নিজের সঙ্গে নিজেই বললেন, “আমি যাবো কই? আমার স্বামীর বাড়িই আমার বাড়ি। এই বাড়িতেই আমি মরতে চাই।”

সুলেখা আক্তার শান্তা

ভূঞাপুরে মহিলা সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল

খন্দকার আউয়াল ভাসানী (টাঙ্গাইল) প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৫৮ পিএম
ভূঞাপুরে মহিলা সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এক মহিলা সমাবেশ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টুর সহধর্মিণী বিলকিস সালাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভূঞাপুর পৌর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।বিলকিস সালাম প্রধান অতিথি বিলকিস সালাম

তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী। দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। আমরা তাঁর আদর্শ ধারণ করে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন এগিয়ে নেব। আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন।”দোয়া মাহফিলে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে তাঁর ভূমিকা এবং দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের কথা স্মরণ করে বক্তারা তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

সাব্বির আলম বাবু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

কালের স্বাক্ষী পাঁচ শতাধিক বছরের পুরনো কমলা রানীর দীঘি

সাব্বির আলম বাবু, বিশেষ প্রতিনিধিঃ উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ২:৪৭ পিএম
কালের স্বাক্ষী পাঁচ শতাধিক বছরের পুরনো কমলা রানীর দীঘি

ঐতিহ্যের কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে পাঁচ শতাধিক বছরের পুরনো দক্ষিণ বাংলার সবচেয়ে বড় দীঘি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের তেঁতুলিয়া নদীর তীরে ‘সুন্দরী কমলা রানীর দীঘি’।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চন্দ্রদ্বীপ রাজার শৌর্যবীর্যের স্মৃতি এই কমলা রানীর দীঘি। কথিত আছে, রাজা জয়দেবের কোনো পুত্র সন্তান ছিল না। কমলা সুন্দরী ও বিদ্যাসুন্দরী নামে দুই মেয়ে ছিল। কমলা ছিলেন বুদ্ধিমতি। পিতার নির্দেশে তিনি রাজ্য পরিচালনা ও অস্ত্র চালনা শেখেন। পরিণত বয়সে রাজা কমলাকে বাবুগঞ্জ থানার দেহেরগতি গ্রামের উষাপতির পুত্র বলভদ্র বসুর সঙ্গে বিয়ে দেন।

বলভদ্র বসু ছিলেন বিদ্যোৎশায়ী ও বিভিন্ন শাসে্ত্র পণ্ডিত এবং যুদ্ধ বিদ্যায় অতুলনীয়। বলভদ্র বসু অবশ্য দেখতে কালো ছিলেন, তাই প্রজারা তাকে কালো রাজা বলতেন। বিয়ের পর কমলা স্বামীসহ কচুয়াতেই বসবাস করতেন। রাজা জয়দেব তার মৃত্যুর সময় কমলাকে পরবর্তী রাজা নিযুক্ত করেছিলেন।১৪৯০ খ্রিস্টাব্দে কমলা সিংহাসনে আরোহণ করেন।

কমলা রানীর দীঘির পাড়ের উচ্চতা প্রায় ৪০-৫০ ফুট। এতবড় এবং উঁচু পাড় বিশিষ্ট দীঘি তখন এ বঙ্গে ছিল প্রথম। দীঘি খননে তখনকার দিনে মোট ৯ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। কথিত আছে, দীঘি খনন হলেও দীঘিতে পানি উঠছিল না। অথচ দীঘির চার পাশে ছিল পুকুর, ডোবা-নালা, খাল-বিল পানিতে ভর্তি। পানি উঠাতে পূজা দেওয়া হয়, কাঙালি ভোজের ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু তারপরেও পানি ওঠেনি। এ জন্য কমলা রানীসহ সভাসদ ও প্রজাদের চোখে ঘুম ছিল না। একদিন রাতে কমলা রানী পালংকে ঘুমাচ্ছিলেন। তখন কে যেন ফিস ফিস করে তার কানে কানে সাবধান করে দিয়ে যায়- যদি না সে পুকুরের ভিতর খালি পায়ে এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে হেঁটে না আসেন- তাহলে কিছুতেই এক ফোঁটা পানিও ওঠবে না। তখন কমলা রানী পূজা অর্চনা সেরে খালি পায়ে দীঘিতে হাঁটা শুরু করেন। তিনি দীঘির মাঝে পৌঁছাতেই পানি ওঠা শুরু করে। চোখের নিমিষে কমলার হাঁটু পর্যন্ত পানিতে ডুবে যায়। কমলা অবশ্য জিদ ধরে ছিলেন। পানি কোমর পর্যন্ত না ওঠা অবধি তিনি পাড়ে উঠবেন না। এই কাজ করতে গিয়ে পানি এতটাই উঠে যায় যে কমলা আর সেই পানি থেকে তীরে উঠতে পারেননি। তিনি ওই পানিতে ডুবে হারিয়ে যান। সেই কমলা সুন্দরী দীঘির উত্তর পাড় দিয়ে তেঁতুলিয়া নদীতে চলে গেল। ৫২৬ বছর আগের সেই খাল ও দীঘিটি এখন কালের সাক্ষী হয়ে নানা স্মৃতি বহন করছে।

অপহৃত ট্রাক ও চালক উদ্ধার

নওগাঁয় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

মর্তুজা শাহাদত সাধন, নওগাঁ প্রতিনিধিঃ, উজ্জ্বল বাংলাদেশ প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৩৮ পিএম
নওগাঁয় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার

নওগাঁর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) নওগাঁর টানা অভিযানে আন্তঃজেলা কুখ্যাত ডাকাত চক্রের ৬ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে ডাকাতির শিকার হওয়া ট্রাক, অপহৃত ট্রাকচালক ও হেলপার এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত আরেকটি ট্রাক উদ্ধার করা হয়েছে।

ডাকাতির ঘটনার মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার বেলা সাড়ে ১১টার সময় প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

জানা যায়, গত ২২ জানুয়ারি দিনাজপুর জেলার বদরগঞ্জ এলাকা থেকে ট্রাকচালক মারুফ ও তার হেলপার শামীম একটি ট্রাকে (ঢাকা মেট্রো-ট ১৬-০১৩৮) করে প্রায় ২৫০ বস্তা (৫০০ মন) ধান বোঝাই করে নওগাঁ জেলার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।

পরদিন রাত আনুমানিক পৌনে ২টার দিকে নওগাঁ সদর থানার শেষ সীমানার কীর্ত্তিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া গ্রামের নির্জন সড়কে পৌঁছালে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল পিছন দিক থেকে আরেকটি ট্রাক দিয়ে ওভারটেক করে সামনে ব্যারিকেড দেয়। এ সময় ডাকাতরা ট্রাকের কাচ ভেঙে চালক ও হেলপারকে মারধর করে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং ধানসহ ট্রাকটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনাটি জানার সাথে সাথেই পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় সদর থানা, বদলগাছি থানা ও সদর সার্কেলের পুলিশ সদস্যরা মাঠে নামেন। তদন্তের এক পর্যায়ে পাওয়া তথ্যে বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানার মোকামতলা তদন্ত কেন্দ্রে একটি ট্রাক ও একজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক রাখা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ডিবি নওগাঁর একটি টিম সেখানে পৌঁছে আটক ব্যক্তি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ (৩০) কে জিজ্ঞাসাবাদ করে ও তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হয় যে, সে ডাকাতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এরপর আরিফুল ইসলামকে হেফাজতে নিয়ে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ ও সাদুল্যাপুর থানায় অভিযান চালিয়ে মো. গোলাপ (২৪), লাভলু (২৮) কে আরও দুই ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর এলাকায় ডাকাত দলের সর্দার মো. সামিউল ইসলাম (৩০) কে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে গেলেও তার ভাড়া বাসা থেকে ডাকাতি হওয়া ট্রাকের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা জেলার আশুলিয়া, সাভার ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনজন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়।