বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩

‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু: কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন করবেন?

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০৬ পিএম | 48 বার পড়া হয়েছে
‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু: কারা পাবেন, কীভাবে আবেদন করবেন?

বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আজ মঙ্গলবার পয়লা বৈশাখ টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে ল্যাপটপের সুইচ চেপে দেশব্যাপী ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

টাঙ্গাইলের মূল অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী ‘বিসমিল্লাহ’ বলে ডিজিটাল পোর্টালে যুক্ত হন। একই সময়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৮টি বিভাগের আরও ১০টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এই কার্যক্রমের প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ের সূচনা করা হয়। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ২০ হাজারেরও বেশি কৃষকের ডিজিটাল প্রোফাইল সংবলিত এই বহুমুখী কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের সূচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রম বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন গতকাল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো জিডিপিতে কৃষির বিশাল অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং কৃষকদের জন্য একটি স্থায়ী সুরক্ষা বলয় তৈরি করা। এই ডিজিটাল কার্ডটি কেবল একটি পরিচয়পত্র নয়, এটি কৃষকদের অধিকার ও নিরাপত্তার প্রতীক।’

তিনি আরও জানান, এই কর্মসূচির আওতায় শুধু শস্য উৎপাদনকারী কৃষকই নন, বরং মৎস্যজীবী, গবাদিপশু খামারি, দুগ্ধ খামারি এবং উপকূলীয় অঞ্চলের লবণচাষীরাও অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য নির্মূল করে সরাসরি সরকারি সুবিধা কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এই প্রকল্পের মূল দর্শন।

বাস্তবায়নের তিন ধাপ ও বাজেট বরাদ্দ

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এবং অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রকল্পটি তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে:

১. প্রাক পাইলটিং (পরীক্ষামূলক): যা আজ থেকে শুরু হলো। এর জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

২. পাইলটিং: আগস্ট পর্যন্ত দেশের ১৫টি উপজেলায় এই কার্যক্রম চালানো হবে।

৩. দেশব্যাপী কার্যক্রম: পাইলটিংয়ের অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরের মধ্যে সারা দেশের সব কৃষকের তথ্যভান্ডার তৈরি ও কার্ড বিতরণ সম্পন্ন করা হবে।

প্রাক পাইলটিং পর্যায়ে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্যচাষি বা আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি ও দগ্ধ খামারিসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লবণচাষীও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

প্রাক পাইলটিংয় শেষ হওয়ার পর আগামী আগস্ট পর্যন্ত ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরে সারা দেশে এই কার্ড বিতরণ ও তথ্য ভান্ডার তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

কৃষক কার্ডের শ্রেণিবিভাগ ও আর্থিক সহায়তা

প্রাথমিক পর্যায়ে কৃষকদের পাঁচটি বিশেষ শ্রেণিতে ভাগ করে এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে: ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় কৃষক। এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য বিশেষ সংস্থান রাখা হয়েছে। নিবন্ধিত ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক বছরে সরাসরি আড়াই হাজার টাকা করে নগদ আর্থিক সহায়তা বা উপকরণ ভর্তুকি পাবেন, যা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে।

প্রাক পাইলটিং পর্যায়ে ওই ১১টি ব্লকের কৃষক, মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণ চাষিকে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হচ্ছে। এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় পর্যায়ের শাখায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে এই কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন কৃষক ২ হাজার ২৪৬ জন, প্রান্তিক কৃষক ৯ হাজার ৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র কৃষক ৮ হাজার ৯৬৭ জন, মাঝারি কৃষক ১ হাজার ৩০৩ এবং বড় কৃষক ৯১ জন।

এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকাও নগদ দেওয়া হবে। ২২ হাজার ৬৫ জনের মধ্যে এই সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১ জন।

কৃষকদের জন্য ১০ ধরনের বিশেষ ডিজিটাল সুবিধা

এই স্মার্ট কার্ডটি একটি ‘ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড’ হিসেবেও কাজ করবে। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় কৃষকদের নামে এই কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। কার্ডধারীরা ১০টি প্রধান সুবিধা পাবেন:

১. ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ,

২. ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা,

৩. সহজ শর্তে কৃষিঋণ,

৪. স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি,

৫. সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা,

৬. মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য,

৭. কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ,

৮. ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ,

৯. কৃষি বিমা সুবিধা এবং

১০. ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা পাবেন কৃষকেরা।

প্রধান সুবিধাগুলোর মধ্যে:

সরাসরি সরকারি ভর্তুকি: কোনো মাধ্যম ছাড়াই সরকারি টাকা সরাসরি কৃষকের কাছে পৌঁছাবে।

সরঞ্জামে ছাড়: সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে ‘পয়েন্ট অব সেল’ (POS) মেশিন ব্যবহার করে ন্যায্যমূল্যে সার, বীজ ও মৎস্য প্রাণিখাদ্য কিনতে পারবেন।

সহজ শর্তে ঋণ: অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সরাসরি ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ গ্রহণের সুবিধা পাওয়া যাবে।

কৃষি বিমা: প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসলের ক্ষতি হলে আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমা সুবিধা পাওয়া যাবে।

আধুনিক প্রযুক্তি: সুলভ মূল্যে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও সেচ সুবিধা মিলবে।

ডিজিটাল পরামর্শ: মোবাইলের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, ফসলের রোগবালাই দমনের উপায় এবং বাজারের সর্বশেষ দর জানা যাবে।

কৃষক কার্ড নিবন্ধন ও সংগ্রহের প্রক্রিয়া

সরকার জানিয়েছে, স্মার্ট কৃষি কার্ড পেতে কৃষকদের জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নম্বর এবং জমির মালিকানা বা বর্গা চাষের প্রমাণপত্র প্রয়োজন হবে। স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (SAAO) প্রাথমিক তালিকা তৈরি করবেন। এরপর উপজেলা কৃষি অফিস থেকে তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি ও কার্ড বিতরণ করা হবে।

নিচে পুরো প্রক্রিয়াটি বর্ণনা করা হলো:

স্মার্ট কৃষি কার্ড পেতে কৃষকদের বেশ কয়েকটি তথ্য প্রয়োজন হবে। সেগুলো হলো—

১. এনআইডির একটি কপি।

২. পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

৩. রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইল নাম্বার।

৪. জমির দলিল কিংবা ভাগে চাষিদের জন্য প্রমাণপত্র।

৫. ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অ্যাকাউন্ট নম্বর।

কৃষক কার্ড পাওয়ার ধাপসমূহ

সরকার প্রধানত স্থানীয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে এই কার্ডটি পৌঁছে দেবে। আপনার যা করতে হবে :

১. উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ : আপনার ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা (SAAO)-এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। তিনিই প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেন।

২. নিবন্ধন বা রেজিস্ট্রেশন : সরকার যখন আপনার এলাকায় ‘পাইলট প্রজেক্ট’ বা মূল প্রকল্প শুরু করবে, তখন আপনাকে একটি ফরম পূরণ করতে দেওয়া হবে। অনেক ক্ষেত্রে এটি অনলাইনেও করা যাবে।

৩. তথ্য যাচাই : আপনার দেওয়া তথ্য (জমির পরিমাণ, ফসলের ধরন ইত্যাদি) কৃষি অফিস থেকে সরেজমিনে যাচাই করা হবে।

৪. ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি : আপনার এনআইডি এবং মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতে একটি ডিজিটাল প্রোফাইল তৈরি হবে।

৫. কার্ড বিতরণ : যাচাই শেষে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে আপনাকে এই স্মার্ট কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে।

সতর্কবার্তা

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো কৃষককে তার ঘামের ন্যায্যমূল্য দেওয়া। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষি খাতের ভর্তুকিতে স্বচ্ছতা আসবে এবং উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, এই নীতিতেই আমরা স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলছি।’

অনুষ্ঠানে আরও সতর্ক করা হয় যে, এই কার্ডটি সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে দেওয়া হচ্ছে। কার্ডের জন্য কোনো প্রকার অর্থ লেনদেনে না জড়াতে কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

লামা ৩০-আনসার ব্যাটেলিয়ান হেডকোয়ার্টারে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন।

বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:- মোঃ নুরুল আলম) প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৪ এএম
লামা ৩০-আনসার ব্যাটেলিয়ান হেডকোয়ার্টারে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন।

 

আজ ১৪-ই এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি রোজ মঙ্গলবার। লামা ৩০- আনসার ব্যাটালিয়ান হেড কোয়ার্টারের মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন। এতে ৪-টি দল অংশগ্রহণ করেন, বিভিন্ন জেলা হতে আগত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, লামা। আজ সকাল ৯:০০ টার দুটি দল অংশগ্রহণ করেন, চট্টগ্রাম আনসার ব্যাটালিয়ান বনাম বান্দরবান আনসার ব্যাটালিয়ান, দুই দলের ফলাফল ড্র। আজ বিকেল ৪:৩০ মিনিটে ৩০- আনসার ব্যাট্যালিয়ান বনাম ১- আনসার ব্যাটালিয়ান মধ্যে খেলা হয়। এতে প্রত্যেক টিমের সিনিয়র অফিসার জেসিও উপস্থিত ছিলেন। আজ খেলায় ৩০-আনসার ব্যাটেলিয়ান ৫-০ গোলে ১-ওয়ান আনসার ব্যাটলিয়ান কে হারিয়ে জয় লাভ করেন।

দৈনিক চাঁপাই দর্পণ-এর যুগপূর্তি ও ই-পেপার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩২ এএম
দৈনিক চাঁপাই দর্পণ-এর যুগপূর্তি ও ই-পেপার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

 

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জনপ্রিয় স্থানীয় পত্রিকা “দৈনিক চাঁপাই দর্পণ”-এর যুগপূর্তি উদ্‌যাপন এবং বহুল প্রতীক্ষিত ই-পেপার উদ্বোধন অনুষ্ঠান গত ১৪ এপ্রিল (দুপুর ১২টা) পত্রিকার নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ এনামুল হক।
উদ্বোধনী আয়োজনে স্থানীয় সাংবাদিক, সুধীজন, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
পত্রিকার সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু তাঁর বক্তব্যে বলেন, ই-পেপার চালুর মাধ্যমে “দৈনিক চাঁপাই দর্পণ” সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও দ্রুত, সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পাঠকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। তিনি পত্রিকার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ পত্রিকার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের উন্নয়নে এর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে ডিজিটাল রূপান্তরের ধারায় এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়, যা ভবিষ্যতে পাঠকদের জন্য আরও আধুনিক ও কার্যকর সংবাদ সেবা নিশ্চিত করবে।

চট্টগ্রামে সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩১ এএম
চট্টগ্রামে সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত

 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে বিক্ষোভ ও প্রশ্নের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। একপর্যায়ে পুলিশি নিরাপত্তায় দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায় তাকে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে নগরের আকবর শাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকার ‘এইচ এম ভিলা’ নামের একটি বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় যান। তার আগমনকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা শুরু হলে ছাত্রদল, জুলাই আন্দোলনের কর্মী ও স্থানীয় কিছু মানুষ বাসার সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
তারা জানতে চান, কী উদ্দেশ্যে তিনি ওই বাসায় এসেছেন এবং সেখানে কোনো ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল কি না। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগের একজন নেতার বাসায় তিনি কেন গেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে হাসনাত আবদুল্লাহ বাসা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে দ্রুত গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় সাংবাদিকদের বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। এ সময় সাবেক মেয়র মনজুর আলমের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
রাত ৮টায় এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী দিনে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন উভয় নেতা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধরা হাসনাত আবদুল্লাহকে প্রশ্ন করছেন—‘আপনি সংসদে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন, তাহলে আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কেন?’
তখন হাসনাত আবদুল্লাহকে হাত নাড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়।
স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে, এনসিপি থেকে চট্টগ্রামে মেয়র পদে নির্বাচন করার বিষয়ে প্রাথমিক আলাপ করতেই মনজুর আলমের সঙ্গে দেখা করতে যান হাসনাত। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মনজুর আলম। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই হাসনাত তাকে দেখতে এসেছিলেন। কুশল বিনিময় ও দুপুরের খাবার শেষে তিনি চলে যান।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ মনজুর আলম ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি চারবার ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন।

error: Content is protected !!