বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২
বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২

সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ‘স্বামী’ দাবি

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫, ৫:১২ পিএম | 142 বার পড়া হয়েছে
সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ‘স্বামী’ দাবি

সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ঈসার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল বলে দাবি করলেন আলোচিত মডেল মেঘনা আলম। আজ বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে এই বিস্ফোরক দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে, রাষ্ট্রদূতের বাচ্চা নষ্ট করার অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ আখ্যা দেন এবং দাবি করেন, তিনি ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না।
ধানমন্ডি থানায় দায়ের করা এক প্রতারণার মামলায় মেঘনা আলমকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন জানায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। অভিযোগ, বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসে কর্মরত কর্মকর্তাদের ‘হানি ট্র্যাপে’ ফেলে অর্থ আদায়ের একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মেঘনা। সর্বশেষ সৌদি রাষ্ট্রদূত ঈসার কাছ থেকে ৫ মিলিয়ন ডলার দাবি করেছিলেন বলেও শুনানিতে উল্লেখ করেন রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর।
শুনানির সময় নিজের নাম বারবার ‘মেঘলা’ উচ্চারণ করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন আসামি। বলেন, “আমার নাম মেঘনা, মেঘলা নয়।” এরপর বিচারকের অনুমতি নিয়ে তিনি বলেন, “সৌদি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আমার বিয়ে হয়েছিল। সে এখন মিথ্যে অভিযোগ করছে যে, আমি নাকি তার বাচ্চা নষ্ট করেছি। এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি তার সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাকে এসব গুজব বন্ধ করতে বলেছি।”
তিনি আরও বলেন, “আমাকে বিনা বিচারে জেলে পাঠানো হয়েছে। কোনো আইনজীবী পর্যন্ত পাইনি। আমি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিজি শফিকুর রহমানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি, এরপরই আমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।”
মেঘনার সহযোগী দেওয়ান সমিরও আজ আদালতে হাজির হন। নিজেকে নিরপরাধ দাবি করে তিনি বলেন, “আমি সাধারণ একজন মানুষ, দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলাম। মেঘনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি তার বয়ফ্রেন্ড নই।”
শুনানি শেষে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়া মেঘনা আলম ও দেওয়ান সমিরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন। একইসঙ্গে সমিরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
প্রসঙ্গত, ৯ এপ্রিল রাতে মেঘনাকে ডিটেনশন আইনে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। প্রশ্ন ওঠে—অপরাধে জড়িত থাকলে কেন সরাসরি মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হলো না?
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান রেজাউল করিম মল্লিককে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

‎রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট

‎মোংলা-খুলনা মহাসড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে নৌবাহিনী-জেলা প্রশাসন

‎রবি ডাকুয়া, বাগেরহাট প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৭ পিএম
‎মোংলা-খুলনা মহাসড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে নৌবাহিনী-জেলা প্রশাসন

মোংলা-খুলনা মহাসড়কের রামপালে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের পাশে নৌবাহিনী-জেলা প্রশাসন
‎বাগেরহাটের রামপালে নৌবাহিনীর বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৭ মার্চ) দুপুরে মোংলা জেলা পরিষদ ডাকবাংলোতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নিহতদের স্বজনদের হাতে সহায়তার অর্থ তুলে দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম।

‎অনুষ্ঠানে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে ১ লাখ করে টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোংলার ৯টি পরিবারকে মোট ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং রামপালের নিহত মাইক্রোবাস চালকের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে।

‎বুধবার মোংলার ৯ জন ও রামপালের ১ জনের পরিবারকে এ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। আর বৃহস্পতিবার খুলনার কয়রার ৪ জনের পরিবারের কাছে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে হবে।

‎এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনুপ দাস, মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার সুমি, নৌবাহিনীর খুলনা নৌ অঞ্চলের কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল একেএম জাকির হোসাইন, মোংলা দিগরাজ নৌঘাঁটির অধিনায়ক ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ জুবায়ের শাহীন, মোংলা-রামপাল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রেফাতুল ইসলাম।

‎উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ মোংলা-খুলনা মহাসড়কের গুনাই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় খুলনাগামী নৌবাহিনীর বাস ও মোংলাগামী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়। এর মধ্যে ছিলো মোংলার বিএনপি নেতা আ. রাজ্জাক পরিবারের ৯ জন, তার নতুন পুত্রবধূসহ তাদের পরিবারের ৪ জন এবং মাইক্রোচালক।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

বাঁশখালীতে অবৈধ ট্রলিং বোট জব্দ, জাল-মাছসহ আটক ৪

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৫ পিএম
বাঁশখালীতে অবৈধ ট্রলিং বোট জব্দ, জাল-মাছসহ আটক ৪

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে অবৈধ আর্টিসনাল ট্রলিং বোট, নিষিদ্ধ জাল ও বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক মাছসহ ৪ জেলেকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার দিকে কোস্ট গার্ড কন্টিনজেন্ট বাঁশখালী থানাধীন শেখেরখীল মাছঘাট সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান চলাকালে একটি অবৈধ আর্টিসনাল ট্রলিং বোট জব্দ করা হয়। এ সময় বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৪ লাখ টাকা মূল্যের দুটি ট্রলিং জাল ও প্রায় ৪০০ কেজি সামুদ্রিক মাছ উদ্ধারসহ চার জেলেকে আটক করা হয়।
কোস্ট গার্ড জানায়, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণে সরকার প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সাগরে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সাধারণত ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম এবং সামুদ্রিক মাছের বংশবিস্তার রক্ষায় ৬৫ দিনের জন্য (মে-জুলাই) সাগরে সকল ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এছাড়া বছরের বিভিন্ন সময়ে নির্দিষ্ট প্রজাতির মাছ ধরায়ও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকে। কিন্তু অসাধু কিছু জেলে এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ ট্রলিং ও নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করে আসছে, যা সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।
পরবর্তীতে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জব্দকৃত বোট থেকে ট্রলিং সরঞ্জামাদি অপসারণ করা হয় এবং অবৈধ জাল বিনষ্ট করা হয়। উদ্ধারকৃত মাছ নিলামে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকতি বলেন, “মৎস্য সম্পদ রক্ষা এবং সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকসই মৎস্য আহরণ নিশ্চিত করতে জেলেদের সচেতনতার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কঠোর নজরদারি জরুরি।

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টায় জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহ ময়দানে

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪৪ পিএম
চট্টগ্রামে ঈদের প্রধান জামাত সকাল ৮টায় জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহ ময়দানে

মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোতে এ বছর পবিত্র ঈদুল ফিতর পালিত হতে পারে ২০ মার্চ শুক্রবার। আমিরাত জ্যোতির্বিদ্যা সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানিয়েছেন, এ বছর আরব বিশ্বে রমজান মাস ৩০ দিন পূর্ণ হতে পারে এবং শাওয়াল মাসের প্রথম দিন হবে ২০ মার্চ। সে হিসাবে বাংলাদেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে ২১ মার্চ শনিবার।
এদিকে ঈদুল ফিতরের কেন্দ্রীয় জামাত উপলক্ষে চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহ ময়দান সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ১৭ মার্চ
বুধবার জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে গত সাত দিন ধরে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারেন।
তিনি জানান, প্রায় ৬৫ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে কার্পেট বিছানো হয়েছে এবং বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখে ওপরে টারপলিন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২৫০টি পাখা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, ৫০টি মাইক এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
মেয়র বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মুসল্লির সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত মুসল্লির কথা বিবেচনায় রেখে দুটি জামাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে—প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।
মুসল্লিদের নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে তিনটি প্রধান গেট খোলা রাখা হবে এবং পেছনের গেটটিও ব্যবহারযোগ্য করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ মোতায়েন থাকবে বলেও জানান তিনি।
নগরীর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে সিটি কর্পোরেশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৬ মাসে চট্টগ্রামে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, যা একটি নিরাপদ নগরী গড়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়তুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব আলহাজ্ব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক আল কাদেরী।
এছাড়া চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরীর বিভিন্ন স্থানে সকাল ৮টায় ঈদ জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—লালদীঘি শাহী জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (রঃ) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি কর্পোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী (ভিআইপি) আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুবাজার জামে মসজিদ এবং মা আয়েশা সিদ্দিকী চসিক জামে মসজিদ।
পরিদর্শনকালে মেয়র নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং রমজানের শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে চট্টগ্রামের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

error: Content is protected !!