বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩

সেচ নিয়ে বিপাকে কৃষক

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:২২ পিএম | 58 বার পড়া হয়েছে
সেচ নিয়ে বিপাকে কৃষক

রাজধানী ঢাকার অদূরে মানিকগঞ্জের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ ইউসুফ। কৃষিকাজ করে সংসার চলে তাঁর। এবার গ্রীষ্মকালীন বোরো মৌসুমে ধান চাষ করেছেন। জমির পাশে হাঁটতে হাঁটতে শুকনো মাটিতে ধুঁকতে থাকা সদ্য রোপণ করা ধানের চারাগুলো দেখালেন। বললেন, ‘ধান ফলাতে না পারলে আমরা কী খাব? এই ধানই আমাদের একমাত্র সম্বল। এটি দিয়েই সংসার চলে। জ্বালানি সংকটের কারণে আমরা এখন গভীর বিপদে আছি।’

ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের ঢেউ আছড়ে পড়েছে বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে। বোরো চাষের এই ভরা মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেল জোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছেন হাজার হাজার কৃষক।

বাংলাদেশের পরিশোধিত জ্বালানির প্রায় ৮০ শতাংশই আমদানিনির্ভর, যার বড় অংশ আসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে। যুদ্ধের কারণে দামের অস্থিরতা ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানির জোগান সংকুচিত হয়েছে। সরকার জ্বালানি সাশ্রয় ও নতুন উৎস খোঁজার উদ্যোগ নিলেও কৃষকেরা বলছেন, তাঁরা কঠিন পরিস্থিতিতে মুখোমুখি হয়েছেন।

দুই সন্তানের বাবা ইউসুফ জানান, অনিশ্চয়তা এখন তাঁদের নিত্যদিনের সঙ্গী। তাঁর প্রার্থনা শুধু একটাই, নিজের জমিতে কাজ করা এবং সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া।

১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটিতে প্রধান খাদ্যশস্য ধান। মার্চের শেষে এই সময়টি প্রধান গ্রীষ্মকালীন ধান আবাদ (বোরো) শুরুর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ডিজেলের ঘাটতি, রেশনিং এবং পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে ধানের ফলন ও উৎপাদন কম হওয়া এবং কৃষকদের লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।

ইউসুফ দিনে ডিজেলের জন্য লাইনে দাঁড়ান আর রাতে জমিতে কাজ করেন। জ্বালানি পাম্পগুলোতে প্রায়ই ‘তেল নেই’ লেখা ব্যানার ঝুলতে দেখা যায়। তিনি বলেন, ‘সারাদিন পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি, তারপর অন্ধকারে মাঠে এসে সেচ দেওয়া, লাঙল চালানো আর সার দেওয়ার কাজ করি। গত কয়েক সপ্তাহে দিনে কেউ কাজ করতে পারেনি। সবাই লাইনে আটকে থাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি সারা দিন অপেক্ষা করেও অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হয়।’

জ্বালানি পাওয়া গেলেও তা দেওয়া হচ্ছে অত্যন্ত সীমিত আকারে। ইউসুফ জানান, জনপ্রতি ৫ লিটারের বেশি তেল দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘আমরা দুই-তিনজন মিলে গেলে হয়তো কোনোদিন ভাগ্যগুণে ১০-১৫ লিটার পাই। যা দিয়ে মাত্র দুই-তিন দিন সেচ দেওয়া যায়।’

তাঁর চারপাশের খেতগুলো ফেটে চৌচির হয়ে আছে, ধানের চারা হলদেটে হয়ে যাচ্ছে। সেচ পাম্পগুলো শেষ বিন্দু ডিজেল দিয়ে ধুঁকে ধুঁকে চলছে। ইউসুফ আক্ষেপ করে বলেন, ‘জমির দিকে তাকিয়ে দেখেন, সব শুকিয়ে যাচ্ছে। আমরা ঠিকমতো পানি দিতে পারছি না।’

এদিকে জ্বালানি পাম্পের কর্মীরাও বলছেন, চাহিদা মেটাতে তাঁরা হিমশিম খাচ্ছেন। স্থানীয় একটি পাম্পের ব্যবস্থাপক আব্দুল সালাম বলেন, ‘এই মৌসুমে কৃষকদের প্রচুর তেলের প্রয়োজন হয়। আমরা সরকারি নির্দেশনা মেনে চলছি, কিন্তু যে পরিমাণ সরবরাহ পাচ্ছি তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম।’

তবে সব কৃষকের অবস্থা এখনই ইউসুফের মতো নয়। ৭৫ বছর বয়সী ওসমান আলী জানান, সংকট তীব্র হওয়ার আগেই তিনি কিছু তেল মজুত করে রেখেছিলেন। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে জমানো তেল ফুরিয়ে যাবে। তখন সবাইকেই ভুগতে হবে।’

বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে সেচ কাজের জন্য ডিজেল-চালিত পাম্প এখনো অপরিহার্য। চাষের শুরুতে সরবরাহে এমন টান পড়ায় কৃষকদের আশঙ্কা, এই বিঘ্ন উচ্চমূল্যের খাদ্যবাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। ইউসুফের ভাষায়, ‘বিশ্বে কী ঘটছে, তাতে আমাদের কোনো হাত নেই। কিন্তু তার মাশুল আমাদেরই দিতে হচ্ছে।’

জ্বালানি সংকটের উৎস বাংলাদেশের সীমানার অনেক দূরে হলেও এর প্রভাব সরাসরি এখানে পড়ছে। ইউসুফ বলেন, ‘ইরানকে কেন্দ্র করে চলা এই যুদ্ধ আমাদের ওপরও আঘাত হেনেছে। আমাদের মতো গরিব মানুষেরাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট পায়। আমরা শুধু চাই এই যুদ্ধ শেষ হোক, যেন আমরা চাষবাস করে শান্তিতে থাকতে পারি।’

লামা ৩০-আনসার ব্যাটেলিয়ান হেডকোয়ার্টারে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন।

বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:- মোঃ নুরুল আলম) প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩৪ এএম
লামা ৩০-আনসার ব্যাটেলিয়ান হেডকোয়ার্টারে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন।

 

আজ ১৪-ই এপ্রিল ২০২৬ ইংরেজি রোজ মঙ্গলবার। লামা ৩০- আনসার ব্যাটালিয়ান হেড কোয়ার্টারের মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করেন। এতে ৪-টি দল অংশগ্রহণ করেন, বিভিন্ন জেলা হতে আগত চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, লামা। আজ সকাল ৯:০০ টার দুটি দল অংশগ্রহণ করেন, চট্টগ্রাম আনসার ব্যাটালিয়ান বনাম বান্দরবান আনসার ব্যাটালিয়ান, দুই দলের ফলাফল ড্র। আজ বিকেল ৪:৩০ মিনিটে ৩০- আনসার ব্যাট্যালিয়ান বনাম ১- আনসার ব্যাটালিয়ান মধ্যে খেলা হয়। এতে প্রত্যেক টিমের সিনিয়র অফিসার জেসিও উপস্থিত ছিলেন। আজ খেলায় ৩০-আনসার ব্যাটেলিয়ান ৫-০ গোলে ১-ওয়ান আনসার ব্যাটলিয়ান কে হারিয়ে জয় লাভ করেন।

দৈনিক চাঁপাই দর্পণ-এর যুগপূর্তি ও ই-পেপার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩২ এএম
দৈনিক চাঁপাই দর্পণ-এর যুগপূর্তি ও ই-পেপার উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

 

 

চাঁপাইনবাবগঞ্জের জনপ্রিয় স্থানীয় পত্রিকা “দৈনিক চাঁপাই দর্পণ”-এর যুগপূর্তি উদ্‌যাপন এবং বহুল প্রতীক্ষিত ই-পেপার উদ্বোধন অনুষ্ঠান গত ১৪ এপ্রিল (দুপুর ১২টা) পত্রিকার নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ এনামুল হক।
উদ্বোধনী আয়োজনে স্থানীয় সাংবাদিক, সুধীজন, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
পত্রিকার সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু তাঁর বক্তব্যে বলেন, ই-পেপার চালুর মাধ্যমে “দৈনিক চাঁপাই দর্পণ” সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আরও দ্রুত, সহজলভ্য ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ পাঠকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। তিনি পত্রিকার ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রধান অতিথি ও অন্যান্য অতিথিবৃন্দ পত্রিকার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের উন্নয়নে এর ভূমিকার প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমকে ডিজিটাল রূপান্তরের ধারায় এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়, যা ভবিষ্যতে পাঠকদের জন্য আরও আধুনিক ও কার্যকর সংবাদ সেবা নিশ্চিত করবে।

চট্টগ্রামে সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ প্রকাশিত: বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:৩১ এএম
চট্টগ্রামে সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে তোপের মুখে হাসনাত

 

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ মনজুর আলমের বাসায় গিয়ে বিক্ষোভ ও প্রশ্নের মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক এবং কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। একপর্যায়ে পুলিশি নিরাপত্তায় দ্রুত সেখান থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায় তাকে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে নগরের আকবর শাহ থানার উত্তর কাট্টলী এলাকার ‘এইচ এম ভিলা’ নামের একটি বাসভবনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে হাসনাত আবদুল্লাহ সাবেক মেয়র মনজুর আলমের বাসায় যান। তার আগমনকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা শুরু হলে ছাত্রদল, জুলাই আন্দোলনের কর্মী ও স্থানীয় কিছু মানুষ বাসার সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
তারা জানতে চান, কী উদ্দেশ্যে তিনি ওই বাসায় এসেছেন এবং সেখানে কোনো ধরনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছিল কি না। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, আওয়ামী লীগের একজন নেতার বাসায় তিনি কেন গেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে হাসনাত আবদুল্লাহ বাসা থেকে বের হয়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত কথা বলেন। এরপর পুলিশের উপস্থিতিতে দ্রুত গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে এনসিপির চট্টগ্রাম মহানগরের সমন্বয়কারী সদস্য ও মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়কারী রিদুয়ান হৃদয় সাংবাদিকদের বলেন, হাসনাত আবদুল্লাহ ব্যক্তিগত কাজে চট্টগ্রামে এসেছিলেন। এ সময় সাবেক মেয়র মনজুর আলমের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
রাত ৮টায় এনসিপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আগামী দিনে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন উভয় নেতা।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিক্ষুব্ধরা হাসনাত আবদুল্লাহকে প্রশ্ন করছেন—‘আপনি সংসদে দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার কথা বলছেন, তাহলে আওয়ামী লীগের দোসরের বাসায় কেন?’
তখন হাসনাত আবদুল্লাহকে হাত নাড়িয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করতে দেখা যায়।
স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে, এনসিপি থেকে চট্টগ্রামে মেয়র পদে নির্বাচন করার বিষয়ে প্রাথমিক আলাপ করতেই মনজুর আলমের সঙ্গে দেখা করতে যান হাসনাত। তবে বিষয়টি অস্বীকার করেছেন মনজুর আলম। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই হাসনাত তাকে দেখতে এসেছিলেন। কুশল বিনিময় ও দুপুরের খাবার শেষে তিনি চলে যান।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ মনজুর আলম ২০১০ সালে বিএনপির সমর্থনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন। এর আগে তিনি চারবার ১০ নম্বর উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন।

error: Content is protected !!